সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ Logo পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর Logo সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম Logo হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশকে বিশেষ ছাড় দিল ইরান Logo একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলাদেশ Logo চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন Logo গোপালগঞ্জ জেলা স্কুলে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, ছাড়পত্র পেল ৯ শিক্ষার্থী Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী Logo নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লজ্জার: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

 

 

 

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

 

জিএম কাদের বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা! গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আমি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছি। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুর পরও নির্বিঘ্নে সমাহিত করা যায়নি। এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।’

 

 

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় তার মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলোয় নিজেরাই কবর খুঁড়েছেন। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অশনিসংকেত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুরে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মৃতদেহের অসম্মান ও শোকাহত পরিবারকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও চরম পরিপন্থি। পুলিশ লাইনসে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার খবরও উদ্বেগজনক। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মান কেন আড়ালে দিতে হবে? এমন পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় সরকারের দৃঢ়তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির চাপের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার করতে পারে না।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দায় বর্তমান সরকারের। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে হবে। সরকার এই দায় এড়াতে পারে না। অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, মানিক পশারীর কবর ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে জানাই গভীর সমবেদনা । যারা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের শেষবিদায়ের মর্যাদাও যদি রক্ষা করতে না পারি, সেই ব্যর্থতা গোটা জাতির।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লজ্জার: জিএম কাদের

আপডেট টাইম : ০৫:২৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

 

 

 

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

 

জিএম কাদের বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা! গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আমি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছি। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুর পরও নির্বিঘ্নে সমাহিত করা যায়নি। এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।’

 

 

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তাকে দাফন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় তার মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলোয় নিজেরাই কবর খুঁড়েছেন। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অশনিসংকেত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুরে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মৃতদেহের অসম্মান ও শোকাহত পরিবারকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও চরম পরিপন্থি। পুলিশ লাইনসে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার খবরও উদ্বেগজনক। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মান কেন আড়ালে দিতে হবে? এমন পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় সরকারের দৃঢ়তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির চাপের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার করতে পারে না।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দায় বর্তমান সরকারের। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে হবে। সরকার এই দায় এড়াতে পারে না। অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, মানিক পশারীর কবর ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে জানাই গভীর সমবেদনা । যারা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের শেষবিদায়ের মর্যাদাও যদি রক্ষা করতে না পারি, সেই ব্যর্থতা গোটা জাতির।’