তামিলনাড়ুতে জোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আগামীকালই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়।
শনিবার (৯ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার পরই সরকার গঠনের পথে অনিশ্চয়তা কাটে বিজয়ের। দুই দলের সমর্থনে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
এর আগে শুক্রবারও গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়। তবে সে সময় গভর্নর কার্যালয় সূত্রে বলা হয়েছিল, ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারায় তাকে এখনই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।
বুধবার ও বৃহস্পতিবারও গভর্নর আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বিজয়। কিন্তু দুইবারই গভর্নর স্পষ্ট জানান, বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রমাণ করতে না পারায় তার দাবি গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
এদিকে, তামিলনাড়ুর আরেক বড় রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকেতে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগম দল ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র।
জানা গেছে, এআইএডিএমকের ৩০ জনের বেশি বিধায়ক তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের একটি অংশ বিজয়ের টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষেও ঝুঁকছেন।
শনিবার পুদুচেরির একটি রিসোর্ট থেকে ফিরে চেন্নাইয়ে শানমুগমের কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এস পি ভেলুমনি, এম আর বিজয়ভাস্কর, নাথাম বিশ্বনাথন এবং সি বিজয়ভাস্করসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

গাজীপুরের পাঁচ খুন: স্বজনদের ফোনে যা বলেছিলেন ঘাতক
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৮:৪০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের পাঁচ খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নারী, তার তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক আছেন।
শনিবার (৯ মে) সকালে রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।
শারমিনের ফুফু ইভা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কয়েকজন গিয়ে দেখতে পায়, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় যান।
তিনি দাবি করেন, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল।
ইভা আক্তার বলেন, আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।
এদিকে ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুর তার স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তার এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।
নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ৬টার দিকে ফোরকান তার গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে, তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের তরুণের
- আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৮:২৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক তরুণ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহত মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে এবং রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার দিকে রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। লিমনও একই ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারান এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিমনের বরাতে পরিবার জানতে পারে, গত ২ মে রুশ সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরিবারের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান রিয়াদ রশিদ। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবারের কেউ আগে জানতেন না।
ছেলের মৃত্যুর সংবাদে শোকাহত বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, “সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে—এ তথ্য আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলের মরদেহেরও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।”
রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রিয়াদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত তাকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারি কোনো সহায়তার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সংবাদ প্রকাশের পর ফুলজোড় নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

৫৩ লাখ টাকায় নির্মিত ভবন উদ্বোধনের আগেই ফাটল
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৭:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে উদ্বোধনের আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যেই দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে নির্মিত এই লাইব্রেরি ভবনটি এলাকাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হলেও নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের একাধিক স্থানে দৃশ্যমান ফাটল রয়েছে। কোথাও কোথাও সিমেন্ট দিয়ে ফাটল ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের তদারকির অভাবের কারণেই এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পের ঠিকাদার আবু তাহের ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করলেও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভবনের কিছু জায়গায় সামান্য সমস্যা হয়েছে। আমরা দ্রুত মেরামত করে দেব।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি নতুন ভবনে হস্তান্তরের আগেই কেন এমন ফাটল দেখা দেবে? শুধুমাত্র মেরামতের মাধ্যমে ভবনের স্থায়িত্ব কতটুকু নিশ্চিত করা সম্ভব, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের আশঙ্কাকে আরও জোরাল করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাসিনুর রশিদ ও নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে৷ আমরা সমাধান করে নেব৷
সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় উদ্বোধনের আগেই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, দায়সারা সংস্কার নয়—এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জিআরআইসি স্টার্ট আপ লীগে রানার আপ
সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ‘শিক্ষা আইটি’ লিমিটেডের
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:৪০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
বিদেশি ব্যয়বহুল সফটওয়্যারের ওপর দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় তরুণদের মাধ্যমে বিশ্বমানের সাস’ প্ল্যাটফর্ম তৈরির যুগান্তকারী আইডিয়া নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘১ম গ্লোবাল রোবটিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চ্যাম্পিয়নশিপ (GRIC) ২০২৬।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এই চ্যাম্পিয়নশীপের স্টার্টআপ লিগে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করলো দেশের উদীয়মান ভেঞ্চার বিল্ডার প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষা আইটি লিমিটেড’।

