সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের এক শ্রমিক নিজ দপ্তর থেকে পুরাতন বেইলি ব্রিজের এ্যাংগেলসহ লোহা লক্কর চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়ক উপ বিভাগ -১, রেলগেটের ভিতর থেকে গত শনিবার ছুটির দিন দুপুরের দিকে সড়ক শ্রমিক শহিদুল ইসলাম দুইটি ভ্যানগাড়িতে প্রায় ৩০০ কেজি লোহার বেইলি ব্রীজের এ্যাংগেলসহ লোহা লক্কর গোপনে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে ধরে গনধোলাই দেয়। পরে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা – কর্মচারী মিলে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট করে সরকারি সম্পত্তি লোপাট করে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনাও ধামাচাপা দেওয়ার পায়তারা চলছে।
সড়ক শ্রমিক এবং ঐ দিন কার্যালয়ের গেটের সিকিউরিটি হিসেবে দায়িত্বে থাকা শহিদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সওজের পুরাতন মালামাল নিলামে বিক্রি হয়। তখন আমি কিছু মালামাল স্যারদের নিকট থেকে চেয়ে নিয়ে অফিসের ভিতর ড্রাইভার সরোয়ারের নিকট রেখেছিলাম। ঘটনার দিন সেগুলো বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু লোকজন আমার সাথে বেয়াদবি করে। পরে স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়।
অফিসের ভিতর সকল মালামাল তালিকাভুক্ত ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী প্রকৌশলী মো আনিসুর রহমান বলেন, চুরি হওয়া মালামাল আমার তালিকায় নেই। আমি এর সাথে জড়িত নয়। তবে, চুরিকৃত মালামাল সড়ক উপ বিভাগ ২ এর এখানে রাখা হতে পারে। সেগুলোর দায়িত্ব আমার না। সেগুলো দেখভালের দায়িত্ব উপ সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানার।

তিনি আরও বলেন, আমি শুনেছি এ্যাংগেলগুলো অফিস বাউন্ডারির ভিতর পরিত্যক্ত ভাবে মাটিচাপায় ছিল। সেগুলোই হয়তো সে নিয়েছে।
উপ সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা জানান, আমার হিসেবের মালামাল ঐ ডিভিশনে রেখেছি। সুতরাং চুরি বা খোয়া গেলে তার সকল দায়দায়িত্ব ঐ ডিভিশনের দায়িত্বরতদের।
স্থানীয় বিএনপির নেতা জাহেদ আলম ( মুন্সি আলম ) বলেন, সরকারি সম্পদ গোপনে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন হাতেনাতে ধরে মারধর করলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সড়ক উপ বিভাগ ১ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবা আক্তার বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্মকতাকে জানানো হয়েছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো, ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, বিষয়টি লিখিত ভাবে অবগত হয়েছি। খুব দ্রুতই তদন্ত কমিটি ঘটনা করে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















