সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সন্তান হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলে শিশু পুত্রকে হত্যার দায়ে মাকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান সোমবার দুপুরে এই রায় দেন।

 

 

 

দণ্ডিত ওই মায়ের নাম আয়না বেগম (২৪)। তিনি মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলা লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে।

 

 

 

রায়ে দণ্ডিত আয়না বেগমকে তার শিশু পুত্র হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ৩ বছরসহ ১৩ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন জানান, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান যে, তার ১৮ দিন বয়সের শিশু পুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর পাওয়ার পর তিনি তার শ্বশুরবাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির পাশের খালের পানিতে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

 

তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

One thought on “সন্তান হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

সন্তান হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৯:৫১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলে শিশু পুত্রকে হত্যার দায়ে মাকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান সোমবার দুপুরে এই রায় দেন।

 

 

 

দণ্ডিত ওই মায়ের নাম আয়না বেগম (২৪)। তিনি মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলা লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে।

 

 

 

রায়ে দণ্ডিত আয়না বেগমকে তার শিশু পুত্র হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ৩ বছরসহ ১৩ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন জানান, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান যে, তার ১৮ দিন বয়সের শিশু পুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর পাওয়ার পর তিনি তার শ্বশুরবাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির পাশের খালের পানিতে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

 

তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।