সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

স্বপ্নপূরণে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেলন হাসিবুর

স্বপ্নপূরণে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেলন হাসিবুর।

​দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের হাসিবুর রহমান। তিনি ওই গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরোর বড় ছেলে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তার মরদেহ নিজ গ্রামে এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসিবুর রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার সেও ইয়াং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২ মে (শনিবার) মধ্যরাতে পার্ট-টাইম কাজ শেষে ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন।

 

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৩ মে (রোববার) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় তিন সপ্তাহ পর তার মরদেহ দেশে আনা হলো।

 

​তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান শোক প্রকাশ করে বলেন, “হাসিবুর রহমান ছিল আমাদের গ্রামের গর্ব। অত্যন্ত ভদ্র ও স্বপ্নবাজ এই ছেলেটির এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। আমরা সবাই তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।”

 

​নিহতের বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে, কষ্ট করে তাকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সে একদিন মানুষের মতো মানুষ হয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু ভাগ্য যে এত নিষ্ঠুর হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।”

ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকার আন্তরিক : প্রতিমন্ত্রী

​মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেছেন, ‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ ব্যাপারে বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই কাজ শেষে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
​শুক্রবার (২২ মে) বিকালে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন রসলুপুর খেয়াঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের হাবিবুর রশিদ এসব কথা বলেন।
এ সময় হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, “আজকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের সবাইকে এখানে নিয়ে এসেছেন, তিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান। আমরাও চাই তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে। বাস্তবতার আলোকে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এখানে ফান্ডিংয়ের ব্যাপারে আছে। গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর উপর সেতু নির্মাণে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করছি।”
​তিনি বলেন, “২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন এই নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি কর্তৃক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ রকম অনেক প্রকল্পই বাস্তবায়ন করেনি। জনগণের ভোটে পুনরায় বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অল্প সময়ের ভেতরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

 

মাজারে হামলা বন্ধ ও ৩ মাসের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসির কার্যকরের দাবি

মাজারে হামলা বন্ধ ও ৩ মাসের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা টাউন হল চত্ত্বরে ২২ মে শুক্রবার সকাল ১০ টায় তরিকত-এ ইসলামের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মঈনউদ্দীন হিয়াজুড়ির সঞ্চালনায় ও ইঞ্জিনিয়ার কাজী ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা।

 

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ মজুমদার, ফায়জুল হিয়াজুড়ি, রাসেল দেওয়ান, মিনু হিয়াজুড়ি প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, নির্মমভাবে বাংলাদেশে প্রতিদিনই মাজারে হামলা হচ্ছে। মা-বোন-কন্যারা ধর্ষিত হচ্ছে শুধুমাত্র বিচার না হওয়ায়। যদি ধর্ষকদের বিচার দ্রুত হতো, তাহলে আর এভাবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা-বোন-কন্যারা ধর্ষিত হতো না। গত ১৩ বছর ধরে নতুনধারা ৩ মাসের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছে নতুনধারা; কিন্তু আগের সরকার, পরের সরকার বা বর্তমান সরকারও আইন করে ধর্ষকের ফাঁসির কার্যকরের জন্য কোনো আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কারণ দিন শেষে সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু তারা ধর্ষকদেরকে বিচারের আওতায় না এনে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়।

 

যুদ্ধাপরাধী- দেশ বিরোধী জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা ধর্ষকদেরকে উসকানী দিচ্ছে। তার প্রমাণ এনসিপির নেতারা দলীয় নেত্রীদেরকে ধর্ষণ করতে চাইছে, জামায়াতের আমীর সমকামীদের মত যেখানে সেখানে চুমা দিয়ে বেড়াচ্ছে।

 

এসময় তরিকত-এ ইসলামের সভাপতি টিপু বলেন, আপনার বাবা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অপমান করে ‘মুক্তিযোদ্ধারা গাদ্দার’ বলেও সংসদে থাকে কি করে? তাহলে কি ধরে নেবো আপনি নিজেও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে? যারা  জ্বালানি তেল মজুত করে মববাজী করে সারাদেশে সংকট তৈরি করছে, আপনি তাদের পৃষ্ঠপোষক।

 

যদি তাই না হয়, তাহলে আগামী ১ সপ্তাহর মধ্যে ৭৪ জন এমপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করে ব্যবস্থা নিন-প্রমাণ করুন আপনার রক্তে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত প্রবাহিত, আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। দেশের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সাথে নিয়ে দেশের অর্থনীতি, ধর্ম-মানবতা, শিক্ষা-সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংসকারী ইউনূস এবং তার সরকারের সকল উপদেষ্টা আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি। এই দাবি বিএনপি সরকার আমলে না নিলে, এদের বিচার না করলে জনগণ ক্ষমা করবে না। এসময় তিনি আরো বলেন, মামুনুলদের মত মানুষেরা এখন বলে- তাদেরকে ক্ষমতা দিলে তারা হরমুজ প্রণালি থেকে বাংলাদেশের তেলের জাহাজ উদ্ধার করে নিয়ে আসবে, তাহলে ক্ষমতা না পেয়েই কি তারা হরমুজে জাহাজ আটকে রাখার জন্য ইরানকে পরামর্শ দিয়েছে?

খবর: প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

 

এবার ১২ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেপ্তার

​জয়পুরহাট শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে লিটন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত লিটন ভুক্তভোগী শিশুটির সৎ বাবা।

 

​ভুক্তভোগীর পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা স্থানীয় একটি ছাত্রাবাসে রান্নার কাজ করেন। গত সপ্তাহে তিনি প্রতিদিনের মতো কাজে গেলে, ঘরে একা থাকার সুযোগে পেশায় রিকশাচালক সৎ বাবা লিটন শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানাতে তাকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ মে লিটন আবারও ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দিলে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে মায়ের কর্মস্থলে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

 

​ভুক্তভোগী শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, লিটন মাদকাসক্ত। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করায় সে আমাকেও মারধর করেছে।

 

​বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রায়হানুল আলম জানান, শিশুটিকে বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

​জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির খোঁজখবর নেয়। অভিযুক্ত সৎ বাবা লিটনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছিনতাইকারীর সঙ্গে লড়াই করে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল কনস্টেবলের

সাদা পোশাকে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ দিলেন র‌্যাব-৯-এর কনস্টেবল ইমন আচার্য্য। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরের দিকে সিলেট কোতোয়ালী থানার অদূরে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন সিলেটের সুরমা নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য।

 

এমন সময় কোতোয়ালি থানার অদূরে তোপখানা এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাচ্ছিল ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পী (২২)। পালানোর পথে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন চাঁদনীঘাট নদীর তীরে তাকে ঝাপটে ধরেন সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য ইমন।

 

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী র‌্যাব সদস্যের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ। সে নগরের কাজিরবাজার মোঘলটুলা এলাকার আবুল হোসেন ও রুবিনা বেগম দম্পতির ছেলে।

 

নিহত ইমন আচার্য্যের কনস্টেবল নম্বর ৬৯১৭৯০। তিনি দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাব-৯ সিলেটে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায়।

 

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানার পশ্চিম পাশে পুলিশের একটি দল এক ছিনতাইকারীকে ধরার জন্য ধাওয়া করছিল।

 

এসময় ব্যক্তিগত কাজে সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য সেখানে ছিলেন। পুলিশকে ছিনতাইকারীর পেছনে দৌড়াতে দেখে তিনি তাকে ধরার চেষ্টা করেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযান চালিয়ে হামলাকারী ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু দুর্বৃত্ত পথচারী ও সাধারণ মানুষের গতিবিধির সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে একা চলাচল করা মানুষ ও অটোরিকশা যাত্রীদের টার্গেট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এবার ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খোদ র‌্যাব সদস্যের প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটল।

 

 

ফারিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ধর্ষণের চেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বাঁচলেন

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যখন গোটা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল ঠিক সেই সময়ে নিজের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী ফারিন খান। মধ্যরাতে এক পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

 

 

ফারিন জানান ১৩ তারিখ জামালপুর যাওয়ার পথে রাত সোয়া ৩টার দিকে বাধ্য হয়ে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে যান তিনি। সেখানে ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। পরক্ষণে তাকিয়ে দেখেন ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটি হাত ঠিক তার গলার কাছে এগিয়ে আসছে।

ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে ফারিন তার পোস্টে লেখেন ‘হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত। আমি খুব সাহসিকতার সাথে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে আসি এবং আমার ড্রাইভার আমার চিৎকার শুনেই এগিয়ে এসে লোকটাকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়।’

ফারিন জানান তার গাড়িচালক ওই লোকটিকে অনেকগুলো ডিমের খোসা নিয়ে ওয়াশরুমের পেছনে যেতে দেখেছিলেন। চালক ভেবেছিলেন লোকটি হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে তাই বাধা দেননি।

এই ঘটনার পর মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন ‘উপরের উপরে সাহস দেখালেও আমি জানি ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় আমি পেয়েছিলাম এবং পরের দিন সকালে শুটিং ইউনিটের অনেককেই ব্যাপারটা শেয়ারও করেছিলাম। এর থেকে বিশ্রী অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না।’

 

 

রামিসা হত্যাকাণ্ডের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফারিন। তিনি লেখেন ‘আমরা যেসব মেয়েরা বাইরে কাজ করি আমরা জানি কত কত এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তবে এই দেশে সত্যিই মেয়েরা নিরাপদ না। যে দেশে আমাকে আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয় সে দেশে আসলে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ যার বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো বিচার কখনো হয়নি যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে।’

 

 

পোস্টের শেষে আক্ষেপ করে ফারিন আরও জানান এই স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরেও অনেকে তার পোশাক ও কাজ নিয়ে তাকেই দোষারোপ করবেন যা দেশের মেয়েদের জন্য প্রতিদিন মানসিক ধর্ষণের শিকার হওয়ারই নামান্তর।

 

 

হরমুজে ইরানের ছাড়পত্রে চলাচল করল ৩৫ জাহাজ

গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩৫টি জাহাজ পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজ রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এ দাবি করেছে।

 

 

শুক্রবার আইআরজিসির বরাতে আল-জাজিরা একই সংবাদ প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব জাহাজ চলাচল করেছে। বাহিনীর বিবৃতিতে এ দাবি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

এর আগের দিন আইআরজিসি জানিয়েছিল, আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩১টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ হয়। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচলের এই তথ্য প্রকাশ করল ইরান।

 

হামে আক্রান্ত হয়ে একদিনে প্রাণ গেল ১১ শিশুর

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ২ শিশু। আর হামের উপসর্গে মারা গেছে ৯ শিশু। একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৩১৫ জন।

 

 

শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এ শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

 

 

এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪১৪ জন। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৮৫ জন। মোট মৃত্যু ৪৯৯ জন।

 

জামালপুর-ঢাকা রুটে চালু হলো বিশেষ ক্যাটল ট্রেন

​ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য জামালপুরের ইসলামপুর থেকে বিশেষ ‘ক্যাটল ট্রেন’ চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কম খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পশু পরিবহনের সুযোগ থাকায় এবং পথে চাঁদাবাজির ঝামেলা না থাকায় খামারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে এই ট্রেন এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুটি এবং শনিবার (২৩ মে) একটি ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাবে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ইসলামপুর থেকে প্রথম ক্যাটল ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
প্রতিটি ট্রেনে ২৫টি করে ওয়াগন থাকছে, যার প্রতিটিতে ১৬টি করে গরু নেয়া হবে। সে হিসেবে একটি ট্রেনে প্রায় ৪০০টি গরু পরিবহন করা সম্ভব। প্রতিটি গরুর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।এবারের ঈদে তিনটি ট্রেনে মোট ৭৫টি ওয়াগন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২০০ গরু এই স্পেশাল ট্রেনগুলোর মাধ্যমে ঢাকায় আনা হবে।
গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা জানান, সড়কপথে ট্রাকে করে গরু পরিবহনে ভাড়া ও ভোগান্তি—দুটোই বেশি। রাস্তায় যানজট, চাঁদাবাজি এবং দুর্ঘটনার মতো বড় ঝুঁকি থাকে। সেই তুলনায় ট্রেনে অনেক কম খরচে ও স্বাচ্ছন্দ্যে গরু হাটে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।​তবে ঢাকায় হাট শেষে অবিক্রীত গরু যাতে সহজে এলাকায় ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য একটি ফিরতি ট্রেনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া জানান, ক্যাটল ট্রেনের সবগুলো ওয়াগন এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং ট্রেনের ধারণক্ষমতার তুলনায় গরু পরিবহনের চাহিদা আরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি তিন নেতাকে সংবর্ধনা দিলেন “তারুণ্যের শক্তি” সংগঠন

নবগঠিত ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার ৫ নং বালিয়া ইউনিয়নের তিন কৃতি সন্তানকে সংবর্ধনা দিয়েছে  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “তারুণ্যের শক্তি”।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূল্লী বটতলায় তারুণ্যের শক্তি কার্যালয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা প্রাপ্ত নেতারা হলেন, জুলফিকার আলী ভুট্টো, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, মিজানুর রহমান — মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, আশরাফুল হক — সহ দপ্তর সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি।
এ সময় এক আলোচনা সভায়  বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন, দলীয় কর্মকাণ্ডে অবদান এবং জনগণের পাশে থেকে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এ তিন নেতাকে জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের এ অর্জনে বালিয়া ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নবগঠিত  নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে তারা সংগঠনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দল ও দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারুণ্যের শক্তি সংগঠনের সদস্যরা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঈদ উৎসবে মুক্তি পাবে ববি অভিনীত ‘তছনছ’

আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী নতুন সিনেমা ‘তছনছ’। ঢালিউডের বাণিজ্যিক ধারার নির্মাতা বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন মুন্না খান ও ববি হক। ঈদকে সামনে রেখে নির্মিত সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী চিত্রনায়ক মুন্না খান। তিনি জানান, ‘তছনছ’ তার অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র এবং শুরু থেকেই দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। তার প্রত্যাশা, পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করবেন।

 

 

নির্মাতা বদিউল আলম খোকন জানান, ঈদের দর্শকদের রুচি ও চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘তছনছ’। সিনেমাটিতে থাকছে জমজমাট অ্যাকশন, পারিবারিক আবেগ এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয়। তার ভাষ্য, ঈদে দর্শক সাধারণত বড় পরিসরের অ্যাকশনধর্মী সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, আর সেই ভাবনা থেকেই নির্মিত হয়েছে এই চলচ্চিত্র।

 

 

মুন্না খান মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন কমল সরকার। এতে মুন্না খান ও ববি হকের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, মিশা সওদাগর, তানভীর তনু, শিবা সানু, সুব্রত, মারুফ আকিব, বড়দা মিঠু ও প্রিয়া অনন্যাসহ আরও অনেকে।

ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির অফিসিয়াল টিজার ও একটি রোমান্টিক গান। প্রকাশের পর থেকেই দর্শক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘তছনছ’ নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আসন্ন ঈদের সিনেমার তালিকায় আলোচিত সংযোজন হতে পারে ‘তছনছ’।

 

 

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের সময়সূচি ঘোষণা জিম্বাবুয়ের

আগামী জুনের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ে সফর করবে বাংলাদেশ। সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এক টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলবে অতিথিরা। সেই পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি)।

 

 

একমাত্র টেস্ট দিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। ২৮ জুন হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে লাল বলের ম্যাচটি শুরু হবে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৬ জুলাই। ৯ ও ১১ জুলাই বাকি ম্যাচ দুটি হবে। টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলোও হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে।

 

 

ওয়ানডে সিরিজ শেষে বুলাওয়ে যাবে বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি হবে ১৫ জুলাই। ১৭ ও ১৯ জুলাই বাকি ম্যাচ দুটি মাঠে গড়াবে।

এর আগে সবশেষ ২০২২ সালের জুলাই-আগস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত দুটি সিরিজেই ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল সফরকারী দল। এবার সে ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাইবে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজরা।

প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ নিয়ে জেডসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর ম্যাকোনি বলেন, বাংলাদেশের সফরটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর নিশ্চিত করছি। সব ফরম্যাট মিলিয়ে এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর একটি সিরিজ হবে বলে আমরা আশা করছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর দেশের মাঠে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরায় আমরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত। হারারে ও বুলাওয়েতে সমর্থকদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হবে।’

 

৩১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করল হাবিপ্রবি প্রশাসন

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়, বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ৩ টায় শহীদ আবরার ফাহাদ হল হতে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তারা নির্বিচারে নামাজ ঘরসহ হলের আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা ও অন্য সম্পত্তি বিনষ্ট করে এবং সহকারী প্রক্টরসহ ছাত্রদের গুরুতর আহত করে।

 

 

ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রামথিকভাবে শিক্ষার্থীদের দোষী বলে সনাক্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ও ১৫ ধারা মোতাবেক অনৈতিক কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত এবং আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার ১নং আলোচ্য বিষয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩১ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

যমুনা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বাঁধ নির্মাণ হলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে চরপৌলি এলাকায় যমুনা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমিও নদীর পাড়ের মানুষের দুঃখ বুঝি। তাই নদী ভাঙন রোধে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের নদীভাঙন এলাকাগুলো রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। এ সময় বক্তারা বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনের ফলে প্রতি বছর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন থেকে হাজারো মানুষ রক্ষা পাবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা বিএনপির নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বিটিভিতে আসছে ঈদের নাটক ‘টিকটক বউ’

ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ঈদের দিন রাত ৯টায় প্রচারিত হবে বিশেষ নাটক ‘টিকটক বউ’। সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা ও নির্মল হাস্যরসের মিশেলে নির্মিত এই নাটকে উঠে এসেছে বর্তমান প্রজন্মের সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু এবং প্রযোজনা করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিনয় করেছেন সালমান আরাফাত, নওশীন নাহার, জুলফিকার চঞ্চল, শ্যামল হাসান, কবির টুটুল, আরজুমান আরা বকুল, হুমায়ুন ফরিদ , সাবিহা জামান, বিমল ব্যানার্জি, সাবরিনা শফী নিসা ও আনোয়ার শাহী।

 

 

নাটকের গল্পে দেখা যাবে, মনির তার মা ও মামাকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যায়। মেয়ের নাম রায়না। টিকটকে রায়নাকে প্রথম দেখে মনির। দেখেই ভালো লেগে যায় তার। প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করা মনিরের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করবে। এ কারণে বহু মেয়ে দেখেও তার মনে ধরেনি। মেয়ে দেখতে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নাটকে তৈরি হয় একের পর এক হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি। মনিরের মামার সংলাপগুলোও দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দেবে। বিয়ের আলাপচারিতায় পুরোনো ধ্যানধারণার বদলে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক ভাবনা- ফেসবুক ভেরিফায়েড কি না, মনিটাইজেশন হয়েছে কি না কিংবা মাসে কত আয় হয়, এসব নিয়েই জমে ওঠে কথোপকথন। অবশেষে হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়েই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাসর রাতের পরদিন ভোরে ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা! এরপর থেকেই গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে।

 

 

 

নির্মল বিনোদনের পাশাপাশি নাটকটি বর্তমান সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার একটি সূক্ষ চিত্র তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের বিশেষ আয়োজনে ‘টিকটক বউ’ দর্শকদের জন্য হতে পারে ভিন্নধর্মী এক আনন্দের উপহার।

 

 

বগুড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বগুড়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের বেতার শাখার সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (২২ মে) সকালে পুলিশ লাইন্সের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা থেকে শুক্রবার সকাল আটটার মধ্যে যে কোনো সময়ে গলায় রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

 

