নওগাঁয় জামাল হোসেন ফুলন নামে স্বর্ণ ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা। এ সময় ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (০৫ আগস্ট) রাতে যশোর জেলার কোতোয়ালি থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬আগস্ট) রাত একটার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার জামাল হোসেন যশোর জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত ৩০জুলাই আনুমানিক ১১ টার দিকে স্বর্ণ ব্যাবসায়ী সুভাষ পালের নিকট থেকে কিছু স্বর্ণ অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে মাইক্রোবাস দিয়ে তার গতিরোধ করে ছিনতাই করে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা নির্দেশনা প্রদান করি। এরই মধ্যে সদ্য জেলা পুলিশের লাগানো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কানেকটেড সিসি ক্যামেরা সমূহ ব্যাপকভাবে তদন্ত কাজে সহায়তা করে। একই সাথে বিভিন্ন জেলার এবং টোল প্লাজার তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়।
পরবর্তীতে সদর থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর আমার তত্ত্বাবধানে ডিবির ইনচার্জের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ছিনতাই এ ব্যবহৃত গাড়িটি সনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গত ৩আগস্ট থেকে টানা দুই দিনের অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের সহায়তায় যশোর থেকে ছিনতাই চক্রের অন্যতম সদস্য গাড়ি চালক জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং তার দেওয়া তথ্যে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার জামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জান জানা যায় তারা চারজনের একটি চক্র এই কাজে জড়িত।
এসপি বলেন, এই চক্রটি একটি কালো মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করে। সুভাষ পাল যখন ঢাকা কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনে নওগাঁ উদ্দেশ্যে রওনা হয় তখন থেকেই ছিনতাইকারী চক্র শ্যামলী গাড়িটিকে অনুসরণ করে। এবং সুভাষ পাল নওগাঁ এসে গাড়ি থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা তাদের সেই মাইক্রোবাস ব্যবহার করে তাজের মোড় এলাকা থেকে সুভাষ পালের হাতের ব্যাগের মধ্যে আনুমানিক ১৪ ভরি সোনা ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ যখন ব্যাপকভাবে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় তল্লাশি শুরু করে তখন ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে চলে যায়। গ্রেপ্তার জামাল হোসেন ফুলন আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তার এবং স্বর্ণ উদ্ধারে জেলা পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

বিকাশ চন্দ্র প্রামানিক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















