মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে শেষ হলো রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার বিচার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এ রায় কার্যকর করা হোক।’
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। এ সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর রামিসা বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় সোহেল।
চার্জশিট অনুযায়ী, প্রথমে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হাতও কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভাঙেন। কিন্তু তার আগেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। বাথরুমের একটি রঙের বালতিতে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা এবং খাটের নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। লাশ গুম করতে ও স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা। তদন্তের শুরুতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।
প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাঁচ দিনে তদন্ত, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া
মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযোগ গঠন ও আসামিদের বক্তব্য
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। মূলত চার্জগঠন শুনানি করতে আসামিদের হাজির করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিল করতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ায় চার্জ শুনানি করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আসামিদের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়নি। বিকেল ৫টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে ফের তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আইনজীবী ও বিচারের জন্য আসা জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ফাঁসি চান।
আদালতে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন সোহেল। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিই শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তার বাড়ি মিরপুরে। তিনি অনেক টাকাওয়ালা। এ সময় নিজেকেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সোহেল। তিনি আদালতকে বলেন, আমি মারিনি। আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও স্বীকারোক্তি
৩ জুন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সোহেল রানাকে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। এ সময় সোহেল আদালতের উদ্দেশে বলেন, স্যার আমার সঙ্গে ডলার ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি। কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানির আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। প্রথমে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। সব সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনান। এ ছাড়া সোহেলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)। সোহেল তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাড়ির তিন তলায় ৩টি ফ্ল্যাটে ৩টি পরিবার থাকে। সকালে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।
সোহেল আরও বলেন, পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। শিশুটি এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম। এরপর তাকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।
স্বপ্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, যখন তার স্বামী সোহেল ধর্ষণ ও হত্যা করেন, তিনি বাধা দিতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মানুষজন ডাকাডাকি করলেও তিনি দরজা খোলেননি। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ও তার স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তিনি চাইলে ধর্ষণে বাধা দিতে পারতেন। অথবা অন্তত হত্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারার পাশাপাশি ৩০ ধারায় ও দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, আসামিরা যে বাসায় বসবাস করে, রামিসার মরদেহ ওই একই বাসায় পাওয়া যায়। আসামি সোহেল রানাকে সেই বাসা থেকে পালাতে ও স্বপ্নাকে ঘটনাস্থলে হাঁটতে দেখা যায়, যার চাক্ষুষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাই।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ও পর্যালোচনা
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। রোববার মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশও দেন আদালত।
আদালত এ রায়ের পর্যালোচনায় বলেন, আসামির জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামি সোহেল রানা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধে সব ধরনের সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও একই অপরাধে অপরাধী।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
পর্যবেক্ষণে তিনি আরও বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
তিনি আরও বলেন, নারী এ শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এক হাজার আটশ (১৮০০+) বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে, তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, বিজ্ঞ প্রসিকিউশন মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিচারকার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সবার এই আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। আদালত এটাও প্রত্যাশা করে যে, শিশু রামিসার মামলার ন্যায় দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিশেষত ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ একই রকম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এটাই এই আদালতের প্রত্যাশা।
একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষীগণ এবং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জিত হয়। আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদঘাটন করা। অতএব, এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ রায় প্রদান করছে।

১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:৫০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
রোববার (৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার চর মিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশাদুল ওরফে আছাই (৩২) ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে চর মিলপাড়া এলাকার মিশনারি স্কুলের একটি কক্ষে ওই শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আশাদুল। এ সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাতেনাতে অভিযুক্ত আছাইকে ধরে ফেলে। পরে উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এদিকে ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া গণধোলাইয়ের শিকার অভিযুক্ত আছাইকেও একই হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের বিরুদ্ধে
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জে রায়হান শেখ নামে এক ছাত্রদল নেতাকে মারপিট করার উঠেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক ও বহিষ্কৃত শিবির নেতা মুনতাসির মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।
গত ২ জুন শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস রোডে রিক্সা থামিয়ে রায়হান শেখ কে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায় রায়হান শেখ বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির পাশাপাশি ইউনিলিভার লিঃ এস.আর পদে চাকরি করি। ২ জুন অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে বহিষ্কৃত শিবির নেতা ও বর্তমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী হাসান ও তাজ নামে যুবক পুরাতন পোষ্ট অফিস রোড আমার রিকশা থামিয়ে পথরোধ করে ১০/১২ জন রড, স্টীক, হকিস্টিক, পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর করে। পরে জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি আলীম ভাই আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরে জানতে পারি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক জুয়েল রানা আগেই বহিষ্কৃত শিবির নেতা ও সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী হাসান সাথে বৈঠক করে লোকবল গুছিয়ে রেখেছিলো। জুয়েল রানার নেতৃত্বেই আমার ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা হয়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার ফেসবুক একাউন্টে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক চাঁদাবাজি করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে এমন পোস্ট দেই। এ কারণেই কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল ও তাজ নামের এক যুবককে সাথে নিয়ে মুনতাসির মেহেদী হাসান আমাকে মারধোর করে।
এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
এ সময় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক আবির ইসলাম চাঁদ, মুন্সি ইউসুফ কামাল রিচার্ড, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের হোসেন সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম ও সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব উপস্থিত ছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ছাত্রদল নেতা রায়হান শেখ এর উপর হামলার ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথে রায়পুরে জংশনের দাবী
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথকে সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর জংশনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন”-এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মারুফ বন্ধনে বক্তারা বলেন, এক সময় সিরাজগঞ্জ ছিল রেলের শহর। এই শহরে ছিল চারটি রেলওয়ে স্টেশন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহরকে রেল শূণ্য করার পায়তারা চলছে। সিরাজগঞ্জ বগুড়া রেলপথ ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। সেই দাবি আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ শহরকে বাদ দিয়ে এই রেল পথ নির্মাণ হচ্ছে।
বক্তারা রায়পুর জংশনকে উত্তরাঞ্চলগামী রেল যোগাযোগের কেন্দ্রীয় জংশন হিসেবে গড়ে তোলা এবং নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথকে রায়পুর জংশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি জানান।
আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিথুন রহমান।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্কুলছাত্রকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ, আতঙ্কে অভিভাবকরা
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
- বিকাশ চন্দ্র প্রামানিক ব্যুরো প্রধান, নওগাঁ। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
নওগাঁয় হাবিবুজ্জামান জিয়া নামের এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও জালিয়াতি করে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে পুকুর দখলে নেওয়ারও অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ ওঠা হাবিবুজ্জামান জিয়া নওগাঁ শহরের পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি গত ২০২৪সালের ২০আগষ্ট শহরের লোভনীয় ওই ভূমি অফিসে যোগদান করেন।
অভিযোগ উঠেছে তিনি যখন যে ভূমি অফিসে কর্মরত থাকেন সেখানেই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে। নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলেই তাকে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এমনকি তিনি ভুয়া খতিয়ান দিয়েও করে দেন জমির খারিজ। আর এভাবেই কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। কিনেছেন ফ্লাটও।