শুক্রবার (৮ মে) ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশীপ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১৫টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘গরুসেবা’ নামের একটি সফট্ওয়ার প্রতিষ্ঠান।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। এ সময় দেশী-বিদেশী আইটি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা আইটি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের নিউজ পোর্টাল, এসএমই এবং করপোরেট খাতগুলো সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোর সাবস্ক্রিপশন ফি অত্যন্ত চড়া। উদাহরণস্বরূপ, ‘জোহো’ (Zoho)-এর মতো বিদেশি প্ল্যাটফর্মে ১০ জনের একটি টিমের জন্য মাসিক খরচ প্রায় সাড়ে চারশ ডলার বা ৫৪ হাজার টাকার বেশি, যা দেশের ছোট বা মাঝারি ব্যবসাগুলোর জন্য বহন করা কঠিন। অন্যদিকে, দেশীয় সফটওয়্যারগুলো সাধারণত প্রজেক্ট-ভিত্তিক হওয়ায় সেগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি আপডেট, আধুনিক ইউজার ইন্টারফেস (ইউআই) বা মোবাইল অপটিমাইজেশন থাকে না। ফলে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে পাইরেটেড বা ফ্রি টুলসের দিকে ঝুঁকছে।
এই বিশাল শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছে শিক্ষা আইটি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম এগোচ্ছে ‘ভেঞ্চার বিল্ডার’ মডেলে, যা দুটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপ হলো ‘টেক বাংলাদেশ ২.০’। এটি ৯ মাসের একটি বিশেষায়িত প্রোগ্রাম, যেখানে তরুণদের ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, প্রোডাকশন এবং অপারেশনস—এই পাঁচটি কোর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের সেরা তরুণদের নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে গড়ে তোলা হবে ‘সাস স্টার্টআপ স্টুডিও’।
“আমরা কর্মী নয়, বরং গ্লোবাল মানের সফটওয়্যার নির্মাতা ও কো-ফাউন্ডার তৈরি করছি,” বলেন শিক্ষা আইটি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভারতের জোহো (Zoho) যেভাবে একটি ছোট গ্রাম থেকে শুরু করে আজ বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে সফটওয়্যার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, আমাদের স্বপ্নও ঠিক তেমনই। আমরা গতানুগতিক প্রজেক্ট নয়, গ্লোবাল মানের প্ল্যাটফর্ম বানাতে চাই, যা হবে আধুনিক, নিরাপদ এবং দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে।”
আতিকুল ইসলাম বলেন তিনি নিজে সেমিইন্ডিয়া প্রজেক্ট লিমিটেড, ফুডপান্ডাসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং সরকারের ‘হার পাওয়ার’ প্রজেক্টে যুক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা আইটি লিমিটেড এর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পেশাদাররা। চেয়ারম্যান মো. জুলহাস ক্রিয়েটিভ আইটি ও এডভয় বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স) হিসেবে রয়েছেন জয় চৌধুরী। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) সরকারি দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনপ্রাপ্ত।
খুব শিগগিরই নিজস্ব রিসার্চ টিমের মাধ্যমে যাচাইকৃত নিজেদের তৈরি প্রথম ‘সাস’ (SaaS) প্রোডাক্ট নিয়ে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউস ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সাথে পাইলট টেস্টিংয়ে যাচ্ছে শিক্ষা আইটি লিমিটেড। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ সফটওয়্যার রপ্তানি করে রেমিট্যান্স আনাই এখন টিম শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

রায়গঞ্জে গণধর্ষণ মামলার আসামিসহ ৩ জন গ্রেফতার
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৭:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
সেভ দ্য রোডের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথকে দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৮ বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান। রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ তাজ মিলনায়তনে ৯ মে বিকেলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, আকরাম হোসেন খান, জিয়াউর রহমান জিয়া ও কালাম ফয়েজী।
এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ সচেতন হলেও বিভিন্ন সময়ের সংশ্লিষ্ট মহলের কারণে নির্মমভাবে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা কোনাভাবেই সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে। সেই সচেতন নাগরিক সমাজের আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবি চিন্তার মানুষদেরকে সেভ দ্য রোড-এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব জামান বলেন, সেভ দ্য রোড-এর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আকাশ-সড়ক- রেল বা নৌপথে কোনো নতুন দুর্ঘটনা দেখতে চাই না।

