সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পুলিশের কাছে যেতে এখনও শঙ্কায় সাধারণ মানুষ: শিশির মনির

মোহাম্মদ শিশির মনির। ছবি : সংগৃহীত

মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

 

 

তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লাগার কারণে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একজন ভদ্রলোক কখনো মামলা করতে যেতে চান না। কারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায়, পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পায় না।’

 

তিনি বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা ঝুলে রয়েছে। আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না।’

 

 

শিশির মনির আরও বলেন, ‘মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। কিন্তু বিচার করা তো প্রধানমন্ত্রীর কাজ নয়। জনগণ আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না বলেই এমনটি করে।’

 

 

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

 

 

সভায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার-এর পরিচালক (প্রোগ্রামস) মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি) তাসকিন ফাহমিনা।

 

 

 

এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ড. ফয়েজুল হাকিম, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক-ইন-চিফ শফিকুল আলম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

মানব পাচার মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান

মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

 

 

 

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তফা কামাল খান। এছাড়া ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা জেলা সমন্বয়কারী বজলুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

পরিচয় পর্ব শেষে সভার উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

 

উপস্থাপনায় মানব পাচারের বর্তমান প্রবণতা, পাচারের বিভিন্ন রুট এবং বিদেশে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের ওপর সংঘটিত শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণা ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন, পুনঃএকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

 

সভায় জানানো হয়, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে বিদেশফেরত সংকটাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফেরার পর যেসব ভুক্তভোগীর নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য রেফারেল ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশেষ করে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা নারী ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মূল উপস্থাপনার পর মানব পাচারের শিকার লিবিয়াফেরত সারভাইভার এনামুল বিদেশে যাওয়ার পর প্রতারণার শিকার হওয়া এবং মানবেতর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য মানব পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেয়।

 

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে বিদেশগমন কিংবা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

চৌমুহনীর তিন আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, ১৪ তরুণ-তরুণী আটক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চৌমুহনী বাজারের রাজ হোটেল, ঢাকা হোটেল ও সেভেন স্টার হোটেলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার শাহাদাত হোসেন সাকিব (২৪), রিয়াজ হোসেন (২৪), রহমত উল্যাহ রিয়াদ (৩৬), নোয়াখালী সদর উপজেলার মো. রিপন (২৩), সোনাইমুড়ী উপজেলার আকরাম (৩৪), নুসরাত জাহান (১৯), শারমিন আক্তার (২৫), সেনবাগ উপজেলার আকরাম হোসেন (২৯), কবিরহাট উপজেলার ইয়াছিন (৩০), ঢাকা জেলার তাসমিন আক্তার (২১), নরসিংদী জেলার শাহনাজ বেগম (৩৬), খাগড়াছড়ি জেলার হাফেজা বেগম (২৩), লক্ষ্মীপুর জেলার বিউটি আক্তার (২৫) এবং ফেনী জেলার ময়না (২৫)।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের এ অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলল, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

 

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বহুজাতিক বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

 

 

 

আগামী ২৯ জুন বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। চেম্বার আদালতের এ আদেশের ফলে সরকার ঘোষিত অফশোর বিডিং রাউন্ড এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া আপাতত অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

এর আগে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন এবং কয়েকটি নির্দেশনা দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ব্লকগুলোতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছাড়া গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকলে সরকারের চলমান উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে সরকার ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ ঘোষণা করে। এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লক—এর মধ্যে ১৫টি গভীর সমুদ্র এবং ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক—তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি), কর-সুবিধা এবং অন্যান্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও করেছে।

 

 

জ্বালানি বিভাগের মতে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য।

 

 

 

চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণের পথে আপাতত কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী ২৯ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানির পর।

 

