সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্সের নতুন বিধান কার্যকর ১ নভেম্বর

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এর লোগাে। ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের জন্য নিবন্ধন এবং লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন এ বিধান কার্যকর হবে। এর আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

 

 

 

 

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

নিবন্ধনের আওতায় ছোট দোকান থেকে বড় প্রতিষ্ঠান: প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবা, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান ও দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। কাঁচা ও তাজা খাবার ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

 

এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতারাও এ বিধানের আওতায় আসবেন। এ ছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও হিমাগার এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনের মতো নির্ধারিত ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের বিধান রয়েছে।

বিশেষায়িত খাদ্যেও লাগবে লাইসেন্স: প্রবিধানমালায় বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করা নির্ধারিত চার শ্রেণির ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণন।

 

 

 

 

এ ছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যসহ নির্ধারিত বিশেষ খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে উভয় ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে: কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এরপর তা নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে।

 

 

 

বিশেষায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ৬০ হাজার টাকা।

 

 

 

পণ্যের প্যাকেটে থাকতে হবে নিবন্ধন নম্বর: প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্য দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রেও নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্সের নতুন বিধান কার্যকর ১ নভেম্বর

আপডেট টাইম : ০১:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের জন্য নিবন্ধন এবং লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন এ বিধান কার্যকর হবে। এর আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

 

 

 

 

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

নিবন্ধনের আওতায় ছোট দোকান থেকে বড় প্রতিষ্ঠান: প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবা, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান ও দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। কাঁচা ও তাজা খাবার ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

 

এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতারাও এ বিধানের আওতায় আসবেন। এ ছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও হিমাগার এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনের মতো নির্ধারিত ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের বিধান রয়েছে।

বিশেষায়িত খাদ্যেও লাগবে লাইসেন্স: প্রবিধানমালায় বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করা নির্ধারিত চার শ্রেণির ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণন।

 

 

 

 

এ ছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যসহ নির্ধারিত বিশেষ খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে উভয় ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে: কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এরপর তা নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে।

 

 

 

বিশেষায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ৬০ হাজার টাকা।

 

 

 

পণ্যের প্যাকেটে থাকতে হবে নিবন্ধন নম্বর: প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্য দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রেও নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।