সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ: চিকিৎসক পলাতক

নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ই.এন.টি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে রিংকি আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাকের পলিপাস ও গলার টনসিল—দুটি অপারেশন একই সঙ্গে করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা সৃষ্টি হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ও নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. মজিবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রিংকির মৃত্যু হলে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিকিৎসক মজিবুল হক ও কর্মচারীরা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মৃত রিংকি আক্তার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। রিংকির বড় ভাই মো. শাকিল বলেন, “কয়েকদিন আগে রিংকির গলায় ব্যথা হলে আমরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাই। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান—টনসিল ও পলিপাসে প্রাথমিক সমস্যা আছে, বড় কোনো জটিলতা নয়। পরে মাইজদীতে ডা. মজিবুল হকের কাছে গেলে তিনি বলেন দুই সমস্যার জন্যই অপারেশন লাগবে।”
তিনি আরও জানান, “গত ২৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় রিংকির টনসিল ও পলিপাসের অপারেশন করা হয়। পরদিন তাড়াহুড়ো করে তাকে রিলিজও দেওয়া হয়। বাড়ি আসার পর তার শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারকে জানাই; তিনি বলেন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শনিবার সকালে হঠাৎ গলা দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়তে শুরু করলে দ্রুত হাসপাতালে আনি। তখন তারা জানান—রিংকি আর বেঁচে নেই।”
ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত চিকিৎসক মজিবুল হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সুধারাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক লন্ডন চৌধুরী   জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ: চিকিৎসক পলাতক

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ই.এন.টি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে রিংকি আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাকের পলিপাস ও গলার টনসিল—দুটি অপারেশন একই সঙ্গে করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা সৃষ্টি হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ও নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. মজিবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রিংকির মৃত্যু হলে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিকিৎসক মজিবুল হক ও কর্মচারীরা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মৃত রিংকি আক্তার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। রিংকির বড় ভাই মো. শাকিল বলেন, “কয়েকদিন আগে রিংকির গলায় ব্যথা হলে আমরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাই। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান—টনসিল ও পলিপাসে প্রাথমিক সমস্যা আছে, বড় কোনো জটিলতা নয়। পরে মাইজদীতে ডা. মজিবুল হকের কাছে গেলে তিনি বলেন দুই সমস্যার জন্যই অপারেশন লাগবে।”
তিনি আরও জানান, “গত ২৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় রিংকির টনসিল ও পলিপাসের অপারেশন করা হয়। পরদিন তাড়াহুড়ো করে তাকে রিলিজও দেওয়া হয়। বাড়ি আসার পর তার শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারকে জানাই; তিনি বলেন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শনিবার সকালে হঠাৎ গলা দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়তে শুরু করলে দ্রুত হাসপাতালে আনি। তখন তারা জানান—রিংকি আর বেঁচে নেই।”
ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত চিকিৎসক মজিবুল হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সুধারাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক লন্ডন চৌধুরী   জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।