সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

বইমেলায় বিক্রি নামল ‘অর্ধেকে’, হতাশায় প্রকাশকরা

গুগল নোটবুকের সাহায্যে তৈরি গ্রাফ

অমর একুশে বইমেলায় বিক্রির পতন অব্যাহত রইল। ২০২৫ সালে যেখানে আনুমানিক ৪০ কোটির কাছাকাছি বিক্রি হয়েছে, এবার সে বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমেছে। এ নিয়ে প্রকাশকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। যদিও বই বিক্রির বিষয়ে ‘ঢালাও অভিযোগ সত্য নয়’ বলে দাবি করেছে বইমেলা পরিচালনা কমিটি।

 

এ বছর মোট ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির তথ্য পেয়েছে বাংলা একাডেমি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে আট কোটি টাকা বিক্রি করেছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১৭ কোটি টাকার মতো বিক্রি হয়েছে বলে ধারণা করছে বাংলা একাডেমি।

 

 

গত পাঁচ বছরের বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর বিক্রি কমেছে প্রায় তিনগুণের বেশি।

 

 

এই সময়ে বইমেলা আয়োজিত হয়েছে তিন সরকারের অধীনে।

 

 

২০২২ সালের বইমেলায় বিক্রি হয়েছিল আনুমানিক ৫২ কোটি। ২০২৩ সালে তা কিছুটা কমে। সে বছর বিক্রি দাঁড়ায় ৪৭ কোটি টাকায়।

 

২০২৪ সালে মেলা হয়েছিল মোট ৩১ দিন। সেখানে মোট বিক্রি হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।

 

 

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিক্রিতে বড় আকারে পতন দেখা যায়। সে বছর ৩৫১টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির ওপর মূল্যায়ন করে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করে বাংলা একাডেমি। এ বছর সে বিক্রি কমে ১৭ কোটি টাকার আশেপাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

 

বিক্রি কমেছে বাংলা একাডেমিরও। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রতি বইমেলায় তাদের একাধিক স্টল মিলিয়ে কোটি টাকার বই বিক্রি করে। কিন্তু এ বছর তা কয়েকগুণ কমে গেছে। ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি বিক্রি করে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বই। ২০২৩ সালে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিক্রি কমে দাঁড়ায় ৬১ লাখ ৬৫ হাজারে। এ বছর যা প্রায় সাড়ে তিনগুণ কমে ১৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

 

 

মেলায় নতুন বই প্রকাশের সংখ্যাও কমেছে। এ বছর মেলায় বই প্রকাশ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৭১টি। ২০২৫ সালের বইমেলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলায় নতুন বই আসে ৩ হাজার ২৯৩টি। ২০২৪ সালে ছিল ৩ হাজার ৭৫১টি; ২০২৩ সালে ছিল ৩ হাজার ৭৩০টি।

 

 

একাধিক প্রকাশক বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, রোজার মধ্যে মেলায় পাঠক উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থাকায় তারা নতুন বই প্রকাশের ‘সাহস’ করেননি।

 

 

এ বছর মেলার সময় ও পরিসরও ছোট হয়েছে। প্রতি বছর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলেও এবার জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে যায়। প্রকাশকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক, মেলায় স্টল ফি মওকুফ করাসহ প্রকাশকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি এবারের মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

 

সে হিসেবে এবার মেলা চলেছে মাত্র ১৮ দিন। প্রতি বছরের তুলনায় যা অন্তত ১০ দিন কম। ২০২৫ সালে মেলা ২৮ দিন এবং ২০২৪ সালে মেলা মোট ৩১ দিন হয়েছিল। এ বছর মেলায় স্টলও বরাদ্দ পেয়েছে কম। গত বছর যেখানে ৭১৮টি স্টল বরাদ্দ পেয়েছিল, এ বছর তা ১৬৯টি কমে ৫৪৯টি হয়েছে।

 

 

রোজার মধ্যে মেলা আয়োজন, সময় কম দেওয়া, ঈদকেন্দ্রিক মানুষের বাজার ও শপিংয়ের কারণে এবার মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম, বিক্রিও কম বলে মনে করছেন প্রকাশকরা।

 

 

ঐতিহ্য প্রকাশনীর প্রকাশক আমজাদ হোসেন খান কাজল বলেন, এই বছরের মেলা একদমই জমেনি। অন্যান্য বছর ছুটির দিনে যেমন মানুষ হয়, এবার তা হয়নি। মানুষ তো ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত। অনেকে বাড়িতে চলে গেছে। এ বছর স্টলসজ্জার খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েই শঙ্কা রয়েছে।

 

 