নিহত আরিফুল ইসলামের (৩৮) নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পদ্মবিল ঘড়িয়া এলাকার মো. আশরাফের ছেলে। তিনি স্ত্রী রোমা বেগম ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার বিপি নম্বর ৮৮০৭১২৭৪৮৫।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে বেতার শাখায় কর্মরত এএসআই আরিফুল ইসলাম গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে লাশটি উদ্ধার করে নামানো হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেতার শাখার দোতলার একটি কক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন আরিফুল ইসলাম। ওই কক্ষে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকেও তাকে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার সকালে তাকে কক্ষে না পেয়ে সহকর্মীরা প্রথমে ধারণা করেন তিনি নিচতলায় দায়িত্বে আছেন।

 

পুলিশ জানায়, পরে সকাল ১০টার পরও তার খোঁজ না মেলায় পাশের একটি ওয়ার্কশপ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান সহকর্মীরা। সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ জানান, নিহতের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কোনো পারিবারিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণসংক্রান্ত চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।

 

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) আতোয়ার রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এএসআই আরিফুলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

 

রানীনগরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপর সন্ত্রাসী হামলা

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের উপর কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে)  রাত আনুমানিক ৯টায়  রানীনগর থানাধীন গোনা ইউনিয়নের বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া অস্থায়ী রেলগেটের পূর্ব পাশে এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৯টার দিকে রানীনগর থানার এসআই (নিঃ) রতন কুমার ও এএসআই (নিঃ) ওবায়দুল হোসেন বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া অস্থায়ী রেলগেট এলাকায় টহল দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় এলাকার মোঃ আশিক (বয়স ২৩), পিতা মোঃ কেয়ারব সোনার, গ্রাম-বিজয়কান্দি (বড়বড়িয়া), থানা-রানীনগর, জেলা-নওগাঁ-কে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যরা মাদকদ্রব্য অভিয়ানে টহলরত অবস্থায়  তাকে থামিয়ে নাম-পরিচয় ও অবস্থানের কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো উচ্চস্বরে অসদাচরণ করে।
পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে যখন সে আশেপাশে থাকা অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জন সঙ্গীকে ডেকে একত্রিত করে এবং সম্মিলিতভাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই হামলাকারীর দল এসআই (নিঃ) রতন কুমার ও এএসআই (নিঃ) ওবায়দুল হোসেনকে এলোপাথাড়ি ভাবে আক্রমণ করে। পুলিশি পরিচয় ও আইনি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তারা এই বেআইনি ও সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
খবর পেয়ে রানীনগর থানার এসআই (নিঃ) জুলফিকার ও এএসআই আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যরা পরবর্তীতে থানায় ফিরে আসেন।
হামলার শিকার এসআই (নিঃ) রতন কুমার থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। রাত আনুমানিক ১টায় রানীনগর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু হয়।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা রুজু করেন এবং তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের উপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ বৈধ দায়িত্ব পালনকালে এই হামলার শিকার হন, যা শুধু ব্যক্তিবিশেষের উপর আক্রমণ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন,  তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে তুলে ধরা হলো পাকিস্তানের দীর্ঘ গণহত্যার ইতিহাস

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের ‘দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত’ গণহত্যার ইতিহাসের কথা তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার পর, তার কড়া জবাবে স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এবং বর্তমান আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বর্বরতার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো একটি দেশ, যারা নিজের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে এবং পদ্ধতিগত গণহত্যা চালায়, তাদের কাছ থেকে এ জঘন্য আচরণ কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়।

 

এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক বার্ষিক উন্মুক্ত বিতর্কে ভারতীয় দূত পাকিস্তানের সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে যে অভিযান চালিয়েছিল, সেখানে তারা নিজেদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে লাখ লাখ নারীকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের অনুমোদন দিয়েছিল।

 

একই সঙ্গে ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘে তুলে ধরে। হরিশ পর্বতানেনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ শেষে যখন মানুষ মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তান কাবুলের মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে কাপুরুষোচিত ও বর্বর বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ২৬৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। এ ছাড়া পাকিস্তানের সীমান্ত পারের সশস্ত্র সহিংসতার কারণে ৯৪ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বেসামরিক হতাহতের ৯৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪টির জন্যই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী দায়ী।

 

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ধকারের মধ্যে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আইনের বড় বড় কথা বলা এক চরম ভণ্ডামি। বিশ্বাস, আইন ও নৈতিকতাহীন পাকিস্তান দশকের পর দশক ধরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশের ভেতরে ও বাইরে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাসী আজ তাদের এই মিথ্যা প্রচারণার আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।

 

 

পুলিশ দেখেই লুট করা গরু-ছাগল রেখে পালিয়ে গেল চোরের দল

সিরাজগঞ্জে রায়গঞ্জে পুলিশের উপস্থিতি দেখেই লুট করা গরু-ছাগল ও পিকআপ ভ্যান রেখে পালিয়ে গেল চোরের দল। এ সময় তিনটি চোরাই গরু ও একটি ছাগলসহ পিকআপটিকে জব্দ করে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ষোলমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান জানান, রাতে মহাসড়কে টহল দিচ্ছিল রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল টিম।

 

টহল টিমটি ষোলমাইল এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে গরু-ছাগলসহ পিকআপ রেখে পালিয়ে যায় চোরের দল। পরে টহল পুলিশ পিকআপ ভ্যানসহ গরু-ছাগল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

 

 

কুড়িগ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল অটোচালকের

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রবল ঝড়ের মধ্যে বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রফিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক অটোরিকশা চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বজরা তবকপুর এলাকার মজাই ভাঙ্গা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত রফিকুল ইসলাম ওই এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক বলে জানা যায়।
যদিও মাছ ধরা তার পেশা নয়, তারপরেও শখের চাহিদা মেটাতে মাছ ধরতে গিয়ে ঘটে যায় জীবনের সমাপ্তি। রফিকুল ইসলামের অকালে মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত রফিকুল ইসলাম সকালের প্রবল ঝড় কে উপেক্ষা করে তার বাড়ির পাশে থাকা একটি পুকুরে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতের আঘাতে শিকার হন তিনি। পরে পুকুরে পড়ে অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার এক পর্যায় তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ঝড় বৃষ্টি কমলে স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামের লাশ ওই পুকুর পারে দেখতে পান। তারপর রফিকুলের পরিবারকে খবর দিয়ে স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে উদ্ধার করেন রফিকুল ইসলামের মৃতদেহ।

 

সাত দিনে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ জনের মরদেহ

গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।  সাতদিনে নদীপথে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।এসব ঘটনায় তিনটি হত্যা মামলাসহ ৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে নৌ পুলিশ। দায়ের হওয়া ৯৬টি মামলার মধ্যে রয়েছে ৬৩টি মৎস্য আইন, ১৩টি বেপরোয়া গতি আইন, একটি বালুমহাল আইন ও একটি মাদক মামলা।

 

এছাড়া ১১টি অপমৃত্যু, একটি ডাকাতি, একটি অপহরণ, একটি চাঁদাবাজি, একটি বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার অবৈধ জাল, ২ হাজার ৮৯ কেজি মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০টি বাগদা চিংড়ির রেণু এবং ৪৯০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি মাছ শিকারের জন্য নদীতে স্থাপিত ১৭৯টি অবৈধ ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানকালে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ-আদালতে মামলা দায়ের এবং দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে।

 

নৌ পুলিশ জানায়, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় এ অভিযানে মোট ৩০২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। মহাসড়কে বেপরোয়া থ্রি-হুইলারের চলাচল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ এবং সড়কের খানাখন্দ মিলিয়ে যেকোনো সময় ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

 

 

 

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে পশুবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ। কোরবানির পশু পরিবহনের কারণে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

 

 

 

বর্তমানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, বলিয়ারপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভারের পাকিজা পয়েন্ট, থানা স্ট্যান্ড, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, পল্লী বিদ্যুৎ ও বলিভদ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় সারাক্ষণই থ্রি-হুইলারের দখল দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। অনেক সময় পুলিশ সদস্যদেরও অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে এগোনো এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভারী যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সামান্য চাপ বাড়লেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে কার্যকর তদারকির অভাবও চোখে পড়ছে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

উত্তরবঙ্গগামী একটি বাসের চালক ইমরুল বলেন, এখনো তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ি বেড়ে গেলে চাপ বাড়বে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে রাস্তায় অনেক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তখন গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

 

 

 

গরুভর্তি একটি ট্রাকের চালক মুরাদ বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন যানজট কম আছে, কিন্তু ঈদের সময় চাপ বাড়বে। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা গেলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যেত।

 

 

 

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ভোগান্তি নেই, ভাড়াও ঠিক আছে। কিন্তু প্রতি ঈদেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। ৫০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এবার যেন এমন না হয়, সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

 

 

 

 

ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতার একটি হচ্ছে বাইপাইল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। তারপরও মানুষের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

 

 

 

এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাজাহান বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মহাসড়কে অটোরিকশা ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে উল্টো পথে চলাচল এবং বিভিন্ন মোড়ে জটলা তৈরি হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

 

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদ এলেই ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। এবারও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন না হওয়ায় স্বস্তির বদলে শঙ্কাই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে। তবে পুলিশ বলছে ঈদ যাত্রায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

রাজধানীতে উচ্ছেদ অভিযানে যত টাকার জমি উদ্ধার করল সরকার

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনার সময় দখলকারীদের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে ব্যাহত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ ও জনবল নিয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হয়।

 

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা জমিটি দুই দিনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ণের ঢাকা ডিভিশন-১ এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

 

অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেয়। অভিযানের সময় অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড স্থাপনা এবং কয়েকটি দ্বিতল ভবনসহ আনুমানিক ১৮০ থেকে ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জমিটি এলএ (LA) কেস নং ৫/৭২–৭৩ অনুযায়ী সরকার আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করেছিল। জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘মিরপুরস্থ ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।

 

 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করে জমিটি দখলে রেখেছিল। এতে সরকারি সম্পদের ব্যবহার, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

 

 

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত জমি পরিকল্পিত আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত আট বছর বয়সী শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (২০ মে) নিহত রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ ছাড়া মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

 

 

এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোহেল রানা কৌশলে রামিসাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

 

আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের দিনেই সেবা গ্রহীতাকে মারধর

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিনই সেবা গ্রহীতাকে মারধর করে তার হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পয়সাহাট ভূমি অফিসের এক সহায়ক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পয়সাহাট ভূমি অফিসে ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, বাকাল ইউনিয়নের সরবাড়ি গ্রামের রনজিত জয়ধরের স্ত্রী শিখা জয়ধর তাদের জমির দুটি মিউটেশন করার জন্য ২০২৪ সালে ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশাকে ১৫ হাজার টাকা দেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি মিউটেশনের কাজ সম্পন্ন করেননি এবং বিভিন্ন সময়ে টালবাহানা করেন।

ভূমিসেবা মেলার দিন মঙ্গলবার বিকেলে শিখা জয়ধর মিউটেশনের কাগজপত্র চাইতে গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অফিসের বাইরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই গৃহবধূকে মারধর করা হলে তার বাম হাতের শাঁখা ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল বাশার বাদশা দাবি করেন, তিনি শিখা জয়ধরের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং তার কাগজপত্র কয়েক মাস আগেই দেওয়া হয়েছে। বাইরে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পয়সাহাট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উত্তম বেপারী জানান, ঘটনাটি অফিসের বাইরে ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামসহ দেশব্যাপী চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চিকিৎসকরা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলা ইউএইচএফপিও ফোরামের আয়োজনে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ব্যানারে হাসপাতাল চত্বরে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে চিকিৎসকরাসহ নার্সরাও অংশগ্রহণ করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শিশির কুমার গাইনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. মিরন হালদার, ডা. সুবল কৃষ্ণ, ডা. শিল্পী সমাদ্দার, ডা. সুমাইয়া তাসনীম তনিমা, ডা. মো. শামীম হোসেন, ডা. সাবরিনা ইসলাম, ডা. নাসফিন জাহান নিপা, ডা. শাহানাজ পারভীন সেতু, ডা. শাহ্ মো. বদরুল আলম ও ডা. নুসরাত জাহান প্রমুখ।

 

 

 

চিকিৎসক নাসির ইসলাম ও এক স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ, আইনগত সুরক্ষা এবং চিকিৎকদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তরা বলেন, নাসিরের ওপর হামলাকারী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ও কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরা আইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলাকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করে দ্রুত কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বক্তারা।

 

 

কুখ্যাত ডাকাত টিক্কা আটক

নৌ ও স্থলপথের দুর্ধর্ষ ডাকাত মুজিবুর রহমান ওরফে টিক্কাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গাজীপুরের পুবাইলের মাজু খান বাজার-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

টিক্কা সাভার মডেল থানার আলোচিত ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান।

 

 

কালবেলাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘পলাতক আসামি টিক্কাকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন একদল চৌকস পুলিশ সদস্য। আসামি ধরার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আমাদের এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তার কোমর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া নৌ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, টিক্কা বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে নৌ ও স্থলপথে ডাকাতি করে আসছিল এই ডাকাত। তার নামে ঢাকা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তার আসল নাম মুজিবুর রহমান, ঢাকায় এসে নাম নিয়েছে টিক্কা।

 

আসন্ন ঈদুল আজহা: হিলিতে জমতে শুরু করেছে দা-বঁটি ও চাকুর বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের আর মাত্র দিনকয়েক বাকি। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাংলা হিলি বাজারে ব্যস্ততা বাড়ছে কামারপাড়ার কারিগরদের। টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারশালাগুলো পেরিয়ে এখন বাজারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে চকচকে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি।
​আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামাররা তাদের দোকানে অত্যন্ত সুন্দর ও সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখেছেন কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি ডিজাইনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের বাকি আর মাত্র ৬ থেকে ৭ দিন। বাজারে এখনো উপচে পড়া ভিড় না জমলেও, টুপি-তাকিয়া কিংবা কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি অনেকেই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে দোকানে ঢুঁ মারছেন। তবে কামারদের আশা, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠবে।
​বাংলা হিলি বাজারের কামার ব্যবসায়ী সবুজ বৈরাগী বলেন, ঈদের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। আশা করা যাচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যেই পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়ে যাবে। আমরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ খাঁটি ও মানসম্মত লোহা দিয়ে দা, বঁটি ও চাকু তৈরি করেছি, যাতে এগুলো টেকসই ও ধারালো হয়। আশা করছি এবার ভালো ব্যবসা করতে পারব।
​বিক্রেতারা জানান, আকার ও লোহার গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটি শাণ দেওয়ার (ধারালো করার) কাজও শুরু হয়েছে সমানতালে। আগামী কয়েকদিনে এই ব্যস্ততা ও বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

নওগাঁয় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায় বজ্রপাতে একই দিনে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাণীনগর থানাধীন ০৪নং পারুইল ইউনিয়নের জাঠাইল মাঠে। কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন দুই কৃষক। নিহতরা হলেন— পারুইল গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের পুত্র মোঃ আক্কাস ফকির (৬০) এবং মোঃ আমিনুরের পুত্র মোঃ তারেক (২২)।

অপরদিকে, একই থানাধীন ০৫নং বড়গাছা ইউনিয়নের গুয়াতা আটনিটা গ্রামে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। কৃষিজমির মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোঃ নয়ন তালুকদার (৩২)। তিনি ওই গ্রামের হাসেন তালুকদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বজ্রসহ ঝড়ের কবলে পড়ে তিনজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় পৃথক ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা, চিরকুটে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পটুয়াখালীর দুমকিতে সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক আবুল কালাম খান মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

পুলিশ জানায়, নিহতের লেখা চিরকুটে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— উত্তম কুমার, কালাম মৃধা, মিলন মৃধা, হান্নান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খা ও ছালাম মৃধা। চিরকুটে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন আবুল কালাম খান।

 

চিরকুটের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ‘পিলারের ব্যবসার লোভ’ দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তম কুমার দাবি করেন, ‘আমি কালাম খানকে চিনিই না।’

 

চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, কালাম মৃধা ওই অর্থ লেনদেনে মধ্যস্থতা করে টাকার ভাগ নিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরেক অভিযুক্ত মিলন মৃধার বিরুদ্ধে চিরকুটে লেখা হয়, তাকে সাক্ষী রেখে ১০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মৃধা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

 

 

মিলন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

চিরকুটে দেলোয়ার হোসেন টিটু খাকে এলাকার শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে আবুল কালাম খান লিখেছেন, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় টিটু খা তাকে পথে-ঘাটে দেখলেই হত্যার হুমকি দিতেন।

 

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে টিটু খা বলেন, ‘এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।’

 

 

 

বাকি অভিযুক্ত হান্নান সিকদার ও ছালাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

নিহতের মেয়ে রাবেয়া বলেন, ‘কিছু লোক আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে। চিরকুটে যাদের নাম আছে, তাদের বিষয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলতেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বাবা এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।’

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন আবুল কালাম খান। একসময় তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

 

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিচের দুই স্তরের সরাকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি ও ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম সুবিধা পাবে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানা গেছে।

 

 

কমিটির সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পে স্কেল সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নতুন পে স্কেলে তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বুধবার (২০ মে) ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নবম পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয় বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।

 

 

সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে।’

 

 

অর্থনীতির অবস্থা খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে আমাদের। কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখতে হচ্ছে।’ কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁট করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

 

 

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা।

 

 

অপরদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

 

বিচারহীনতার কারণেই বেপরোয়া অপরাধীরা: ছাত্র জমিয়ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাআদ বিন জাকির। তিনি বলেন, বিচারহীনতা ও মামলা চাপা পড়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার খবালপুর মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

সাআদ বিন জাকির বলেন, ‘আজ দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটি ঘটনার বিচার শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্মম ঘটনা সামনে আসছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ঘটনায় প্রথমদিকে তীব্র আলোচনা হলেও পরে সেগুলো ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। এই সংস্কৃতিই অপরাধীদের মনে ভয়হীনতা তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরায় শিশু আছিয়া হত্যা, সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা মুন্সীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনাগুলো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। জনগণ এখন দেখতে চায়, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার কত দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুরা আজ শুধু বাইরে নয়, অনেক সময় নিজেদের পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

ছাত্র জমিয়তের এই নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোই যথেষ্ট নয়। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের কারণে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

 

 

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের প্রতি নরম অবস্থান ভবিষ্যৎ সমাজকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।’

 

 

বক্তব্যের শেষে তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও পরিবারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

 

 

রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে প্রাণ গেল নারীর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে তার নীচে চাপা পড়ে ফুয়ারা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত ফুয়ারা খাতুন উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ (মহ্যৎপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও কোবাদ আলীর স্ত্রী।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় হেঁটে যাচ্ছিলেন ফুয়ারা খাতুন। এ সময় উত্তপ্ত তরল বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া লরির নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফুয়ারা।

 

 

 

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

 

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। লরিটিকে জব্দ করা হলেও এর চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি আইপিপির সঙ্গে সরকারের নতুন চুক্তি

জাতীয় গ্রিডে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এসব বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) উৎপাদনের গড় ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ সেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা। যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের জ্বালানি বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চুক্তি করা হয়।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুতের উৎপাদন গড় ব্যয় ২ থেকে ৩ সেন্ট কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। যেখানে আগে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ১০.৫ সেন্ট।

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। এছাড়া কম দামে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন আরও ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 

 

 

তারা জানান, ১২টি প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং সবগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

 

 

কর্মকর্তারা আরও জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের আরেকটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

তারা বলেন, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একইভাবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

এছাড়া অবশিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মৌলভীবাজারের সদর ও বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

 

 

 

 

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ট্যারিফ নিশ্চিত করে সরকার ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

 

 

 

 

কনফিডেন্স পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও আইপিপি উদ্যোক্তা ইমরান করিম জানান, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বাকি দুটি কেন্দ্রের জন্য জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

 

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

 

 

 

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

 

 

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছিল। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল ২৭টি। এসব প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। বাকি চারটি প্রকল্প ছিল বায়ু ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক। যেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাতিল করা হয়।

