সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

ভারতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনায় পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যখন রুশ পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে, তখন ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আপত্তি করার অর্থ নেই।

 

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তার নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে ব্যবহারের জন্য আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে। যদি তাদের কেনার অধিকার থাকে, তবে ভারতেরও একই সুবিধা পাওয়া উচিত।

 

দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ভারতে গেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার এ সফরে ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তিনি ‘বন্ধু পুতিনকে ভারতে স্বাগত জানাতে আনন্দিত’। দুই দেশের সম্পর্ক ‘সময়-পরীক্ষিত’ এবং জনগণের উপকারে এসেছে। এসময় বিমানবন্দরে আলিঙ্গন ও পরে মোদির বাসভবনে নৈশভোজের ছবি শেয়ার করেন তিনি।

আলজাজিরার নয়াদিল্লি প্রতিনিধি নেহা পুনিয়া জানান, এই উষ্ণ অভ্যর্থনা একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এটি হলো পশ্চিমা চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত দেখাতে চায় যে, পুতিন কোনো বিচ্ছিন্ন নেতা নন। মোদি ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না—এটাও একটি সংকেত।

 

পুতিন বলেন, ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতা ‘রাজনৈতিক উত্থান-পতন বা ইউক্রেনে হামলার’ দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়ার কারণে কিছু পক্ষ রাজনৈতিকভাবে দেশটিকে ‘সংকুচিত’ করতে চাইছে।

 

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি গত কয়েক বছরে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২২ সালের আগে যেখানে ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ, বর্তমানে তা মোট আমদানির প্রায় ৩৬ শতাংশ। এতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো প্রায় প্রতি ব্যারেলে ১২ দশমিক ২০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করেছে।

 

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ এবং রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো রুশ তেল আমদানি কমাতে শুরু করেছে। রিলায়েন্স এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা রুশ তেল প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম রপ্তানি বন্ধ করবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

ভারতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনায় পুতিন

আপডেট টাইম : ১২:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যখন রুশ পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে, তখন ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আপত্তি করার অর্থ নেই।

 

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তার নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে ব্যবহারের জন্য আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে। যদি তাদের কেনার অধিকার থাকে, তবে ভারতেরও একই সুবিধা পাওয়া উচিত।

 

দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ভারতে গেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার এ সফরে ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তিনি ‘বন্ধু পুতিনকে ভারতে স্বাগত জানাতে আনন্দিত’। দুই দেশের সম্পর্ক ‘সময়-পরীক্ষিত’ এবং জনগণের উপকারে এসেছে। এসময় বিমানবন্দরে আলিঙ্গন ও পরে মোদির বাসভবনে নৈশভোজের ছবি শেয়ার করেন তিনি।

আলজাজিরার নয়াদিল্লি প্রতিনিধি নেহা পুনিয়া জানান, এই উষ্ণ অভ্যর্থনা একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এটি হলো পশ্চিমা চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত দেখাতে চায় যে, পুতিন কোনো বিচ্ছিন্ন নেতা নন। মোদি ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না—এটাও একটি সংকেত।

 

পুতিন বলেন, ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতা ‘রাজনৈতিক উত্থান-পতন বা ইউক্রেনে হামলার’ দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়ার কারণে কিছু পক্ষ রাজনৈতিকভাবে দেশটিকে ‘সংকুচিত’ করতে চাইছে।

 

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি গত কয়েক বছরে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২২ সালের আগে যেখানে ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ, বর্তমানে তা মোট আমদানির প্রায় ৩৬ শতাংশ। এতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো প্রায় প্রতি ব্যারেলে ১২ দশমিক ২০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করেছে।

 

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ এবং রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো রুশ তেল আমদানি কমাতে শুরু করেছে। রিলায়েন্স এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা রুশ তেল প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম রপ্তানি বন্ধ করবে।