ইসলামপুরে হালিম নগর বাজার হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- আবিদ হাসান, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি । জনতার কন্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)” প্রকল্পের আওতায় বলিয়াদহ হালিম নগর (আমতলী) বাজার হস্তান্তর, পরিচালনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০৯মে ২০২৬) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এ. ই সুলতান মাহমুদ বাবু।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রােজদিদ আহাম্মেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম হোসেন নোমান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, ইসলামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়াল খান লোহানী।
কর্মশালায় বাজার পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কমিটি, বণিক সমতি, স্থায়া-অস্থায়ী ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাজার ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, খামারিদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ১০৫ জন এলএসপিদের মাঝে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, জোরদার টহল অভিযান
- মোঃ কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় চোরাচালান ঠেকাতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জোরদার নজরদারি ও টহল কার্যক্রম শুরু করেছে।
শনিবার (৯ মে) কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে মাদক, গরু, স্বর্ণ, কসমেটিকসসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।
ফুলবাড়ী সীমান্ত ছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চর নারায়ণপুর এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত এলাকাকেও বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি বলেন, “কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব এলাকা দিয়ে অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাতেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতো পরিস্থিতি আর হবে না বলে আমরা আশাবাদী।”
মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী
- মামুনুর রশিদ মামুন, ঠাকুরগাঁও (রংপুর) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

লিবিয়ায় মাফিয়াদের কবলে বরিশালের আসাদুল, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি
- মৃদুল দাস, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৬:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আসাদুল বক্তিয়ার । কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত দুই মাস ধরে লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। আসাদুলকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আসাদুল আগৈলঝাড়া উপজেলার চাঁত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়ে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিংয়ের কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পর ভোররাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র মাফিয়া দল আসাদুলকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে একটি গোপন আস্তানায় তাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে এবং বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের সেই শিউরে ওঠা দৃশ্য ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবারকে দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছে মাফিয়ারা। এমনকি তার নখ উপড়ে ফেলা এবং চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত ঝরানোর দৃশ্যও পরিবারকে দেখানো হয়েছে।
আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায়। আমার সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে দিতাম, কিন্তু কিছুই নেই। একজন পিতা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি কীভাবে সইব? সরকারের কাছে দাবি, আমার কলিজার টুকরা বাবারে ফিরাইয়া দেন।
আসাদুলের মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগমও এখন শোকে পাথর। বাড়িতে দুই শিশু সন্তান হামিম ও শামিম তাদের বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। নিপা বেগম জানান, ধারে-সুদে আনা ৩ লাখ ও বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৪ লাখ টাকা রোববার ও সোমবার ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মাফিয়ারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হবে।
লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার বিষয়টি স্থানীয় দুটি থানায় জানালে মাফিয়ারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এরফান গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং বোন নিপা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে মাফিয়ারা আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে আসাদুলের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, লিবিয়ায় এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি। ওই পরিবার আমার কাছে লিখিতভাবে জানালে ওই কপি আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

নির্দোষ হয়েও ধর্ষণ মামলায় একমাস কারাভোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
ফরেনসিক পরীক্ষায় ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করেন পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করেন। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) ওপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় একমাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হতে হয় তাকে। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সাথে জড়িত নন দাবি করে কাকুতি মিনতি করলেও কারো মন গলেনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন মোজাফফর।
এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়।
মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। এরমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সাথে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে। আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার, আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে -মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯ (১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তার আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।
মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।
মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নি, কওমি বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম।
ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সাথে জড়িত।
তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

গজারিয়ায় ৭১’র গণহত্যার শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা
- গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

