সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট: গলতে পারে সম্পর্কের বরফ

সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফর শক্তিশালী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক বরফ গলাতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে এতে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত হবে– এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, শি জিনপিং চলতি সপ্তাহের শেষে বার্ষিক ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকবেন। তবে সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

 

সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং বলেছেন, চীন নিশ্চিতভাবেই সম্পর্ক উন্নত করতে চায়, তবে ভারত আসলে কতদূর পর্যন্ত সম্পর্ক উন্নত করতে ইচ্ছুক, তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।

 

নয়াদিল্লির অবজাৰ্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন থিংক ট্যাংকের সহ-সভাপতি হর্ষ পান্ত বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ এখনো অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার ভালো সুযোগ তাদের রয়েছে। বিশেষ করে যখন দুই দেশই আমেরিকার বাণিজ্য নীতি দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

 

 

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের সাবেক বাণিজ্য আলোচক অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, ভিসা ও সরঞ্জাম আটকে রাখার বিষয়টি ‘নিছক প্রশাসনিক জটিলতার চেয়েও বেশি কিছুকে ফুটিয়ে তোলে’। এটি বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের নির্ভরতাকে লিভারেজ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চীনের ইচ্ছাকেই প্রকাশ করে।

 

 

তবে মোদি ও শির মধ্যকার একটি বৈঠক কিছু বাধা দূর করতে সহায়তা করতে পারে, যদি তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ভারতের সাবেক শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা অনুপ ওয়াধওয়ান বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যেকোনো বৈঠক সবসময়ই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থগুলোকে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

 

 

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত উভয় দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারাই পরিচালিত হয়। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এই পথগুলোকে সফল করে তুলতে কাজ করতে পারে।

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট: গলতে পারে সম্পর্কের বরফ

আপডেট টাইম : ০৯:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফর শক্তিশালী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক বরফ গলাতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে এতে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত হবে– এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা

 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, শি জিনপিং চলতি সপ্তাহের শেষে বার্ষিক ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকবেন। তবে সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

 

সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং বলেছেন, চীন নিশ্চিতভাবেই সম্পর্ক উন্নত করতে চায়, তবে ভারত আসলে কতদূর পর্যন্ত সম্পর্ক উন্নত করতে ইচ্ছুক, তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।

 

নয়াদিল্লির অবজাৰ্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন থিংক ট্যাংকের সহ-সভাপতি হর্ষ পান্ত বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ এখনো অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার ভালো সুযোগ তাদের রয়েছে। বিশেষ করে যখন দুই দেশই আমেরিকার বাণিজ্য নীতি দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

 

 

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের সাবেক বাণিজ্য আলোচক অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, ভিসা ও সরঞ্জাম আটকে রাখার বিষয়টি ‘নিছক প্রশাসনিক জটিলতার চেয়েও বেশি কিছুকে ফুটিয়ে তোলে’। এটি বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের নির্ভরতাকে লিভারেজ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চীনের ইচ্ছাকেই প্রকাশ করে।

 

 

তবে মোদি ও শির মধ্যকার একটি বৈঠক কিছু বাধা দূর করতে সহায়তা করতে পারে, যদি তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ভারতের সাবেক শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা অনুপ ওয়াধওয়ান বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যেকোনো বৈঠক সবসময়ই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থগুলোকে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

 

 

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত উভয় দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারাই পরিচালিত হয়। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এই পথগুলোকে সফল করে তুলতে কাজ করতে পারে।