 

 

 

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

 

 

 

কর্মকর্তারা জানান, ১২টি প্রকল্প ছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা কর্মসূচি চলছে।

 

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশে ১,৪৫০.৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১,০৭৩.৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে (অন গ্রিড) এবং ৩৭৭.১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

 

 

 

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৪৩.৭৬ মেগাওয়াট।

 

 

 

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি, ০.৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং ০.৪ মেগাওয়াট বায়োমাস এর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) কর্মকর্তা শফিকুল আলম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি সমন্বিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদি বাসস’কে বলেন, সরকার যদি মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে ওই জমিগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

 

 

 

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ লাখ দুই হাজার ১৭৮.৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, যার উৎপাদন দুই লাখ ১১ হাজার ৬১০ দশমিক এক মেগাওয়াট এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার উৎপাদন সক্ষমতা এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০১ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট।

 

 

 

এছাড়া জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনাম আট হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, ফিলিপাইন দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা এক হাজার মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

 

 

সূত্র : বাসস

 

 

ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

নীলফামারীর ডিমলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাবুরহাট মহিলা কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত নিফতাহুল জান্নাত মাইশা (১৬) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার তাজনগর গ্রামের ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি পরিবারসহ ডিমলার বাবুরহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। নিহত মাইশা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে মাইশা নিজ শয়নকক্ষে চলে যান। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

 

তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির ইঙ্গিত, প্রতিবাদ চীনের

দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নিয়ে এই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে।

 

 

১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন ও তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

বুধবার (২০ মে) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি লাই চিংয়ের সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও কাজ করব।

তিনি আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি।

ট্রাম্প একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি বেইজিং সফরে দুই নেতার বৈঠকের পরই তাইওয়ান ইস্যু নতুন করে সামনে আসে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে চীন।

 

 

চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হতে পারে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে জোর দিচ্ছেন।

 

 

১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হয়।

 

 

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির সম্ভাব্য চীন সফর আটকে রেখেছে বেইজিং। ট্রাম্প তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটির দিকেই নজর রাখছে চীন।

 

 

এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ান নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে কথা বলে কূটনৈতিক রীতিভঙ্গ করেছিলেন। সে সময়ও বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

 

 

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

 

 

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করবে না। কিন্তু বেইজিং থেকে ফেরার পথে বিমানে সেই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ১৯৮০-এর দশক এখনও অনেক দূরের পথ।

 

 

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৮.২ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম এবং এই ঘটনা বেইজিংয়ের ক্ষোভের কারণ হয়।

 

 

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ান চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবেলায় তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

 

 

অনেক তাইওয়ানি নিজেদেরকে একটি পৃথক জাতির অংশ বলে মনে করেন। যদিও বেশিরভাগই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না বা তার সাথে একীভূতও হবে না।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি বার্তা, বন্ধ অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

গত বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরবর্তীকালে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবারও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এ অবস্থায় অষ্টম শ্রেণিতে নতুন করে আরও একটি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে চলমান ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনার অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।

 

 

কাফির প্রশ্ন: বিচার কি শুধুই স্লোগান?

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি এনসিপিতে যোগ দেওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা ২৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

নুরুজ্জামান কাফি লেখেন, ‌‘আমরা ঠিক আর কত মানুষের জন্য, কত বাচ্চার জন্য, কত ভাইয়ের জন্য, কত মায়ের জন্য জাস্টিস চাইবো?’

তিনি লেখেন, ‘কোনো সরকারই এমন কঠোর কোনো বিচার জনসম্মুখে নেওয়ার কি হেডম (ক্ষমতা) নাই, যে একটা কঠোর বিচার জনসম্মুখে করবে!’

এই এনসিপি নেতা আরও লেখেন, ‘জনসম্মুখে একটা কঠোর বিচার হলে এটাই হতো আমাদের শেষ বিচার চাওয়া #JusticeForRamisa বলে।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমরা #JusticeForRamisa বলে আর কারো জন্য জাস্টিস চাইতে চাই না। অর্থাৎ আমরা আর এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না।’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর কোন পরিবারকে যেন এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়।

 

ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ। যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর অংশে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ বলেন,আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও আমাদের সহায়তা করছেন। মহাসড়কে কোথাও যেন অযথা যানজট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কেউ যেন সড়কের পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং না করেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলেন এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক ভাইরাল বাংলাদেশের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সোনালি চুলের অ্যালবিনো (জন্মগত জেনেটিক ত্রুটি) জাতের একটি মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোরবানির ঈদের আগে এই ব্যতিক্রমী মহিষটি এখন নারায়ণগঞ্জে এক অপ্রত্যাশিত আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন ।

 

 

 

 

জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিল থাকায় মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে রাখা প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে।

 

 

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স থেকে শুরু করে ভারতীয় এনডিটিভি, পাকিস্তানি ও থাই গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালি চুল ও হালকা গোলাপি বর্ণের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। খামারের মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চুলের মিল দেখে নামটি রাখেন, যা পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নয়, একই খামারে থাকা আরেকটি মহিষকে ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’ নামেও ডাকা হচ্ছে, যা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।

 

 

থাই ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশে এক ধরনের ‘সেলিব্রিটি প্রাণী’তে পরিণত হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই খামারে প্রতিদিনই শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন ছবি তুলতে ও কাছ থেকে দেখতে।

 

 

 

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশেষ যত্নে রাখা এই মহিষটিকে দিনে চারবার গোসল করানো হয় এবং সোনালি লোম পরিচ্ছন্ন রাখতে আলাদা পরিচর্যা করা হয়। খামারের কর্মীরা এটিকে শান্ত ও নমনীয় প্রকৃতির প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে কোরবানির পশুর ভিড়ের মধ্যেই এই ব্যতিক্রমী মহিষটি দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির কারণে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

 

 

 

জানা গেছে, প্রাণীটির নামকরণ কেবল কৌতুক নয়; বরং এর চুল ও রঙের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহ্যিক মিলই এই নামের অনুপ্রেরণা। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অ্যালবিনো বা বিরল জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সাদা-গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে।

 

 

 

তবে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ে মহিষটির শারীরিক অবস্থায় প্রভাব পড়ায় এখন খামারে প্রবেশে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এরপরও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই ‘বাংলার ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে একনজর দেখার জন্য।

 

 

 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই ঘটনা যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশে প্রাণী সংস্কৃতি, নামকরণ ও জনপ্রিয়তার নতুন এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে চান ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মজা করে বলেছেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদেও নির্বাচন করতে পারি।

 

 

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ড একাডেমির সমাবর্তনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

 

 

 

তিনি বলেন, হয়তো এটা শেষ করার পর আমি ইসরায়েলে যাব, প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করব। আজ সকালে একটি জরিপ দেখেছি, সেখানে আমি ৯৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছি।

তবে তিনি কোন জরিপের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনায় ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

 

 

নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভালো আছেন, খুব ভালো মানুষ। আমি যা চাইব, তিনি তাই করবেন।

 

 

 

এ সময় নেতানিয়াহুকে যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। সূত্র : ইউএসএ টুডে।

 

 

মাদ্রাসার শিক্ষক শিহাবের বিরুদ্ধে আরও ৪ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

রাজধানীর রামপুরায় বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি মো. শিহাব হোসেন (১৯)-কে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ। 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

 

 

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে রাতে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকে অবস্থিত আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে রামপুরা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

 

সুরতহাল প্রস্তুতের সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত দেখতে পান তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মো. শিহাব হোসেন (১৯)-এর বিরুদ্ধে আরও চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

এর মধ্যে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় এসে শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

মামলার এজাহারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) ধারা এবং পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আত্মহত্যার আগেই শিহাব হোসেন মাদ্রাসা ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে রামপুরা থানার একটি আভিযানিক দল পাবনা জেলার বেড়া থানাধীন খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই : হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জনগণ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই।’

 

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে আইসিইউর অভাব, ঘুষ ছাড়া চাকরি না পাওয়া, থানায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য-এসব সমস্যা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।’

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো বিচারহীনতা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বিদ্যমান। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গুম ও হত্যার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় আইনি আশ্রয় নেওয়া থেকেও বিরত থাকছে।

 

 

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির নেতা বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে, তত দিন সরকারের সব উন্নয়নমূলক উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। জনগণ একদিন ব্যালটের মাধ্যমে বা গণপ্রতিরোধের মুখে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

 

 

 

অবিলম্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

ভোল পাল্টানো মাহামুদুল এক মহাপ্রতারক

জামায়াত আমিরের জালিয়াত উপদেষ্টা

ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি বাঁকে গিরগিটির মতো রং পাল্টে দেশের নীতিনির্ধারণী মহলকে ধোঁকা দেওয়া এক মহাপ্রতারকের নাম মাহামুদুল হাসান। শিক্ষা বলতে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস। অথচ নামের আগে লাগিয়েছেন ‘প্রফেসর’। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এনএইউ) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন—এমন দাবিতে লাগান ‘ড.’ তকমাও। আর এ মিথ্যা পরিচয়ে দেশের নর্থ সাউথ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশের (এআইইউবি) মতো নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন।

 

 

 

প্রতারণাকে পেশা বানানো এ ব্যক্তি ক্ষমতার শীর্ষ স্তরে জায়গা পেতে কখনো বনে গেছেন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের উপদেষ্টা, আবার ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদও। কিন্তু আভিজাত্যের এ চটকদার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিকৃত ও নৃশংস অপরাধীর চেহারা। কালবেলার অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে তার একাধিক বিয়ে এবং অনেক নিরীহ নারীর জীবন ধ্বংসের রোমহর্ষক অধ্যায়। শ্বশুরবাড়ির ১৫ বছরের এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে জেল খাটার অকাট্য প্রমাণও মিলেছে তার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় পরবর্তী সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাক্ষীদের আদালতে না যেতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে নিজের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৬ বছরের প্রথম সন্তান, সাবেক স্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন।

 

 

 

 

এই মহাপ্রতারক মাহামুদুল হাসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভুয়া সংস্কারক সেজে প্রতারণার জাল বিছিয়ে ছিলেন সারা দেশে। ক্ষমতার দম্ভে আইন, সমাজ ও পরিবারকে জিম্মি করা এ কাল্পনিক ‘ভিআইপি’ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ছিলেন মুখোশের আড়ালে।

ছাত্রজীবনেই প্রতারণার হাতেখড়ি: কালবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার জাল বিছানো শুরু হয়েছিল তার ছাত্রজীবন থেকেই। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ আওয়াল সম্পর্কে মাহামুদুলের মায়ের মামা। এ সুবাদে ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টারে বিবিএতে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু পড়াশোনা না করে সেখানে শুরু করেন ভর্তি বাণিজ্য। এরপর এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলেকে নর্থ সাউথে ভর্তিতে সহায়তার সূত্রে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। ওই পরিবারের সহায়তায় পাড়ি জমান লন্ডনে।

 

যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরই তার জালিয়াতির পরিধি আন্তর্জাতিক রূপ নেয়। লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। যার ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। একই সঙ্গে ‘ই-ফাইভ-কাউন্সিল’ নামে একটি নামসর্বস্ব সংগঠন খুলে নিজেকে সেটির চেয়ারম্যান দাবি করেন। দেশের মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ‘বিদেশি ডেলিগেট’ আনার লোভ দেখিয়ে শিডিউল চাইতেন। এ ছাড়া লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। ২০০৯ সালের দিকে এ ভয়াবহ জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ায় মাহামুদুলের ওপর যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’ জারি করা হয় বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার ও শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত মাহামুদুল কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। তবে চতুর এই বাজিকর দ্রুতই নিজের রাজনৈতিক রং বদলে ফেলেন। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন কট্টর আওয়ামী লীগার। নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে দেশে এক নতুন প্রতারণার জাল পাতেন।

 

 

 

প্রতারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মাহামুদুল ‘প্রিমিয়াম পাস লিমিটেড’ ও ‘পিএপি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি নামসর্বস্ব এনজিও খোলেন। এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিদেশি প্রতিনিধিদের মেইল পাঠিয়ে বৈঠকের সময় (শিডিউল) বের করতেন। পরবর্তী সময়ে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবং বিভিন্ন স্থানে র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ভুয়া লোকেশন ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেকে একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি হিসেবে জাহির করতেন। ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের এ সাজানো আভিজাত্যকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রী এবং নর্থ সাউথ ও এআইইউবির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ মহলের সঙ্গে লবিং করে বড় অঙ্কের অর্থবাণিজ্যের ফাঁদ পাততেন।

 

 

 

দেশে-বিদেশে সব প্রতারণায় মাহামুদুল ব্যবহার করেন তার স্ত্রীদের ঠিকানা। তিনি কখনো নিজের বাসায় থাকতেন না। থাকতেন শ্বশুরালয় বা অন্য স্ত্রীদের বাসায়। এ কারণে মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার দায়ভার বর্তায় স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপরে। অনুসন্ধানে স্ত্রীদের বিরুদ্ধে মাহামুদুলের দায়ের করা একাধিক মামলা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কপি এসেছে কালবেলার হাতে।

 

 

 

মাহামুদুল হাসানের ফেসবুক আইডি বিশ্লেষণ করে কালবেলা দেখতে পায়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মাহামুদুল হাসান নিজের ফেসবুকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের লোকেশন অ্যাটাচ করে লিখেছেন ‘উইথ হার এক্সেলেন্সি শেখ হাসিনা, প্রাইম মিনিস্টার, গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’ এর কিছুদিন আগে ১৫ মার্চ গণভবনের লোকেশন শেয়ার করে লিখেছেন ‘উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার’। ২০২১ সালের ১৪ মার্চ লিখেছেন ‘মিটিং উইথ ডিরেক্টর জেনারেল র্যাব’ এবং ‘ফরমার হোম স্টেট মিনিস্টার অ্যাট বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্লামেন্ট’।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পর মাহামুদুল হাসানের আনাগোনা বাড়ে বিভিন্ন দূতাবাসে। এ সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলেন। এখনো মাহামুদুল সেসব ছবি ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

 

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে খোঁজ নিয়ে মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলা ও তার দায়ের করা আরও বেশকিছু মামলার তথ্য পায় কালবেলা। ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান মাহামুদুল। এ ঘটনায় তার বিকৃত যৌনাচার এবং নানা সময় প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে ওই স্ত্রী তাকে তালাক দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ছিলেন মাহামুদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

 

 

 

ধর্ষণের ওই মামলার তদন্তে মাহামুদুলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় মিরপুর থানা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হয় আদালতে। যার অভিযোগপত্র নং-৩১৬, তারিখ: ২৭/৮/২০২০। মেডিকেল রিপোর্টেও গৃহপরিচারিকা ১৫ বছরের ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েক মাস জেলও খাটেন। পরে জামিনে বের হয়ে সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তার হুমকি-ধমকির কারণে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে না যাওয়ায় বিচারক মাহামুদুলকে খালাস দেন। যদিও সে মামলায় পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় দেওয়া অন্তত চারটি জবানবন্দি সংগ্রহ করেছে কালবেলা।

 

 

 

ওই সাক্ষীদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তার নাম মো. নুর মোহাম্মদ। তিনি সম্পর্কে মাহামুদুল হাসানের সাবেক স্ত্রীর মামা। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘মাহামুদুল আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আমার ভাগনিটা খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। জীবনে কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়নি। ভাগনির ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। একটি ছেলে, একটি মেয়ে; তারা হাফেজ। আমার ভাগনি তার সন্তানদের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। ও (মাহামুদুল) আমার ভাগনির জীবনটা ধ্বংস করে দিল।’

 

 

 

মামলায় সাক্ষী দিতে কেন গেলেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময় যাওয়ার সুযোগ কই! সে তখন শেখ হাসিনার লোক। জীবন না বাঁচলে বিচার দিয়া কী করমু!’

 

 

 

 

২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি: মাহামুদুল তার অন্য এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন আদালতে। সে মামলায় তিনি নিজেকে ভিআইপি প্রমাণ করতে দাবি করেছেন—তিনি দেশি-বিদেশি কয়েকডজন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন। সরকারে উচ্চপর্যায়ে এবং বিদেশি হাই অফিসিয়ালদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। মামলার অভিযোগের এক জায়গায় লিখেছেন, ‘বাদী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত ও মূল্যায়নাধীন একাধিক সংস্কার নির্দেশিকা প্রণয়ন ও দাখিলে অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সংস্কারগুলো হলো—আন্তর্জাতিক ঋণ নীতিমালা (বৈদেশিক ঋণ ও এখতিয়ার) পুনর্বিবেচনা ও সংস্কার, পররাষ্ট্র প্রশাসনের সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্কার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার, জনপ্রশাসনের সংস্কার, সংবিধানের সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার, সাইবার প্রযুক্তির সংস্কার, ব্যবসায়িক প্রযুক্তির সংস্কার, বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থার (ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম) সংস্কার, বিচার বিভাগের সংস্কার, শিক্ষা খাতের সংস্কার, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর সংস্কার, তৃণমূল পর্যায় থেকে উৎপাদন ও বিতরণ নীতিমালার সংস্কার, দেশীয় ও প্রবাসী জনশক্তি ব্যবস্থাপনার সংস্কার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার-সংক্রান্ত আইনের সংস্কার, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অনুদান নীতিমালার সংস্কার এবং ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের সংস্কার।’

 

 

 

মাহামুদুল হাসান এমন ২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি করলেও বাস্তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল ১১টি। সেই ১১ কমিশনের সদস্যদের তালিকা খুঁজে কোনোটিতেই মাহামুদুল হাসানের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের সঙ্গে। তিনি মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি উনাকে চিনি না। পারসোনাল ক্যাপাসিটিতে বলতে পারি—আমি উনাকে চিনি না।’

 

 

 

বিবিএতে ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি: ১৯৯৯ সালে মাহামুদুল হাসান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হন। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালবেলা। মাহামদুল হাসানের বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার আহমেদ তাজমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গত ৭ এপ্রিল কালবেলাকে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘এম মাহামুদুল হাসান ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টার থেকে ২০০৩ সালের সামার সেমিস্টার পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আমাদের নথি অনুযায়ী, তিনি এনএসইউ থেকে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি।’

 

 

 

 

সাবেক স্ত্রীর বয়ানে প্রতারণা-জালিয়াতি-নির্যাতনের রোমহর্ষক তথ্য: আরও বিস্তারিত জানতে কালবেলা খুঁজে বের করে মাহামুদুলের সাবেক স্ত্রীকে, যার সঙ্গে এক যুগ আগে বিচ্ছেদ হয়েছে। প্রথমে তিনি ভয়ে কথা বলতে চাননি। নিজের ও একমাত্র সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার মাহামুদুলের একের পর এক ভুয়া মামলায় জর্জরিত।

 

 

 

অনেক চাপাচাপির পর তিনি বলতে শুরু করেন, মাহামুদুল তিন দিনের সরকারি সফরের কথা বলে হঠাৎ বিয়ে করেন। পরে জানা যায়, তিনি লন্ডনে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগে তার ‘ইউকে ইমিগ্রেশন ব্যান’ হয়। পরে মাহামুদুল অন্য পাসপোর্ট ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে আবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এমন একের পর এক প্রতারণার প্রতিবাদ করলে মাহামুদুল তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। একদিন শারীরিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তখনই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সন্তান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। তখনই তার প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসে। সিদ্ধান্ত নেন এ প্রতারকের সঙ্গে আর সংসার করবেন না। অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে এনে একাই তাকে লালন-পালন করবেন।

 

 

 

