মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয়রা। সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের তৎপরতা এবং হাজী আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার বিচার দাবি করে তারা উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ও এজাহারভুক্ত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় শফিউদ্দীন আহমেদ মিলনায়তনে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চারদিক থেকে মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় গুয়াগাছিয়া দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দক্ষিণে চাঁদপুরের মতলব উত্তর, পূর্বে কুমিল্লার দাউদকান্দি এবং উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ থাকায় এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় দুই যুগ ধরে নয়ন-পিয়াস নামীয় ব্যক্তিদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নদীপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, ভূমি দখল ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৪০ থেকে ৪৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। ২৪ জুলাই থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এবং পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনাও তদন্তাধীন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এ পরিস্থিতিতে অন্তত ২৫০টি পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। চাঁদা না দিলে এলাকায় বসবাস করা যায় না—এমন অভিযোগও তোলেন স্থানীয়রা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ভয়ভীতির অভিযোগ আনা হয়। বক্তারা দাবি করেন, প্রায় ৩০০ পরিবার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। ভোটের দিন নদীপথে স্পিডবোটে অবস্থান এবং ফসলি জমিতে লুকিয়ে থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ করা হয়। বহু মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলেও দাবি করেন তারা। গত ২৫ আগস্ট পুলিশ ক্যাম্পে হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, অভিযুক্তরা বিদেশে পালিয়েছে বলা হলেও সম্প্রতি তাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি আছরের নামাজের পর হাজী আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, পিয়াস ও শাহাদাতের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়। ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মাইন উদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হালিম দেওয়ান, ফাতেমা আক্তার ও উজ্জল দেওয়ান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচারাধীন হত্যা ও অন্যান্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করা, মুন্সীগঞ্জ-চাঁদপুর-কুমিল্লা জেলায় সমন্বিত বিশেষ অভিযান, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
পরে মুন্সীগঞ্জ ভালো প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















