সাবেক সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুর) আসনের দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার চাঁন মিঞার (৯০) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
নিজের ভেরিফা্ইড ফেসবুক পেইজে এক শোক বিবৃতিতে তিনি বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারীও। পৃথক এক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে দুই বার নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে চাঁন মিঞা (৯৭) গতকাল দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন।
পৃথক এক শোকবার্তায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এর আগে সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরুল ইসলাম তালুকদার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) বাদ যোহর সিরাজগঞ্জের কৈজুরী বাজার মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে মরহুমকে চর কৈজুরী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
১৯৩৫ সালে কৈজুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার চাঁন মিয়া কৈজুরী হাট গ্রামে। তাঁর ছদ্মনাম ছিল জ্বালামুখ। তিনি গ্রামের স্কুলে প্রাইমারি, সিরাজগঞ্জ বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ১০ বছর সরকারি চাকরি করেন। চাকরি জীবনে তিনি সততার জন্য পুরস্কৃত হন। এলাকার জনগণের সেবা করার ব্রত নিয়ে তিনি চাকরী ছেড়ে দিয়ে পল্লী উন্নয়ন সমিতির হাল ধরেন। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিজয়ী হন। এরপর বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পল্লী বিদ্যুতের পরিচালক হন। ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। ১৯৮৬ জাতীয় পার্টির মনোনয়নে বিলুপ্ত হওয়া সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুরের একাংশ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসনে ১৯৮৬ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর জীবনে অর্জিত সবটুকু অর্থ এলাকার উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
আরও পড়ুন: সাদামাটা জীবনযাপন করা দুইবারের সেই এমপি নুরুল ইসলাম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কন্ঠ.কম 



