বইমেলা বিক্রি নিয়ে গতকাল একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একই হতাশা প্রকাশ করে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য।

 

 

বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশকদের উপস্থিতিতে সংগঠনটির পক্ষে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের বইমেলায় বই বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এবার মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি, যার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের ৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

 

 

ঢালাও অভিযোগ সত্য নয়, বলছে মেলা কমিটি
এদিকে বেচাবিক্রি নিয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটি বলছে, মেলায় বিক্রি কম হয়েছে ঠিক, তবে প্রকাশকরা যেভাবে ঢালাওভাবে অভিযোগ করছেন, তাও সত্য নয়। আগামী বছরের মেলা রোজার আগেই করে ফেলা যায় কি না, তা নিয়েও বাংলা একাডেমি ভাবছে বলে জানিয়েছে তারা।

 

 

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা এই বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু প্রায় ১০ দিন কম হয়েছে মেলা। তারপর মেলাটি যে পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে; মেলা শুরুর দুই-তিন দিন আগেও অনিশ্চিত ছিল মেলা হবে কি না? এর মধ্যে রজমান মাস; সবমিলিয়ে মেলাটি শেষ হলো।

 

 

তবে প্রকাশকদের অভিযোগ মানতে নারাজ তিনি। সেলিম রেজা বলেন, অনেক প্রকাশক আছে, যারা বিক্রির তথ্য গোপন করেন, দেখা গেল বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার, কিন্তু তিনি জানিয়েছেন ৫ হাজার।

 

 

তিনি বলেন, ছোট প্রকাশনীর বিক্রি কম হবে, এটা স্বাভাবিক। আবার এমনও প্রতিষ্ঠান আছে, ‘নব কথা’; তারা প্রায় ১৭ লাখ টাকা বিক্রি করেছে। প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার মতো।

 

 

আগামী বছরও বইমেলা রোজার মধ্যেই পড়বে, সেক্ষেত্রে আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা আছে। রমজানের আগেই মেলাটা যদি শেষ করা সম্ভব হয়, এরকম একটা শিডিউল করে সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

 

 

তবে বইমেলা আয়োজন এককভাবে বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্ত নয় বলেও জানান সেলিম রেজা। তিনি বলেন, এটা নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে, সবার সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা করে। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। বাংলা একাডেমি তো একা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই না? আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক সময়ে হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

বইমেলায় বিক্রি নামল ‘অর্ধেকে’, হতাশায় প্রকাশকরা

আপডেট টাইম : ০৮:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
অমর একুশে বইমেলায় বিক্রির পতন অব্যাহত রইল। ২০২৫ সালে যেখানে আনুমানিক ৪০ কোটির কাছাকাছি বিক্রি হয়েছে, এবার সে বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমেছে। এ নিয়ে প্রকাশকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। যদিও বই বিক্রির বিষয়ে ‘ঢালাও অভিযোগ সত্য নয়’ বলে দাবি করেছে বইমেলা পরিচালনা কমিটি।

 

এ বছর মোট ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির তথ্য পেয়েছে বাংলা একাডেমি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে আট কোটি টাকা বিক্রি করেছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১৭ কোটি টাকার মতো বিক্রি হয়েছে বলে ধারণা করছে বাংলা একাডেমি।

 

 

গত পাঁচ বছরের বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর বিক্রি কমেছে প্রায় তিনগুণের বেশি।

 

 

এই সময়ে বইমেলা আয়োজিত হয়েছে তিন সরকারের অধীনে।

 

 

২০২২ সালের বইমেলায় বিক্রি হয়েছিল আনুমানিক ৫২ কোটি। ২০২৩ সালে তা কিছুটা কমে। সে বছর বিক্রি দাঁড়ায় ৪৭ কোটি টাকায়।

 

২০২৪ সালে মেলা হয়েছিল মোট ৩১ দিন। সেখানে মোট বিক্রি হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।

 

 

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিক্রিতে বড় আকারে পতন দেখা যায়। সে বছর ৩৫১টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির ওপর মূল্যায়ন করে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করে বাংলা একাডেমি। এ বছর সে বিক্রি কমে ১৭ কোটি টাকার আশেপাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

 

বিক্রি কমেছে বাংলা একাডেমিরও। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রতি বইমেলায় তাদের একাধিক স্টল মিলিয়ে কোটি টাকার বই বিক্রি করে। কিন্তু এ বছর তা কয়েকগুণ কমে গেছে। ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি বিক্রি করে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বই। ২০২৩ সালে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিক্রি কমে দাঁড়ায় ৬১ লাখ ৬৫ হাজারে। এ বছর যা প্রায় সাড়ে তিনগুণ কমে ১৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

