আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প। আজ ছিল দলের প্রথম অনুশীলন।
মাঠে নামার আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের সার্বিক অবস্থা, প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন। ইনজুরির কারণে সবশেষ আসিয়ান কাপে দলের সঙ্গী হতে না পারার আক্ষেপ ঘুচিয়ে এখন পুরোপুরি ফিট এই সেন্টারব্যাক।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঘরের মাঠে সাফের শিরোপা খরা কাটানোই এখন তার এবং পুরো দলের মূল লক্ষ্য। ঘরের মাঠে খেলা নিয়ে রোমাঞ্চিত তপু বলেন, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক স্পেশাল এবং আমাদের ঘরের মাঠে খেলা।
আট বছর পরে আবার আমরা খেলছি আমাদের মাটিতে। ডেফিনেটলি একটা স্পেশাল মোমেন্ট আমি মনে করি আমাদের জন্য এবং আমাদের ফাইট করতে হবে।
ফাইট করে যেটা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, ট্রফি জেতা আসলে ২৩ বছর পরে আমরা সেটা করতে চাই আবার, পুনরায় আমাদের মাটিতেই। তো সেভাবে আসলে আমাদের প্রিপেয়ার হইতে হবে এবং প্রিপেয়ার থাকতে হবে।’
দলের ভেতরে এখন দারুণ এক ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে তরুণ স্ট্রাইকার মাহি খানের মতো নতুন খেলোয়াড়দের আগমনে আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে দল। জাতীয় দলে মাহি খানের প্রথমবার ডাক পাওয়া প্রসঙ্গে তপু বলেন, ‘মাহি খান আসলে ও একদম নতুন। আমাদের সাথে ন্যাশনাল টিমে প্রথম সে জয়েন করেছে। আসলে দুজন প্লেয়ার মেইন ন্যাশনাল টিমে আসছে, দুজনই নাম্বার নাইন। খুবই ইম্পরট্যান্ট পজিশনের প্লেয়ার আমাদের দেশের জন্য। ওভারঅল আজকে আমাদের ফার্স্ট ট্রেনিং সেশন হবে। তো আমার কাছে মনে হয় যে একটা পজিটিভ এনভায়রনমেন্ট আসলে আছে। সবাই আসলে সাফের জন্য মুখিয়ে আছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। সবশেষ ম্যাচগুলোতে তিন এবং নয় গোল হজম করার তিক্ত স্মৃতি এখনো তরতাজা। তবে ডিফেন্সের এই নড়বড়ে অবস্থার জন্য কেবল ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে রাজি নন তপু। দলগত রক্ষণভাগের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন গোল কনসিড করে, গোলকিপার ডিফেন্ডার ফেস করতে হয়, আসলে গোলকিপার ডিফেন্ডারের দোষ থাকে। তো আমার কাছে মনে হয় যে মোস্ট ইম্পরট্যান্ট হলো টিম ডিফেন্ডিং, যেটা ওয়ার্ল্ড ফুটবলে ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট। আপনি যদি টিম ডিফেন্ডিং হিসেবে যদি আমরা দলগতভাবে পারফর্ম করতে পারি, ডেফিনেটলি আমরা এত গোল কনসিড করব না।’
তরুণ ডিফেন্ডার রিদওয়ানের সাথে জুটি গড়া নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘তার একটা ভালো এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে। আজকে থেকে আমাদের নেক্সট ম্যাচ হলো ৫ তারিখ নভেম্বরে, তো আমরা ৯ দিন সময় পাব। তো ডেফিনেটলি আমাদের একটা ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে ৯ দিনের মধ্যে।’
টুর্নামেন্টে এবার ভারত না থাকলেও কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন এই সেন্টারব্যাক। তবে প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে দলের অন্যতম সেরা তারকা হামজা চৌধুরী এবং ফারহান আলীকে না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তপু জানান, ‘সবচেয়ে বড় ইম্পরট্যান্ট প্লেয়ার হামজাকে আসলে যদি সে আমাদের সাথে না আসতে পারে, স্পেশালি ফার্স্ট ম্যাচে, তাহলে ডেফিনেটলি তাকে মিস করব। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আমরা যদি একটা দলগতভাবে খেলতে পারি, ডেফিনেটলি আমরা তার যে অনুপস্থিতটা এটা অবশ্যই আমরা ফিল করব, বাট যদি আমরা ভালোভাবে খেলতে পারি ডেফিনেটলি এটাকে আমরা শুধরাইতে পারব।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে দলের ম্যানেজার কড়া বার্তা দিয়েছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ম্যানেজারের এই কঠোর নীতিকে শতভাগ সমর্থন করেছেন তপু বর্মন। জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে তরুণদের কাছে আদর্শ হওয়ার দায়বদ্ধতা থেকেই শৃঙ্খলার সাথে কোনো আপস করতে রাজি নন তিনি। এ বিষয়ে তপুর সোজাসাপ্টা কথা, ‘আমরা ন্যাশনাল টিমকে রিপ্রেজেন্ট করি এবং দ্যাট মিনস আমাদের যারা ইয়াং জেনারেশন আছে, ডেফিনেটলি লুক আফটার করে আমাদেরকে। আসলে আমরা সেইভাবেই আমাদের চলা উচিত। ইফ উই ডু এনি মিসটেক ডেফিনেটলি আমাদের পানিশ করতে হবে। এটা যদি আমরা মানতে পারি ডেফিনেটলি আমরা একটা দলগতভাবে খেলতে পারব এবং দলগতভাবে যদি খেলতে পারি আপনি এইটার ভিতর ইনসাইডে কেউ ঢুকতে পারবে না।’