সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম-মাসুদুজ্জামান মাসুদ Logo প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা Logo মাথা নেই, বুকেই জোড়াচোখ, কে এই ‘ভূতদেবতা’ নিশিকান্ত? Logo গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও স্বমহিমায় ঢাকার রমনা কালী মন্দির Logo ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা Logo হিলি স্থলবন্দরে শনিবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, স্বাভাবিক থাকবে ইমিগ্রেশন Logo কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে ৭ দফা নির্দেশনা জারি Logo নারীর অগ্রগতিতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ চান জুবাইদা রহমান Logo শরীয়তপুরের জাজিরায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালো মানবতার আলো ফাউন্ডেশন Logo ভারতীয় ভিসায় নতুন নিয়ম, আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও স্বমহিমায় ঢাকার রমনা কালী মন্দির

ঢাকার রমনা কালী মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া এক সময়ে ছিল জনবহুল ঢাকার শুকতারা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সেই মন্দিরই সাক্ষী ছিল ভয়ঙ্কর হত্যালীলার। ধ্বংস হয়েছিল বাংলাদেশের রমনা কালী মন্দির। তার পরে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। ফের মাথা তুলেছে ঢাকার কালীক্ষেত্র, রমনা কালী মন্দির।

 

 

সলিল চৌধুরী তাঁর গণসঙ্গীতে লিখেছিলেন, “ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমোনা।” কালী-কথার সঙ্গে এই গানের সরাসরি কোনও মিল নেই। তবে, পড়শি দেশের কালী-কথাতেও সে পংক্তি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। আসলে, কালীই তো স্বয়ং কাল। হিন্দু শাস্ত্রমতে, কালীই সংহার করেন। আবার তিনিই পথ দেখান, রক্ষা করেন। অন্ধকারের বুক চিরে আলোকবর্তিকার দিশারী স্বয়ং আদ্যাশক্তি। মালদহের হবিবপুরে সেই কালীর আরাধনা করেন মুসলিম নারী শেফালী বেওয়া। আবার, কাঁটাতারের ওপারে পদ্মাপাড়ে সেই কালীই ধ্বংসের বুক চিরে ফিরে আসা আলোর পথযাত্রী।

 

 

ইতিহাসের পাতায় এক অমরতীর্থ বাংলাদেশের ঢাকার রমনা কালী মন্দির। যে তীর্থের প্রতিটি ইটের ভাঁজে জড়িয়ে আছে বেদনা, আত্মত্যাগ আর ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস। যে মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া ছিল জনবহুল ঢাকার শুকতারা, সেই মন্দিরই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সাক্ষী ছিল ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞের। সে সময়ে ধ্বংস হয়েছিল বাংলাদেশের রমনা কালী মন্দির। তার পরে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। ফের মাথা তুলেছে ঢাকার কালীক্ষেত্র, রমনা কালী মন্দির।

 

 

ঢাকার রমনা এলাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দক্ষিণে এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দির। জনশ্রুতি বলে, প্রায় ৫০০ বছর আগে গোপালগিরি নামে এক সন্ন্যাসী এই জায়গায় একটি আখড়া তৈরি করেন। তারও ২০০ বছর পরে মূল রমনা কালীমন্দির নির্মাণ করেন হরিচরণ গিরি। তবে পরবর্তী সময়ে এই মন্দিরের প্রধান সংস্কার করেন ভাওয়ালের রানি বিলাসমণি দেবী।

 

 

১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই পবিত্র ভূমিতেই চলে ভয়ঙ্কর হত্যালীলা। ইতিহাসের পাতায় যা রমনা গণহত্যা নামেও পরিচিত। প্রায় এক ঘণ্টায় হত্যা করা হয়েছিল মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া ১০০ জনকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও শতাব্দীপ্রাচীন এই মন্দির সংস্কারের জন্যে অপেক্ষা করতে হয় বহু দিন। অবশেষে ২০১৭ সালে মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ শুরু। ভারত এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ আর্থিক সহায়তায় নতুন রূপে তৈরি হয় মন্দির। ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকায় এসে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ নবনির্মিত রমনা কালী মন্দির ও সংস্কার করা অংশের উদ্বোধন করেন।

 

 

ঢাকার রমনা কালী মন্দির এক দিন দেখেছে ভয়ঙ্কর হত্যালীলা। আজ সেই কালীক্ষেত্রেই হয় মঙ্গলারতি, গোধূলিতে জ্বলে সন্ধ্যাপ্রদীপ। রমনা কালী মন্দির ইতিহাসের কাছে এক নীরব বার্তা। আজও যে মন্দিরের অলিন্দে অলিন্দে আলোর বার্তা। ফিরে আসার বার্তা। চরৈবেতির বার্তা।

