সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

চলনবিলের শাপলা-ঢ্যাপ বিক্রিতে সংসার চলে আব্দুল আলিমের

এখন হেমন্তকাল। চলনবিলে পানি কমতে শুরু করেছে। বিলজুড়ে এখনো ফুটে আছে অসংখ্য শাপলা। কোথাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে ঢ্যাপ ও শালুক। প্রকৃতির এই সহজলভ্য সম্পদ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। তাঁদেরই একজন আব্দুল আলিম (৪২)। কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক বিক্রি করে বছরের একটি বড় সময় সংসারের খরচ জোগান তিনি।

 

 

 

 

আব্দুল আলিমের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার জগৎপুর গ্রামে। প্রতিদিন সকালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সবজি বাজারে বসেন শাপলা ও ঢ্যাপ বিক্রি করতে। অল্প দামে এসব দেশি জলজ সবজি কিনতে বাজারে আসেন নানা বয়সী মানুষ। মাছ ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুকেরও রয়েছে আলাদা কদর।

 

 

 

 

বাজারে কথা হয় আব্দুল আলিমের সঙ্গে। নিজের জীবন-জীবিকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বছর কৃষিশ্রমিকের কাজ করি। বর্ষার চার মাস বিল থেকে শাপলা, কখনো ঢ্যাপ, আবার কখনো শালুক তুলে হাটবাজারে বিক্রি করি। যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।’

 

 

 

 

বাজারে তাঁর বিক্রির দৃশ্যও বেশ সাদামাটা। সাত থেকে ১০টি ঢ্যাপের আঁটি বিক্রি করেন ১০ টাকায়। আর ১০টি শাপলার আঁটির দামও ১০ টাকা। সামান্য এই আয় ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁর জীবন-জীবিকা।

 

 

 

 

আব্দুল আলিম জানান, সকালে বাজারে পণ্য বিক্রি শেষ করে দুপুরের পর আবার বিলে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিল থেকে শাপলা, ঢ্যাপসহ বিভিন্ন জলজ সবজি সংগ্রহ করেন। পরে বাড়িতে ফিরে সেগুলো পরিষ্কার করে আঁটি বাঁধেন। পরদিন সকালে সেই আঁটি নিয়ে হাজির হন বাজারে। এভাবেই চলে তাঁর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা।

 

 

 

 

তিনি বলেন, যাতায়াতের ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে কোনো কোনো দিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে প্রতিদিন এমন আয় হয় না। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন এই কাজ করে আয় করতে পারেন তিনি। বাকি সময় কৃষিশ্রমিকের কাজ করেন।

 

 

 

 

বাজারে শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ছোটবেলায় বিলে শাপলা তুলেছি, শালুক তুলেছি। এখন সেসব স্মৃতি। বিলের সেই শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক অল্প টাকায় কিনতে পারছি। ভালোই লাগছে।’

 

 

 

 

একই বাজারে শাপলা ও ঢ্যাপ কিনতে এসেছেন কলেজশিক্ষার্থী আরমান। তিনি বলেন, ‘শাপলার সবজি রান্না করে খেতে আমার বাবা-মা খুব পছন্দ করেন। তাই তিন আঁটি শাপলা আর দুই আঁটি ঢ্যাপ কিনেছি।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

চলনবিলের শাপলা-ঢ্যাপ বিক্রিতে সংসার চলে আব্দুল আলিমের

আপডেট টাইম : ০৪:২০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এখন হেমন্তকাল। চলনবিলে পানি কমতে শুরু করেছে। বিলজুড়ে এখনো ফুটে আছে অসংখ্য শাপলা। কোথাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে ঢ্যাপ ও শালুক। প্রকৃতির এই সহজলভ্য সম্পদ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। তাঁদেরই একজন আব্দুল আলিম (৪২)। কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক বিক্রি করে বছরের একটি বড় সময় সংসারের খরচ জোগান তিনি।

 

 

 

 

আব্দুল আলিমের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার জগৎপুর গ্রামে। প্রতিদিন সকালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সবজি বাজারে বসেন শাপলা ও ঢ্যাপ বিক্রি করতে। অল্প দামে এসব দেশি জলজ সবজি কিনতে বাজারে আসেন নানা বয়সী মানুষ। মাছ ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুকেরও রয়েছে আলাদা কদর।

 

 

 

 

বাজারে কথা হয় আব্দুল আলিমের সঙ্গে। নিজের জীবন-জীবিকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বছর কৃষিশ্রমিকের কাজ করি। বর্ষার চার মাস বিল থেকে শাপলা, কখনো ঢ্যাপ, আবার কখনো শালুক তুলে হাটবাজারে বিক্রি করি। যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।’

 

 

 

 

বাজারে তাঁর বিক্রির দৃশ্যও বেশ সাদামাটা। সাত থেকে ১০টি ঢ্যাপের আঁটি বিক্রি করেন ১০ টাকায়। আর ১০টি শাপলার আঁটির দামও ১০ টাকা। সামান্য এই আয় ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁর জীবন-জীবিকা।

 

 

 

 

আব্দুল আলিম জানান, সকালে বাজারে পণ্য বিক্রি শেষ করে দুপুরের পর আবার বিলে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিল থেকে শাপলা, ঢ্যাপসহ বিভিন্ন জলজ সবজি সংগ্রহ করেন। পরে বাড়িতে ফিরে সেগুলো পরিষ্কার করে আঁটি বাঁধেন। পরদিন সকালে সেই আঁটি নিয়ে হাজির হন বাজারে। এভাবেই চলে তাঁর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা।

 

 

 

 

তিনি বলেন, যাতায়াতের ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে কোনো কোনো দিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে প্রতিদিন এমন আয় হয় না। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন এই কাজ করে আয় করতে পারেন তিনি। বাকি সময় কৃষিশ্রমিকের কাজ করেন।

 

 

 

 

বাজারে শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ছোটবেলায় বিলে শাপলা তুলেছি, শালুক তুলেছি। এখন সেসব স্মৃতি। বিলের সেই শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক অল্প টাকায় কিনতে পারছি। ভালোই লাগছে।’

 

 

 

 

একই বাজারে শাপলা ও ঢ্যাপ কিনতে এসেছেন কলেজশিক্ষার্থী আরমান। তিনি বলেন, ‘শাপলার সবজি রান্না করে খেতে আমার বাবা-মা খুব পছন্দ করেন। তাই তিন আঁটি শাপলা আর দুই আঁটি ঢ্যাপ কিনেছি।’