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তালাক দেওয়া যায় না, সেই চিন্তা থেকে তখনো মাহামুদুলের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যান ওই নারী। কিন্তু দিন দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল। ওই নারী বলেন, ‘মাহামুদুলের করা একের পর এক ভুয়া মামলায় আমি ও আমার পরিবার জর্জরিত। আত্মীয়স্বজন, এমনকি বৃদ্ধ মা-বাবার নামেও জঙ্গি মামলার অভিযোগ দেওয়া হয়। র্যাব বা পুলিশ বলত, এসব অভিযোগ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে। পরে থানায় গিয়ে প্রমাণ দিতে হতো মাহামুদুল আসলে একজন প্রতারক।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তান জন্মের পর মাহামুদুল ও তার পরিবার যৌতুকের জন্য আমার পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। টাকা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা করে এবং টাকার জন্য অপহরণের চেষ্টাও করে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গণমাধ্যমগুলোকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমার বাবার অফিসে গিয়ে তাকে দুর্নীতিবাজ বলে শাসাতেন। পুরো গর্ভাবস্থায় আমি একা ছিলাম। তার অত্যাচারে পরিবারও আমার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়ে। শুধু অপেক্ষায় ছিলাম গর্ভের সন্তান কবে পৃথিবীতে আসবে। শেষে সন্তান জন্মের পরপরই আমি তাকে ডিভোর্স দিই।’

 

 

 

 

ওই নারী জানান, তার ছেলের বয়স এখন ১৬ বছর। এই ১৬ বছর একাই লড়াই করে সন্তানকে লালন-পালন করেছেন, ভালো স্কুলে পড়িয়েছেন এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুস্থ পরিবেশে বড় করে তুলেছেন। প্রতিদিন তার একটাই চিন্তা ছিল—সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, নিরাপদ ও সুস্থ আছে কি না। সন্তানের জন্য তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম ক্লাস নিয়েছেন অতিরিক্ত খরচ জোগাতে।

 

 

 

ওই নারী আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর মাহামুদুল পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে আমার ঠিকানা ও সন্তানের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেন। কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে তাকে আবার আমাদের পেছনে লাগিয়ে দেন। মাহামুদুল সন্তানের মানসিক অবস্থার কথাও ভাবেননি এবং শুধুই হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা করে ছেলের ইমিগ্রেশন আটকে রেখেছেন। ফলে আমি ছেলেকে রেখে ওমরা, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য বিদেশেও যেতে পারছি না।’

 

 

সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বর্ণনায় মাহামুদুল হাসান: এআইইউবিতে গেস্ট টিচার হিসেবে চাকরি করেছেন মাহামুদুল হাসান। সেখানে মাহামুদুল হাসানের ছাত্র ছিলেন— এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে কালবেলার। তাদের একজন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘২০১২-২০১৩ সালের দিকে আমি তখন মেজর পদবির একজন অফিসার হিসেবে ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলাম। একই সময়ে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে আমি এআইইউবিতে এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হই। সেখানে এইচআর কোর্সের প্রথম ক্লাসে একজন ফ্যাকাল্টি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে। প্রথম দিন তিনি কোনো একাডেমিক ক্লাস না নিয়ে মূলত উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইউকেতে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড নেন। তিনি ক্লাসে না পড়িয়ে নিজেকে শো-অফ করতেন। যেমন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি সারা দিন কাজ করেন। তিনি এত ব্যস্ত যে সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন হাই অফিসিয়াল তার কাছে সহায়তা চান, কিন্তু তিনি যেতে পারেন না।’

 

 

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কয়েকদিন পর মাহামুদুল হাসান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে তার অফিসে ডাকেন। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের সঙ্গে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন—একজনের কাছে তিনি ৫ লাখ টাকা পাবেন, ওই ব্যক্তি টাকাটা দিচ্ছেন না। পরে আমি তাকে বলি—এ বিষয়ের জন্য আপনি ডিজিএফআইয়ের ডিজির কাছে যাবেন! আপনি তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বললেই পারেন। পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও তো শুনেছি আপনার ভালো সম্পর্ক, তাকে বললেও পারেন। তখন তিনি বলেন, এত ছোট বিষয়ে তাদের বলা যায় না। আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য হয়ে এমন অনুরোধ এবং তার আচরণ আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। ফলে আমি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাই।’

 

 

 

খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে জানতে পারি সেখানে আমার অন্য ক্লাসমেট ছিল এসএসএফে—তাকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিডিউল নিয়ে দেওয়ার জন। আরও অন্য যারা সহপাঠী ছিল সবাইকে উনি বিভিন্ন জায়গায় লিংক-লবিং করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন। পরে আমার নিজেরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই উনাকে আমরা কোথাও লিংক করিয়ে দেব না। এরপর উনি ক্লাসে আমাদের থ্রেড দিতে থাকেন যে— কোর্সে নম্বর কম দেবেন! পরে আমরা এআইইউবি কর্তৃপক্ষকে তার বিষয়ে বলি, কিন্তু তারা জানায়—উনার রেফারেন্স (উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশ) আছে। রেফারেন্সের জন্যই নেওয়া (চাকরিতে) হয়েছে।’

 

 

 

জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদ পান যেভাবে: ৫ আগস্টের পর কিছুদিন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লিংক-লবিং করার চেষ্টা করেন মাহামুদুল। এ সময় তিনি তার সঙ্গে থাকা পুরোনো ছবি ব্যবহার করেন। পরে বিষয়টি তার পূর্বপরিচিত এক সাংবাদিকের নজরে এলে তিনি বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জানান। এরপর তার সেখানে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও জায়গা না পেয়ে সর্বশেষ আশ্রয় নেন জামায়াতে ইসলামীতে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি যাতে আবারও প্রতারণা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য জামায়াতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। সুচতুর মাহামুদুল একপর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। কিন্তু জামায়াত আমিরের অনুমতি না নিয়ে নিজেকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে দলীয় প্যাডে চিঠি পাঠান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদসহ জামায়াত ইসলামী থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

 

 

জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য: জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কালবেলাকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত উনি (মাহামুদুল হাসান) আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। উনার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। ২৪-পরবর্তী সময়ে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে যোগাযোগ শুরু হয়। তখন যোগাযোগ রক্ষার্থে হাইকমিশন বা দূতাবাসে যে চিঠি দেওয়া লাগে, সেজন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উনার একটা ফার্ম আছে, উনি এসব কাজ করেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে উনাকে আমিরে জামায়াতের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে কালবেলাকে কোনো সাড়া দেননি মাহামুদুল: অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে সব ধরনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হয়। তারও কোনো জবাব দেননি তিনি। তবে একবার মোবাইল ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আর কোনো কথা বলেননি। প্রায় ৪৪ সেকেন্ড ফোন লাইনে নীরব থাকার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

 

 

পরবর্তী সময়ে তার ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকা তিনটি টিঅ্যান্ডটি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে একটি নম্বরে ফোন রিসিভ করা হলেও ওপাশ থেকে কোনো কথা বলা হয়নি। একই নম্বরে তিনবার ফোন দিলে দুইবার রিসিভ করা হয়—একবার ১২ সেকেন্ড এবং আরেকবার ৪১ সেকেন্ড সংযোগ চালু থাকলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ সময় ফোনের এপাশ থেকে বারবার পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। নম্বরটির ট্রুকলার তথ্যেও তার নাম প্রদর্শিত হয়।

 

 

 

সবশেষে তার বক্তব্য জানার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট ১২টি প্রশ্ন পাঠানো হয়। বার্তাগুলো ডেলিভার হলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রীর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকরভাবে করারোপ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

 

 

বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষটি তুলে ধরার হবে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।

 

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান; এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে। কারণ নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোন একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি জর্দা, গুল ও বিড়ি সহজলভ্য হওয়ায় তামাক ব্যবহার আরও বাড়ছে।

 

 

 

তাই আসন্ন অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা, ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

 

 

 

তামাকপণ্যে প্রস্তাবিত এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

শেখ মোমেনা মনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। ফলে তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে সরকার একদিকে, তামাকজনিত রোগের বোঝা কমাতে এবং অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন মিশনের ভাইস সহ-সভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা ও তাসনিম হাসান আবির।

 

 

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের উত্তর অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করব। সীমান্তের ওপারে ব্যারেজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু খরা মৌসুমে আমরা পানি কম পাচ্ছি। এই ব্যারেজটি এই জন্য করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষায় বলুন বা খরা মৌসুম বলুন, আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক যেন ঠিক সময়ে পানি পায়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি আলহামদুলিল্লাহ এবং আমরা আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই খাল খননের সাথে কৃষি জড়িত। তাই যেভাবেই হোক আমাদের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।’

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তালগাছ রোপণ ও একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সুত্র: কালবেলা

 

 

তাড়াশে কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল চুরি প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে পাহারা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। পুলিশের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে রাতজাগা পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোদিঘি, বিনোদপুর, খালকুলা, নওগাঁ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। এতে সহযোগিতা করছে পুলিশ। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের নিয়ে গঠিত দল বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শতাধিক অস্থায়ী বাঁশের চেকপোস্ট বসিয়েছে। সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ঠেকাতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৩ থেকে ৮ জন সদস্য রয়েছেন। তারা জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতদিন পালা করে টহল দিচ্ছেন।
পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি খামারিদের পশু নিরাপদে রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবার পুলিশের পাশাপাশি গ্রামবাসীর সমন্বয়ে পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগে এবার কোরবানির পশু নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।

আগৈলঝাড়ায় শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স কর্মসূচির আওতায় এই অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক।

 

 

 

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতিন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, শিখা প্রকল্পের প্রোজেক্ট অফিসার অনিক বিশ্বাস, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা, কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ ব্র্যাক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, যৌন হয়রানি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়। এটি শিশু ও নারীদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র নারীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই।

 

 

 

রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, শিখা প্রকল্প’ যেন এমন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।

 

 

 

ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, শিখা প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। এধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

 

 

 

আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানি, বাল্য বিবাহ, বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা করা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

 

 

গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কম্পাউন্ডে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

“অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন। তিনি অনুষ্ঠানের আগে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও এর বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মোঃ ফিরোজ মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী

আলোচনা সভা শেষে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, গজারিয়া থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাণীনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার-৭

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি, মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন দোকান ও গরু চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজন, নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ দুইজন এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজন।

চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কালীগ্রাম এলাকার শরিফুল ইসলাম এবং গরু চুরির মামলায় পূর্ব বালুভরা গ্রামের এনামুল হককে আটক করা হয়। এছাড়া পারইল গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ভবানীপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামকে ৪৫ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে চকবলরাম গ্রামের আজাহার আলী ও তার স্ত্রী রহিমা বিবি এবং পশ্চিম বালুভরা গ্রামের লিটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাণীনগর থানা-র ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার গ্রেফতার ৭ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‎হোসেনপুরে সিদলা ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

‎পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নে দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎বুধবার (২০ মে)  সকালে সিদলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ আহমেদ,ইউপি সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক, বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিন মিয়াসহ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
‎এ সময় দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করা হয়।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে এ ইউনিয়নের ৬৩৪৭  টি  নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হিলিতে ঈদ উপলক্ষে ৩ হাজার ৮৫ পরিবারে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভায় অতিদরিদ্র, অসহায়, দুঃস্থ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বিনামূল্যে ১০ কেজি হারে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার ২০ মে সকাল থেকে হাকিমপুর পৌরসভা চত্বরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর অধীনে হাকিমপুর পৌরসভায় ৩,০৮৫টি অতিদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১০ (দশ) কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
​হাকিমপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আসন্ন ঈদে যেন কোনো দরিদ্র পরিবার খাদ্যকষ্টে না ভোগে, সেই লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। চাল নিতে আসা সাধারণ মানুষ সরকারের এই মানবিক সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এতে তাদের ঈদের আনন্দ আরও সার্থক হবে বলে জানিয়েছেন।
চাল নিতে আসা মোছাঃ ছকিনা বেওয়া বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে সরকারের কাছ থেকে আমরা ১০ কেজি চাল পাই এবং পেয়ে অনেক খুশি হই। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। এই চাল আমাদের ঈদে অনেক উপকারে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাকিমপুর পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ।

ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর কামারপল্লী ,বেড়েছে বাড়তি ব্যস্ততা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটির বাড়তি চাহিদায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কাজ করছেন কামারশিল্পীরা।
কামারশালার ছোট ছোট চুল্লিতে জ্বলছে কয়লার আগুন, হাপরের বাতাসে লাল হয়ে ওঠা লোহা দক্ষ হাতুড়ির আঘাতে রূপ নিচ্ছে ধারালো দা, ছুরি ও বঁটিতে। চারদিকে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লী।
সরেজমিনে উপজেলার নিমগাছী, চান্দাইকোনা ও বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। অনেকেই আগে থেকেই ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধার করাতে নিয়ে আসছেন। দোকানের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি।
কারিগররা জানান, মান ও আকারভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক কারিগর কাস্টম অর্ডারেও সরঞ্জাম তৈরি করছেন।
নিমগাছী বাজারের কামারশিল্পী শ্রী সাধন কর্মকার বলেন,“ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার সময়মতো দিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ খুব বেশি থাকে না।”
কারিগর গনেশ কর্মকার বলেন,
“সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম। সরকারি সহায়তার অভাবে অনেকেই পৈত্রিক এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন।”
আরেক কারিগর প্রানেশ কর্মকারের ভাষায়,“আমাদের পূর্বপুরুষরাও এই পেশায় ছিলেন। আমরাও ধরে রেখেছি। কিন্তু এখনকার তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ কষ্ট বেশি, আয় তুলনামূলক কম।”
কারিগরদের দাবি, লোহার পাত, কয়লা, কাঠের হাতলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।
চান্দাইকোনা হাটে দা-ছুরি কিনতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন,“কোরবানির ঈদ সামনে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় দা-ছুরির দাম অনেক বেশি।”
অপর ক্রেতা মজিদ হোসেন বলেন,
“ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার পুরোনো ছুরি শান দিতেও ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কামার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যবাহী এই লোহাশিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ যেমন কামারদের ব্যস্ততা বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের মুখে এনে দিয়েছে সাময়িক স্বস্তির হাসি। তবে এই হাসিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নরসিংদীর পলাশে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রামিম নামে এক ৯ বছরের শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে জেলা শহরের আরশীনগর ও রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃত সবুজ মিয়া (২৭) গজারিয়া ইউনিয়নের চরকারারদী গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে।

 

 

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সবুজ হত্যা মামলার পর থেকে পলাতক ছিল। গোপনে অন্যস্থানে পালিয়ে যাওয়ার সময় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সবুজকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

 

 

 

এর আগে, গত ৬ মে পলাশের গজারিয়া বাজারে রামিম নামে ৯ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক একটি রিকশার গ্যারেজে নিয়ে হাওয়ার মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথ ও মুখে বাতাস ঢুকায় অভিযুক্ত সবুজ, ফয়সাল, শিশির ও বাবু নামে চার যুবক। পরে শিশুটি গুরত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

 

 

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা রিপন মিয়া বাদী হয়ে অভিযুক্ত চার যুবকের নামে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে শিশুটিকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল অভিযুক্তরা।

 

 

রায়গঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৭১ হাজার পশু, বাড়তি ৪৪ হাজার যাবে দেশের বিভিন্ন জেলায়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এ প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু। দিনরাত পরিশ্রম করে লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
উপজেলার বিভিন্ন বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে ঘাস উৎপাদন বেশি হওয়ায় এখানে গরু-ছাগল পালন তুলনামূলক সহজ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রতি বছরই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু সরবরাহ করা হয়।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। তারপরও ভালো দামের আশায় পশু লালন-পালনে কোনো কমতি রাখছেন না তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৫৪৬টি ষাঁড়-বলদ, ৭৯৮টি মহিষ, ৪২ হাজার ৬২৮টি ছাগল এবং ৯ হাজার ১০০টি ভেড়া। সব মিলিয়ে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৭২টি পশু।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৩২৮টি পশু। চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার ৭৪৮টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রচুর প্রাকৃতিক ঘাস থাকায় রায়গঞ্জে স্বাস্থ্যসম্মত ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করা হয়। এ কারণে এ অঞ্চলের কোরবানির পশুর চাহিদা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্পষ্ট অবস্থান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।

 

 

তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

 

কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।

 

 

অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।

কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।

 

 

রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ১৯ দিনেই এলো ২৪৮ কোটি ডলার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

 

বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

 

তিনি জানান, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবার-স্বজনদের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

 

 

হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৫ চিঠি পাঠিয়েছিল ইউনিসেফ

দেশে হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ৬টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠকও করা হয়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এ তথ্য জানান।

 

 

 

কোনো মহামারি হঠাৎ করে তৈরি হয় না উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।

টিকা সংকটের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছেন বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান। তিনি বলেন, একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখের তথ্য এখন জানা নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

‘২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫-৬টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যিনি নতুন করে এ দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে,’ যোগ করেন ফ্লাওয়ার্স।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অন্যতম কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

 

 

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা কেনা সাধারণ ওষুধ কেনার মতো নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি প্রক্রিয়া। এখানে শুধু কম দামের বিষয়টি বিবেচ্য নয়, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

এছাড়া উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

ইউনিসেফ ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস ও পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছিল বলে জানান তিনি। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, তাই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট ছিল, দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।

 

 

 

তবে এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান বলেন, এখন এমনভাবে টিকাদান প্রক্রিয়া কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।

 

 

 

এছাড়া দেশে এখন ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে বলেও জানান ইউনিসেফের এ প্রতিনিধি।

 

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে কোচ আজীবনের জন্য বহিষ্কার

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছিল চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের কোচ পিটার ভ্লাচোভস্কির বিরুদ্ধে। যে কারণে তাকে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। চেক গণমাধ্যম বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

 

 

এর আগে এফসি স্লোভাচকো ক্লাবের নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের দায়ে পিটারকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং দেশীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের কোচিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যেসব খেলোয়াড়ের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক ফুটবলার। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কোচ অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন বলে চেক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

নতুন করে তাকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে এক বিবৃতিতে উয়েফার কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) জানিয়েছে, ‘সম্ভাব্য অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে একজন এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি ইন্সপেক্টর নিয়োগের পর ভ্লাখোভস্কিকে আজীবনের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিইডিবি ফিফার কাছে এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার অনুরোধ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পিটার ভ্লাখোভস্কির কোচিং লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।’

চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নারী দলের কোচ হওয়ার আগে ভ্লাখোভস্কি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এফসি স্লোভাচকোর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। ২০২৩ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এটি আমাদের ক্লাবের ওপর, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।’

 

২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে বর্তমান দরের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে পিডিবি।

 

 

 

শুনানিতে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে খাতটি বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে বলে দাবি করেন সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।

তবে পিডিবির এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের দায় গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বরং কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

 

গণশুনানিতে অংশীজনরা আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে এবং শিল্প ও উৎপাদন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

এর আগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় চারজনের ফাঁসির আদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

 

 

 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

বিগত ২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোপূর্বে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

সেনবাগে ইয়াবাসহ ৩ আসামি আটক

নোয়াখালীর সেনবাগে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মামলার ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে ২০২৬) সেনবাগ থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩টি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়েছে। এছাড়া, একটি জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক বছর তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি এবং নিয়মিত মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

রায়গঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিও আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও এক আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত (২০ মে ) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি বাজার এলাকা থেকে ফয়সাল (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ফয়সাল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দেওভাঙ্গা এলাকার আকতারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় পূর্বে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল মন্ডল (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকার আয়নাল মন্ডলের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বুধবার সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকপ্রশিক্ষণ হলরুমে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। মেধাবী জাতি গঠনে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বাণিজ্যিকিকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি আমরা। এই লক্ষ্যে কৃষাণ-কৃষাণী পর্যায়ে দল গঠন করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠিত করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়াও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাব্বিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাব্বির আহাম্মেদ শুভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিনসহ বিভিন্ন ব্লকের কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

