কাইয়ুম মাহমুদ :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গার হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টগুলোতে খাবার বিক্রির পাশাপাশি চলছে মাছের ট্রাকে পানি ভরাটের কাজ। মাছবাহী ওই ট্রাক থেকে পানি গড়িয়ে পড়ার কারণে সড়ক ও মহাসড়কের বিটুমিন উঠে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দের। স্থায়ীত্ব কমে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব রাস্তার। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে মাছের ট্রাক চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিলেও সেটা কার্যকর হয়নি। এদিকে পানিসহ মাছবাহী এসব ট্রাকের কারণে প্রতিনিয়ত মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।
হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকা থেকে শুরু করে তাড়াশের মহিষলুটি পর্যন্ত অসংখ্য রেষ্টুরেন্টে ভাত বিক্রির পাশাপাশি ট্রাকে পানি ভরাটের কাজ চলছে। এসব হোটেল রেষ্টুরেন্টের সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় পানি ভরাটের কাজ। এদের মধ্যে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সিআরবিসি এলাকার নুরজাহান হোটেলটি অন্যতম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুর জাহান হোটেলের মালিক নুরু মাষ্টার এক সময় হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হেদায়েতুল আলম আলম রেজার সহযোগীতা নিয়ে এবং মোহাম্মাদ হোটেলের মালিক মোহাম্মদ আলি হাটিকুমরুল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সায়েমের সঙ্গে যোগসাজসে এই পানি বিক্রি ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। গত বছর আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন ভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিএনপির কিছু নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায় শুধু এ দুটি রেষ্টুরেন্টের পাশাপাশি মহিষলুটি থেকে শুরু করে মহাসড়কে পাশে অবস্থিত, তালতলা আলামিন হোটেল, রামারচর হোটেল, সোহাগ ভাই হোটেল, মোহাম্মদ এর হোটেল, ফরিদুলের হোটেল,সিল্ক সিটির অপজিটে বিসমিল্লাহ হোটেল,নুরজাহান হোটেল, আল্লাহর দান হোটেল, চলে পানি ভরাটের কাজ।
রাজশাহী, নাটোর -পাবনা, বগুড়া, নলকা, এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় মাছবাহী ট্রাকে মাছ পরিবহণ করা হয়। এসব মাছ তাজা রাখতে প্রচুর বরফ ও লবন পানি ব্যবহার করা হয়। মাঝপথে এসে মাছবাহী এসব ট্রাকের পানি পাল্টানোর প্রয়োজন হয়। নুরু মাষ্টার ও মোহাম্মদ আলীর মতো হোটেল ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে এই পানি বিক্রির ব্যবসা করেন। প্রতিটি মাছের ট্রাকে পানি পরিবর্তন করে নতুন পানি ভরে ২শ থেকে ৩শ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ মাছভর্তি ট্রাকগুলোয় নিচের অংশ দিয়ে প্রতিদিন পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়ে সরাসরি রাস্তায় জমাট হতে থাকে। এতে করে রাস্তার বিটুমিন গলে গিয়ে পিচ দুর্বল হয়ে যায়। খোলা এই ট্রাকগুলো দ্রুত গতিতে চলার সময় পুরো মহাসড়কে গুঁড়ি গুঁড়ি পানি পরতে থাকে । এভাবে বিটুমিন নষ্ট হয়ে মহাসড়কের কার্পেটিং উঠে যায় এবং খানা খন্দের সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনাসহ যানবাহন চলাচলের মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাক চালক বলেন, আমরা নাটোর বগুড়া থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত মাছ পরিবহন করি। ঝাকি বা ধক্কলে ট্রাকের পানি পড়ে যায় এবং মহাসড়কে ক্ষতি হয়ে অনেক স্থানে ক্ষতি হয়।এ কারনে নাটোর বনপাড়া থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি খানা খন্ড সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটা খারাপ হয়ে গেছে বেশ কয়েকবার।
অনেক সময় পিচ গলে গিয়ে গাড়ি গুলো আটকে যায়। এসব গাড়িগুলো সাধারণত এই সব রাস্তায় বেশি চলে। আমরা সিনিয়রদের কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু তাদের কোনো সহযোগিতা পাইনি।
চড়িয়া এলাকার শতাধিক কৃষকের প্রায় ৬০০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে, জমিগুলো সব হোটেল গুলোর পেছন দিকে রয়েছে , ট্রাকের সকল আনলোড করা। বরফ ও লবন যুক্ত লোনা পানি কৃষি জমিগুলোতে প্রবেশ করার কারনে কানায় কানায় ভরপুর হয়ে থাকে জমি গুলো। কৃষকের প্রায় ৬০০বিঘা জমি চাষের অযোগ্য পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে রয়েছে। এতে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানান অনেকেই।
এবিষয়ে এলাকার কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসে একাধিকবার অভিযোগ করলেও অদৃশ্য কারনেই এই অবৈধ পানির পয়েন্ট গুলো বন্ধ হয় না।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান হোসাইন সুমেল জানান, মাছবাহী ট্রাকগুলতে লবন যুক্ত পানি থাকে। যে পানি গুলো আনলোড করে নতুন ভাবে পানি ভরাট করে চালকরা। ট্রাকে পানি দিয়ে মাছ পরিবহন করায় উত্তরাঞ্চলের প্রধান মহাসড়ক প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। ট্রাকের পানি পরে মহাসড়কের ভিটামিন গলো নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে মহাসড়ক খানা খন্ডে পরিনত হয়। তিনি আরও বলেন, এই ট্রাকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং আগামী দিনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, এর আগে অভিযোগ পেয়ে ছিলাম এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কারা হয়েছিল। যদি আবারও মাছবাহী ট্রাকে পানি ভরাটের কাজ চলমান থাকে তবে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।কৃষক যেনো মাঠে ধান চাষ করতে পারে সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু -সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, অতিদ্রুত এই পানির পয়েন্ট গুলো বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যাতে করে কৃষক তার কৃষি জমিতে ধান লাগাতে পারে। আর এই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।

রিপোর্টার: 



















