সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

স্কুলছাত্রীকে বাবার সামনে থেকে অপহরণের ঘটনায় আসামি রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে (১৯) এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

 

সোমবার (৪ মে) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।

 

 

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদউজ্জামান আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মেয়েটা ১২ বছরের, অবুঝ কিছুই বুঝে না। তাকে জোর করে আসামি সংঘবদ্ধভাবে নিয়ে যায়।

এ সময় আদালতে আসামি-পক্ষের আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলাটি চাঞ্চল্যকর। ঘটনার আড়ালেও কিছু ঘটনা থাকে। অভিযোগে অপহরণ করেছে বলেছে। কিন্তু মেয়েটাই স্বেচ্ছায় ছেলেটার সঙ্গে দৌড়ে গেছে। যা ভিডিওতে দেখা গেছে। এটা একটা প্রেমের সম্পর্ক। এ জন্যই গত জানুয়ারির ২৫ মাসে এই ছেলেটার সঙ্গে চলে গিয়েছিল।

প্রেমের ঘটনা বলে আদালতে আসামি-পক্ষ আরও দাবি করেন, এটা কোনোভাবেই অপহরণ নয়। রিমান্ডের সুযোগ নেই। কারণ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এটা আরেকটা মিন্নীর মতো ঘটনা।

 

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. শরীফুল ইসলাম রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, আসামি জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়। ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও পরিকল্পিত ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

 

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা গার্লস স্কুলের পরীক্ষা শেষে মেয়ে জেরিন জামান তুবাকে (১৪) নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তার বাবা। বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা অপহরণকারী তাদের গতিরোধ করে।

 

 

এ সময় অপহরণকারীরা তুবার বাবাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার সামনে থেকেই মেয়েকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। পরে দুটি মোটরসাইকেলের পাহারায় অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা কামরুজ্জামান বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত ১ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর দেড়টায় গাজীপুরের পুবাইল থানার কফু মার্কেট এলাকা থেকে প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় আসামির হেফাজত থেকে অপহৃত তুবাকে উদ্ধার করা হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

স্কুলছাত্রীকে বাবার সামনে থেকে অপহরণের ঘটনায় আসামি রিমান্ডে

আপডেট টাইম : ০৫:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে (১৯) এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

 

সোমবার (৪ মে) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।

 

 

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদউজ্জামান আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মেয়েটা ১২ বছরের, অবুঝ কিছুই বুঝে না। তাকে জোর করে আসামি সংঘবদ্ধভাবে নিয়ে যায়।

এ সময় আদালতে আসামি-পক্ষের আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলাটি চাঞ্চল্যকর। ঘটনার আড়ালেও কিছু ঘটনা থাকে। অভিযোগে অপহরণ করেছে বলেছে। কিন্তু মেয়েটাই স্বেচ্ছায় ছেলেটার সঙ্গে দৌড়ে গেছে। যা ভিডিওতে দেখা গেছে। এটা একটা প্রেমের সম্পর্ক। এ জন্যই গত জানুয়ারির ২৫ মাসে এই ছেলেটার সঙ্গে চলে গিয়েছিল।

প্রেমের ঘটনা বলে আদালতে আসামি-পক্ষ আরও দাবি করেন, এটা কোনোভাবেই অপহরণ নয়। রিমান্ডের সুযোগ নেই। কারণ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এটা আরেকটা মিন্নীর মতো ঘটনা।

 

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. শরীফুল ইসলাম রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, আসামি জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়। ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও পরিকল্পিত ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

 

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা গার্লস স্কুলের পরীক্ষা শেষে মেয়ে জেরিন জামান তুবাকে (১৪) নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তার বাবা। বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা অপহরণকারী তাদের গতিরোধ করে।

 

 

এ সময় অপহরণকারীরা তুবার বাবাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার সামনে থেকেই মেয়েকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। পরে দুটি মোটরসাইকেলের পাহারায় অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

 

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা কামরুজ্জামান বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত ১ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর দেড়টায় গাজীপুরের পুবাইল থানার কফু মার্কেট এলাকা থেকে প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় আসামির হেফাজত থেকে অপহৃত তুবাকে উদ্ধার করা হয়।