সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নাদোসৈয়দপুর গ্রামে জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মো. আব্দুল হালিম মন্ডল (৬০) তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নাদোসৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম মন্ডল বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে একই এলাকার মো. জামাল (৫০), মো. কামাল (৪৮) ও মো. আতাউর (৩৮)সহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা ধারালো ছুরির মুখে আব্দুল হালিমকে জিম্মি করে গালাগাল ও হুমকি দেন এবং মারধর করেন। পরে ইটের গাঁথুনির ঘরের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের দেয়াল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
একপর্যায়ে স্টিলের ট্রাংক ও বড় বাক্স ভেঙে ভুক্তভোগীর ছেলের স্ত্রীর প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ ভরি স্বর্ণালংকার—কানের ঝুমকা, চুড়ি, গলার চেইন ও আংটি—এবং ৫ ভরি রূপা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাক্সে রাখা নগদ ২ লাখ টাকা, জমি বিক্রির ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের ৬০ হাজার টাকাসহ মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় মো. কুরবান (৫০), মো. বাবলু (৫০), তার স্ত্রী মোছা. রেজেদা (৪৮)সহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আব্দুল হালিমকে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. জামাল বলেন, ‘টাকা-পয়সা লুটের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। আমি ও আমার ভাই কামাল রাগের মাথায় ঘরের দেয়াল ভেঙেছি।’
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 



