 

 

মেলায় নতুন বই প্রকাশের সংখ্যাও কমেছে। এ বছর মেলায় বই প্রকাশ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৭১টি। ২০২৫ সালের বইমেলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলায় নতুন বই আসে ৩ হাজার ২৯৩টি। ২০২৪ সালে ছিল ৩ হাজার ৭৫১টি; ২০২৩ সালে ছিল ৩ হাজার ৭৩০টি।

 

 

একাধিক প্রকাশক বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, রোজার মধ্যে মেলায় পাঠক উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থাকায় তারা নতুন বই প্রকাশের ‘সাহস’ করেননি।

 

 

এ বছর মেলার সময় ও পরিসরও ছোট হয়েছে। প্রতি বছর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলেও এবার জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে যায়। প্রকাশকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক, মেলায় স্টল ফি মওকুফ করাসহ প্রকাশকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি এবারের মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

 

সে হিসেবে এবার মেলা চলেছে মাত্র ১৮ দিন। প্রতি বছরের তুলনায় যা অন্তত ১০ দিন কম। ২০২৫ সালে মেলা ২৮ দিন এবং ২০২৪ সালে মেলা মোট ৩১ দিন হয়েছিল। এ বছর মেলায় স্টলও বরাদ্দ পেয়েছে কম। গত বছর যেখানে ৭১৮টি স্টল বরাদ্দ পেয়েছিল, এ বছর তা ১৬৯টি কমে ৫৪৯টি হয়েছে।

 

 

রোজার মধ্যে মেলা আয়োজন, সময় কম দেওয়া, ঈদকেন্দ্রিক মানুষের বাজার ও শপিংয়ের কারণে এবার মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম, বিক্রিও কম বলে মনে করছেন প্রকাশকরা।

 

 

ঐতিহ্য প্রকাশনীর প্রকাশক আমজাদ হোসেন খান কাজল বলেন, এই বছরের মেলা একদমই জমেনি। অন্যান্য বছর ছুটির দিনে যেমন মানুষ হয়, এবার তা হয়নি। মানুষ তো ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত। অনেকে বাড়িতে চলে গেছে। এ বছর স্টলসজ্জার খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েই শঙ্কা রয়েছে।

 

 

বইমেলা বিক্রি নিয়ে গতকাল একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একই হতাশা প্রকাশ করে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য।

 

 

বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশকদের উপস্থিতিতে সংগঠনটির পক্ষে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এবারের বইমেলায় বই বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এবার মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি, যার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের ৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

 

 

ঢালাও অভিযোগ সত্য নয়, বলছে মেলা কমিটি
এদিকে বেচাবিক্রি নিয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটি বলছে, মেলায় বিক্রি কম হয়েছে ঠিক, তবে প্রকাশকরা যেভাবে ঢালাওভাবে অভিযোগ করছেন, তাও সত্য নয়। আগামী বছরের মেলা রোজার আগেই করে ফেলা যায় কি না, তা নিয়েও বাংলা একাডেমি ভাবছে বলে জানিয়েছে তারা।

 

 

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা এই বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু প্রায় ১০ দিন কম হয়েছে মেলা। তারপর মেলাটি যে পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে; মেলা শুরুর দুই-তিন দিন আগেও অনিশ্চিত ছিল মেলা হবে কি না? এর মধ্যে রজমান মাস; সবমিলিয়ে মেলাটি শেষ হলো।

 

 

তবে প্রকাশকদের অভিযোগ মানতে নারাজ তিনি। সেলিম রেজা বলেন, অনেক প্রকাশক আছে, যারা বিক্রির তথ্য গোপন করেন, দেখা গেল বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার, কিন্তু তিনি জানিয়েছেন ৫ হাজার।

 

 

তিনি বলেন, ছোট প্রকাশনীর বিক্রি কম হবে, এটা স্বাভাবিক। আবার এমনও প্রতিষ্ঠান আছে, ‘নব কথা’; তারা প্রায় ১৭ লাখ টাকা বিক্রি করেছে। প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার মতো।

 

 

আগামী বছরও বইমেলা রোজার মধ্যেই পড়বে, সেক্ষেত্রে আগে থেকেই কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা আছে। রমজানের আগেই মেলাটা যদি শেষ করা সম্ভব হয়, এরকম একটা শিডিউল করে সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

 

 

তবে বইমেলা আয়োজন এককভাবে বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্ত নয় বলেও জানান সেলিম রেজা। তিনি বলেন, এটা নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে, সবার সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা করে। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। বাংলা একাডেমি তো একা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই না? আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক সময়ে হবে।