সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

রাজশাহীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুকুর ভরাট

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০১:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • 49

মো. সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

রাজশাহী নগরীর খুলিপাড়া এলাকায় প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুর ভরাটের অভিযোগে উঠেছে বিএনপি নেতা এস এম এখলাস আহমেদ রমির বিরুদ্ধে। পুকুর ভরাট নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে ভরাটের চেষ্টা চললেও এলাকাবাসী সরাসরি বাধা দেয়। কিন্তু তাদের কথা তোয়াক্কা না করে এস এম এখলাস আহেমদ রমি ভরাট চালিয়ে যেতে থাকে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সহযোগিতায় মানববন্ধনের আয়োজন করে। গত ৭ই মার্চ শুক্রবার বিকেল ৪টায় ওই পুকুরপাড়েই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেন।

তবে কয়েক মাস পর আবারও এস এম এখলাস আহেমদ রমি ভরাট শুরু করলে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা বন্ধ হয়। পরে প্রশাসনের চাপের মুখে এসি ল্যান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর রমি এবং তার সহযোগীদের শেষবারের মতো সতর্ক করে।

এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। গত ২ অক্টোবর তারিখ রাত ১০টা থেকে নতুন কৌশলে আবারও ভরাট শুরু হয়। দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম।

ধাপে ধাপে প্রতিবার কিছুটা করে ভরাট করতে করতে বর্তমানে পুকুরের বড় অংশ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবার মাটি ফেলে জলাধারকে ২-৩ হাত পানির জমিতে পরিণত করা হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে চারদিক ঘিরে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার স্তূপ ফেলার চেষ্টা করাও হয়েছিল। এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা ব্যর্থ হলে আবারও সরাসরি মাটি ফেলা শুরু হয়। এবার মাস্তান বাহিনী বসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বাঁধা দিতে না পারে বা ভিডিও ধারণ করতে না পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এস এম এখলাস আহেমদ রমি শুধু পুকুর ভরাটেই সীমাবদ্ধ নয়। টিকাপাড়া গোরস্থানের সামনে চিশতীয়া খানকা শরীফে গাঁজার আসর বসানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে, নিজেও প্রখ্যাত গাঁজা সেবনকারী হিসেবে পরিচিত। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছেন, অথচ স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের মতে তিনি হাইব্রিড রাজনীতিক, অর্থের বিনিময়ে বিএনপির পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া বাঘা উপজেলায় একটি বালুঘাট ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে দিনরাত বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে পদ্মা নদীর তীর ভাঙনসহ ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে নগরীর পুকুর ভরাট, অন্যদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন—এই দুটি কর্মকাণ্ডের ফলে শহর ও গ্রামীণ দুই পরিবেশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে পানির সংকট, নদীভাঙন, মাছ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পুকুর ভরাট করছে কি না জানতে চাইলে এস এম এখলাস আহেমদ রমি বলেন, “আমার সাথে কি আপনার বা অন্য কারো শত্রুতা আছে? আপনি আরেকবার আসেন ঘটনাস্থলে কথা বলি।” ঘটনাস্থলে আসার প্রস্তাব রাজি না হয়ে বারবার ভরাটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি শুধু বলেন, “আমি শুধু জানি বাসার সামনে কোনো ডেভেলপার কাজ শুরু করেছে, এছাড়া কী অবস্থা পরে জানাতে পারব।”

ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বর্তমানে আমি সহ পুরো ফোর্স পূজা ডুবানোর নিরাপত্তার কাজে ডিউটিতে আছি। আপনারা ওহাটসঅ্যাপে পুরো তথ্য পাঠিয়ে দিন, এটা শেষ হলেই ফোর্স পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করব। বাকিটা ভূমি কর্মকর্তারা দেখবেন, ওনারাই আইনি ব্যবস্থা নেবেন।”

তিনি আরও জানান, ভূমি অফিস আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভরাট বন্ধে সহযোগিতা করবে।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফ হোসেন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও মধ্যরাত হওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী ও ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সংগঠন প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা, এস এম এখলাস আহেমদ রমির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জলাশয় ও নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এভাবে জলাশয় দখল চলতে থাকলে নগরীর পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

রাজশাহীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুকুর ভরাট

আপডেট টাইম : ০১:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

মো. সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

রাজশাহী নগরীর খুলিপাড়া এলাকায় প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুর ভরাটের অভিযোগে উঠেছে বিএনপি নেতা এস এম এখলাস আহমেদ রমির বিরুদ্ধে। পুকুর ভরাট নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে ভরাটের চেষ্টা চললেও এলাকাবাসী সরাসরি বাধা দেয়। কিন্তু তাদের কথা তোয়াক্কা না করে এস এম এখলাস আহেমদ রমি ভরাট চালিয়ে যেতে থাকে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সহযোগিতায় মানববন্ধনের আয়োজন করে। গত ৭ই মার্চ শুক্রবার বিকেল ৪টায় ওই পুকুরপাড়েই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেন।

তবে কয়েক মাস পর আবারও এস এম এখলাস আহেমদ রমি ভরাট শুরু করলে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা বন্ধ হয়। পরে প্রশাসনের চাপের মুখে এসি ল্যান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর রমি এবং তার সহযোগীদের শেষবারের মতো সতর্ক করে।

এরপরও তিনি থেমে থাকেননি। গত ২ অক্টোবর তারিখ রাত ১০টা থেকে নতুন কৌশলে আবারও ভরাট শুরু হয়। দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম।

ধাপে ধাপে প্রতিবার কিছুটা করে ভরাট করতে করতে বর্তমানে পুকুরের বড় অংশ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবার মাটি ফেলে জলাধারকে ২-৩ হাত পানির জমিতে পরিণত করা হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে চারদিক ঘিরে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার স্তূপ ফেলার চেষ্টা করাও হয়েছিল। এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা ব্যর্থ হলে আবারও সরাসরি মাটি ফেলা শুরু হয়। এবার মাস্তান বাহিনী বসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ বাঁধা দিতে না পারে বা ভিডিও ধারণ করতে না পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এস এম এখলাস আহেমদ রমি শুধু পুকুর ভরাটেই সীমাবদ্ধ নয়। টিকাপাড়া গোরস্থানের সামনে চিশতীয়া খানকা শরীফে গাঁজার আসর বসানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে, নিজেও প্রখ্যাত গাঁজা সেবনকারী হিসেবে পরিচিত। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছেন, অথচ স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের মতে তিনি হাইব্রিড রাজনীতিক, অর্থের বিনিময়ে বিএনপির পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া বাঘা উপজেলায় একটি বালুঘাট ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে দিনরাত বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে পদ্মা নদীর তীর ভাঙনসহ ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে নগরীর পুকুর ভরাট, অন্যদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন—এই দুটি কর্মকাণ্ডের ফলে শহর ও গ্রামীণ দুই পরিবেশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে পানির সংকট, নদীভাঙন, মাছ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পুকুর ভরাট করছে কি না জানতে চাইলে এস এম এখলাস আহেমদ রমি বলেন, “আমার সাথে কি আপনার বা অন্য কারো শত্রুতা আছে? আপনি আরেকবার আসেন ঘটনাস্থলে কথা বলি।” ঘটনাস্থলে আসার প্রস্তাব রাজি না হয়ে বারবার ভরাটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি শুধু বলেন, “আমি শুধু জানি বাসার সামনে কোনো ডেভেলপার কাজ শুরু করেছে, এছাড়া কী অবস্থা পরে জানাতে পারব।”

ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বর্তমানে আমি সহ পুরো ফোর্স পূজা ডুবানোর নিরাপত্তার কাজে ডিউটিতে আছি। আপনারা ওহাটসঅ্যাপে পুরো তথ্য পাঠিয়ে দিন, এটা শেষ হলেই ফোর্স পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করব। বাকিটা ভূমি কর্মকর্তারা দেখবেন, ওনারাই আইনি ব্যবস্থা নেবেন।”

তিনি আরও জানান, ভূমি অফিস আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভরাট বন্ধে সহযোগিতা করবে।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফ হোসেন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও মধ্যরাত হওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী ও ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সংগঠন প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা, এস এম এখলাস আহেমদ রমির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জলাশয় ও নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এভাবে জলাশয় দখল চলতে থাকলে নগরীর পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।