সিরাজগঞ্জ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি আলু বীজ নিয়ে সংশয়ে ডিলার, বিপাকে চাষি

টানা দুই মৌসুমে আলুর দরপতনের ধাক্কা এবার বীজ আলুর বাজারেও পড়েছে। আলু চাষ নিয়ে কৃষকের আগ্রহ নেই ‘আঁচ’ পেয়ে বীজ বিক্রির ভরা মৌসুমেও রংপুর অঞ্চলে বিএডিসির বীজ আলু তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ডিলাররা। ২০ সেপ্টেম্বর বিক্রি শুরুর পর এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার এক-দশমাংশেরও কম বীজ বিক্রি হয়েছে।

 

 

 

 

 

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় তাদের অনুমোদিত ডিলার ৮১৩ জন। চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৪ জন ডিলার তুলেছেন মাত্র ৩৬৬ মেট্রিক টন। জেলাওয়ারি হিসাবে রংপুরে বিক্রি সবচেয়ে বেশি, ২২৬ মেট্রিক টন। সবচেয়ে কম কুড়িগ্রামে, ২০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া লালমনিরহাটে ৪৫, গাইবান্ধায় ৪০ ও নীলফামারীতে ৩৮ মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে।

 

 

 

 

 

ডিলারদের উৎসাহিত করতে ইনসেনটিভও ঘোষণা করা হয়েছে। বিএডিসির কর্মকর্তারা কখনো সরাসরি, কখনো ফোনে ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবুও আগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

 

রংপুর অঞ্চলের ১২টি হিমাগার থেকে ডিলারদের কাছে বীজ আলু সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দাম গ্রেড-১ বীজ আলুর কেজি ২৭ টাকা। অথচ হিমাগারে থাকা খাবার আলুর দাম নেমে এসেছে কেজিপ্রতি ১২ টাকার আশপাশে, অর্থাৎ বীজের দামের প্রায় অর্ধেক। ডিলারদের বক্তব্য, এই দামে বীজ তুলে বিক্রি করে লাভের সম্ভাবনা নেই।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাকিনা বাজারের ডিলার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর পাঁচ টন বীজ তুলে তার লোকসান হয়েছে। এবারও পাঁচ টন তুলবেন, কিন্তু লোকসানই হবে। কিন্তু শুধু লাইসেন্স বাঁচাতে বীজ আলু তুলতে হচ্ছে। কৃষকের চাহিদা না থাকলে বীজ তুলে পুঁজি আটকে রেখে কী লাভ, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

 

 

 

 

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বলেন, ডিলাররা সাধারণত কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী আগাম বুকিং নিয়ে বীজ সংগ্রহ করেন। টানা দুই বছর লোকসানের কারণে কৃষকরা এবার এখনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

 

 

 

 

 

কৃষক ও ডিলারদের অভিযোগ, প্রতি বছর উৎপাদন বাড়লেও বাজারব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। দেশে কত আলুর চাহিদা, কত উৎপাদন হবে, কতটুকু হিমাগারে রাখা যাবে এবং উদ্বৃত্ত আলু কোথায় যাবে, এসব নিয়ে আগাম পরিকল্পনা না থাকায় বাড়তি উৎপাদনেই বাজারে ধস নামে।

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, গত মৌসুমের লোকসানের ক্ষত কৃষকের এখনো শুকায়নি, এর মধ্যেই বাজারে নতুন মৌসুমের বীজ এসেছে। খাবার আলুর দাম যেখানে ১২ টাকার আশপাশে, সেখানে সরকারি বীজের দাম ২৭ টাকা। এই ব্যবধান কৃষক ও ডিলার, উভয়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

 

 

 

 

পলাশ কান্তি বলেন, কৃষক, ডিলার ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে উৎপাদন পরিকল্পনা, সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানিবাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লোকসানের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। দীর্ঘদিন এসব দাবি নিয়ে কাজ করলেও কোনো ফল মিলছে না বলেও জানান তিনি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি আলু বীজ নিয়ে সংশয়ে ডিলার, বিপাকে চাষি