নিজ দোকানে গলাকাটা অবস্থায় পড়েছিল ব্যবসায়ী

সিরাজগঞ্জে নিজ দোকান থেকে আজিমুল ইসলাম আজিম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গলা কাটা অবস্থা উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

বুধভার (২০ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর সুপার মার্কেটের মেসার্স শীতল ফ্যাশন নামে দোকানের ভেতের থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ী আজিম শহরের হোসেনপুর মহল্লার মো. রবিউল আলমের ছেলে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে আজিম তার দোকান খোলেন। তখন মার্কেটের অধিকাংশ দোকানই বন্ধ ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আজিমের দোকানের বন্ধ সাটারের নীচ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসছিল। এটা দেখে স্থানীয়রা সাটার খুলে দোকানে ঢুকে আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার গলা কাটা ছিল।

 

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিজ দোকানের ভেতর থেকে ব্যবসায়ী আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার গলা কাটা রয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বারা কেউ বলছেন ঋণের দায়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

 

অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচিত হবে না : ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

 

 

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাজধানী গড়ে তুলতে কাজ করছে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএমপি।

 

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুবিধা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ‘হ্যালো ডিএমপি’ ও হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেমও চালু করা হয়েছে।

 

 

 

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

 

 

 

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

গণমাধ্যমের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজগুলোও তুলে ধরা উচিত, যাতে নগরবাসী আরও সচেতন হয়।

 

 

আওয়ামী লীগ ফিরে আসেনি, তারা ছিলই: আসিফ নজরুল

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, ‘আওয়ামী লীগ ফেরেনি, তারা ছিল।’

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন দাবি করেন ঢাবির এ শিক্ষক।

 

 

 

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

এর আগে মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন। এর প্রথমটিতে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’ কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন তিনি।

এ স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পাল্টা স্ট্যাটাসে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা।’

 

 

চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে যুবক নিহত

‎বগুড়ার শেরপুরে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিহত হন।

 

 

 

‎‎নিহত যুবকের নাম রাফি মন্ডল। তিনি ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বুলু মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

 

 

 

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের কুসুম্বি ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করেছিলেন।

 

 

‎‎গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করলে ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকপক্ষের মোবাইল ফোনে কল চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে রমজান আলী ও আব্দুল জলিল চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই যুবককে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।

 

‎‎স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

 

‎‎শেরপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

নদীভাঙনে সব হারিয়ে জিওব্যাগই এখন ভরসা নিঃস্ব দম্পতির

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বিকেলের শেষ আলো যখন পানির ঢেউয়ে ঝিকমিক করে ওঠে, তখন নদীর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন নুরজাহান বেগম। যেন নদীর বুকের ভেতরেই খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প। যে নদী একসময় ছিল তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের সঙ্গী, সেই নদীই আজ কেড়ে নিয়েছে সহায়-সম্বল, বসতভিটা আর স্বাভাবিক জীবন।

 

 

 

বরিশালের বাবুগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনের শিকার হাবিবুর রহমান ফকির ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চার দফা ভাঙনে তাদের প্রায় ৬৫ শতক জমি, বাড়িঘর, গাছপালা ও দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী রক্ষায় ফেলা সরকারি জিওব্যাগের ওপর অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি ছোট টিনের ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরেই দিন কাটছে বৃদ্ধ দম্পতির। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে অনেক সময় ঘরের নিচ দিয়ে স্রোত বয়ে যায়। কখনও পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরেও। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয় আশপাশের লোকজনের বাড়িতে। তারপরও জন্মভূমির মায়া ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারেননি তারা।

 

নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এই জায়গার সঙ্গে আমাদের পুরো জীবন জড়ানো। আগে জমিতে ফসল হতো, সেই ফসল বিক্রি করে সংসার চলত। বাড়িঘর, জমিজমা— সব নদী গিলে খাইছে। এখন শুধু স্মৃতিগুলোই আছে। নদীর দিকে তাকাইয়া সেগুলাই মনে করি।’

 

 

কথা বলতে বলতে বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন তিনি। চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল দীর্ঘদিনের কষ্ট আর অনিশ্চয়তার ছাপ। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন চলে। তবুও মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। আল্লাহ যেভাবে রাখছে, সেভাবেই আছি।’

 

 

স্বামী হাবিবুর রহমান ফকির জানান, একসময় তিনি এলাকায় সচ্ছল মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কৃষিজমির আয়েও ভালোভাবেই চলত সংসার। কিন্তু নদীভাঙনের আঘাতে সবকিছু হারিয়ে আজ তিনি প্রায় নিঃস্ব।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটায় জন্ম হইছে, বড় হইছি। চারবার ঘর নদীতে গেছে। সব শেষ হওয়ার পরে সরকার জিওব্যাগ ফেলছে। এখন সেই জিওব্যাগের ওপরেই ঘর কইরা থাকি।’

 

 

 

নদীভাঙনের দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন বলেও জানান তিনি। বর্তমানে কানে কম শোনেন এবং আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আয়ও অনেক কমে গেছে। তাদের দুই ছেলে আলাদা পরিবার নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকেন। তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে তেমনভাবে দাঁড়াতে পারছেন না।

 

 

 

এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এই অঞ্চলের বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও অনেকেই স্মৃতির টানে এখনও নদীপাড় আঁকড়ে পড়ে আছেন।

 

 

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লেগেছে। আমি পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

 

 

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। আমরা তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করব। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে হাইকোর্টের বিস্ময়

আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে এ তথ্য জানান আইনজীবী শিশির মনির।

 

 

 

 

তিনি বলেন, আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে বলেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব?’

 

 

 

 

পরে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কার্যক্রম বিলুপ্ত করে সরকার আদালত অবমাননা করেছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে এবং আবেদনটি তিনি নিজেই করবেন।

এ আইনজীবী আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

 

এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশটি বাতিল করে বিএনপি সরকার।

 

 

 

তবে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত রায়ে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও এখনো আপিল করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আশা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।

4 thoughts on “স্বপ্নপূরণে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেলন হাসিবুর

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

স্বপ্নপূরণে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেলন হাসিবুর

আপডেট টাইম : ০৮:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

​দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের হাসিবুর রহমান। তিনি ওই গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরোর বড় ছেলে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তার মরদেহ নিজ গ্রামে এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসিবুর রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার সেও ইয়াং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২ মে (শনিবার) মধ্যরাতে পার্ট-টাইম কাজ শেষে ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় তিনি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন।

 

​দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৩ মে (রোববার) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় তিন সপ্তাহ পর তার মরদেহ দেশে আনা হলো।

 

​তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান শোক প্রকাশ করে বলেন, “হাসিবুর রহমান ছিল আমাদের গ্রামের গর্ব। অত্যন্ত ভদ্র ও স্বপ্নবাজ এই ছেলেটির এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। আমরা সবাই তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।”

 

​নিহতের বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে, কষ্ট করে তাকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সে একদিন মানুষের মতো মানুষ হয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু ভাগ্য যে এত নিষ্ঠুর হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।”

ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকার আন্তরিক : প্রতিমন্ত্রী

​মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেছেন, ‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ ব্যাপারে বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই কাজ শেষে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
​শুক্রবার (২২ মে) বিকালে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন রসলুপুর খেয়াঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের হাবিবুর রশিদ এসব কথা বলেন।
এ সময় হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, “আজকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের সবাইকে এখানে নিয়ে এসেছেন, তিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান। আমরাও চাই তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে। বাস্তবতার আলোকে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এখানে ফান্ডিংয়ের ব্যাপারে আছে। গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর উপর সেতু নির্মাণে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করছি।”
​তিনি বলেন, “২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন এই নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি কর্তৃক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ রকম অনেক প্রকল্পই বাস্তবায়ন করেনি। জনগণের ভোটে পুনরায় বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অল্প সময়ের ভেতরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

 

মাজারে হামলা বন্ধ ও ৩ মাসের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসির কার্যকরের দাবি

মাজারে হামলা বন্ধ ও ৩ মাসের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা টাউন হল চত্ত্বরে ২২ মে শুক্রবার সকাল ১০ টায় তরিকত-এ ইসলামের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মঈনউদ্দীন হিয়াজুড়ির সঞ্চালনায় ও ইঞ্জিনিয়ার কাজী ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা।

 

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ মজুমদার, ফায়জুল হিয়াজুড়ি, রাসেল দেওয়ান, মিনু হিয়াজুড়ি প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, নির্মমভাবে বাংলাদেশে প্রতিদিনই মাজারে হামলা হচ্ছে। মা-বোন-কন্যারা ধর্ষিত হচ্ছে শুধুমাত্র বিচার না হওয়ায়। যদি ধর্ষকদের বিচার দ্রুত হতো, তাহলে আর এভাবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা-বোন-কন্যারা ধর্ষিত হতো না। গত ১৩ বছর ধরে নতুনধারা ৩ মাসের মধ্যে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছে নতুনধারা; কিন্তু আগের সরকার, পরের সরকার বা বর্তমান সরকারও আইন করে ধর্ষকের ফাঁসির কার্যকরের জন্য কোনো আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কারণ দিন শেষে সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু তারা ধর্ষকদেরকে বিচারের আওতায় না এনে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়।

 

যুদ্ধাপরাধী- দেশ বিরোধী জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা ধর্ষকদেরকে উসকানী দিচ্ছে। তার প্রমাণ এনসিপির নেতারা দলীয় নেত্রীদেরকে ধর্ষণ করতে চাইছে, জামায়াতের আমীর সমকামীদের মত যেখানে সেখানে চুমা দিয়ে বেড়াচ্ছে।

 

এসময় তরিকত-এ ইসলামের সভাপতি টিপু বলেন, আপনার বাবা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অপমান করে ‘মুক্তিযোদ্ধারা গাদ্দার’ বলেও সংসদে থাকে কি করে? তাহলে কি ধরে নেবো আপনি নিজেও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে? যারা  জ্বালানি তেল মজুত করে মববাজী করে সারাদেশে সংকট তৈরি করছে, আপনি তাদের পৃষ্ঠপোষক।

 

যদি তাই না হয়, তাহলে আগামী ১ সপ্তাহর মধ্যে ৭৪ জন এমপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করে ব্যবস্থা নিন-প্রমাণ করুন আপনার রক্তে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত প্রবাহিত, আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। দেশের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সাথে নিয়ে দেশের অর্থনীতি, ধর্ম-মানবতা, শিক্ষা-সমাজ-সভ্যতাকে ধ্বংসকারী ইউনূস এবং তার সরকারের সকল উপদেষ্টা আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি। এই দাবি বিএনপি সরকার আমলে না নিলে, এদের বিচার না করলে জনগণ ক্ষমা করবে না। এসময় তিনি আরো বলেন, মামুনুলদের মত মানুষেরা এখন বলে- তাদেরকে ক্ষমতা দিলে তারা হরমুজ প্রণালি থেকে বাংলাদেশের তেলের জাহাজ উদ্ধার করে নিয়ে আসবে, তাহলে ক্ষমতা না পেয়েই কি তারা হরমুজে জাহাজ আটকে রাখার জন্য ইরানকে পরামর্শ দিয়েছে?

খবর: প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

 

এবার ১২ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেপ্তার

​জয়পুরহাট শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে লিটন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত লিটন ভুক্তভোগী শিশুটির সৎ বাবা।

 

​ভুক্তভোগীর পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা স্থানীয় একটি ছাত্রাবাসে রান্নার কাজ করেন। গত সপ্তাহে তিনি প্রতিদিনের মতো কাজে গেলে, ঘরে একা থাকার সুযোগে পেশায় রিকশাচালক সৎ বাবা লিটন শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানাতে তাকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ মে লিটন আবারও ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দিলে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে মায়ের কর্মস্থলে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

 

​ভুক্তভোগী শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, লিটন মাদকাসক্ত। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করায় সে আমাকেও মারধর করেছে।

 

​বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রায়হানুল আলম জানান, শিশুটিকে বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

​জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির খোঁজখবর নেয়। অভিযুক্ত সৎ বাবা লিটনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ছিনতাইকারীর সঙ্গে লড়াই করে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল কনস্টেবলের

সাদা পোশাকে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ দিলেন র‌্যাব-৯-এর কনস্টেবল ইমন আচার্য্য। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরের দিকে সিলেট কোতোয়ালী থানার অদূরে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন সিলেটের সুরমা নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য।

 

এমন সময় কোতোয়ালি থানার অদূরে তোপখানা এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাচ্ছিল ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পী (২২)। পালানোর পথে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন চাঁদনীঘাট নদীর তীরে তাকে ঝাপটে ধরেন সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য ইমন।

 

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী র‌্যাব সদস্যের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ। সে নগরের কাজিরবাজার মোঘলটুলা এলাকার আবুল হোসেন ও রুবিনা বেগম দম্পতির ছেলে।

 

নিহত ইমন আচার্য্যের কনস্টেবল নম্বর ৬৯১৭৯০। তিনি দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাব-৯ সিলেটে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায়।

 

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানার পশ্চিম পাশে পুলিশের একটি দল এক ছিনতাইকারীকে ধরার জন্য ধাওয়া করছিল।

 

এসময় ব্যক্তিগত কাজে সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য সেখানে ছিলেন। পুলিশকে ছিনতাইকারীর পেছনে দৌড়াতে দেখে তিনি তাকে ধরার চেষ্টা করেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযান চালিয়ে হামলাকারী ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু দুর্বৃত্ত পথচারী ও সাধারণ মানুষের গতিবিধির সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে একা চলাচল করা মানুষ ও অটোরিকশা যাত্রীদের টার্গেট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এবার ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খোদ র‌্যাব সদস্যের প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটল।

 

 

ফারিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ধর্ষণের চেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বাঁচলেন

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যখন গোটা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল ঠিক সেই সময়ে নিজের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী ফারিন খান। মধ্যরাতে এক পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

 

 

ফারিন জানান ১৩ তারিখ জামালপুর যাওয়ার পথে রাত সোয়া ৩টার দিকে বাধ্য হয়ে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে যান তিনি। সেখানে ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। পরক্ষণে তাকিয়ে দেখেন ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটি হাত ঠিক তার গলার কাছে এগিয়ে আসছে।

ভয়ংকর সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে ফারিন তার পোস্টে লেখেন ‘হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত। আমি খুব সাহসিকতার সাথে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে আসি এবং আমার ড্রাইভার আমার চিৎকার শুনেই এগিয়ে এসে লোকটাকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়।’

ফারিন জানান তার গাড়িচালক ওই লোকটিকে অনেকগুলো ডিমের খোসা নিয়ে ওয়াশরুমের পেছনে যেতে দেখেছিলেন। চালক ভেবেছিলেন লোকটি হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে তাই বাধা দেননি।

এই ঘটনার পর মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন ‘উপরের উপরে সাহস দেখালেও আমি জানি ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় আমি পেয়েছিলাম এবং পরের দিন সকালে শুটিং ইউনিটের অনেককেই ব্যাপারটা শেয়ারও করেছিলাম। এর থেকে বিশ্রী অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না।’

 

 

রামিসা হত্যাকাণ্ডের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফারিন। তিনি লেখেন ‘আমরা যেসব মেয়েরা বাইরে কাজ করি আমরা জানি কত কত এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তবে এই দেশে সত্যিই মেয়েরা নিরাপদ না। যে দেশে আমাকে আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয় সে দেশে আসলে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ যার বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো বিচার কখনো হয়নি যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে।’

 

 

পোস্টের শেষে আক্ষেপ করে ফারিন আরও জানান এই স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরেও অনেকে তার পোশাক ও কাজ নিয়ে তাকেই দোষারোপ করবেন যা দেশের মেয়েদের জন্য প্রতিদিন মানসিক ধর্ষণের শিকার হওয়ারই নামান্তর।

 

 

হরমুজে ইরানের ছাড়পত্রে চলাচল করল ৩৫ জাহাজ

গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩৫টি জাহাজ পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজ রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এ দাবি করেছে।

 

 

শুক্রবার আইআরজিসির বরাতে আল-জাজিরা একই সংবাদ প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব জাহাজ চলাচল করেছে। বাহিনীর বিবৃতিতে এ দাবি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

এর আগের দিন আইআরজিসি জানিয়েছিল, আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩১টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ হয়। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচলের এই তথ্য প্রকাশ করল ইরান।

 

হামে আক্রান্ত হয়ে একদিনে প্রাণ গেল ১১ শিশুর

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ২ শিশু। আর হামের উপসর্গে মারা গেছে ৯ শিশু। একই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৩১৫ জন।

 

 

শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এ শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

 

 

এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪১৪ জন। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৮৫ জন। মোট মৃত্যু ৪৯৯ জন।

 

জামালপুর-ঢাকা রুটে চালু হলো বিশেষ ক্যাটল ট্রেন

​ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য জামালপুরের ইসলামপুর থেকে বিশেষ ‘ক্যাটল ট্রেন’ চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কম খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পশু পরিবহনের সুযোগ থাকায় এবং পথে চাঁদাবাজির ঝামেলা না থাকায় খামারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে এই ট্রেন এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুটি এবং শনিবার (২৩ মে) একটি ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাবে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ইসলামপুর থেকে প্রথম ক্যাটল ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
প্রতিটি ট্রেনে ২৫টি করে ওয়াগন থাকছে, যার প্রতিটিতে ১৬টি করে গরু নেয়া হবে। সে হিসেবে একটি ট্রেনে প্রায় ৪০০টি গরু পরিবহন করা সম্ভব। প্রতিটি গরুর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।এবারের ঈদে তিনটি ট্রেনে মোট ৭৫টি ওয়াগন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২০০ গরু এই স্পেশাল ট্রেনগুলোর মাধ্যমে ঢাকায় আনা হবে।
গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা জানান, সড়কপথে ট্রাকে করে গরু পরিবহনে ভাড়া ও ভোগান্তি—দুটোই বেশি। রাস্তায় যানজট, চাঁদাবাজি এবং দুর্ঘটনার মতো বড় ঝুঁকি থাকে। সেই তুলনায় ট্রেনে অনেক কম খরচে ও স্বাচ্ছন্দ্যে গরু হাটে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।​তবে ঢাকায় হাট শেষে অবিক্রীত গরু যাতে সহজে এলাকায় ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য একটি ফিরতি ট্রেনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া জানান, ক্যাটল ট্রেনের সবগুলো ওয়াগন এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং ট্রেনের ধারণক্ষমতার তুলনায় গরু পরিবহনের চাহিদা আরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি তিন নেতাকে সংবর্ধনা দিলেন “তারুণ্যের শক্তি” সংগঠন

নবগঠিত ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার ৫ নং বালিয়া ইউনিয়নের তিন কৃতি সন্তানকে সংবর্ধনা দিয়েছে  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “তারুণ্যের শক্তি”।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূল্লী বটতলায় তারুণ্যের শক্তি কার্যালয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা প্রাপ্ত নেতারা হলেন, জুলফিকার আলী ভুট্টো, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, মিজানুর রহমান — মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, আশরাফুল হক — সহ দপ্তর সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি।
এ সময় এক আলোচনা সভায়  বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন, দলীয় কর্মকাণ্ডে অবদান এবং জনগণের পাশে থেকে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এ তিন নেতাকে জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের এ অর্জনে বালিয়া ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নবগঠিত  নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে তারা সংগঠনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দল ও দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারুণ্যের শক্তি সংগঠনের সদস্যরা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঈদ উৎসবে মুক্তি পাবে ববি অভিনীত ‘তছনছ’

আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী নতুন সিনেমা ‘তছনছ’। ঢালিউডের বাণিজ্যিক ধারার নির্মাতা বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন মুন্না খান ও ববি হক। ঈদকে সামনে রেখে নির্মিত সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী চিত্রনায়ক মুন্না খান। তিনি জানান, ‘তছনছ’ তার অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র এবং শুরু থেকেই দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। তার প্রত্যাশা, পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করবেন।

 

 

নির্মাতা বদিউল আলম খোকন জানান, ঈদের দর্শকদের রুচি ও চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘তছনছ’। সিনেমাটিতে থাকছে জমজমাট অ্যাকশন, পারিবারিক আবেগ এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয়। তার ভাষ্য, ঈদে দর্শক সাধারণত বড় পরিসরের অ্যাকশনধর্মী সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, আর সেই ভাবনা থেকেই নির্মিত হয়েছে এই চলচ্চিত্র।

 

 

মুন্না খান মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন কমল সরকার। এতে মুন্না খান ও ববি হকের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, মিশা সওদাগর, তানভীর তনু, শিবা সানু, সুব্রত, মারুফ আকিব, বড়দা মিঠু ও প্রিয়া অনন্যাসহ আরও অনেকে।

ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির অফিসিয়াল টিজার ও একটি রোমান্টিক গান। প্রকাশের পর থেকেই দর্শক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘তছনছ’ নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আসন্ন ঈদের সিনেমার তালিকায় আলোচিত সংযোজন হতে পারে ‘তছনছ’।

 

 

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের সময়সূচি ঘোষণা জিম্বাবুয়ের

আগামী জুনের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ে সফর করবে বাংলাদেশ। সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এক টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলবে অতিথিরা। সেই পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি)।

 

 

একমাত্র টেস্ট দিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। ২৮ জুন হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে লাল বলের ম্যাচটি শুরু হবে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৬ জুলাই। ৯ ও ১১ জুলাই বাকি ম্যাচ দুটি হবে। টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলোও হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে।

 

 

ওয়ানডে সিরিজ শেষে বুলাওয়ে যাবে বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি হবে ১৫ জুলাই। ১৭ ও ১৯ জুলাই বাকি ম্যাচ দুটি মাঠে গড়াবে।

এর আগে সবশেষ ২০২২ সালের জুলাই-আগস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত দুটি সিরিজেই ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল সফরকারী দল। এবার সে ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাইবে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজরা।

প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ নিয়ে জেডসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর ম্যাকোনি বলেন, বাংলাদেশের সফরটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর নিশ্চিত করছি। সব ফরম্যাট মিলিয়ে এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর একটি সিরিজ হবে বলে আমরা আশা করছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর দেশের মাঠে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরায় আমরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত। হারারে ও বুলাওয়েতে সমর্থকদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হবে।’

 

৩১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করল হাবিপ্রবি প্রশাসন

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়, বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ৩ টায় শহীদ আবরার ফাহাদ হল হতে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তারা নির্বিচারে নামাজ ঘরসহ হলের আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা ও অন্য সম্পত্তি বিনষ্ট করে এবং সহকারী প্রক্টরসহ ছাত্রদের গুরুতর আহত করে।

 

 

ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রামথিকভাবে শিক্ষার্থীদের দোষী বলে সনাক্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ও ১৫ ধারা মোতাবেক অনৈতিক কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত এবং আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার ১নং আলোচ্য বিষয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩১ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

যমুনা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বাঁধ নির্মাণ হলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে চরপৌলি এলাকায় যমুনা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমিও নদীর পাড়ের মানুষের দুঃখ বুঝি। তাই নদী ভাঙন রোধে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের নদীভাঙন এলাকাগুলো রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। এ সময় বক্তারা বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনের ফলে প্রতি বছর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন থেকে হাজারো মানুষ রক্ষা পাবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা বিএনপির নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

বিটিভিতে আসছে ঈদের নাটক ‘টিকটক বউ’

ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ঈদের দিন রাত ৯টায় প্রচারিত হবে বিশেষ নাটক ‘টিকটক বউ’। সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা ও নির্মল হাস্যরসের মিশেলে নির্মিত এই নাটকে উঠে এসেছে বর্তমান প্রজন্মের সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু এবং প্রযোজনা করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিনয় করেছেন সালমান আরাফাত, নওশীন নাহার, জুলফিকার চঞ্চল, শ্যামল হাসান, কবির টুটুল, আরজুমান আরা বকুল, হুমায়ুন ফরিদ , সাবিহা জামান, বিমল ব্যানার্জি, সাবরিনা শফী নিসা ও আনোয়ার শাহী।

 

 

নাটকের গল্পে দেখা যাবে, মনির তার মা ও মামাকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যায়। মেয়ের নাম রায়না। টিকটকে রায়নাকে প্রথম দেখে মনির। দেখেই ভালো লেগে যায় তার। প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করা মনিরের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করবে। এ কারণে বহু মেয়ে দেখেও তার মনে ধরেনি। মেয়ে দেখতে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নাটকে তৈরি হয় একের পর এক হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি। মনিরের মামার সংলাপগুলোও দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দেবে। বিয়ের আলাপচারিতায় পুরোনো ধ্যানধারণার বদলে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক ভাবনা- ফেসবুক ভেরিফায়েড কি না, মনিটাইজেশন হয়েছে কি না কিংবা মাসে কত আয় হয়, এসব নিয়েই জমে ওঠে কথোপকথন। অবশেষে হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়েই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাসর রাতের পরদিন ভোরে ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা! এরপর থেকেই গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে।

 

 

 

নির্মল বিনোদনের পাশাপাশি নাটকটি বর্তমান সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার একটি সূক্ষ চিত্র তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের বিশেষ আয়োজনে ‘টিকটক বউ’ দর্শকদের জন্য হতে পারে ভিন্নধর্মী এক আনন্দের উপহার।

 

 

বগুড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বগুড়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের বেতার শাখার সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (২২ মে) সকালে পুলিশ লাইন্সের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা থেকে শুক্রবার সকাল আটটার মধ্যে যে কোনো সময়ে গলায় রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

 

নিহত আরিফুল ইসলামের (৩৮) নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পদ্মবিল ঘড়িয়া এলাকার মো. আশরাফের ছেলে। তিনি স্ত্রী রোমা বেগম ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার বিপি নম্বর ৮৮০৭১২৭৪৮৫।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে বেতার শাখায় কর্মরত এএসআই আরিফুল ইসলাম গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে লাশটি উদ্ধার করে নামানো হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেতার শাখার দোতলার একটি কক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন আরিফুল ইসলাম। ওই কক্ষে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকেও তাকে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার সকালে তাকে কক্ষে না পেয়ে সহকর্মীরা প্রথমে ধারণা করেন তিনি নিচতলায় দায়িত্বে আছেন।

 

পুলিশ জানায়, পরে সকাল ১০টার পরও তার খোঁজ না মেলায় পাশের একটি ওয়ার্কশপ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান সহকর্মীরা। সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ জানান, নিহতের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কোনো পারিবারিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণসংক্রান্ত চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।

 

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) আতোয়ার রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এএসআই আরিফুলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

 

রানীনগরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপর সন্ত্রাসী হামলা

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের উপর কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে)  রাত আনুমানিক ৯টায়  রানীনগর থানাধীন গোনা ইউনিয়নের বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া অস্থায়ী রেলগেটের পূর্ব পাশে এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৯টার দিকে রানীনগর থানার এসআই (নিঃ) রতন কুমার ও এএসআই (নিঃ) ওবায়দুল হোসেন বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া অস্থায়ী রেলগেট এলাকায় টহল দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় এলাকার মোঃ আশিক (বয়স ২৩), পিতা মোঃ কেয়ারব সোনার, গ্রাম-বিজয়কান্দি (বড়বড়িয়া), থানা-রানীনগর, জেলা-নওগাঁ-কে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যরা মাদকদ্রব্য অভিয়ানে টহলরত অবস্থায়  তাকে থামিয়ে নাম-পরিচয় ও অবস্থানের কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো উচ্চস্বরে অসদাচরণ করে।
পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে যখন সে আশেপাশে থাকা অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জন সঙ্গীকে ডেকে একত্রিত করে এবং সম্মিলিতভাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই হামলাকারীর দল এসআই (নিঃ) রতন কুমার ও এএসআই (নিঃ) ওবায়দুল হোসেনকে এলোপাথাড়ি ভাবে আক্রমণ করে। পুলিশি পরিচয় ও আইনি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তারা এই বেআইনি ও সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
খবর পেয়ে রানীনগর থানার এসআই (নিঃ) জুলফিকার ও এএসআই আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পুলিশ সদস্যরা পরবর্তীতে থানায় ফিরে আসেন।
হামলার শিকার এসআই (নিঃ) রতন কুমার থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। রাত আনুমানিক ১টায় রানীনগর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু হয়।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা রুজু করেন এবং তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের উপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ বৈধ দায়িত্ব পালনকালে এই হামলার শিকার হন, যা শুধু ব্যক্তিবিশেষের উপর আক্রমণ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন,  তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে তুলে ধরা হলো পাকিস্তানের দীর্ঘ গণহত্যার ইতিহাস

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের ‘দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত’ গণহত্যার ইতিহাসের কথা তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার পর, তার কড়া জবাবে স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এবং বর্তমান আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বর্বরতার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো একটি দেশ, যারা নিজের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে এবং পদ্ধতিগত গণহত্যা চালায়, তাদের কাছ থেকে এ জঘন্য আচরণ কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়।

 

এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক বার্ষিক উন্মুক্ত বিতর্কে ভারতীয় দূত পাকিস্তানের সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে যে অভিযান চালিয়েছিল, সেখানে তারা নিজেদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে লাখ লাখ নারীকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের অনুমোদন দিয়েছিল।

 

একই সঙ্গে ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘে তুলে ধরে। হরিশ পর্বতানেনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ শেষে যখন মানুষ মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তান কাবুলের মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে কাপুরুষোচিত ও বর্বর বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ২৬৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। এ ছাড়া পাকিস্তানের সীমান্ত পারের সশস্ত্র সহিংসতার কারণে ৯৪ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বেসামরিক হতাহতের ৯৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪টির জন্যই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী দায়ী।

 

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ধকারের মধ্যে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আইনের বড় বড় কথা বলা এক চরম ভণ্ডামি। বিশ্বাস, আইন ও নৈতিকতাহীন পাকিস্তান দশকের পর দশক ধরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশের ভেতরে ও বাইরে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাসী আজ তাদের এই মিথ্যা প্রচারণার আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।

 

 

পুলিশ দেখেই লুট করা গরু-ছাগল রেখে পালিয়ে গেল চোরের দল

সিরাজগঞ্জে রায়গঞ্জে পুলিশের উপস্থিতি দেখেই লুট করা গরু-ছাগল ও পিকআপ ভ্যান রেখে পালিয়ে গেল চোরের দল। এ সময় তিনটি চোরাই গরু ও একটি ছাগলসহ পিকআপটিকে জব্দ করে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ষোলমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান জানান, রাতে মহাসড়কে টহল দিচ্ছিল রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল টিম।

 

টহল টিমটি ষোলমাইল এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে গরু-ছাগলসহ পিকআপ রেখে পালিয়ে যায় চোরের দল। পরে টহল পুলিশ পিকআপ ভ্যানসহ গরু-ছাগল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

 

 

কুড়িগ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল অটোচালকের

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রবল ঝড়ের মধ্যে বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রফিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক অটোরিকশা চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বজরা তবকপুর এলাকার মজাই ভাঙ্গা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত রফিকুল ইসলাম ওই এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক বলে জানা যায়।
যদিও মাছ ধরা তার পেশা নয়, তারপরেও শখের চাহিদা মেটাতে মাছ ধরতে গিয়ে ঘটে যায় জীবনের সমাপ্তি। রফিকুল ইসলামের অকালে মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত রফিকুল ইসলাম সকালের প্রবল ঝড় কে উপেক্ষা করে তার বাড়ির পাশে থাকা একটি পুকুরে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতের আঘাতে শিকার হন তিনি। পরে পুকুরে পড়ে অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার এক পর্যায় তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ঝড় বৃষ্টি কমলে স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামের লাশ ওই পুকুর পারে দেখতে পান। তারপর রফিকুলের পরিবারকে খবর দিয়ে স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে উদ্ধার করেন রফিকুল ইসলামের মৃতদেহ।

 

সাত দিনে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ জনের মরদেহ

গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।  সাতদিনে নদীপথে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।এসব ঘটনায় তিনটি হত্যা মামলাসহ ৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে নৌ পুলিশ। দায়ের হওয়া ৯৬টি মামলার মধ্যে রয়েছে ৬৩টি মৎস্য আইন, ১৩টি বেপরোয়া গতি আইন, একটি বালুমহাল আইন ও একটি মাদক মামলা।

 

এছাড়া ১১টি অপমৃত্যু, একটি ডাকাতি, একটি অপহরণ, একটি চাঁদাবাজি, একটি বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার অবৈধ জাল, ২ হাজার ৮৯ কেজি মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০টি বাগদা চিংড়ির রেণু এবং ৪৯০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি মাছ শিকারের জন্য নদীতে স্থাপিত ১৭৯টি অবৈধ ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানকালে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ-আদালতে মামলা দায়ের এবং দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে।

 

নৌ পুলিশ জানায়, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় এ অভিযানে মোট ৩০২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। মহাসড়কে বেপরোয়া থ্রি-হুইলারের চলাচল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ এবং সড়কের খানাখন্দ মিলিয়ে যেকোনো সময় ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

 

 

 

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে পশুবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ। কোরবানির পশু পরিবহনের কারণে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

 

 

 

বর্তমানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, বলিয়ারপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভারের পাকিজা পয়েন্ট, থানা স্ট্যান্ড, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড, বাইপাইল, পল্লী বিদ্যুৎ ও বলিভদ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় সারাক্ষণই থ্রি-হুইলারের দখল দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। অনেক সময় পুলিশ সদস্যদেরও অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে এগোনো এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভারী যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সামান্য চাপ বাড়লেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে কার্যকর তদারকির অভাবও চোখে পড়ছে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

উত্তরবঙ্গগামী একটি বাসের চালক ইমরুল বলেন, এখনো তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ি বেড়ে গেলে চাপ বাড়বে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে রাস্তায় অনেক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তখন গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

 

 

 

গরুভর্তি একটি ট্রাকের চালক মুরাদ বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন যানজট কম আছে, কিন্তু ঈদের সময় চাপ বাড়বে। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা গেলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যেত।

 

 

 

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ভোগান্তি নেই, ভাড়াও ঠিক আছে। কিন্তু প্রতি ঈদেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। ৫০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এবার যেন এমন না হয়, সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

 

 

 

 

ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতার একটি হচ্ছে বাইপাইল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। তারপরও মানুষের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

 

 

 

এ বিষয়ে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাজাহান বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মহাসড়কে অটোরিকশা ও অবৈধ যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে উল্টো পথে চলাচল এবং বিভিন্ন মোড়ে জটলা তৈরি হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

 

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদ এলেই ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। এবারও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন না হওয়ায় স্বস্তির বদলে শঙ্কাই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে। তবে পুলিশ বলছে ঈদ যাত্রায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

রাজধানীতে উচ্ছেদ অভিযানে যত টাকার জমি উদ্ধার করল সরকার

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনার সময় দখলকারীদের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে ব্যাহত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ ও জনবল নিয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হয়।

 

 

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা জমিটি দুই দিনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ণের ঢাকা ডিভিশন-১ এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

 

অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেয়। অভিযানের সময় অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড স্থাপনা এবং কয়েকটি দ্বিতল ভবনসহ আনুমানিক ১৮০ থেকে ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জমিটি এলএ (LA) কেস নং ৫/৭২–৭৩ অনুযায়ী সরকার আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করেছিল। জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘মিরপুরস্থ ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।

 

 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করে জমিটি দখলে রেখেছিল। এতে সরকারি সম্পদের ব্যবহার, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

 

 

 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত জমি পরিকল্পিত আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত আট বছর বয়সী শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (২০ মে) নিহত রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ ছাড়া মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

 

 

এদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

 

রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোহেল রানা কৌশলে রামিসাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

 

আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের দিনেই সেবা গ্রহীতাকে মারধর

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিনই সেবা গ্রহীতাকে মারধর করে তার হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পয়সাহাট ভূমি অফিসের এক সহায়ক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পয়সাহাট ভূমি অফিসে ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, বাকাল ইউনিয়নের সরবাড়ি গ্রামের রনজিত জয়ধরের স্ত্রী শিখা জয়ধর তাদের জমির দুটি মিউটেশন করার জন্য ২০২৪ সালে ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশাকে ১৫ হাজার টাকা দেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি মিউটেশনের কাজ সম্পন্ন করেননি এবং বিভিন্ন সময়ে টালবাহানা করেন।

ভূমিসেবা মেলার দিন মঙ্গলবার বিকেলে শিখা জয়ধর মিউটেশনের কাগজপত্র চাইতে গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অফিসের বাইরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই গৃহবধূকে মারধর করা হলে তার বাম হাতের শাঁখা ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল বাশার বাদশা দাবি করেন, তিনি শিখা জয়ধরের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং তার কাগজপত্র কয়েক মাস আগেই দেওয়া হয়েছে। বাইরে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পয়সাহাট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উত্তম বেপারী জানান, ঘটনাটি অফিসের বাইরে ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বণিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামসহ দেশব্যাপী চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চিকিৎসকরা।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলা ইউএইচএফপিও ফোরামের আয়োজনে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ব্যানারে হাসপাতাল চত্বরে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

 

কর্মসূচিতে চিকিৎসকরাসহ নার্সরাও অংশগ্রহণ করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শিশির কুমার গাইনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. মিরন হালদার, ডা. সুবল কৃষ্ণ, ডা. শিল্পী সমাদ্দার, ডা. সুমাইয়া তাসনীম তনিমা, ডা. মো. শামীম হোসেন, ডা. সাবরিনা ইসলাম, ডা. নাসফিন জাহান নিপা, ডা. শাহানাজ পারভীন সেতু, ডা. শাহ্ মো. বদরুল আলম ও ডা. নুসরাত জাহান প্রমুখ।

 

 

 

চিকিৎসক নাসির ইসলাম ও এক স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ, আইনগত সুরক্ষা এবং চিকিৎকদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তরা বলেন, নাসিরের ওপর হামলাকারী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ও কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরা আইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলাকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করে দ্রুত কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বক্তারা।

 

 

কুখ্যাত ডাকাত টিক্কা আটক

নৌ ও স্থলপথের দুর্ধর্ষ ডাকাত মুজিবুর রহমান ওরফে টিক্কাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গাজীপুরের পুবাইলের মাজু খান বাজার-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

টিক্কা সাভার মডেল থানার আলোচিত ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান।

 

 

কালবেলাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘পলাতক আসামি টিক্কাকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন একদল চৌকস পুলিশ সদস্য। আসামি ধরার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আমাদের এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তার কোমর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া নৌ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, টিক্কা বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা থেকে নৌ ও স্থলপথে ডাকাতি করে আসছিল এই ডাকাত। তার নামে ঢাকা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তার আসল নাম মুজিবুর রহমান, ঢাকায় এসে নাম নিয়েছে টিক্কা।

 

