সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিরাজগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাসিক আড্ডা ও পুরস্কার বিতরণ Logo বিপর্যয়ের মধ্যেও ভালো ফলাফল, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৮৭.৬৪ শতাংশ Logo আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে ৭০ চরমপন্থি Logo এইচএসসির ফলে তাড়াশ উপজেলায় পাসের হারে শীর্ষে মহিলা ডিগ্রি কলেজ Logo নওগাঁয় পৌঁছাল সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ Logo রোগীর সেবা ফেলে সহকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন দুই নার্স Logo অবশেষে চাকরি থেকে বরখাস্ত ডিবি হারুন Logo পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বদলি Logo ভয়ে জামায়াত গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি: রাশেদ খান Logo রায়গঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষে ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ

রোগীর সেবা ফেলে সহকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন দুই নার্স

হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা নার্সদের বিরুদ্ধেই উঠেছে সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ। নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে বিরোধের জেরে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একই হাসপাতালের দুই নার্সের বিরুদ্ধে।

ঘটনার তিন দিন পরও হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভুক্তভোগী নার্স। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নার্সের নাম শাহানাজ পারভিন। অভিযুক্ত দুই নার্স হলেন শিল্পী আক্তার ও তাঁর বোন লিপি আক্তার। তাঁরা দুজনই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাসের শুরুতে নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে শাহানাজ পারভিন ও শিল্পী আক্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন শিল্পীর বোন লিপি বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের পাশে দায়িত্ব পালনরত শাহানাজকে দুই বোন মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শাহানাজের চিৎকার শুনে অন্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভিন বলেন, নাইট ডিউটি আগে করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে লিপি বাসা থেকে এসে বোনের পক্ষ নিয়ে দুজন মিলে তাঁকে মারধর করেন।

তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে কাজ করলে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। তাই বলে আমাকে এভাবে মারধর করবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে শাহানাজের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিল্পী ও লিপি আক্তার। তাঁদের দাবি, শাহানাজ প্রায়ই তাঁদের কটাক্ষ করে কথা বলেন এবং গালাগাল করেন। ঘটনার দিন ডিউটির রোস্টার নিয়ে শিল্পীকে কটাক্ষ করায় তাঁরা এর কারণ জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় শাহানাজই তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

অভিযুক্ত দুই নার্সের আরও অভিযোগ, শিল্পীর হাত থেকে এক ভরি ওজনের দুটি সোনার বালা এবং লিপির আট আনা ওজনের একটি সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়েছেন শাহানাজ। এ ঘটনায় তাঁরাও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন নার্স শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, মারামারির সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এমন ঘটনায় হাসপাতালের সবাই বিব্রত। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, তাঁকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, তিনি পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

জনতার কণ্ঠ/পিআর

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাসিক আড্ডা ও পুরস্কার বিতরণ

রোগীর সেবা ফেলে সহকর্মীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন দুই নার্স

আপডেট টাইম : ০৫:১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা নার্সদের বিরুদ্ধেই উঠেছে সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ। নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে বিরোধের জেরে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একই হাসপাতালের দুই নার্সের বিরুদ্ধে।

ঘটনার তিন দিন পরও হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভুক্তভোগী নার্স। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নার্সের নাম শাহানাজ পারভিন। অভিযুক্ত দুই নার্স হলেন শিল্পী আক্তার ও তাঁর বোন লিপি আক্তার। তাঁরা দুজনই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাসের শুরুতে নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে শাহানাজ পারভিন ও শিল্পী আক্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন শিল্পীর বোন লিপি বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের পাশে দায়িত্ব পালনরত শাহানাজকে দুই বোন মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শাহানাজের চিৎকার শুনে অন্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভিন বলেন, নাইট ডিউটি আগে করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে লিপি বাসা থেকে এসে বোনের পক্ষ নিয়ে দুজন মিলে তাঁকে মারধর করেন।

তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে কাজ করলে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। তাই বলে আমাকে এভাবে মারধর করবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে শাহানাজের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিল্পী ও লিপি আক্তার। তাঁদের দাবি, শাহানাজ প্রায়ই তাঁদের কটাক্ষ করে কথা বলেন এবং গালাগাল করেন। ঘটনার দিন ডিউটির রোস্টার নিয়ে শিল্পীকে কটাক্ষ করায় তাঁরা এর কারণ জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় শাহানাজই তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

অভিযুক্ত দুই নার্সের আরও অভিযোগ, শিল্পীর হাত থেকে এক ভরি ওজনের দুটি সোনার বালা এবং লিপির আট আনা ওজনের একটি সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়েছেন শাহানাজ। এ ঘটনায় তাঁরাও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন নার্স শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, মারামারির সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এমন ঘটনায় হাসপাতালের সবাই বিব্রত। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, তাঁকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, তিনি পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

জনতার কণ্ঠ/পিআর