সূত্র: আনন্দবাজার
জনতার কণ্ঠ.কম/এসসিডি

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম-মাসুদুজ্জামান মাসুদ

গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও স্বমহিমায় ঢাকার রমনা কালী মন্দির

আপডেট টাইম : ০১:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকার রমনা কালী মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া এক সময়ে ছিল জনবহুল ঢাকার শুকতারা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সেই মন্দিরই সাক্ষী ছিল ভয়ঙ্কর হত্যালীলার। ধ্বংস হয়েছিল বাংলাদেশের রমনা কালী মন্দির। তার পরে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। ফের মাথা তুলেছে ঢাকার কালীক্ষেত্র, রমনা কালী মন্দির।

 

 

সলিল চৌধুরী তাঁর গণসঙ্গীতে লিখেছিলেন, “ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমোনা।” কালী-কথার সঙ্গে এই গানের সরাসরি কোনও মিল নেই। তবে, পড়শি দেশের কালী-কথাতেও সে পংক্তি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। আসলে, কালীই তো স্বয়ং কাল। হিন্দু শাস্ত্রমতে, কালীই সংহার করেন। আবার তিনিই পথ দেখান, রক্ষা করেন। অন্ধকারের বুক চিরে আলোকবর্তিকার দিশারী স্বয়ং আদ্যাশক্তি। মালদহের হবিবপুরে সেই কালীর আরাধনা করেন মুসলিম নারী শেফালী বেওয়া। আবার, কাঁটাতারের ওপারে পদ্মাপাড়ে সেই কালীই ধ্বংসের বুক চিরে ফিরে আসা আলোর পথযাত্রী।

 

 

ইতিহাসের পাতায় এক অমরতীর্থ বাংলাদেশের ঢাকার রমনা কালী মন্দির। যে তীর্থের প্রতিটি ইটের ভাঁজে জড়িয়ে আছে বেদনা, আত্মত্যাগ আর ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস। যে মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া ছিল জনবহুল ঢাকার শুকতারা, সেই মন্দিরই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সাক্ষী ছিল ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞের। সে সময়ে ধ্বংস হয়েছিল বাংলাদেশের রমনা কালী মন্দির। তার পরে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। ফের মাথা তুলেছে ঢাকার কালীক্ষেত্র, রমনা কালী মন্দির।

 

 

ঢাকার রমনা এলাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দক্ষিণে এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দির। জনশ্রুতি বলে, প্রায় ৫০০ বছর আগে গোপালগিরি নামে এক সন্ন্যাসী এই জায়গায় একটি আখড়া তৈরি করেন। তারও ২০০ বছর পরে মূল রমনা কালীমন্দির নির্মাণ করেন হরিচরণ গিরি। তবে পরবর্তী সময়ে এই মন্দিরের প্রধান সংস্কার করেন ভাওয়ালের রানি বিলাসমণি দেবী।

 

 

১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই পবিত্র ভূমিতেই চলে ভয়ঙ্কর হত্যালীলা। ইতিহাসের পাতায় যা রমনা গণহত্যা নামেও পরিচিত। প্রায় এক ঘণ্টায় হত্যা করা হয়েছিল মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া ১০০ জনকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও শতাব্দীপ্রাচীন এই মন্দির সংস্কারের জন্যে অপেক্ষা করতে হয় বহু দিন। অবশেষে ২০১৭ সালে মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ শুরু। ভারত এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ আর্থিক সহায়তায় নতুন রূপে তৈরি হয় মন্দির। ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকায় এসে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ নবনির্মিত রমনা কালী মন্দির ও সংস্কার করা অংশের উদ্বোধন করেন।

 

 

ঢাকার রমনা কালী মন্দির এক দিন দেখেছে ভয়ঙ্কর হত্যালীলা। আজ সেই কালীক্ষেত্রেই হয় মঙ্গলারতি, গোধূলিতে জ্বলে সন্ধ্যাপ্রদীপ। রমনা কালী মন্দির ইতিহাসের কাছে এক নীরব বার্তা। আজও যে মন্দিরের অলিন্দে অলিন্দে আলোর বার্তা। ফিরে আসার বার্তা। চরৈবেতির বার্তা।

সূত্র: আনন্দবাজার
জনতার কণ্ঠ.কম/এসসিডি