আসন্ন ঈদুল আজহা: হিলিতে জমতে শুরু করেছে দা-বঁটি ও চাকুর বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের আর মাত্র দিনকয়েক বাকি। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাংলা হিলি বাজারে ব্যস্ততা বাড়ছে কামারপাড়ার কারিগরদের। টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারশালাগুলো পেরিয়ে এখন বাজারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে চকচকে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি।
​আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কামাররা তাদের দোকানে অত্যন্ত সুন্দর ও সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখেছেন কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাহারি ডিজাইনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের বাকি আর মাত্র ৬ থেকে ৭ দিন। বাজারে এখনো উপচে পড়া ভিড় না জমলেও, টুপি-তাকিয়া কিংবা কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি অনেকেই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে দোকানে ঢুঁ মারছেন। তবে কামারদের আশা, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠবে।
​বাংলা হিলি বাজারের কামার ব্যবসায়ী সবুজ বৈরাগী বলেন, ঈদের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। আশা করা যাচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যেই পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়ে যাবে। আমরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ খাঁটি ও মানসম্মত লোহা দিয়ে দা, বঁটি ও চাকু তৈরি করেছি, যাতে এগুলো টেকসই ও ধারালো হয়। আশা করছি এবার ভালো ব্যবসা করতে পারব।
​বিক্রেতারা জানান, আকার ও লোহার গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটি শাণ দেওয়ার (ধারালো করার) কাজও শুরু হয়েছে সমানতালে। আগামী কয়েকদিনে এই ব্যস্ততা ও বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

নওগাঁয় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায় বজ্রপাতে একই দিনে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাণীনগর থানাধীন ০৪নং পারুইল ইউনিয়নের জাঠাইল মাঠে। কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন দুই কৃষক। নিহতরা হলেন— পারুইল গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের পুত্র মোঃ আক্কাস ফকির (৬০) এবং মোঃ আমিনুরের পুত্র মোঃ তারেক (২২)।

অপরদিকে, একই থানাধীন ০৫নং বড়গাছা ইউনিয়নের গুয়াতা আটনিটা গ্রামে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। কৃষিজমির মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোঃ নয়ন তালুকদার (৩২)। তিনি ওই গ্রামের হাসেন তালুকদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বজ্রসহ ঝড়ের কবলে পড়ে তিনজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় পৃথক ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা, চিরকুটে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পটুয়াখালীর দুমকিতে সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক আবুল কালাম খান মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

 

পুলিশ জানায়, নিহতের লেখা চিরকুটে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— উত্তম কুমার, কালাম মৃধা, মিলন মৃধা, হান্নান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খা ও ছালাম মৃধা। চিরকুটে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন আবুল কালাম খান।

 

চিরকুটের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ‘পিলারের ব্যবসার লোভ’ দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তম কুমার দাবি করেন, ‘আমি কালাম খানকে চিনিই না।’

 

চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, কালাম মৃধা ওই অর্থ লেনদেনে মধ্যস্থতা করে টাকার ভাগ নিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরেক অভিযুক্ত মিলন মৃধার বিরুদ্ধে চিরকুটে লেখা হয়, তাকে সাক্ষী রেখে ১০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মৃধা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

 

 

মিলন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

চিরকুটে দেলোয়ার হোসেন টিটু খাকে এলাকার শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে আবুল কালাম খান লিখেছেন, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় টিটু খা তাকে পথে-ঘাটে দেখলেই হত্যার হুমকি দিতেন।

 

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে টিটু খা বলেন, ‘এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।’

 

 

 

বাকি অভিযুক্ত হান্নান সিকদার ও ছালাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

নিহতের মেয়ে রাবেয়া বলেন, ‘কিছু লোক আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে। চিরকুটে যাদের নাম আছে, তাদের বিষয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলতেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বাবা এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।’

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন আবুল কালাম খান। একসময় তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

 

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিচের দুই স্তরের সরাকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি ও ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনামূলক কম সুবিধা পাবে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানা গেছে।

 

 

কমিটির সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পে স্কেল সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নতুন পে স্কেলে তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বুধবার (২০ মে) ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নবম পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয় বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।

 

 

সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে।’

 

 

অর্থনীতির অবস্থা খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে আমাদের। কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখতে হচ্ছে।’ কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁট করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’

 

 

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা।

 

 

অপরদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

 

বিচারহীনতার কারণেই বেপরোয়া অপরাধীরা: ছাত্র জমিয়ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাআদ বিন জাকির। তিনি বলেন, বিচারহীনতা ও মামলা চাপা পড়ে যাওয়ার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফরিদপুর সদর উপজেলার খবালপুর মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

সাআদ বিন জাকির বলেন, ‘আজ দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটি ঘটনার বিচার শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্মম ঘটনা সামনে আসছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ঘটনায় প্রথমদিকে তীব্র আলোচনা হলেও পরে সেগুলো ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। এই সংস্কৃতিই অপরাধীদের মনে ভয়হীনতা তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরায় শিশু আছিয়া হত্যা, সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা মুন্সীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনাগুলো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। জনগণ এখন দেখতে চায়, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার কত দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুরা আজ শুধু বাইরে নয়, অনেক সময় নিজেদের পরিচিত পরিবেশেও নিরাপদ নয়। এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশু সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

ছাত্র জমিয়তের এই নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোই যথেষ্ট নয়। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের কারণে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

 

 

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের প্রতি নরম অবস্থান ভবিষ্যৎ সমাজকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।’

 

 

বক্তব্যের শেষে তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও পরিবারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

 

 

রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে প্রাণ গেল নারীর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি উল্টে তার নীচে চাপা পড়ে ফুয়ারা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহত ফুয়ারা খাতুন উপজেলার দাদপুর সাহেবগঞ্জ (মহ্যৎপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও কোবাদ আলীর স্ত্রী।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের দাদপুর সাহেবগঞ্জ আন্ডারপাস এলাকায় হেঁটে যাচ্ছিলেন ফুয়ারা খাতুন। এ সময় উত্তপ্ত তরল বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া লরির নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফুয়ারা।

 

 

 

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

 

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। লরিটিকে জব্দ করা হলেও এর চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি আইপিপির সঙ্গে সরকারের নতুন চুক্তি

জাতীয় গ্রিডে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এসব বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) উৎপাদনের গড় ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ সেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা। যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের জ্বালানি বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চুক্তি করা হয়।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, এতে বিদ্যুতের উৎপাদন গড় ব্যয় ২ থেকে ৩ সেন্ট কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। যেখানে আগে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ১০.৫ সেন্ট।

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। এছাড়া কম দামে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন আরও ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 

 

 

তারা জানান, ১২টি প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং সবগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

 

 

কর্মকর্তারা আরও জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের আরেকটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

তারা বলেন, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একইভাবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

 

 

 

এছাড়া অবশিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মৌলভীবাজারের সদর ও বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

 

 

 

 

বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ট্যারিফ নিশ্চিত করে সরকার ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

 

 

 

 

কনফিডেন্স পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও আইপিপি উদ্যোক্তা ইমরান করিম জানান, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, বাকি দুটি কেন্দ্রের জন্য জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

 

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

 

 

 

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

 

 

 

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছিল। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল ২৭টি। এসব প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। বাকি চারটি প্রকল্প ছিল বায়ু ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক। যেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাতিল করা হয়।

 

 

 

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

 

 

 

কর্মকর্তারা জানান, ১২টি প্রকল্প ছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা কর্মসূচি চলছে।

 

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশে ১,৪৫০.৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১,০৭৩.৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে (অন গ্রিড) এবং ৩৭৭.১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

 

 

 

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৪৩.৭৬ মেগাওয়াট।

 

 

 

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি, ০.৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং ০.৪ মেগাওয়াট বায়োমাস এর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

 

 

 

জ্বালানি বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) কর্মকর্তা শফিকুল আলম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি সমন্বিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদি বাসস’কে বলেন, সরকার যদি মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে ওই জমিগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

 

 

 

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইআরইএনএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ লাখ দুই হাজার ১৭৮.৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, যার উৎপাদন দুই লাখ ১১ হাজার ৬১০ দশমিক এক মেগাওয়াট এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার উৎপাদন সক্ষমতা এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০১ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট।

 

 

 

এছাড়া জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনাম আট হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, ফিলিপাইন দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা এক হাজার মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

 

 

সূত্র : বাসস

 

 

ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ

নীলফামারীর ডিমলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাবুরহাট মহিলা কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহত নিফতাহুল জান্নাত মাইশা (১৬) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার তাজনগর গ্রামের ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি পরিবারসহ ডিমলার বাবুরহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। নিহত মাইশা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে মাইশা নিজ শয়নকক্ষে চলে যান। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

 

তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির ইঙ্গিত, প্রতিবাদ চীনের

দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নিয়ে এই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কে।

 

 

১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন ও তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

বুধবার (২০ মে) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি লাই চিংয়ের সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও কাজ করব।

তিনি আরও জানান, তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি।

ট্রাম্প একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি বেইজিং সফরে দুই নেতার বৈঠকের পরই তাইওয়ান ইস্যু নতুন করে সামনে আসে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে চীন।

 

 

চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হতে পারে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে জোর দিচ্ছেন।

 

 

১৯৭৯ সালের তাইওয়ান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হয়।

 

 

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির সম্ভাব্য চীন সফর আটকে রেখেছে বেইজিং। ট্রাম্প তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটির দিকেই নজর রাখছে চীন।

 

 

এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তৎকালীন তাইওয়ান নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে কথা বলে কূটনৈতিক রীতিভঙ্গ করেছিলেন। সে সময়ও বেইজিং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

 

 

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

 

 

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করবে না। কিন্তু বেইজিং থেকে ফেরার পথে বিমানে সেই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ১৯৮০-এর দশক এখনও অনেক দূরের পথ।

 

 

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৮.২ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম এবং এই ঘটনা বেইজিংয়ের ক্ষোভের কারণ হয়।

 

 

প্রেসিডেন্ট লাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ান চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবেলায় তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

 

 

অনেক তাইওয়ানি নিজেদেরকে একটি পৃথক জাতির অংশ বলে মনে করেন। যদিও বেশিরভাগই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না বা তার সাথে একীভূতও হবে না।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি বার্তা, বন্ধ অষ্টম শ্রেণির অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

গত বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনাটি দেওয়া হয়।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরবর্তীকালে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবারও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এ অবস্থায় অষ্টম শ্রেণিতে নতুন করে আরও একটি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে চলমান ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনার অনুলিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।

 

 

কাফির প্রশ্ন: বিচার কি শুধুই স্লোগান?

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি এনসিপিতে যোগ দেওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।

 

 

বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা ২৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

নুরুজ্জামান কাফি লেখেন, ‌‘আমরা ঠিক আর কত মানুষের জন্য, কত বাচ্চার জন্য, কত ভাইয়ের জন্য, কত মায়ের জন্য জাস্টিস চাইবো?’

তিনি লেখেন, ‘কোনো সরকারই এমন কঠোর কোনো বিচার জনসম্মুখে নেওয়ার কি হেডম (ক্ষমতা) নাই, যে একটা কঠোর বিচার জনসম্মুখে করবে!’

এই এনসিপি নেতা আরও লেখেন, ‘জনসম্মুখে একটা কঠোর বিচার হলে এটাই হতো আমাদের শেষ বিচার চাওয়া #JusticeForRamisa বলে।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমরা #JusticeForRamisa বলে আর কারো জন্য জাস্টিস চাইতে চাই না। অর্থাৎ আমরা আর এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না।’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর কোন পরিবারকে যেন এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়।

 

ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ। যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর অংশে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ বলেন,আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সদস্যরাও আমাদের সহায়তা করছেন। মহাসড়কে কোথাও যেন অযথা যানজট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কেউ যেন সড়কের পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং না করেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলেন এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক ভাইরাল বাংলাদেশের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সোনালি চুলের অ্যালবিনো (জন্মগত জেনেটিক ত্রুটি) জাতের একটি মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোরবানির ঈদের আগে এই ব্যতিক্রমী মহিষটি এখন নারায়ণগঞ্জে এক অপ্রত্যাশিত আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন ।

 

 

 

 

জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিল থাকায় মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে রাখা প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে।

 

 

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স থেকে শুরু করে ভারতীয় এনডিটিভি, পাকিস্তানি ও থাই গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালি চুল ও হালকা গোলাপি বর্ণের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। খামারের মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চুলের মিল দেখে নামটি রাখেন, যা পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নয়, একই খামারে থাকা আরেকটি মহিষকে ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’ নামেও ডাকা হচ্ছে, যা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।

 

 

থাই ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশে এক ধরনের ‘সেলিব্রিটি প্রাণী’তে পরিণত হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই খামারে প্রতিদিনই শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন ছবি তুলতে ও কাছ থেকে দেখতে।

 

 

 

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশেষ যত্নে রাখা এই মহিষটিকে দিনে চারবার গোসল করানো হয় এবং সোনালি লোম পরিচ্ছন্ন রাখতে আলাদা পরিচর্যা করা হয়। খামারের কর্মীরা এটিকে শান্ত ও নমনীয় প্রকৃতির প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে কোরবানির পশুর ভিড়ের মধ্যেই এই ব্যতিক্রমী মহিষটি দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির কারণে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

 

 

 

জানা গেছে, প্রাণীটির নামকরণ কেবল কৌতুক নয়; বরং এর চুল ও রঙের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহ্যিক মিলই এই নামের অনুপ্রেরণা। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অ্যালবিনো বা বিরল জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সাদা-গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে।

 

 

 

তবে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ে মহিষটির শারীরিক অবস্থায় প্রভাব পড়ায় এখন খামারে প্রবেশে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এরপরও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই ‘বাংলার ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে একনজর দেখার জন্য।

 

 

 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই ঘটনা যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশে প্রাণী সংস্কৃতি, নামকরণ ও জনপ্রিয়তার নতুন এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে চান ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মজা করে বলেছেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদেও নির্বাচন করতে পারি।

 

 

 

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ড একাডেমির সমাবর্তনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে আমি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

 

 

 

তিনি বলেন, হয়তো এটা শেষ করার পর আমি ইসরায়েলে যাব, প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করব। আজ সকালে একটি জরিপ দেখেছি, সেখানে আমি ৯৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছি।

তবে তিনি কোন জরিপের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনায় ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

 

 

নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভালো আছেন, খুব ভালো মানুষ। আমি যা চাইব, তিনি তাই করবেন।

 

 

 

এ সময় নেতানিয়াহুকে যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। সূত্র : ইউএসএ টুডে।

 

 

মাদ্রাসার শিক্ষক শিহাবের বিরুদ্ধে আরও ৪ শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

রাজধানীর রামপুরায় বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি মো. শিহাব হোসেন (১৯)-কে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ। 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

 

 

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে রাতে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকে অবস্থিত আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে রামপুরা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

 

 

সুরতহাল প্রস্তুতের সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত দেখতে পান তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মো. শিহাব হোসেন (১৯)-এর বিরুদ্ধে আরও চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

এর মধ্যে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় এসে শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

মামলার এজাহারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) ধারা এবং পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আত্মহত্যার আগেই শিহাব হোসেন মাদ্রাসা ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে রামপুরা থানার একটি আভিযানিক দল পাবনা জেলার বেড়া থানাধীন খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই : হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জনগণ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাই।’

 

 

 

 

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে আইসিইউর অভাব, ঘুষ ছাড়া চাকরি না পাওয়া, থানায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য-এসব সমস্যা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।’

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো বিচারহীনতা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বিদ্যমান। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গুম ও হত্যার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় আইনি আশ্রয় নেওয়া থেকেও বিরত থাকছে।

 

 

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির নেতা বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে, তত দিন সরকারের সব উন্নয়নমূলক উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। জনগণ একদিন ব্যালটের মাধ্যমে বা গণপ্রতিরোধের মুখে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

 

 

 

অবিলম্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

ভোল পাল্টানো মাহামুদুল এক মহাপ্রতারক

জামায়াত আমিরের জালিয়াত উপদেষ্টা

ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি বাঁকে গিরগিটির মতো রং পাল্টে দেশের নীতিনির্ধারণী মহলকে ধোঁকা দেওয়া এক মহাপ্রতারকের নাম মাহামুদুল হাসান। শিক্ষা বলতে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস। অথচ নামের আগে লাগিয়েছেন ‘প্রফেসর’। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এনএইউ) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন—এমন দাবিতে লাগান ‘ড.’ তকমাও। আর এ মিথ্যা পরিচয়ে দেশের নর্থ সাউথ ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশের (এআইইউবি) মতো নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন।

 

 

 

প্রতারণাকে পেশা বানানো এ ব্যক্তি ক্ষমতার শীর্ষ স্তরে জায়গা পেতে কখনো বনে গেছেন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের উপদেষ্টা, আবার ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদও। কিন্তু আভিজাত্যের এ চটকদার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিকৃত ও নৃশংস অপরাধীর চেহারা। কালবেলার অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে তার একাধিক বিয়ে এবং অনেক নিরীহ নারীর জীবন ধ্বংসের রোমহর্ষক অধ্যায়। শ্বশুরবাড়ির ১৫ বছরের এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে জেল খাটার অকাট্য প্রমাণও মিলেছে তার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় পরবর্তী সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাক্ষীদের আদালতে না যেতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে নিজের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৬ বছরের প্রথম সন্তান, সাবেক স্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন।

 

 

 

 

এই মহাপ্রতারক মাহামুদুল হাসান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভুয়া সংস্কারক সেজে প্রতারণার জাল বিছিয়ে ছিলেন সারা দেশে। ক্ষমতার দম্ভে আইন, সমাজ ও পরিবারকে জিম্মি করা এ কাল্পনিক ‘ভিআইপি’ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ছিলেন মুখোশের আড়ালে।

ছাত্রজীবনেই প্রতারণার হাতেখড়ি: কালবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার জাল বিছানো শুরু হয়েছিল তার ছাত্রজীবন থেকেই। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ আওয়াল সম্পর্কে মাহামুদুলের মায়ের মামা। এ সুবাদে ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টারে বিবিএতে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু পড়াশোনা না করে সেখানে শুরু করেন ভর্তি বাণিজ্য। এরপর এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলেকে নর্থ সাউথে ভর্তিতে সহায়তার সূত্রে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। ওই পরিবারের সহায়তায় পাড়ি জমান লন্ডনে।

 

যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরই তার জালিয়াতির পরিধি আন্তর্জাতিক রূপ নেয়। লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। যার ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। একই সঙ্গে ‘ই-ফাইভ-কাউন্সিল’ নামে একটি নামসর্বস্ব সংগঠন খুলে নিজেকে সেটির চেয়ারম্যান দাবি করেন। দেশের মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ‘বিদেশি ডেলিগেট’ আনার লোভ দেখিয়ে শিডিউল চাইতেন। এ ছাড়া লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। ২০০৯ সালের দিকে এ ভয়াবহ জালিয়াতি হাতেনাতে ধরা পড়ায় মাহামুদুলের ওপর যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’ জারি করা হয় বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার ও শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত মাহামুদুল কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। তবে চতুর এই বাজিকর দ্রুতই নিজের রাজনৈতিক রং বদলে ফেলেন। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন কট্টর আওয়ামী লীগার। নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে দেশে এক নতুন প্রতারণার জাল পাতেন।

 

 

 

প্রতারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মাহামুদুল ‘প্রিমিয়াম পাস লিমিটেড’ ও ‘পিএপি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি নামসর্বস্ব এনজিও খোলেন। এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিদেশি প্রতিনিধিদের মেইল পাঠিয়ে বৈঠকের সময় (শিডিউল) বের করতেন। পরবর্তী সময়ে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবং বিভিন্ন স্থানে র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ভুয়া লোকেশন ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেকে একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি হিসেবে জাহির করতেন। ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের এ সাজানো আভিজাত্যকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রী এবং নর্থ সাউথ ও এআইইউবির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ মহলের সঙ্গে লবিং করে বড় অঙ্কের অর্থবাণিজ্যের ফাঁদ পাততেন।

 

 

 

