সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেনাসদস্যদের সঙ্গে যুদ্ধকালীন খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী

চারপাশ সবুজে ঘেরা, নিস্তব্ধ পরিবেশ। কোথাও ছদ্মবেশে অবস্থান নিয়েছেন সেনাসদস্যরা, কোথাও চলছে যুদ্ধকালীন কৌশলের অনুশীলন।

এমন পরিবেশেই মেঠোপথ ধরে হেঁটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একপর্যায়ে জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে বসে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে প্রস্তুত করা খাবারও খান তিনি।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী।

 

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে হেঁটে মহড়ার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

 

দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার কৌশল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মহড়ার লক্ষ্য, কৌশল ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

 

পরিদর্শনের সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করতে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা কর্মকর্তারা এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করেন।

 

আনুষ্ঠানিকতা শেষে জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। তাদের সঙ্গে কথা বলেন, অভিজ্ঞতা শোনেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে মাটিতে বসে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবার খান তারেক রহমান। কৌটার চুলায় রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাকে।

 

পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের এই আস্থা ধরে রাখতে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা জরুরি। সরকার সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

 

নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের নানা স্মৃতি ফিরে আসে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে।’

 

পরিদর্শনকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনাসদস্যদের সঙ্গে যুদ্ধকালীন খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৮:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চারপাশ সবুজে ঘেরা, নিস্তব্ধ পরিবেশ। কোথাও ছদ্মবেশে অবস্থান নিয়েছেন সেনাসদস্যরা, কোথাও চলছে যুদ্ধকালীন কৌশলের অনুশীলন।

এমন পরিবেশেই মেঠোপথ ধরে হেঁটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একপর্যায়ে জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে বসে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে প্রস্তুত করা খাবারও খান তিনি।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী।

 

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে হেঁটে মহড়ার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

 

দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার কৌশল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মহড়ার লক্ষ্য, কৌশল ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

 

পরিদর্শনের সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করতে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা কর্মকর্তারা এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করেন।

 

আনুষ্ঠানিকতা শেষে জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। তাদের সঙ্গে কথা বলেন, অভিজ্ঞতা শোনেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে মাটিতে বসে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবার খান তারেক রহমান। কৌটার চুলায় রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাকে।

 

পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের এই আস্থা ধরে রাখতে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা জরুরি। সরকার সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

 

নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের নানা স্মৃতি ফিরে আসে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে।’

 

পরিদর্শনকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।