সিরাজগঞ্জে মাদকবিরোধী সেমিনার কুইজ, আবৃত্তি, প্রদর্শনী বির্তক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সমাজকে মাদকাসক্তির  ভয়াবহ ক্ষতি  সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের  স্কুল কলেজসহ  বিভিন্ন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরএলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে  জনসচেতনতা বাড়াতে মাদকবিরোধী সেমিনার, কুইজ, আবৃত্তি,প্রদর্শনী বির্তক ও পুরস্কার বিতরণ  অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫জুন) সকালে  শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত  প্রশাসক সাইফুল ইসলাম শাহীন।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাদকবিরোধী সেমিনারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক
 সাইদুর রহমান বাচ্চুর সার্বিক তত্বাবধানে ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সিরাজগঞ্জ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, রাশিদাজ্জোহা সরকারী মহিলা কলেজের  অধ্যক্ষ সুলতানা সালমা হোসেন।
 এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, এডুকেটিভ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমরান,  হেমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
আব্দুল্লাহেল অফি প্রমুখ।
বক্তারা  মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে  বলেন, আমাদের সমাজের ছাত্রছাত্রী ও যুবকরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারীরাসহ সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে  শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের  এই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদককে না বলতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর  লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান সাইদুর রহমান বাচ্চু।  তার এধরনের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ সকল অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীরা স্বাগতম জানিয়েছেন।
পরে মাদকবিরোধী সেমিনারে কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি ও প্রদর্শনী  বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও বৃক্ষ রোপন  করা হয়।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জৈব সারের পরিবর্তে ময়লা-আবর্জনা দেয়া নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে গাছের চারা ও সার বিতরণে জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা বিতরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

 

বুধবার (২৪জুন) ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পলিথিন ও ময়লা আবর্জনা মেশানো ভেজাল সার বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা এবং অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হয় । রিপোর্টটি নিয়ে বিশিষ্ট জনের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়।

 

 

বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) আনোয়ার সাদাত, সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মেরাজ হোসেন মিসবাহ। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা বিতরণের অভিযোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

 

 

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়কে সারের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে৷ সারের বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে আর যে কোম্পানি থেকে সার কেনা হয়েছে তাদেরকে টাকা দিতেও নিষেধ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ভালো মানের জৈব সার বিতরণ করা হবে। আইন অনুযায়ী সেই সারের কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

2 thoughts on “পুলিশের কাছে যেতে এখনও শঙ্কায় সাধারণ মানুষ: শিশির মনির

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

পুলিশের কাছে যেতে এখনও শঙ্কায় সাধারণ মানুষ: শিশির মনির

আপডেট টাইম : ০৯:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

 

 

তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লাগার কারণে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একজন ভদ্রলোক কখনো মামলা করতে যেতে চান না। কারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায়, পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পায় না।’

 

তিনি বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা ঝুলে রয়েছে। আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না।’

 

 

শিশির মনির আরও বলেন, ‘মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। কিন্তু বিচার করা তো প্রধানমন্ত্রীর কাজ নয়। জনগণ আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না বলেই এমনটি করে।’

 

 

 

 

আলোচনা সভায় বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

 

 

সভায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার-এর পরিচালক (প্রোগ্রামস) মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি) তাসকিন ফাহমিনা।

 

 

 

এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ড. ফয়েজুল হাকিম, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক-ইন-চিফ শফিকুল আলম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 

মানব পাচার মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান

মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

 

 

 

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তফা কামাল খান। এছাড়া ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা জেলা সমন্বয়কারী বজলুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

পরিচয় পর্ব শেষে সভার উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

 

উপস্থাপনায় মানব পাচারের বর্তমান প্রবণতা, পাচারের বিভিন্ন রুট এবং বিদেশে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের ওপর সংঘটিত শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণা ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন, পুনঃএকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

 

সভায় জানানো হয়, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে বিদেশফেরত সংকটাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফেরার পর যেসব ভুক্তভোগীর নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য রেফারেল ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশেষ করে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা নারী ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মূল উপস্থাপনার পর মানব পাচারের শিকার লিবিয়াফেরত সারভাইভার এনামুল বিদেশে যাওয়ার পর প্রতারণার শিকার হওয়া এবং মানবেতর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য মানব পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেয়।

 

 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে বিদেশগমন কিংবা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

