শরীয়তপুর প্রতিনিধি:শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হোটেল ম্যানেজার আতাউর রহমানকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ দল।
বুধবার (২২ অক্টোবর) নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির।
গ্রেপ্তারকৃত আতাউর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে।
এসআরবি জানায়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা থানা সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার (৩৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবুল বাশার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন ভেদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি-৮-এর একটি বিশেষ দল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেদরগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আতাউর রহমানকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় আবুল বাশারের পূর্বপুরুষদের বাড়িতে বেড়াতে এসে রোববার রাতে স্ত্রীকে সর্বশেষ ফোন করে এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান তিনি। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সোমবার তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে স্ত্রীকে ফোন করে আহত হওয়ার কথা জানিয়ে প্রথমে ২ হাজার টাকা এবং পরে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কালিয়াকৈর থানায় জানানো হলে পুলিশ মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ভেদরগঞ্জে তার অবস্থান জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যরা ভেদরগঞ্জ থানায় আসেন। সেখানে পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জণতার কন্ঠ.কম 





