আপডেট টাইম : ০১:২৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

টানা দুই মৌসুমে আলুর দরপতনের ধাক্কা এবার বীজ আলুর বাজারেও পড়েছে। আলু চাষ নিয়ে কৃষকের আগ্রহ নেই ‘আঁচ’ পেয়ে বীজ বিক্রির ভরা মৌসুমেও রংপুর অঞ্চলে বিএডিসির বীজ আলু তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ডিলাররা। ২০ সেপ্টেম্বর বিক্রি শুরুর পর এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার এক-দশমাংশেরও কম বীজ বিক্রি হয়েছে।

 

 

 

 

 

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় তাদের অনুমোদিত ডিলার ৮১৩ জন। চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৪ জন ডিলার তুলেছেন মাত্র ৩৬৬ মেট্রিক টন। জেলাওয়ারি হিসাবে রংপুরে বিক্রি সবচেয়ে বেশি, ২২৬ মেট্রিক টন। সবচেয়ে কম কুড়িগ্রামে, ২০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া লালমনিরহাটে ৪৫, গাইবান্ধায় ৪০ ও নীলফামারীতে ৩৮ মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে।

 

 

 

 

 

ডিলারদের উৎসাহিত করতে ইনসেনটিভও ঘোষণা করা হয়েছে। বিএডিসির কর্মকর্তারা কখনো সরাসরি, কখনো ফোনে ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবুও আগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

 

রংপুর অঞ্চলের ১২টি হিমাগার থেকে ডিলারদের কাছে বীজ আলু সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দাম গ্রেড-১ বীজ আলুর কেজি ২৭ টাকা। অথচ হিমাগারে থাকা খাবার আলুর দাম নেমে এসেছে কেজিপ্রতি ১২ টাকার আশপাশে, অর্থাৎ বীজের দামের প্রায় অর্ধেক। ডিলারদের বক্তব্য, এই দামে বীজ তুলে বিক্রি করে লাভের সম্ভাবনা নেই।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাকিনা বাজারের ডিলার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর পাঁচ টন বীজ তুলে তার লোকসান হয়েছে। এবারও পাঁচ টন তুলবেন, কিন্তু লোকসানই হবে। কিন্তু শুধু লাইসেন্স বাঁচাতে বীজ আলু তুলতে হচ্ছে। কৃষকের চাহিদা না থাকলে বীজ তুলে পুঁজি আটকে রেখে কী লাভ, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

 

 

 

 

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বলেন, ডিলাররা সাধারণত কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী আগাম বুকিং নিয়ে বীজ সংগ্রহ করেন। টানা দুই বছর লোকসানের কারণে কৃষকরা এবার এখনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

 

 

 

 

 

কৃষক ও ডিলারদের অভিযোগ, প্রতি বছর উৎপাদন বাড়লেও বাজারব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। দেশে কত আলুর চাহিদা, কত উৎপাদন হবে, কতটুকু হিমাগারে রাখা যাবে এবং উদ্বৃত্ত আলু কোথায় যাবে, এসব নিয়ে আগাম পরিকল্পনা না থাকায় বাড়তি উৎপাদনেই বাজারে ধস নামে।

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, গত মৌসুমের লোকসানের ক্ষত কৃষকের এখনো শুকায়নি, এর মধ্যেই বাজারে নতুন মৌসুমের বীজ এসেছে। খাবার আলুর দাম যেখানে ১২ টাকার আশপাশে, সেখানে সরকারি বীজের দাম ২৭ টাকা। এই ব্যবধান কৃষক ও ডিলার, উভয়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

 

 

 

 

পলাশ কান্তি বলেন, কৃষক, ডিলার ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে উৎপাদন পরিকল্পনা, সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানিবাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লোকসানের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। দীর্ঘদিন এসব দাবি নিয়ে কাজ করলেও কোনো ফল মিলছে না বলেও জানান তিনি।