একজন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের মনে।
সম্প্রতি খাদেমুল ইসলাম ও একটা মাদরাসার জমি খারিজ করতে ১০লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং ঘুষ নেওয়া এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। এরপর গত মে মাসে একাধিক শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়। তবে নিউজ প্রকাশের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি বিভাগীয় ব্যবস্থা।
জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র কাজির মোড়ে অবস্থিত “ডক্টর হাইটস” নামের দশ তলা বিল্ডিংয়ে ৬১লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্লাট কিনেছেন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া। এর আগে গত ২০২১সালে হাবিবুজ্জামান ও তার বোনের যৌথ নামে শহরের চকদেব মৌজায় ৬৭৫দাগে ৩শতক জমি কেনা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এছাড়া চাকরির পর তার গ্রামের বাড়ি নারচি ও পুটিমারি মৌজায় জিয়া ৬-৭বিঘা জমি কিনেছে। আবার নামে ও বেনামে আরও কোটি টাকার সম্পদ থাকতে পারে বলেও জানান স্থানীয় নারী-পুরুষ।
এদিকে এর আগে হাবিবুজ্জামান সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপসহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন একটি ভুয়া খতিয়ান দিয়ে খারিজ অনুমোদন করে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসার পরও তার বিরুদ্ধে হয়নি কোনো ব্যবস্থা। যার কারণে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভূমি কর্মকর্তা।
ফ্লাট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বিল্ডিংয়ে দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, এই ভবনের একটি ফ্লাটের দাম ৬১ থেকে ৬২লাখ টাকা। সব বিক্রি হয়ে গেছে। এই ভবনের ৬তলায় দুই মাস আগে একটি ফøাট কিনেছে তহশিলদার জিয়া। এখন তার পরিবার সেখানে থাকছে।
“ডক্টর হাইটস” নামক আরেক বিল্ডিংয়ের সাবু নামের এক কেয়ারটেকার জানান- দুই মাস আগে টিডিআর জিয়াকে আমি ৬১লাখ টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনে দিয়েছি।
পুকুর দখলের বিষয়ে নারচি গ্রামের ভুক্তোভোগী মোস্তফা বলেন, আমাদের শরিকানা পুকুর দখল করে নিয়েছে জিয়া। ওই পুকুরটার ১৩ভাগের মধ্যে জিয়ার এক ভাগ ছিল। পরে সে একাই মালিকানা দাবী করে। লোক ভাড়া করে নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করে। আমার মাথা ফেটে দিয়ে উল্টো আমাদের নামেই মামলা করে।
ভুক্তোভোগী মোস্তফার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, টিডিআর হওয়ার কারণে বর্তমানে এই গ্রামের মধ্যে জিয়া বহু টাকার মালিক বনে গেছে। অন্যায় ভাবে আমাদের পুকুর দখল করে নিয়েছে। পাশেই আরও একটি পুকুরের অংশ কিনে সেখানেও গন্ডগোল বাঁধিয়ে ওই পুকুরেও কাউকে নামতে দেয়না।
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ওই পুকুরের রেকর্ড ভুল হয়ে ৭২সালে এসে জিয়ার দাদা সায়েদ আলী ফকিরসহ তিন জন মালিক হয়। তারা নাকি রাজার কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। এই মূলেই জিয়া দখল করেছে। জিয়ার বাবারা অনেক ভাই-বোন। তাদের প্রায় ৪০-৪৫বিঘা জমি ছিল। এরমধ্যে ৬-৭ বিঘা করে ভাগ পাবে জিয়ার বাবা। জিয়ারা আবার তিন ভাই-বোন। তবে জিয়া চাকরির পর অনেক জমি করেছে, অর্থ হয়েছে।
স্থানীয় এক নারী আরেকটি পুকুর দেখিয়ে জানালেন- এখানে জিয়া প্রায় ২বিঘা জমি কিনেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানালানে জিয়া একসময় অন্যের সহযোগীতা নিয়ে তার চিকিৎসা করেছেন। ২০১১সালে চাকরি হওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। এখন কালো টাকা সাদা করতে যোগ দিয়েছেন একাধিক পুকুরের ব্যবসায়।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে পরে কথা বলতে চাইলেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর পরও তিনি কোনো জবাব দেননি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি বলে জানালেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন।

ফুলজোর নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ফেসবুক লাইভে এসে শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল
- শরীয়তপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ফেসবুক লাইভে এসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শনিবার (৬ জুন) বিকালে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, ‘শেখ সেলিম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মিছিলটি প্রচার করা হয়। মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতাকর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এসময় তারা“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ফেসবুক লাইভে প্রচারিত মিছিলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শরীয়তপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ
- মো. রোমান আখন্দ, শরীয়তপুর সদর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৮:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমানা ও শর্ত না মেনে শত শত ড্রেজার, কাটার মেশিন বসিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের চরম আতঙ্কে রয়েছেন চরঅঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা চরের বালুর স্তূপ থেকে ১০ কোটি ঘনফুট বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে উপজেলা প্রশাসন। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ০.৪৯ টাকা হিসেবে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি। তবে রযেল মাঝির ইনভেস্টর হলেন সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ঢাকায় অবস্থানরত পেশাদার সুদের ব্যবসায়ী এবং শেয়ার মার্কেটের জুয়াড়ি ফরিদ আহমেদ মাল।
