সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

মিথ্যা মামলায় ক্ষুব্ধ রাজশাহীর সাংবাদিকরা: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:৪২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 153

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 0;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 45;

সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:
রাজশাহীতে এক প্রতারককে দিয়ে ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করায় ফুঁসে উঠেছেন রাজশাহীতে কর্মরত  সাংবাদিকসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ। শাহমখদুম থানার ওসির প্রত্যক্ষ মদদে দায়ের হওয়া মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সেই সঙ্গে ওসির অপসারণও দাবি করেন সাংবাদিকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা এসব দাবী জানান। মানববন্ধনে রাজশাহীতে কর্মরত সকল সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ছাড়াও রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব, রাজশাহী প্রেসক্লাব, রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শাহমখদুম থানার ওসি মাছুমা মুস্তারীকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় শুধু রাজশাহী নয়, গোটা বিভাগজুড়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে আরএমপি সদর দপ্তরের সামনেই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
২৬ আগস্ট নগরীর অগ্রণী ব্যাংক আরডিএ শাখায় জমি নিলাম সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কথিত পত্রিকার মালিক পরিচয়দানকারী প্রতারক আক্তারুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় তিনি এক সাংবাদিকের মোবাইল ভেঙে দেন ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিকরা প্রতারক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা না নিয়ে কেবল লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। পরে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হয়ে ছয় দিন পর প্রতারককে থানায় ডেকে এনে নিজেই এজাহার লিখিয়ে স্বাক্ষর করান। এরপর সেটি চাঁদাবাজির মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় (মামলা নং-২/২০২৫)।
কিন্তু আক্তার মুঠেফোনে বলেন, তিনি মামলা সম্পর্কে কিছুই জানে না, প্রশাসনের চাপে তিনি অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া তিনি প্রচন্ড মানষিক চাপে আছেন ( অডিও কল সংরক্ষিত)।
প্রতারক আক্তারের স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,সাংবাদিকরা তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তবে ঘটনার ভিডিওচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করছে। এমনকি প্রতারক আক্তার নিজেই স্বীকার করেন তিনি মামলা সম্পর্কে জানে না, প্রশাসনের চাপে তিনি মামলা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দাবি, এটি পুরোপুরি ওসির প্রতিশোধমূলক মামলা, যা পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকারই প্রমাণ।
সাংবাদিকের মামলা না নিয়ে আ’লীগের দোসর প্রতারক আক্তারুল ইসলামকে থানায় ওসি মামলা নেয়। মূলত ফ্যাসিস্ট ওসি একজন ফ্যাসিস্টকে বাঁচাতে ও নিজের নানা অপকর্ম ঢাকতে এ মিথ্যা মামলাটি নেয়। মামলার একজন আসামী ওইদিন ঢাকায় ছিলো সেও নিউজ করার অপরাধে মামলার আসামী হয়।
কে এই আক্তার?
আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব খাটিয়ে এলজিইডি, বিএমডিএ ও গণপূর্ত ভবনে কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন আক্তারুল ইসলাম। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ— তিনি এমপি মির্জা আজম ও নুরু ইসলাম ঠান্ডুকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কমিশন আদায় করতেন। নামমাত্র কাজ করে কোটি টাকার বিল উত্তোলনের নজিরও রয়েছে।
৫ আগস্টের ঘটনার পর আচমকা ভোল পাল্টে জামাত-বিএনপি পরিচয়ে প্রতারণা চালাচ্ছেন আক্তার। তার বিরুদ্ধেও বহু প্রতারণার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত।
ওসি মাছুমা মুস্তারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করছেন ওসি মাছুমা মুস্তারী। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে— টাকার বিনিময়ে মামলা রেকর্ড বা বাতিল (মামলা বাণিজ্য), স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়, প্রতারণা চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সহ বর্তমানে সাংবাদিকদের দমনে প্রতিশোধমূলক মামলা দায়ের ।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন তিনি। আবার সরকারের পতনের পর যেসব আওয়ামী নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়নি কিন্তু ছবি-ভিডিও প্রমাণ ছিল, তাদের মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায় করেছেন।
বর্তমানে তিনি বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের খুশি করতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে শাহমখদুম থানার এলাকায় বেড়েছে ছিনতাই, রমরমা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড—কিন্তু পুলিশের কোনো অভিযান নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমানে নগরীর কাজলা মৌজায় সাততলা ভবন নির্মাণ করছেন। সীমিত বেতনের একজন সরকারি কর্মকর্তার কোটি টাকার এই সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
সাংবাদিক সমাজের হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত অধিকার। অথচ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ প্রতারকের দালালি করছে।”
“এ মামলা সাংবাদিকদের কলম ভাঙার হীন ষড়যন্ত্র। কিন্তু কলমকে ভয় দেখানো যায় না।”
“ওসি মাছুমা মুস্তারীকে অবিলম্বে অপসারণ করে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।”
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে শুধু রাজশাহী নয়, পুরো বিভাগে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নামবে। প্রয়োজনে আরএমপি সদর দপ্তরের সামনেই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

