সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

নদী-স্রোতহীন স্থানে নির্মাণ হচ্ছে ৯ কোটি টাকার সেতু

নদী, খাল, বিল বা জলাশয় না থকলেও চলছে সেতু নির্মাণের কাজ। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের খিলগাতী গ্রামে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি সেতু। অথচ এলাকাটিতে কোনো নদী, খাল, বিল বা জলাশয় নেই।

 

এতে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এখানে সেতুর প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং সরকারি অর্থের অপচয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, সেখানে আঞ্চলিক সড়কের দুইপাশে সারি সারি বসতভিটা। সড়কটি কালিহাতী-সখীপুর আঞ্চলিক সড়ক। পানি প্রবাহের কোনো চিহ্ন, নদী, খাল বা খাড়ি চোখে পড়েনি। কেবল একটি নিচু জমি বা পুকুরসদৃশ স্থান রয়েছে, যা সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তবে সড়কে যানচলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ বলেন, ‘যেখানে সেতুর প্রয়োজন, সেখানে হয়নি। যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে সেতু হচ্ছে। মনে হয়, ৫ আগস্টের আগেই অনুমোদন হয়েছে। না হলে এমন স্থানে কীভাবে সেতু হয়?’

খিলগাতীর আবুল হোসেন বলেন, ‘এখানে কোনো নদী-নালা ছিল না। দুপাশে ঘরবাড়ি। সেতুর কোনো দরকার নেই।’

 

স্থানীয় সিয়াম বলেন, ‘এখানে কোনো দিন খাল ছিল না। ছোট একটা পুকুর আছে। সেটিকে কেন্দ্র করে যদি সেতু হয়, তবে এ দেশে প্রতিটি ঘরের পাশে একটা করে সেতু বানাতে হবে।’

 

ব্যাটারিচালিত অটো রিকশাচালক রাকিব খান বলেন, ‘এখানে ব্রিজ তৈরির কোনো যুক্তি নেই। পানি প্রবাহের পথও নেই।’

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড’ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটির মনোজ বলেন, ‘ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েই নিয়মমতো কাজ শুরু করেছি।’

 

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী কালবেলাকে জানান, ‘সেখানে পূর্বে ৩৩ মিটার দীর্ঘ একটি জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ ছিল। ঘনঘন মেরামত, যানজট ও সঠিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে নতুন পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ হচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘চ্যানেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দখল, ভরাট এবং অপরিকল্পিত নির্মাণে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সওজ জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চ্যানেল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

নদী-স্রোতহীন স্থানে নির্মাণ হচ্ছে ৯ কোটি টাকার সেতু

আপডেট টাইম : ০৯:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের খিলগাতী গ্রামে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি সেতু। অথচ এলাকাটিতে কোনো নদী, খাল, বিল বা জলাশয় নেই।

 

এতে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এখানে সেতুর প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং সরকারি অর্থের অপচয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, সেখানে আঞ্চলিক সড়কের দুইপাশে সারি সারি বসতভিটা। সড়কটি কালিহাতী-সখীপুর আঞ্চলিক সড়ক। পানি প্রবাহের কোনো চিহ্ন, নদী, খাল বা খাড়ি চোখে পড়েনি। কেবল একটি নিচু জমি বা পুকুরসদৃশ স্থান রয়েছে, যা সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তবে সড়কে যানচলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ বলেন, ‘যেখানে সেতুর প্রয়োজন, সেখানে হয়নি। যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে সেতু হচ্ছে। মনে হয়, ৫ আগস্টের আগেই অনুমোদন হয়েছে। না হলে এমন স্থানে কীভাবে সেতু হয়?’

খিলগাতীর আবুল হোসেন বলেন, ‘এখানে কোনো নদী-নালা ছিল না। দুপাশে ঘরবাড়ি। সেতুর কোনো দরকার নেই।’

 

স্থানীয় সিয়াম বলেন, ‘এখানে কোনো দিন খাল ছিল না। ছোট একটা পুকুর আছে। সেটিকে কেন্দ্র করে যদি সেতু হয়, তবে এ দেশে প্রতিটি ঘরের পাশে একটা করে সেতু বানাতে হবে।’

 

ব্যাটারিচালিত অটো রিকশাচালক রাকিব খান বলেন, ‘এখানে ব্রিজ তৈরির কোনো যুক্তি নেই। পানি প্রবাহের পথও নেই।’

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড’ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটির মনোজ বলেন, ‘ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েই নিয়মমতো কাজ শুরু করেছি।’

 

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী কালবেলাকে জানান, ‘সেখানে পূর্বে ৩৩ মিটার দীর্ঘ একটি জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ ছিল। ঘনঘন মেরামত, যানজট ও সঠিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে নতুন পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ হচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘চ্যানেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দখল, ভরাট এবং অপরিকল্পিত নির্মাণে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সওজ জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চ্যানেল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’