বৈরী আবহাওয়া ও কম দামে দিশেহারা নাচোলের বোরো চাষিরা
- নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও মিলছে মাত্র ১২ থেকে ১৮ মণ। উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের তুলনায় ধানের দাম একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। তার ওপর কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে অনেকের কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান শুকানো ও ঘরে তুলতে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক সন্তশ হাঁসদা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঋণ করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন ধান নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় নিয়ে শুকাতে হচ্ছে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না।”
তবুও কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেরে কিছুটা আনন্দিত কৃষকরা। তবে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
আরেক কৃষক মজিবর বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাটা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে ধানে গাছ বের হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ধান বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত মাঠের ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে নাচোল উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চান তারা।

আগামীকাল পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল রোববার (৯ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনের পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এ দিন সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।
রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। এ সময় তিনি পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দিবেন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে এবারের আয়োজন শেষ হবে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জন-বান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকস-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কাছে সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে, ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
এ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দেন।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের আহ্বান : ইঞ্জি. বকুল
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে প্রকৌশলীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেছেন, যদি বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে হয়, তবে সবার আগে প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্থান দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী “ইঞ্জিনিয়ার্স ডে” উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজপথে ও উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইঞ্জি. বকুল বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজপথের সংগ্রামে প্রকৌশলীরা সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করেছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সারা দেশের প্রতিটি সমাবেশে প্রকৌশলীরা সক্রিয় ছিলেন। তবে কেন আজ তারা অবহেলিত হবে? প্রকৌশলীরা কখনো পিছিয়ে ছিল না এবং কেউ বলতে পারবে না তারা রাজপথে ছিল না।
কারিগরি মন্ত্রণালয়ে প্রকৌশলীদের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে তিনি প্রতিটি দপ্তরে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নন-টেকনিক্যাল ব্যক্তিদের আধিপত্য কাম্য নয়।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিমান, শিল্প, এলজিইডি, রেল ও বিদ্যুৎসহ প্রতিটি সেক্টরে পেশাদার প্রকৌশলীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সচিব পর্যায়সহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী স্থানে প্রকৌশলীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে সময় প্রকৌশলীদের মূল্যায়ন ও বিভিন্ন কমিশন গঠনের মাধ্যমেই দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন না করা হলে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সবার শেষে পড়ে থাকবে।
আইইবি’র প্রেসিডেন্ট ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

ফুলজোড় নদীর কচুড়িপানায় ভাসমান দোকান, গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী বিনোদন কেন্দ্র
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০২:২০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুড়িপানার স্তূপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা এই কচুড়িপানার ওপর গড়ে উঠেছে কয়েকটি অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান। সেখানে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেলের পর থেকে এলাকাটি যেন ছোট্ট এক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ কচুড়িপানা এক জায়গায় জমে বড় আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান বসান। এরপর থেকেই ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।
বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়িতে মেতে ওঠে। অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন, আবার কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম দলু বলেন, “নদীর ওপর এমন কচুড়িপানার স্তূপ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই এটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসছেন।”
মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিকেলের দিকে এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। একদিকে এটি বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”
তবে এই নতুন আকর্ষণকে ঘিরে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী আল আমিন বলেন, “কচুড়িপানার স্তূপের ওপর অতিরিক্ত মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিয়াম জানান, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে দ্রুত কচুড়িপানা অপসারণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভূল্লীতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেফতার
- ঠাকুরগাঁও (রংপুর) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ভূল্লী থানার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের পূর্ব শুখানপুকুরী তল্লিপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন আনারুল ইসলাম (৪১), আব্দুর রহিম (৩৪) এবং হারুন অর রশিদ (৩০)। তারা সবাই পূর্ব শুখানপুকুরী এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূল্লী থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আনারুল ইসলামের বাড়িতে মাদক বিক্রির সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে মোট ৩৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ইয়াবার মধ্যে আনারুল ইসলামের কাছ থেকে ১৭ পিস, আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ৮ পিস এবং হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ৮ পিস পাওয়া যায়।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভূল্লী থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ থাকবে না জামায়াত: ডাঃ শফিকুর রহমান
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০১:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৯ মে) সকালে জাপান সফর শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।
জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।
বিস্তারিত আসছে…

বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০১:৪২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন- কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।
শুক্রবার (০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।
পরে ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এসময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 









































One thought on “সরকার গঠনের সব বাধা দূর, আগামীকাল শপথ নেবেন বিজয়”