মিথ্যা মামলায় ক্ষুব্ধ রাজশাহীর সাংবাদিকরা: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আপডেট টাইম : ০৮:৪২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী:
রাজশাহীতে এক প্রতারককে দিয়ে ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করায় ফুঁসে উঠেছেন রাজশাহীতে কর্মরত  সাংবাদিকসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ। শাহমখদুম থানার ওসির প্রত্যক্ষ মদদে দায়ের হওয়া মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সেই সঙ্গে ওসির অপসারণও দাবি করেন সাংবাদিকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা এসব দাবী জানান। মানববন্ধনে রাজশাহীতে কর্মরত সকল সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব ছাড়াও রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব, রাজশাহী প্রেসক্লাব, রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখা, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শাহমখদুম থানার ওসি মাছুমা মুস্তারীকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় শুধু রাজশাহী নয়, গোটা বিভাগজুড়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে আরএমপি সদর দপ্তরের সামনেই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
২৬ আগস্ট নগরীর অগ্রণী ব্যাংক আরডিএ শাখায় জমি নিলাম সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কথিত পত্রিকার মালিক পরিচয়দানকারী প্রতারক আক্তারুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় তিনি এক সাংবাদিকের মোবাইল ভেঙে দেন ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিকরা প্রতারক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা না নিয়ে কেবল লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। পরে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হয়ে ছয় দিন পর প্রতারককে থানায় ডেকে এনে নিজেই এজাহার লিখিয়ে স্বাক্ষর করান। এরপর সেটি চাঁদাবাজির মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় (মামলা নং-২/২০২৫)।
কিন্তু আক্তার মুঠেফোনে বলেন, তিনি মামলা সম্পর্কে কিছুই জানে না, প্রশাসনের চাপে তিনি অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া তিনি প্রচন্ড মানষিক চাপে আছেন ( অডিও কল সংরক্ষিত)।
প্রতারক আক্তারের স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,সাংবাদিকরা তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তবে ঘটনার ভিডিওচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করছে। এমনকি প্রতারক আক্তার নিজেই স্বীকার করেন তিনি মামলা সম্পর্কে জানে না, প্রশাসনের চাপে তিনি মামলা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দাবি, এটি পুরোপুরি ওসির প্রতিশোধমূলক মামলা, যা পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকারই প্রমাণ।
সাংবাদিকের মামলা না নিয়ে আ’লীগের দোসর প্রতারক আক্তারুল ইসলামকে থানায় ওসি মামলা নেয়। মূলত ফ্যাসিস্ট ওসি একজন ফ্যাসিস্টকে বাঁচাতে ও নিজের নানা অপকর্ম ঢাকতে এ মিথ্যা মামলাটি নেয়। মামলার একজন আসামী ওইদিন ঢাকায় ছিলো সেও নিউজ করার অপরাধে মামলার আসামী হয়।
কে এই আক্তার?
আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব খাটিয়ে এলজিইডি, বিএমডিএ ও গণপূর্ত ভবনে কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন আক্তারুল ইসলাম। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ— তিনি এমপি মির্জা আজম ও নুরু ইসলাম ঠান্ডুকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কমিশন আদায় করতেন। নামমাত্র কাজ করে কোটি টাকার বিল উত্তোলনের নজিরও রয়েছে।
৫ আগস্টের ঘটনার পর আচমকা ভোল পাল্টে জামাত-বিএনপি পরিচয়ে প্রতারণা চালাচ্ছেন আক্তার। তার বিরুদ্ধেও বহু প্রতারণার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত।
ওসি মাছুমা মুস্তারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করছেন ওসি মাছুমা মুস্তারী। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে— টাকার বিনিময়ে মামলা রেকর্ড বা বাতিল (মামলা বাণিজ্য), স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়, প্রতারণা চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সহ বর্তমানে সাংবাদিকদের দমনে প্রতিশোধমূলক মামলা দায়ের ।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন তিনি। আবার সরকারের পতনের পর যেসব আওয়ামী নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়নি কিন্তু ছবি-ভিডিও প্রমাণ ছিল, তাদের মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায় করেছেন।
বর্তমানে তিনি বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের খুশি করতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে শাহমখদুম থানার এলাকায় বেড়েছে ছিনতাই, রমরমা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার বোর্ড—কিন্তু পুলিশের কোনো অভিযান নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমানে নগরীর কাজলা মৌজায় সাততলা ভবন নির্মাণ করছেন। সীমিত বেতনের একজন সরকারি কর্মকর্তার কোটি টাকার এই সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
সাংবাদিক সমাজের হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত অধিকার। অথচ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ প্রতারকের দালালি করছে।”
“এ মামলা সাংবাদিকদের কলম ভাঙার হীন ষড়যন্ত্র। কিন্তু কলমকে ভয় দেখানো যায় না।”
“ওসি মাছুমা মুস্তারীকে অবিলম্বে অপসারণ করে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।”
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে শুধু রাজশাহী নয়, পুরো বিভাগে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নামবে। প্রয়োজনে আরএমপি সদর দপ্তরের সামনেই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।”