সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আম দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে দুজন সহপাঠীর সামনে নয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্য দুই শিশুকেও বিবস্ত্র করা হয়। পরে তিন শিশুকে ১শ করে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করে সজীব (২৪) নামে যুবক।
রোববার (২৬ এপ্রিল) নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি সজীব শাহজাদপুর উপজেলার বাড়াবিল গ্রামের হাফেজ আব্দুল হাইয়ের ছেলে। নির্যাতিত শিশুটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
নির্যাতিত শিশুটির মা বলেন, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে আম দেওয়ার কথা বলে সজীব তিন স্কুল ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও পরিবারের কেউ ছিল না। এ অবস্থায় তিন শিশুকে ডেকে নিজ ঘরে নিয়ে কৌশলে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রথমে হাত-পা বেধে ৩ শিশুকেই বিবস্ত্র করে বিছানায় যৌন নিপিড়ন চালায়। পরে দুজনকে বিছানার পাশে অন্যদিকে মুখ দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখে এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ঐ তিন শিশুকে ৩ শত টাকা দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তবে ৩ শিশু টাকা না নিয়ে ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে স্বজনদের জানায়।
নির্যাতিত শিশুদের অভিভাবক বিষয়টি এলাকার প্রধানদের বিষয়টি অবগত করলে রোববার (২৬ এপ্রিল) শালিসী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে শালিসী বৈঠকে অভিযুক্ত সজীব ও তার বাবা উপস্থিত না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে যায় এলাকাবাসী।
বিষয়টি জানতে পেরে রোববার বিকেলে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শালিসী বৈঠক পন্ড করে দেয়। ওদিন রাতেই নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সজীবের বাবা হাফেজ আব্দুল হাই জানিয়েছেন, তার ছেলে সজীব ঢাকায় পড়াশোনা করার কারনে বাড়িতেই থাকে না। তার ছেলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এলাকার প্রধানরা টাকা দাবি করে। এই টাকা না দেওয়ায় কারণে সম্মানহানি করার জন্য তার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এক শিশুকে ধর্ষণের পাশাপাশি আরও দুই শিশুকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দীর জন্য সিরাজগঞ্জ কোর্টে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 

























