৭৫ বছর বয়সে নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে। ৮ অক্টোবর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তীব্র বুকে ব্যথার পর গোয়ার নিজের ফ্ল্যাটে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা গেছে। তার ছেলে মালহার পাটেকর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দর্শকের কাছে নানা ছিলেন পরিন্দা, ক্রান্তিবীর, তেরঙ্গা কিংবা ওয়েলকাম-এর তীব্র কণ্ঠ ও শক্তিশালী অভিনয়ের অভিনেতা। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে তার জীবন ছিল অনেকটাই নীরব ও ব্যক্তিগত।
নানার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদ-জঞ্জিরায় একটি মারাঠি পরিবারে তার জন্ম। বাবা দিনকর পাটেকর ছিলেন কাপড়ের নকশাশিল্পী ও ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা সঞ্জনাবাই ছিলেন গৃহিণী। শৈশবে পরিবারের আর্থিক সংকট ছিল। সেই কঠিন সময় পরবর্তী জীবনে নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্ব ও কাজের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। নিজের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন।
নানা পাটেকরের স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকরও মারাঠি চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি অভিনেত্রী ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্রের সূত্রেই দুজনের পরিচয় এবং পরে বিয়ে। তবে তাদের দাম্পত্যজীবন বরাবরই ছিল ব্যক্তিগত পরিসরে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে তারা আলাদা থাকতেন। তবে আইনগতভাবে তাদের বিচ্ছেদ হয়নি এবং এ বিষয়ে দুজনের কেউ প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেননি।
নানা ও নীলকান্তির দুই ছেলে ছিলেন। তাদের বড় ছেলে দুর্বাসা অল্প বয়সেই অসুস্থতায় মারা যায়। তার বয়স হয়েছিল মাত্র দুই বছর। ছোট ছেলে মালহার পাটেকার চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং অভিনয়ের প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাবার মতো তিনিও ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে রাখতেই পছন্দ করেছেন। নানার মৃত্যুর খবরও মালহারই নিশ্চিত করেন। তবে বাবার মৃত্যুর পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তখন তার কাছেও পুরো তথ্য ছিল না বলে জানা গেছে।
পর্দায় নানা পাটেকরের পরিচিতি ছিল তীব্রতা, রাগ ও দৃঢ় সংলাপের জন্য। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে তার জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিনয়ের পাশাপাশি কৃষিকাজ ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। বিশেষ করে কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য তার উদ্যোগ আলোচিত হয়েছে। নিজের জনপ্রিয়তা ও অর্থের একটি অংশ তিনি সামাজিক কাজে ব্যয় করতেন।
তাই নানা পাটেকরের জীবন শুধু সিনেমার পর্দায় শক্তিশালী চরিত্র হয়ে ওঠার গল্প নয়। কঠিন শৈশব পেরিয়ে সাফল্য অর্জন, পরিবারকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখা এবং কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ, সব মিলিয়ে তার জীবনের আরেকটি অধ্যায় ছিল নিভৃত ও মানবিক।

বিনোদন ডেস্ক । জনতার কণ্ঠ.কম 
























