পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন হত্যার জেরে প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একজন এবং মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে অপর দুজনের মৃত্যু হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির, একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাবু এবং পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ।
তারা ঘটনার সময় প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গত ২ জুন সকালে নাঈমের বাড়িতে রিয়ার সাথে পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাঈম। পরে দুই বন্ধুর সহায়তায় লাশ একটি প্রাইভেটকারে করে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন ৩ জুন নদী থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সে সময় নাঈমের পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকলেও, ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আগুন নেভাতে আসা প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতার বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন ৮ জুন বিকেলে ও সাবু এবং সাব্বিরের ৯ জুন সকালে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এবার শিশুর চিকৎসা করাতে এসে হাসপাতালে গণধর্ষণের শিকার মা
- নাটোর সংবাদদাতা। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
এবার শিশু সন্তানের চিকিৎসা করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হলেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে। শিশুটির জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও ছাড়ার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত সুইপারদের ডাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই নারীকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সুইপারদের ডেকে শুধু শাসিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত তিন সুইপারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ওই তিন সুপারভাইজার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গন (২৪)।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর ২ বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। শিশুটির বাবা পেশায় অটোচালক। গত ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী- সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তারা কেউ সেখানে নেই।
এ সময় তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। এ সময় তার স্ত্রী জানান, গত ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে অভিযুক্ত সুইপার অমিত তাকে ডাকতে আসেন। শিশুটিকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামে অপর দুই সুইপারের সহায়তায় অমিত তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় পুরো ঘটনাটি অনিল ও প্রাঙ্গন মোবাইলে ভিডিও করে।
অমিতসহ অন্যরা ঘটনাটি না জানাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এদিকে, শিশুকে রেখে তার মা চলে যাবার পর সে কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় তাকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ৬ষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে।
হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয় তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা ঘটনাটি স্বীকার করেনি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন তাদের ওপর তখন তারা সব স্বীকার করে।
হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মন্নাফ হোসেন দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, অমিত আমাকে ধর্ষণ করে। অপর দুজন ভিডিও করে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনাটি জানার পর কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি জানা আছে। মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
- নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৩:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

হাকিমপুরে ৭২৭ দু:স্থ নারীর মাঝে ভিডাব্লিউবি’র চাল বিতরণ
- মো. হাসান আলী, দিনাজপুর দক্ষিণ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

রামিসার পাশের বাসার ৫ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সম্প্রতি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাসার পাশের বাড়ি থেকে ইব্রাহিম নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শিশুটির আশপাশে যাকে শেষবার দেখা যায়, তিনি বাড়িওয়ালার ছেলে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
এ বিষয়ে দুদিন আগে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, বাড়িওয়ালার ছেলের যুক্ত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।
নিখোঁজ শিশুটির বাবা-মা জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসার সামনে খেলছিল ইব্রাহিম। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ঠিক ৭টা ২১ মিনিটে তাকে হঠাৎ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে সে একা ছিল না; তার পেছনে পেছনে এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইব্রাহিমের একটি চিৎকার শোনা যায়। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর ভেতরে প্রবেশ করা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
জানা গেছে, শিশুটির পরিবার যে বাড়িতে থাকে, তা রামিসাদের ভবন থেকে মাত্র ৩ গলি দূরে। বাড়িটির ছাদে সবাইকে যেতে দেওয়া হয় না। ঘটনার সময় ছাদটি যথারীতি তালাবদ্ধ ছিল। ছাদে যাওয়ার একমাত্র চাবিটিও বাড়ির মালিকের কাছে থাকে। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কোথায় উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে বড় ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের কখনো কোনো ধরনের ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়নি। তবে তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।
এ বিষয়ে ইব্রাহিমের বাবা বলে, ‘আমরা এখানে ১০ বছর ধরে আছি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। বাড়িওয়ালার দুই ছেলে নেশা আর অনলাইন জুয়া খেলেন। আমাদের ধারণা, টাকার জন্যই তারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে আটকে রেখেছেন।’
এ ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুটির পরিবার দুদিন আগে মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করছি। তবে তারা আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।’
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর জোনের মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার কালবেলাকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলের বিষয়ে কিছু জানাননি। এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই। যদি তারা অভিযোগ করেন, আমরা খতিয়ে দেখব।’
সূত্র: কালবেলা

রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কামারখন্দে ৩০ পরিবার অবরুদ্ধ: নেই লাশ বের করার রাস্তাও
- কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৫৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কালিবাড়ি পলাশডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একই গ্রামের আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, তারা আব্দুল মজিদের কাছ থেকেই জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। জমি বিক্রির সময় চলাচলের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও সম্প্রতি সেই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলাকাটির প্রায় ৩০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তারা একটি সংকীর্ণ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন। তবে সেই পথ এতটাই সরু যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কষ্টসাধ্য। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিকল্প পথের সীমানা ঘেঁষেও ঘর নির্মাণ করায় চলাচলে আরও দুর্ভোগ বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীকে নিয়ে রাস্তা বের করার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি খাস শ্রেণিভুক্ত।
অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। চলাচলের প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কোনো যানবাহন প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, কেউ মারা গেলে লাশ বের করার মতো রাস্তাও রাখা হয়নি। যে বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করছি, সেখানে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েও চলাচল করা কঠিন। কিছু বলতে গেলে আব্দুল মজিদের ছেলে ও ভাতিজারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের চলাচলের জন্য স্থায়ীভাবে রাস্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মজিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এক মাসে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে সাজেদা বেগম!
- মো. কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার বিচার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ
- নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান
- মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:২৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

হিলিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
- মো. হাসান আলী, দিনাজপুর দক্ষিণ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নাচোলে নবনিযুক্ত ইউএনও’র সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত
- মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

৫ বছর বয়সী শিশুকে যৌন হয়রানি: রেষ্টুরেন্ট কর্মচারিকে গণধোলাই
- মো. দুলাল সরকার, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নেহারী-হালিম বিক্রির আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা!
- কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কোমরে ৩টি বিদেশী পিস্তল নিয়ে ঘুরছিলেন যুবক !
- মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৫ মাদক কারবারি গ্রেফতার
- হাসান আলী (হাকিমপুর) দিনাজপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৮:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার
- সবুজ সরকার বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
বাড়ি থেকে বের হলেই কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।
শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই।
শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়।
কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ।
মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে।
তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়।
মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না।
স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।
ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রিপোর্টার: 



































2 thoughts on “স্কুলছাত্রী হত্যার আসামির বাড়িতে আগুন: তিনজন নিহত”