সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

জলঢাকায় স্কুল ফিডিংয়ের রুটি বিতরণ নিয়ে দুই শিক্ষকের হাতাহাতি, আহত শিক্ষিকা

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের রুটি বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই সহকারী শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রুটি বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রথমে সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন ও রাজিয়া সুলতানার মধ্যে হাতাহাতি হয়।

 

 

 

 

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় শাখাওয়াত হোসেন লোহার কাটারজাতীয় একটি ধারালো সরঞ্জাম দিয়ে রাজিয়া সুলতানার হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আঘাতের ধরন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

 

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতা বেগম বলেন, ‘রাজিয়া যেখানে যান, সেখানে ঝগড়ার সৃষ্টি করেন।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

 

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

এদিকে, সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং পিঠে হাত দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা।

 

 

 

 

 

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

 

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলঢাকায় স্কুল ফিডিংয়ের রুটি বিতরণ নিয়ে দুই শিক্ষকের হাতাহাতি, আহত শিক্ষিকা

আপডেট টাইম : ০৮:০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের রুটি বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই সহকারী শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রুটি বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রথমে সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন ও রাজিয়া সুলতানার মধ্যে হাতাহাতি হয়।

 

 

 

 

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় শাখাওয়াত হোসেন লোহার কাটারজাতীয় একটি ধারালো সরঞ্জাম দিয়ে রাজিয়া সুলতানার হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আঘাতের ধরন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

 

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতা বেগম বলেন, ‘রাজিয়া যেখানে যান, সেখানে ঝগড়ার সৃষ্টি করেন।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

 

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

এদিকে, সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং পিঠে হাত দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা।

 

 

 

 

 

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

 

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।