নিলামের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র স্তূপ থাকা বালু অপসারণের অনুমতি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্তূপের বালুর পরিবর্তে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গভীরতা ও পানির ধারণক্ষমতা আকস্মিকভাবে বেড়ে গিয়ে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি নদীতীরে আঘাত হানছে। ফলে নদীর তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে নৌপথে ঘুরে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলার চারাত্রায় বালুর স্তূপের নিচে ও স্তূপের আগ থেকেই প্রায় প্রায় ৫০-৬০ টি কাটার ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদ্মার ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার তীরবর্তী জনপদ। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ নদীভাঙনে নড়িয়ায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি বেসরকারি নানা স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নদীভাঙনের হাত থেকে নড়িয়া-জাজিরার মানুষকে রক্ষা করতে ২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) “নড়িয়া-জাজিরা পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প” বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় জাজিরার শফিকাজীর মোড় থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার নদীপথে চর খননের কাজও করা হয়। পাশাপাশি নির্মিত বাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে নড়িয়ার সুরেশ্বর থেকে মুলফৎগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে ফেলা হয়েছে ১১ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ। এ কাজে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক বলেন, নদীর ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু কাটতে থাকলে আমরা আর এখানে টিকে থাকতে পারব না। ফসলি জমিতে ধান চাষ করা যাবে না, কৃষিকাজও হুমকির মুখে পড়বে। বালুর স্তুপ অপসারণের নামে তারা আসলে নদীর তলদেশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি। এর জন্য দায়ী বিএনপি নেতা রয়েল মাঝি এবং সুদের ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি ফরিদ মাল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাই এবং এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ উদ্দিন রয়েল মাঝি বলেন, আমরা নিলামের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছি। মাঝখানে প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে নিয়ম মেনেই বালুর স্তূপ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
আর ফরিদ আহমেদ মাল বলেন, আমি বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো টাকা দেইনি। এসব অপপ্রচার, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বালু উত্তোলনের কাজের তদারকির জন্য উপজেলা তিনটি দপ্তর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আমাদের রিপোর্ট দিবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপন গ্রহন করবো।

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআইকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:৫৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি পণ্যের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুণগত মান, পরিমাপ সঠিক আছে কি-না তা নিশ্চিত করতে বিএসটিআই বদ্ধ পরিকর। ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রত্যেকটা পণ্যের উচ্চ গুণগত মান নিশ্চিতের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
শনিবার (৬ জুন) ‘বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বরত এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো: আবদুর রহিম খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দপ্তর সংস্থার গ্রধানগণ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন এবং সঠিক ওজনের পণ্য প্রাপ্তি জনসাধারণের নাগরিক অধিকার। জনগণের এই অধিকার রক্ষায় বিএসটিআই-কে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। জনগণ ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিএসটিআই’র মানচিহ্নকে আস্থার প্রতীক মনে করে।
শিল্প সচিব বলেন, মানুষের আস্থার জায়গায় বিএসটিআই পৌছাতে পেরেছে। বিএসটিআই’র ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। খুলনা ও চট্রগ্রামে ১০ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন ও ল্যাবরেটরি নির্মান, ১০ জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোতেও করা হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক আধুনিকায়ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- দেশের ১১টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরিসহ আঞ্চলিক ভবন নির্মাণ, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আরও ৪২টি জেলায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ে নতুন ১৩ তলা ভবনসহ রসায়ন ও পদার্থ উইংয়ে ৬৭টি অত্যাধুনিক ল্যাব এবং ২১টি মেট্রোলজি ল্যাব স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। হালাল পণ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কাথাও তুলে ধরেণ বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব)। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বিএসটিআই বাসস্থান, খাদ্যপণ্যসহ সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য মান প্রণয়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নীতি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:৪২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
