সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব-নিকাশে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে।

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। ওই দিনই প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল। তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য তিনি ১০ দিনের সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

 

 

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র প্রধান শিক্ষক সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অবসর গ্রহণের সময় বা এর পর বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র তিনি নিয়ে গেছেন। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী কারণে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

 

 

 

 

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, তারা একটি সভায় ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে তার ছেলে ও আরও একজন ব্যক্তি বিদ্যালয়ের কিছু নথিপত্র নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ১০ দিনের সময় নিয়েছেন। হিসাব-নিকাশ দাখিল না করায় এখনো তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়া হিসাব-নিকাশ যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবেন বলে জানা গেছে। বিদ্যালয় থেকে নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

 

 

 

 

উল্লেখ্য, মো. গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিল তার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস।

 

 

 

 

প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণের সময় আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্র নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট করা হোক।

One thought on “শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৫:০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব-নিকাশে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে।

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। ওই দিনই প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল। তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য তিনি ১০ দিনের সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

 

 

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র প্রধান শিক্ষক সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অবসর গ্রহণের সময় বা এর পর বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র তিনি নিয়ে গেছেন। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী কারণে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

 

 

 

 

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, তারা একটি সভায় ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে তার ছেলে ও আরও একজন ব্যক্তি বিদ্যালয়ের কিছু নথিপত্র নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

 

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ১০ দিনের সময় নিয়েছেন। হিসাব-নিকাশ দাখিল না করায় এখনো তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।

 

 

 

 

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়া হিসাব-নিকাশ যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবেন বলে জানা গেছে। বিদ্যালয় থেকে নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

 

 

 

 

উল্লেখ্য, মো. গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিল তার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস।

 

 

 

 

প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণের সময় আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্র নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট করা হোক।