নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন দুই অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে দুই ভাটায় ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তারের নেতৃত্বে ফাতেমা ব্রিক ফিল্ড এবং ভাইভাই ব্রিক ফিল্ডে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৯ অনুযায়ী যথাক্রমে ৩ লাখ ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি দুটি ভাটার ইট উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর পেয়ারা বেগম, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর ইসলাম। সহায়তায় ছিলেন সেনবাগ নো-ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা, সেনবাগ থানা পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর ফায়ার ফাইটাররা।
অভিযানকালে ভাটাগুলোর প্রস্তুত করা কাঁচা ইট ভেঙে দেওয়া হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে ভাটার আগুন নির্বাপণ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার বলেন, “সেনবাগে অসংখ্য অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র এবং নির্ধারিত এলাকা ছাড়া এসব ভাটা পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অবৈধ ইটভাটা নিয়ে উদ্বেগ:
এদিকে সেনবাগ উপজেলার ৯ ইউনিয়নে প্রায় ৪৫–৫০টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এসব ভাটা বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে।
ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমি গভীর হয়ে পড়ছে এবং প্রতিবছর আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। এর ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য সংকটের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর সেনবাগের মেঘনা ব্রিক ফিল্ড নামের আরেকটি অবৈধ ভাটায় অভিযান চালিয়ে একইভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম 



