চৌমুহনীর তিন আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, ১৪ তরুণ-তরুণী আটক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চৌমুহনী বাজারের রাজ হোটেল, ঢাকা হোটেল ও সেভেন স্টার হোটেলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিনটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষসহ মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার শাহাদাত হোসেন সাকিব (২৪), রিয়াজ হোসেন (২৪), রহমত উল্যাহ রিয়াদ (৩৬), নোয়াখালী সদর উপজেলার মো. রিপন (২৩), সোনাইমুড়ী উপজেলার আকরাম (৩৪), নুসরাত জাহান (১৯), শারমিন আক্তার (২৫), সেনবাগ উপজেলার আকরাম হোসেন (২৯), কবিরহাট উপজেলার ইয়াছিন (৩০), ঢাকা জেলার তাসমিন আক্তার (২১), নরসিংদী জেলার শাহনাজ বেগম (৩৬), খাগড়াছড়ি জেলার হাফেজা বেগম (২৩), লক্ষ্মীপুর জেলার বিউটি আক্তার (২৫) এবং ফেনী জেলার ময়না (২৫)।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের এ অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলল, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

 

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বহুজাতিক বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

 

 

 

আগামী ২৯ জুন বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। চেম্বার আদালতের এ আদেশের ফলে সরকার ঘোষিত অফশোর বিডিং রাউন্ড এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া আপাতত অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

এর আগে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন এবং কয়েকটি নির্দেশনা দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ব্লকগুলোতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছাড়া গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকলে সরকারের চলমান উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে সরকার ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ ঘোষণা করে। এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লক—এর মধ্যে ১৫টি গভীর সমুদ্র এবং ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক—তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি), কর-সুবিধা এবং অন্যান্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও করেছে।

 

 

জ্বালানি বিভাগের মতে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য।

 

 

 

চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণের পথে আপাতত কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী ২৯ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানির পর।

 

সিরাজগঞ্জে মাদকবিরোধী সেমিনার কুইজ, আবৃত্তি, প্রদর্শনী বির্তক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সমাজকে মাদকাসক্তির  ভয়াবহ ক্ষতি  সম্পর্কে সচেতন করতে সিরাজগঞ্জের  স্কুল কলেজসহ  বিভিন্ন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরএলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে  জনসচেতনতা বাড়াতে মাদকবিরোধী সেমিনার, কুইজ, আবৃত্তি,প্রদর্শনী বির্তক ও পুরস্কার বিতরণ  অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫জুন) সকালে  শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত  প্রশাসক সাইফুল ইসলাম শাহীন।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাদকবিরোধী সেমিনারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক
 সাইদুর রহমান বাচ্চুর সার্বিক তত্বাবধানে ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সিরাজগঞ্জ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, রাশিদাজ্জোহা সরকারী মহিলা কলেজের  অধ্যক্ষ সুলতানা সালমা হোসেন।
 এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, এডুকেটিভ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমরান,  হেমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
আব্দুল্লাহেল অফি প্রমুখ।
বক্তারা  মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে  বলেন, আমাদের সমাজের ছাত্রছাত্রী ও যুবকরাই আগামীদিনের চালিকা শক্তি। তারাই পারে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে। মাদকের প্রভাবে পরিবারের নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য নারীরাসহ সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে  শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের  এই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সবাইকে একসাথে আওয়াজ তুলতে হবে, মাদককে না বলতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর  লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান সাইদুর রহমান বাচ্চু।  তার এধরনের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ সকল অতিথিবৃন্দ ও উপস্থিত সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীরা স্বাগতম জানিয়েছেন।
পরে মাদকবিরোধী সেমিনারে কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি ও প্রদর্শনী  বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও বৃক্ষ রোপন  করা হয়।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জৈব সারের পরিবর্তে ময়লা-আবর্জনা দেয়া নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে গাছের চারা ও সার বিতরণে জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা বিতরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

 

বুধবার (২৪জুন) ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পলিথিন ও ময়লা আবর্জনা মেশানো ভেজাল সার বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা এবং অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হয় । রিপোর্টটি নিয়ে বিশিষ্ট জনের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়।

 

 

বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) আনোয়ার সাদাত, সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মেরাজ হোসেন মিসবাহ। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা বিতরণের অভিযোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

 

 

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়কে সারের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে৷ সারের বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে আর যে কোম্পানি থেকে সার কেনা হয়েছে তাদেরকে টাকা দিতেও নিষেধ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ভালো মানের জৈব সার বিতরণ করা হবে। আইন অনুযায়ী সেই সারের কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।