উল্লাপাড়ায় ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন ) উপজেলার কৃষকগঞ্জ বাজারে এ কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগবালাই দমনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের বগুড়া রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মানিক রাহা। উল্লাপাড়ার টেরিটোরি সেলস অফিসার আল আমিনের সঞ্চালনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া টেরিটোরির বেলকুচি উপজেলার কান্দাপাড়া বাজারের ডিলার মো: রইচ উদ্দিন, উল্লাপাড়া টেরিটোরির সেলস অফিসার মধুসূদন কুমার মন্ডল প্রমুখ।
কর্মশালায় বক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন হাইব্রিড ধানের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের বীজর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে মাটি নির্বাচন, মাটির পিএইচ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, জমি শোধন এবং সঠিক দূরত্বে বীজ রোপণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সারের সঠিক ব্যবহার এবং সেচ প্রয়োগের সময়সূচী মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাইব্রিড ধানের মড়ক বা ‘ধানের শিষ ব্লাষ্ট রোগসহ কাণ্ডপচা রোগের আধুনিক প্রতিকার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাব পোকা (এফিড) দমনের রাসায়নিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিগুলো কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়। আরও বলেন ফসল সংগ্রহের আগের ও পরের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জরুরি।
ব্র্যাক সিড জানায়, দেশব্যাপী কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। এর ফলে হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকি কমবে এবং হাইব্রিড জাতের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যাক সিডের হাইব্রিড ধান রাজা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

উঠানের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাগল হত্যা, প্রতিবাদে গৃহবধূ নিহত
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আশুলিয়ার তাজপুরে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর দায়ের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপবান বেগমের মৃত্যু হয়।
নিহত রূপবান বেগম (৪৫) নামে আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার বাসিন্দা ও জয়নাল সরকারের স্ত্রী। মামলার প্রধান আসামি আলিয়া সরকার একই এলাকার মৃত সুলতান সরকারের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রূপবান বেগমের একটি ছাগল আলিয়া সরকারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে ঘাস খায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছাগলটিকেই কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে রূপবান বেগমের সঙ্গে আলিয়া সরকারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলিয়া সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রুপবানের পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী জীবিত থাকাকালে তার স্বামী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আলিয়া সরকারকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়া হয়। পরে রূপবান বেগমের মৃত্যুর হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেনিম শিল্পের বৃহৎ প্রদর্শনী ১০-১১ জুন, ঢাকা প্রস্তুত
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ২০তম আসর আগামী ১০ ও ১১ জুন ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের ডেনিম শিল্পকে প্রস্তুত করতে এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির ১০ জুন দুই দিনব্যাপী এই এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। এতে ১০টিরও বেশি দেশের ৫০টিরও বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রদর্শকরা শুধু তাদের উদ্ভাবনী পণ্যই প্রদর্শন করবেন না, বরং এমন নতুন ধারণাও উপস্থাপন করবেন যা ডেনিম শিল্পের ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে।’
এই আসরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Frontline to Future’ (সম্মুখসারি থেকে ভবিষ্যতের পথে)। প্রতিপাদ্য সম্পর্কে মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক ফ্যাশনের সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে চাপ সামলেছে, প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং বিশ্বকে মূল্য সরবরাহ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ২০তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো হাজির হচ্ছে দৃঢ় প্রত্যয়ী প্রতিপাদ্য নিয়ে — Frontline to Future।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিপাদ্য কেবল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থানেরই প্রতিফলন নয়, এটি একটি ঘোষণা — আমরা কোথায় যাচ্ছি তার। সবুজ ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগ থেকে শুরু করে স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নেভিগেট করা, শ্রমশক্তির ন্যায়সংগত রূপান্তর থেকে পোশাকের বাইরে পণ্য বৈচিত্র্য আনা — বাংলাদেশ ভবিষ্যতের অপেক্ষায় নেই, বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ গড়ছে।’
এক্সপোর দুই দিনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৫টি প্যানেল আলোচনা আয়োজন করা হবে। আলোচনার বিষয়গুলো হলো :
১. ‘Negotiating the Future: Trade Agreements and Bangladesh Apparel in the Post-LDC Era’ (ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা: স্বল্পোন্নত দেশ উত্তরণ-পরবর্তী যুগে বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প)
২. ‘Stitching the Future: Just Transition in Bangladesh’s Apparel Industry’ (ভবিষ্যৎ সেলাই: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ন্যায়সংগত রূপান্তর)
