শেষ ১০ ওয়ানডেতে হার আটটিতে, জয় মাত্র দুটি। বিদেশের মাটিতে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের চিত্রটা এমনই হতাশাজনক। শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান কিংবা জিম্বাবুয়ে—তিন দলের বিপক্ষেই বড় হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে না পারার ব্যর্থতাও বারবার সামনে এসেছে। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজেও বদলায়নি সেই চিত্র। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে চাপে পড়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। সে জন্য ধারাবাহিকতা ও মানসিকতার পরিবর্তনে জোর দিচ্ছেন দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই দলের ওয়ানডে পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত সমতা। ২২ ম্যাচের ১১টিতে জিতেছে বাংলাদেশ, বাকি ১১টিতে আফগানিস্তান। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে আফগানরাই। সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজে তাদের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই হারের ক্ষত এখনো তাজা। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজেও বড় জয় দিয়ে ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। বিপরীতে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণের পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধারাবাহিকতার বিকল্প দেখছেন না তানজিদ। তার মতে, মানসিকতার পরিবর্তন ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো করা সম্ভব। তানজিদ বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি দলকে ভালো কিছু দেওয়ার। হয়তো কখনো পারি, কখনো পারি না। যত ধারাবাহিক খেলব, তত সামনে এগিয়ে যাব আমরা। আমার মনে হয়, এখানে ধারাবাহিকতা আর মাইন্ডসেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটো এক হলে স্পেশাল সিচুয়েশনে ভালো করতে পারব আমরা।’
বাংলাদেশের ব্যর্থতার বড় কারণ ব্যাটিং। বিশেষ করে চাপের মুখে উইকেট ধরে রাখা ও জুটি গড়তে না পারার সমস্যায় বারবার ভুগতে হচ্ছে দলকে। প্রথম ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রান তাড়ায় সেই একই চিত্র দেখা গেছে। নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতিও স্বীকার করে তানজিদ বলেন, ‘অবশ্যই মাইন্ডসেটের ব্যাপার। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এজন্যই ওরা জিতেছে, আমরা হেরেছি। যেদিন সেরাটা খেলতে পারব, সেরাটা দিতে পারব, সেদিনই জিতব। আমাদের ব্র্যান্ড অনুযায়ী টপ ক্লাস ক্রিকেট খেলতে হবে।’
বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার পেছনে দক্ষতার ঘাটতির চেয়ে মানসিকতার সমস্যাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই ওপেনার। ঘরের মাঠে ভালো খেলার সামর্থ্য থাকলে বিদেশেও একই মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তানজিদের ভাষায়, ‘স্কিলের সমস্যা থাকলে হোমেও সাফার করতাম। হোমে যেভাবে খেলি, একই মাইন্ডসেট নিয়ে যদি ফুললি কমপ্যাক্ট হয়ে খেলতে পারি, আমার মনে হয় ভালো হবে। আমাদের খুব ভালো একটা কনভারসেশন হয়েছে টিম মিটিংয়ে। আমার মনে হয়, সামনে পজিটিভ কিছুই হবে।’
প্রথম ম্যাচে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তানজিদ। তার ব্যাটে রান তাড়ার আশা জেগেছিল। কিন্তু তার বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সামাল দিতে পারেনি ব্যাটিং ইউনিট। নিজের ইনিংস আরও লম্বা করতে পারলে দলের অবস্থান ভালো হতে পারত বলে মনে করেন এই ওপেনার। সামনে এমন পরিস্থিতিতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি। তানজিদ বলেন, ‘আমি যদি ২০-২৫ ওভার পর্যন্ত টিকতে পারতাম, আমার জন্যও ভালো হতো, দলও একটা ভালো জায়গায় যেত। রান তাড়া করাও অনেক সহজ হতো। সামনে আরও অনেক ম্যাচে এমন পরিস্থিতি আসবে। আমার দায়িত্ব থাকবে, কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে ২০-২৫ ওভার পর্যন্ত অন্তত ব্যাট করা যায় আর দলকে ভালো একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।’

ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 



















