জেন্ডার বৈষম্য ও সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে কিশোরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী সংলাপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘ক্লাইমেট ফর টুমোরো’।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকুন্দিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে তৃতীয় ও শেষ দিনের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় যুব সংগঠনের প্রতিনিধি ও তরুণ অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের লেক সিটি রুফটপ রেস্টুরেন্টের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী সংলাপের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার একই স্থানে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদ থাকা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রশিক্ষণে অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার কৌশল শেখানো হয়। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ, নারীর অধিকার সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক পরিবর্তনে কার্যকর অ্যাডভোকেসি পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
‘ক্লাইমেট ফর টুমোরো’র নির্বাহী সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর সংগঠন শহর ও হাওরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিশু ও নারীর অধিকার সুরক্ষা, শিক্ষার উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ থাকা, দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যম ব্যবহার এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিবিডি কিশোরগঞ্জের সহসভাপতি সাইমা তাজরীন, ক্লাইমেট ফর টুমোরোর সাধারণ সম্পাদক উমর নাসিফ, সহসভাপতি সাদিয়া খান মিল্কি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফাইজা জামান এবং প্রশিক্ষক নূপুর মুন বিশ্বাসসহ স্থানীয় যুব সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















