কওমি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করা তরুণ জাহিদ হাসান এখন সফল হাঁস খামারি ও উদ্যোক্তা। সাদা রঙের পেকিন হাঁস পালন ও বাচ্চা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার ও বাচ্চা উৎপাদনের হ্যাচারি। বর্তমানে সব খরচ বাদে তাঁর মাসিক আয় লাখ টাকার বেশি। তাঁর এ সাফল্যে বদলে গেছে পারিবারিক আর্থিক অবস্থাও।
জাহিদ হাসানের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে। সরেজমিনে তাঁর খামারে গিয়ে কথা হয় এই তরুণ উদ্যোক্তার সঙ্গে।
জাহিদ জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস পালন শুরু করেন। তবে আশানুরূপ লাভ না হওয়ায় নতুন কিছু করার চিন্তা করেন। তিন বছর আগে ইউটিউবে সাদা রঙের পেকিন হাঁস পালনের ভিডিও দেখে এ জাতের হাঁস পালনে আগ্রহী হন। এরপর পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন পেকিন হাঁসের খামার। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ১৭০০টি হাঁস রয়েছে।
পেকিন হাঁস মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। তবে এ জাতের স্ত্রী হাঁসও ডিম দেয়। জাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্ত্রী হাঁস বছরে প্রায় ২০০টি ডিম দেয়। এসব ডিমের বাজারমূল্য সাধারণ হাঁসের ডিমের তুলনায় বেশি। প্রতিটি বাচ্চা ফোটানোর উপযোগী ডিম বিক্রি করেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া ৪৫ থেকে ৬০ দিনে একটি পেকিন হাঁসের ওজন প্রায় ৩ কেজি এবং ৩ থেকে ৪ মাসে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়।
হাঁসের খাবার প্রসঙ্গে জাহিদ বলেন, ধান ও ফিডের পাশাপাশি চলনবিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে হাঁসকে খাওয়ানো হয়। এতে খাবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খামার পরিচালনায় স্থানীয় প্রাকৃতিক খাদ্যও কাজে লাগানো যাচ্ছে।
হাঁস পালনের পাশাপাশি জাহিদ নুরপুর বাজারে গড়ে তুলেছেন ‘চলনবিল হ্যাচারি’ নামে বাচ্চা উৎপাদনের প্রতিষ্ঠান। সেখানে পেকিন হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয়। প্রতিটি বাচ্চা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। তাঁর খামার ও হ্যাচারি মিলিয়ে চারজন কর্মচারী কাজ করেন।
জাহিদ হাসান বলেন, ‘খামার ও হ্যাচারির সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয় হয়। এ ব্যবসার আয় দিয়ে পাকা বাড়ি করেছি, কিছু ধানি জমিও কিনেছি। বর্তমানে খামার ও হ্যাচারি মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। আমি এখন ভালো আছি। ভবিষ্যতে এ ব্যবসা আরও বড় করার ইচ্ছা রয়েছে।’
সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তাদের হাঁস পালনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে থাকি। হাঁস পালনের প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, পরামর্শ ও ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়া হয়। সিংড়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি পেকিন হাঁসের খামার রয়েছে। সঠিক নিয়মে পালন করতে পারলে এটি লাভজনক হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও প্রাণিজ আমিষের উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
জনতার কন্ঠ / কেএম

সৌরভ সোহরাব, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