৩. ‘Beyond Apparel: Product Diversification as the Key to the Future Economy’ (পোশাকের বাইরে: ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাবিকাঠি হিসেবে পণ্য বৈচিত্র্য)
৪. ‘Financing the Future: Unlocking Green and Responsible Investment in Bangladesh’s Denim & Apparel Sector’ (ভবিষ্যতের অর্থায়ন: বাংলাদেশের ডেনিম ও পোশাক খাতে সবুজ ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগ) এ ছাড়া বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ ‘Better Work Bangladesh’ এর উদ্যোগে ‘Woven in Data: The Past and Future of Bangladesh’s Global Competitiveness’ (তথ্যের বুননে: বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অতীত ও ভবিষ্যৎ) শিরোনামে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনাও আয়োজন করা হবে।
দেশ-বিদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক, ক্রেতা, শিল্প নেতা এবং বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্যানেল আলোচনাগুলোতে অংশগ্রহন করবেন।

অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পুলিশের দাবি, তাদের মধ্যে ৯ জন যুবলীগ এবং ১৫ জন ছাত্রলীগের নেতা রয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মিছিলের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর আগেই বাঁধেরহাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে পরে তারা বাজারের বাইরে মিছিল করে। ঘটনার পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আল-মুসলিম গ্রুপের গণছাঁটাইয়ে কর্মহীন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কাজে ফিরেই চাকরি হারানোর খবর পেলেন শত শত পোশাক শ্রমিক। ব্যবসায়িক মন্দা ও বিদেশি ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার তিনটি কারখানা থেকে একযোগে ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে আল-মুসলিম গ্রুপ।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সাভারের উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনির প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যারের ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে উলাইল ও রেডিও কলোনি এলাকার কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, চাকরি হারানো অনেক শ্রমিক কারখানার ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজছেন। কেউ কেউ ছাঁটাইয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, বৈশ্বিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুযায়ী শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সব ধরনের পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। উলাইল কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, ঈদের আগে ২০ দিনের বেতন দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। অর্ডার কমার অযুহাতে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আজ এসে জানতে পারলাম চাকরি নেই। অথচ এতদিন নিয়মিত ওভারটাইম করেছি।
একই অভিযোগ করেন শ্রমিক নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে কাজ করছি। ছুটি শেষে কারখানায় ঢুকতেই আইডি কার্ড নিয়ে নেয়। পরে বলে মোবাইলে মেসেজ দেওয়া হয়েছে ( পাওনাদি) । কিন্তু বাড়ি গিয়ে দেখি কোনো মেসেজই পাইনি।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের পর প্রয়োজন হলে পুনঃনিয়োগের সুযোগ রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানো উদ্বেগজনক। তার মতে, পোশাক খাতে অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক বেশি বেতন পাওয়া শ্রমিকরাই অনেক সময় ছাঁটাইয়ের শিকার হন, যা শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকট তৈরি করে।
ঈদের পরপরই প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় সাভারের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের একাংশের আশঙ্কা, ক্রয়াদেশ সংকট অব্যাহত থাকলে আরও কারখানায় একই ধরনের ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রীতি ম্যাচ ঘিরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভক্তদের উত্তেজনা
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে ঘিরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঐতিহাসিক মতলব নিউ হোস্টেল মাঠে আয়োজিত এ ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
মতলবের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ খেলায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদল। এতে সভাপতিত্ব করেন মতলব পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মো. শাহ গিয়াস। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মতলব বাজার বণিক ও জনকল্যাণ সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক মো. আলমাছ প্রধান।
ম্যাচের শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেন। মাঠজুড়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে খেলার হাফটাইমের পরপরই রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মাঠে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও খেলা আর পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ম্যাচটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে কোনো ফলাফল ছাড়াই খেলাটি অমীমাংসিত থেকে যায়।
খেলা ঘিরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন (মেজু), মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাগর, মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি সোয়েব আহমেদ সরকার প্রমুখ।

জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত: অর্থ উপদেষ্টা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেটে ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (৬ জুন) ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক তিতুমীর জানান, নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের আরো কাছে পৌঁছে দিতে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রম চলমান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিল্পভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন, তেল ও বিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ, পরিবেশগত সংকট, রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং আমদানি-রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এছাড়া আলোচনায় টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী নীতিমালা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বড় বিনিয়োগ, ৩২০ কোটিতে স্বত্ব কিনল চ্যানেল
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ভারতে সরাসরি সম্প্রচারের অফিশিয়াল ঘোষণা এসেছে। আর এই মহাযজ্ঞের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া জায়ান্ট ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড।
টেলিভিশন পর্দায় খেলা দেখানোর জন্য জি গ্রুপ তাদের নতুন চারটি স্পোর্টস চ্যানেল ব্যবহার করবে। অন্যদিকে অনলাইন ও মোবাইলে খেলাগুলো সরাসরি লাইভ-স্ট্রিমিং করা যাবে জি ফাইভ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। খেলা শুরু হতে যখন দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, ঠিক তখনই এই বড় চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। এবারের আসরটি হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা না হলেও, বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে যে চুক্তিটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২০ কোটি রুপি) মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ফিফা শুরুতে ভারতের বাজারের জন্য এই স্বত্বের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। তবে বেশিরভাগ ম্যাচ ভারতের সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শক সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কায় বড় বড় মিডিয়া গ্রুপগুলো শুরুতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
পরবর্তীতে ফিফা তাদের দাম কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার ‘সনি’ এবার এই দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ দেখানো রিলায়েন্সের মালিকানাধীন ‘জিওস্টার’ এই স্বত্বের জন্য মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলার বিড করেছিল। সেই সুযোগেই বাজিমাত করলো জি নেটওয়ার্ক।

দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি, ৩ শিশুর মৃত্যু ও নতুন আক্রান্ত ১,০৩২
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:১৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩২ শিশু।
শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় দুই শিশু এবং সিলেটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮ হাজার ৯৬৪ শিশু।
এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৯ হাজার ৬২০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের বিস্তার রোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি।
- মোঃ কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:০২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সলঙ্গায় দই-মিষ্টি উৎপাদন, নেই বিএসটিআই অনুমোদন
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি আ’লীগ নেতা
- বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাহবুব আলমের সাথে অত্র এলাকাবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী মতবিনিময় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর প্রথম দিনে উপজেলার শেরনগর দারুল মা’হাদ মডেল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার নাম আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ খাঁন। তিনি বেলকুচি পৌর আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি পদে আছেন।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব আশরাফ আলী প্রামাণিকের সভাপতিত্বে সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, শেরনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুদ্দিন আনসারী, মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতি সহ- সভাপতি মহর আলী প্রামাণিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মান্নান,রিপন সরকার প্রমুখ।

রাজারহাটে পিক-আপচাপায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের
- মো. কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ঢাকা এখন আর বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০১:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ঢাকার বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাজধানীকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ইদানীং তার মনে হচ্ছে তিনি এ শহরে থাকবেন না। ঢাকা ছেড়ে তিনি দেশের অন্য এক শহরে গিয়ে বসবাস করবেন।
শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার মনের এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা শহরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও নগরবাসী কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাসযোগ্য নগর গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফখরুল বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার।
মন্ত্রী বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে বাতাস গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?
মানুষ যাতে আরও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।
এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কলেজ জীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়?
তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রকল্প শেষ তো সব শেষ’, এমন পরিস্থিতি যেন না হয়।
ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি পানযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না— সেসব বিষয় দেখতে হবে।’

আ.লীগের দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত: তথ্য উপদেষ্টা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১২:৩৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুরি ও অর্থপাচারের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে চাপে জনগণ বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (০৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের সময়ে যে চুরি ও অর্থপাচার হয়েছে, তার আর্থিক বোঝা বর্তমান সরকারকেও বহন করতে হচ্ছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসা সহজ নয় এবং এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করলেও সরকারের অনুরোধে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, একই বিবেচনায় অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলের মূল্য দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়নি।
ডা. জাহেদ অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান।

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যমুনায় তীব্র ভাঙন
- চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কন্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:১৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
একদিনের মধ্যেই মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি গিলে নিলো প্রমত্তা যমুনা। ভুমিহীন সাইফুলের বাড়িটাই ছিল সম্বল। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সাইফুলকে চোখের পলকেই নিঃস্ব করে দিলো যমুনা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় সাইফুলের বাড়িটি যমুনাগর্ভে বিলিন হয়। শুধু সাইফুল নয়, গত তিন সপ্তাহে চৌহালী উপজেলার ৫-৭টি গ্রামের বেশ কিছু বাড়িঘর, ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে যৌবন ফিরে পেয়েছে যমুনা। যমুনার উত্তাল ঢেউ তীরবর্তী মানুষগুলোর আতংক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা বর্ষণের কারণে যমুনার পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে। মাঝখানে সামান্য কমে আবারও বাড়তে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে। এরই মধ্যে দুদিন ধরে ফের কমতে শুরু করেছে যমুনার পানি।
আর যমুনার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দোলাচলে চরাঞ্চল ও পূর্বতীরে শুরু হয়েছে ভাঙন। ফলে বর্ষাকাল শুরুর আগেই এসব অঞ্চলের মানুষের কাছে আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে যমুনা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভাঙন কবলিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নদীর পূর্বপার চৌহালী উপজেলার খাস কাউলিয়া ইউনিয়নের ভুতের মোড়, বাগুটিয়া ইউনিয়নের বিনানুই, রেহাই পুখুরিয়া, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, চর সলিমাবাদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে শত শত বসতবাড়ি, ফসলী জমি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
বাগুটিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর বাবুল সরকার বলেন, চর বিনানুই নদীর পশ্চিম পাশে চার জায়গায় একশো ফিট এলাকার জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী চর সলিমাবাদ গ্রামের মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি চোখের পলকেই যমুনায় চলে গেছে।
একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মতিউর রহমান বলেন, রেহাই পুখুরিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উত্তরপাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এখানকার মানুষ খুব আতংকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুস সালাম বলেন, চর সলিমাবাদ বাজার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভাঙন আতংকে রয়েছে।
এদিকে জেলার চরাঞ্চল কাজিপুর উপজেলার খাস রাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, চৌহালীর ঘোড়জান, শাহজাদপুরের গালা, সনাতনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনার পানি বাড়া শুরু করে। দ্রুত গতিতেই বাড়ছিল পানি। তবে বুধবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, পানি বাড়লেও বিপৎসীমার অনেক নীচে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, জুন মাসের দিকে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বাড়তে থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দেয়। আমরা বেশ কিছু জায়গায় ভাঙনের খবর পেয়েছি। চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আর চরাঞ্চলের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোন নির্দেশনা নেই, এ জন্য সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১২:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
তেল-গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার (৭ জুন) বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকাস্থ নির্বাহী সদস্যদের এক জরুরি পরামর্শ সভায় সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন- দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এতে উপস্থিত ছিলেন- নায়েবে আমীর মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী শরাফত হুসাইন, মাওলানা তাফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশেদুল আলম সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, সহ-সভাপতি মাওলানা আতিকুল্লাহ, যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, যুবনেতা আল আবিদ শাকের এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একদিকে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং জনগণের সঙ্গে প্রকারান্তরে প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশইন ও হয়রানির ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্য হ্রাস এবং সীমান্তে পুশইনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আগামীকালের বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় ঈদযাত্রায় সারা দেশে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় উৎসবগুলোতে অব্যবস্থাপনার কারণে কোনো পরিবার যেন দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

৭৫ ইউনিটের মধ্যে ব্যবহারকারীদের বাড়তি বিল গুনতে হবে না: তথ্য উপদেষ্টা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৫২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, মাসে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন।
শনিবার (০৬ জুন) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বর্তমান দাম অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ এসব গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীত সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রভাব বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার একদিকে দুর্নীতির চক্র ভাঙতে কাজ করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পরিবর্তে আমদানিনির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে সেতুর উপর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যানজটের কারণে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে তবে যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

শান্তিরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৩০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।
ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:১৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।
পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা।
শনিবার (৬ জুন) সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাধার মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি।
এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি সদস্যদের এমন অবস্থানে প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, বিভাগসেরা জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান
- নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি । জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ 

















































2 thoughts on “রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা: ১৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে”