সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো ডিবি পুলিশ

পরকিয়ার জেরে ভগ্নিপতি ও ভাবীর হাতে খুন হন খতিব

প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী শাহীনুরের সঙ্গে দুই বছর ধরে পরকিয়া চালিয়ে আসছিলেন গরু ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব। পরবর্তীতে খতিবের ছোট ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলামও শাহীনুরের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরেন। নিজেদের প্রেমের পথে কাঁটা খতিবকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্লান করেন শাহীনুর ও রফিকুল। পরিকল্পনা মোতাবেক কয়েকজনকে ভাড়া করে শ্বাসরোধে হত্যার পর হাত-পায়ে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় খতিবকে।

ছয়দিনেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চর ফরিদপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব (৪০) চর ফরিদপুর গ্রামের মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (সলঙ্গা থানা আমলী আদালত) শাহরিয়ার বাপ্পীর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।

আসামীরা হলেন, সলঙ্গা থানার চর ফরিদপুর গ্রামের মো. আব্দুল গফুর শেখের ছেলে মো. মাসুদ রানা (৩৮), একই গ্রামের আব্দুল মান্নান মন্ডলের ছেলে মো. ফরিদুল ইসলাম (৪২), প্রবাসী মতিউর রহমান মতির স্ত্রী মোছা. শাহিনুর খাতুন (৪০) ও দোস্তপাড়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে ভিকটিম খতিবের ভগ্নিপতি মো. রফিকুল ইসলাম (৪০)।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, গত ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন খতিব। তিনদিন পর ১২ নভেম্বর সকালে ফুলজোড় নদীর খাড়াঘাট নামক এলাকায় থেকে হাত-পায়ে ইট বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ক্লু-লেস এই মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে মাননীয় পুলিশ সুপার স্যার একটি চৌকস টিম গঠন করেন। টিমটি তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সনাক্ত করে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আসামীর নিজ চা-স্টলে অভিযান চালিয়ে ফরিদুল ও মাসুদকে, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজ বাড়ি থেকে শাহীনুরকে এবং সন্ধ্যা ৭টায় চর ফরিদপুরের শ্বশুরবাড়ি থেকে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে প্রবাসী মতিউর রহমানের স্ত্রী শাহীনুরের সঙ্গে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছেন খতিব। সম্পর্ক চলাকালে শাহীনুরের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন তিনি। এক পর্যায়ে শাহীনুর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে খতিব অস্বীকার করেন। এ থেকেই দুজনের মাঝে সম্পর্ক কিছুটা নষ্ট হয়। এ অবস্থায় খতিবের আপন ছোট ভগ্নিপতি রফিকুল শাহীনুরের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরেন। নিজেদের প্রেমের পথে কাটা খতিবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহীনুর ও রফিকুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুদ ও ফরিদুলসহ আরও বেশ কয়েকজনকে দুই লাখ টাকায় ভাড়া করেন শাহীনুর।

ঘটনার দিন শাহীনুর নিজেই খতিবকে নদীর ঘাটে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অন্যান্য আসামিরা অবস্থান করছিল। এ সময় খতিবকে ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান করান শাহীনুর। এতে খতিব ঝিমিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর হাত-পায়ে ইট বেঁধে ফুলজোড় নদীতে ফেলে দেন।

 

আরও পড়ুন: ফুলজোড় নদীতে মিললো দুই মরদেহ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো ডিবি পুলিশ

পরকিয়ার জেরে ভগ্নিপতি ও ভাবীর হাতে খুন হন খতিব

আপডেট টাইম : ০৯:১৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী শাহীনুরের সঙ্গে দুই বছর ধরে পরকিয়া চালিয়ে আসছিলেন গরু ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব। পরবর্তীতে খতিবের ছোট ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলামও শাহীনুরের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরেন। নিজেদের প্রেমের পথে কাঁটা খতিবকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্লান করেন শাহীনুর ও রফিকুল। পরিকল্পনা মোতাবেক কয়েকজনকে ভাড়া করে শ্বাসরোধে হত্যার পর হাত-পায়ে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় খতিবকে।

ছয়দিনেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চর ফরিদপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব (৪০) চর ফরিদপুর গ্রামের মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (সলঙ্গা থানা আমলী আদালত) শাহরিয়ার বাপ্পীর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।

আসামীরা হলেন, সলঙ্গা থানার চর ফরিদপুর গ্রামের মো. আব্দুল গফুর শেখের ছেলে মো. মাসুদ রানা (৩৮), একই গ্রামের আব্দুল মান্নান মন্ডলের ছেলে মো. ফরিদুল ইসলাম (৪২), প্রবাসী মতিউর রহমান মতির স্ত্রী মোছা. শাহিনুর খাতুন (৪০) ও দোস্তপাড়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে ভিকটিম খতিবের ভগ্নিপতি মো. রফিকুল ইসলাম (৪০)।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, গত ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন খতিব। তিনদিন পর ১২ নভেম্বর সকালে ফুলজোড় নদীর খাড়াঘাট নামক এলাকায় থেকে হাত-পায়ে ইট বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ক্লু-লেস এই মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে মাননীয় পুলিশ সুপার স্যার একটি চৌকস টিম গঠন করেন। টিমটি তথ্য প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সনাক্ত করে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আসামীর নিজ চা-স্টলে অভিযান চালিয়ে ফরিদুল ও মাসুদকে, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজ বাড়ি থেকে শাহীনুরকে এবং সন্ধ্যা ৭টায় চর ফরিদপুরের শ্বশুরবাড়ি থেকে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে প্রবাসী মতিউর রহমানের স্ত্রী শাহীনুরের সঙ্গে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছেন খতিব। সম্পর্ক চলাকালে শাহীনুরের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন তিনি। এক পর্যায়ে শাহীনুর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে খতিব অস্বীকার করেন। এ থেকেই দুজনের মাঝে সম্পর্ক কিছুটা নষ্ট হয়। এ অবস্থায় খতিবের আপন ছোট ভগ্নিপতি রফিকুল শাহীনুরের সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পরেন। নিজেদের প্রেমের পথে কাটা খতিবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহীনুর ও রফিকুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুদ ও ফরিদুলসহ আরও বেশ কয়েকজনকে দুই লাখ টাকায় ভাড়া করেন শাহীনুর।

ঘটনার দিন শাহীনুর নিজেই খতিবকে নদীর ঘাটে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অন্যান্য আসামিরা অবস্থান করছিল। এ সময় খতিবকে ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান করান শাহীনুর। এতে খতিব ঝিমিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর হাত-পায়ে ইট বেঁধে ফুলজোড় নদীতে ফেলে দেন।

 

আরও পড়ুন: ফুলজোড় নদীতে মিললো দুই মরদেহ