দেশে-বিদেশে সব প্রতারণায় মাহামুদুল ব্যবহার করেন তার স্ত্রীদের ঠিকানা। তিনি কখনো নিজের বাসায় থাকতেন না। থাকতেন শ্বশুরালয় বা অন্য স্ত্রীদের বাসায়। এ কারণে মাহামুদুল হাসানের প্রতারণার দায়ভার বর্তায় স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপরে। অনুসন্ধানে স্ত্রীদের বিরুদ্ধে মাহামুদুলের দায়ের করা একাধিক মামলা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কপি এসেছে কালবেলার হাতে।

 

 

 

মাহামুদুল হাসানের ফেসবুক আইডি বিশ্লেষণ করে কালবেলা দেখতে পায়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মাহামুদুল হাসান নিজের ফেসবুকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের লোকেশন অ্যাটাচ করে লিখেছেন ‘উইথ হার এক্সেলেন্সি শেখ হাসিনা, প্রাইম মিনিস্টার, গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’ এর কিছুদিন আগে ১৫ মার্চ গণভবনের লোকেশন শেয়ার করে লিখেছেন ‘উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার’। ২০২১ সালের ১৪ মার্চ লিখেছেন ‘মিটিং উইথ ডিরেক্টর জেনারেল র্যাব’ এবং ‘ফরমার হোম স্টেট মিনিস্টার অ্যাট বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্লামেন্ট’।

 

 

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পর মাহামুদুল হাসানের আনাগোনা বাড়ে বিভিন্ন দূতাবাসে। এ সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলেন। এখনো মাহামুদুল সেসব ছবি ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

 

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আদালতে খোঁজ নিয়ে মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলা ও তার দায়ের করা আরও বেশকিছু মামলার তথ্য পায় কালবেলা। ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—শ্বশুরবাড়ি গিয়ে গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান মাহামুদুল। এ ঘটনায় তার বিকৃত যৌনাচার এবং নানা সময় প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে ওই স্ত্রী তাকে তালাক দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ছিলেন মাহামুদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

 

 

 

ধর্ষণের ওই মামলার তদন্তে মাহামুদুলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় মিরপুর থানা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হয় আদালতে। যার অভিযোগপত্র নং-৩১৬, তারিখ: ২৭/৮/২০২০। মেডিকেল রিপোর্টেও গৃহপরিচারিকা ১৫ বছরের ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েক মাস জেলও খাটেন। পরে জামিনে বের হয়ে সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তার হুমকি-ধমকির কারণে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে না যাওয়ায় বিচারক মাহামুদুলকে খালাস দেন। যদিও সে মামলায় পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় দেওয়া অন্তত চারটি জবানবন্দি সংগ্রহ করেছে কালবেলা।

 

 

 

ওই সাক্ষীদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তার নাম মো. নুর মোহাম্মদ। তিনি সম্পর্কে মাহামুদুল হাসানের সাবেক স্ত্রীর মামা। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘মাহামুদুল আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আমার ভাগনিটা খুবই ভালো ছাত্রী ছিল। জীবনে কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়নি। ভাগনির ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। একটি ছেলে, একটি মেয়ে; তারা হাফেজ। আমার ভাগনি তার সন্তানদের কথা ভেবে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। ও (মাহামুদুল) আমার ভাগনির জীবনটা ধ্বংস করে দিল।’

 

 

 

মামলায় সাক্ষী দিতে কেন গেলেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময় যাওয়ার সুযোগ কই! সে তখন শেখ হাসিনার লোক। জীবন না বাঁচলে বিচার দিয়া কী করমু!’

 

 

 

 

২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি: মাহামুদুল তার অন্য এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন আদালতে। সে মামলায় তিনি নিজেকে ভিআইপি প্রমাণ করতে দাবি করেছেন—তিনি দেশি-বিদেশি কয়েকডজন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন। সরকারে উচ্চপর্যায়ে এবং বিদেশি হাই অফিসিয়ালদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। মামলার অভিযোগের এক জায়গায় লিখেছেন, ‘বাদী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত ও মূল্যায়নাধীন একাধিক সংস্কার নির্দেশিকা প্রণয়ন ও দাখিলে অংশগ্রহণ করেছেন। ওই সংস্কারগুলো হলো—আন্তর্জাতিক ঋণ নীতিমালা (বৈদেশিক ঋণ ও এখতিয়ার) পুনর্বিবেচনা ও সংস্কার, পররাষ্ট্র প্রশাসনের সংস্কার, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্কার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার, জনপ্রশাসনের সংস্কার, সংবিধানের সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার, সাইবার প্রযুক্তির সংস্কার, ব্যবসায়িক প্রযুক্তির সংস্কার, বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থার (ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম) সংস্কার, বিচার বিভাগের সংস্কার, শিক্ষা খাতের সংস্কার, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর সংস্কার, তৃণমূল পর্যায় থেকে উৎপাদন ও বিতরণ নীতিমালার সংস্কার, দেশীয় ও প্রবাসী জনশক্তি ব্যবস্থাপনার সংস্কার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার-সংক্রান্ত আইনের সংস্কার, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অনুদান নীতিমালার সংস্কার এবং ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের সংস্কার।’

 

 

 

মাহামুদুল হাসান এমন ২০টি সংস্কার কমিশনে কাজ করার দাবি করলেও বাস্তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল ১১টি। সেই ১১ কমিশনের সদস্যদের তালিকা খুঁজে কোনোটিতেই মাহামুদুল হাসানের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের সঙ্গে। তিনি মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি উনাকে চিনি না। পারসোনাল ক্যাপাসিটিতে বলতে পারি—আমি উনাকে চিনি না।’

 

 

 

বিবিএতে ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি: ১৯৯৯ সালে মাহামুদুল হাসান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হন। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভর্তি হলেও কোর্স শেষ করেননি তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালবেলা। মাহামদুল হাসানের বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার আহমেদ তাজমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গত ৭ এপ্রিল কালবেলাকে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘এম মাহামুদুল হাসান ১৯৯৯ সালের ফল সেমিস্টার থেকে ২০০৩ সালের সামার সেমিস্টার পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আমাদের নথি অনুযায়ী, তিনি এনএসইউ থেকে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি।’

 

 

 

 

সাবেক স্ত্রীর বয়ানে প্রতারণা-জালিয়াতি-নির্যাতনের রোমহর্ষক তথ্য: আরও বিস্তারিত জানতে কালবেলা খুঁজে বের করে মাহামুদুলের সাবেক স্ত্রীকে, যার সঙ্গে এক যুগ আগে বিচ্ছেদ হয়েছে। প্রথমে তিনি ভয়ে কথা বলতে চাননি। নিজের ও একমাত্র সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার মাহামুদুলের একের পর এক ভুয়া মামলায় জর্জরিত।

 

 

 

অনেক চাপাচাপির পর তিনি বলতে শুরু করেন, মাহামুদুল তিন দিনের সরকারি সফরের কথা বলে হঠাৎ বিয়ে করেন। পরে জানা যায়, তিনি লন্ডনে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগে তার ‘ইউকে ইমিগ্রেশন ব্যান’ হয়। পরে মাহামুদুল অন্য পাসপোর্ট ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে আবার বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এমন একের পর এক প্রতারণার প্রতিবাদ করলে মাহামুদুল তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। একদিন শারীরিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তখনই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সন্তান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। তখনই তার প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসে। সিদ্ধান্ত নেন এ প্রতারকের সঙ্গে আর সংসার করবেন না। অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে এনে একাই তাকে লালন-পালন করবেন।

 

 

 

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তালাক দেওয়া যায় না, সেই চিন্তা থেকে তখনো মাহামুদুলের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যান ওই নারী। কিন্তু দিন দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল। ওই নারী বলেন, ‘মাহামুদুলের করা একের পর এক ভুয়া মামলায় আমি ও আমার পরিবার জর্জরিত। আত্মীয়স্বজন, এমনকি বৃদ্ধ মা-বাবার নামেও জঙ্গি মামলার অভিযোগ দেওয়া হয়। র্যাব বা পুলিশ বলত, এসব অভিযোগ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে। পরে থানায় গিয়ে প্রমাণ দিতে হতো মাহামুদুল আসলে একজন প্রতারক।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তান জন্মের পর মাহামুদুল ও তার পরিবার যৌতুকের জন্য আমার পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। টাকা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা করে এবং টাকার জন্য অপহরণের চেষ্টাও করে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গণমাধ্যমগুলোকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমার বাবার অফিসে গিয়ে তাকে দুর্নীতিবাজ বলে শাসাতেন। পুরো গর্ভাবস্থায় আমি একা ছিলাম। তার অত্যাচারে পরিবারও আমার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়ে। শুধু অপেক্ষায় ছিলাম গর্ভের সন্তান কবে পৃথিবীতে আসবে। শেষে সন্তান জন্মের পরপরই আমি তাকে ডিভোর্স দিই।’

 

 

 

 

ওই নারী জানান, তার ছেলের বয়স এখন ১৬ বছর। এই ১৬ বছর একাই লড়াই করে সন্তানকে লালন-পালন করেছেন, ভালো স্কুলে পড়িয়েছেন এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুস্থ পরিবেশে বড় করে তুলেছেন। প্রতিদিন তার একটাই চিন্তা ছিল—সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, নিরাপদ ও সুস্থ আছে কি না। সন্তানের জন্য তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম ক্লাস নিয়েছেন অতিরিক্ত খরচ জোগাতে।

 

 

 

ওই নারী আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর মাহামুদুল পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে আমার ঠিকানা ও সন্তানের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেন। কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে তাকে আবার আমাদের পেছনে লাগিয়ে দেন। মাহামুদুল সন্তানের মানসিক অবস্থার কথাও ভাবেননি এবং শুধুই হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা করে ছেলের ইমিগ্রেশন আটকে রেখেছেন। ফলে আমি ছেলেকে রেখে ওমরা, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য বিদেশেও যেতে পারছি না।’

 

 

সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বর্ণনায় মাহামুদুল হাসান: এআইইউবিতে গেস্ট টিচার হিসেবে চাকরি করেছেন মাহামুদুল হাসান। সেখানে মাহামুদুল হাসানের ছাত্র ছিলেন— এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে কালবেলার। তাদের একজন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘২০১২-২০১৩ সালের দিকে আমি তখন মেজর পদবির একজন অফিসার হিসেবে ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলাম। একই সময়ে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে আমি এআইইউবিতে এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হই। সেখানে এইচআর কোর্সের প্রথম ক্লাসে একজন ফ্যাকাল্টি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে। প্রথম দিন তিনি কোনো একাডেমিক ক্লাস না নিয়ে মূলত উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইউকেতে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড নেন। তিনি ক্লাসে না পড়িয়ে নিজেকে শো-অফ করতেন। যেমন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি সারা দিন কাজ করেন। তিনি এত ব্যস্ত যে সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন হাই অফিসিয়াল তার কাছে সহায়তা চান, কিন্তু তিনি যেতে পারেন না।’

 

 

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কয়েকদিন পর মাহামুদুল হাসান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে তার অফিসে ডাকেন। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের সঙ্গে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন—একজনের কাছে তিনি ৫ লাখ টাকা পাবেন, ওই ব্যক্তি টাকাটা দিচ্ছেন না। পরে আমি তাকে বলি—এ বিষয়ের জন্য আপনি ডিজিএফআইয়ের ডিজির কাছে যাবেন! আপনি তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বললেই পারেন। পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও তো শুনেছি আপনার ভালো সম্পর্ক, তাকে বললেও পারেন। তখন তিনি বলেন, এত ছোট বিষয়ে তাদের বলা যায় না। আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য হয়ে এমন অনুরোধ এবং তার আচরণ আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। ফলে আমি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাই।’

 

 

 

খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে জানতে পারি সেখানে আমার অন্য ক্লাসমেট ছিল এসএসএফে—তাকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শিডিউল নিয়ে দেওয়ার জন। আরও অন্য যারা সহপাঠী ছিল সবাইকে উনি বিভিন্ন জায়গায় লিংক-লবিং করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন। পরে আমার নিজেরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই উনাকে আমরা কোথাও লিংক করিয়ে দেব না। এরপর উনি ক্লাসে আমাদের থ্রেড দিতে থাকেন যে— কোর্সে নম্বর কম দেবেন! পরে আমরা এআইইউবি কর্তৃপক্ষকে তার বিষয়ে বলি, কিন্তু তারা জানায়—উনার রেফারেন্স (উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশ) আছে। রেফারেন্সের জন্যই নেওয়া (চাকরিতে) হয়েছে।’

 

 

 

জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদ পান যেভাবে: ৫ আগস্টের পর কিছুদিন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লিংক-লবিং করার চেষ্টা করেন মাহামুদুল। এ সময় তিনি তার সঙ্গে থাকা পুরোনো ছবি ব্যবহার করেন। পরে বিষয়টি তার পূর্বপরিচিত এক সাংবাদিকের নজরে এলে তিনি বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জানান। এরপর তার সেখানে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও জায়গা না পেয়ে সর্বশেষ আশ্রয় নেন জামায়াতে ইসলামীতে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি যাতে আবারও প্রতারণা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য জামায়াতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। সুচতুর মাহামুদুল একপর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। কিন্তু জামায়াত আমিরের অনুমতি না নিয়ে নিজেকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে দলীয় প্যাডে চিঠি পাঠান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদসহ জামায়াত ইসলামী থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

 

 

জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য: জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কালবেলাকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৬-এর জানুয়ারি পর্যন্ত উনি (মাহামুদুল হাসান) আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। উনার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। ২৪-পরবর্তী সময়ে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে যোগাযোগ শুরু হয়। তখন যোগাযোগ রক্ষার্থে হাইকমিশন বা দূতাবাসে যে চিঠি দেওয়া লাগে, সেজন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উনার একটা ফার্ম আছে, উনি এসব কাজ করেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে উনাকে আমিরে জামায়াতের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে কালবেলাকে কোনো সাড়া দেননি মাহামুদুল: অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে সব ধরনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হয়। তারও কোনো জবাব দেননি তিনি। তবে একবার মোবাইল ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আর কোনো কথা বলেননি। প্রায় ৪৪ সেকেন্ড ফোন লাইনে নীরব থাকার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

 

 

পরবর্তী সময়ে তার ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকা তিনটি টিঅ্যান্ডটি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে একটি নম্বরে ফোন রিসিভ করা হলেও ওপাশ থেকে কোনো কথা বলা হয়নি। একই নম্বরে তিনবার ফোন দিলে দুইবার রিসিভ করা হয়—একবার ১২ সেকেন্ড এবং আরেকবার ৪১ সেকেন্ড সংযোগ চালু থাকলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ সময় ফোনের এপাশ থেকে বারবার পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। নম্বরটির ট্রুকলার তথ্যেও তার নাম প্রদর্শিত হয়।

 

 

 

সবশেষে তার বক্তব্য জানার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট ১২টি প্রশ্ন পাঠানো হয়। বার্তাগুলো ডেলিভার হলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া দেননি।

 

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রীর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকরভাবে করারোপ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

 

 

বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় সংসদসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষটি তুলে ধরার হবে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।

 

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান; এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে। কারণ নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোন একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি জর্দা, গুল ও বিড়ি সহজলভ্য হওয়ায় তামাক ব্যবহার আরও বাড়ছে।

 

 

 

তাই আসন্ন অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা, ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।

 

 

 

তামাকপণ্যে প্রস্তাবিত এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

শেখ মোমেনা মনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। ফলে তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে সরকার একদিকে, তামাকজনিত রোগের বোঝা কমাতে এবং অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন মিশনের ভাইস সহ-সভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা ও তাসনিম হাসান আবির।

 

 

পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের উত্তর অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলে বিশেষ করে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করব। সীমান্তের ওপারে ব্যারেজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে কিন্তু খরা মৌসুমে আমরা পানি কম পাচ্ছি। এই ব্যারেজটি এই জন্য করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষায় বলুন বা খরা মৌসুম বলুন, আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক যেন ঠিক সময়ে পানি পায়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি আলহামদুলিল্লাহ এবং আমরা আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই খাল খননের সাথে কৃষি জড়িত। তাই যেভাবেই হোক আমাদের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।’

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তালগাছ রোপণ ও একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সুত্র: কালবেলা

 

 

তাড়াশে কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল চুরি প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে পাহারা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। পুলিশের পাশাপাশি বাসিন্দাদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে রাতজাগা পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোদিঘি, বিনোদপুর, খালকুলা, নওগাঁ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। এতে সহযোগিতা করছে পুলিশ। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের নিয়ে গঠিত দল বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শতাধিক অস্থায়ী বাঁশের চেকপোস্ট বসিয়েছে। সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ঠেকাতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৩ থেকে ৮ জন সদস্য রয়েছেন। তারা জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতদিন পালা করে টহল দিচ্ছেন।
পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি খামারিদের পশু নিরাপদে রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবার পুলিশের পাশাপাশি গ্রামবাসীর সমন্বয়ে পাহার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগে এবার কোরবানির পশু নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।

আগৈলঝাড়ায় শিশু সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স কর্মসূচির আওতায় এই অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক।

 

 

 

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতিন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, শিখা প্রকল্পের প্রোজেক্ট অফিসার অনিক বিশ্বাস, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা, কমিউনিটি ভলান্টিয়ারসহ ব্র্যাক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। ।

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, যৌন হয়রানি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়। এটি শিশু ও নারীদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র নারীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।

 

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই।

 

 

 

রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, শিখা প্রকল্প’ যেন এমন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।

 

 

 

ব্র্যাক বরিশাল জেলার টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, শিখা প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। এধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

 

 

 

আয়োজিত এ সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা, যৌন হয়রানি, বাল্য বিবাহ, বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা করা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

 

 

গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কম্পাউন্ডে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

“অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন। তিনি অনুষ্ঠানের আগে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও এর বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মোঃ ফিরোজ মিয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী

আলোচনা সভা শেষে একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, গজারিয়া থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাণীনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার-৭

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চুরি, মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন দোকান ও গরু চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজন, নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ দুইজন এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজন।

চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কালীগ্রাম এলাকার শরিফুল ইসলাম এবং গরু চুরির মামলায় পূর্ব বালুভরা গ্রামের এনামুল হককে আটক করা হয়। এছাড়া পারইল গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ভবানীপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামকে ৪৫ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে চকবলরাম গ্রামের আজাহার আলী ও তার স্ত্রী রহিমা বিবি এবং পশ্চিম বালুভরা গ্রামের লিটনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাণীনগর থানা-র ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার গ্রেফতার ৭ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‎হোসেনপুরে সিদলা ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

‎পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নে দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎বুধবার (২০ মে)  সকালে সিদলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ আহমেদ,ইউপি সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক, বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মমিন মিয়াসহ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
‎এ সময় দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করা হয়।
‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে এ ইউনিয়নের ৬৩৪৭  টি  নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হিলিতে ঈদ উপলক্ষে ৩ হাজার ৮৫ পরিবারে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভায় অতিদরিদ্র, অসহায়, দুঃস্থ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বিনামূল্যে ১০ কেজি হারে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার ২০ মে সকাল থেকে হাকিমপুর পৌরসভা চত্বরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর অধীনে হাকিমপুর পৌরসভায় ৩,০৮৫টি অতিদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১০ (দশ) কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
​হাকিমপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আসন্ন ঈদে যেন কোনো দরিদ্র পরিবার খাদ্যকষ্টে না ভোগে, সেই লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। চাল নিতে আসা সাধারণ মানুষ সরকারের এই মানবিক সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এতে তাদের ঈদের আনন্দ আরও সার্থক হবে বলে জানিয়েছেন।
চাল নিতে আসা মোছাঃ ছকিনা বেওয়া বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে সরকারের কাছ থেকে আমরা ১০ কেজি চাল পাই এবং পেয়ে অনেক খুশি হই। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। এই চাল আমাদের ঈদে অনেক উপকারে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাকিমপুর পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ।

ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর কামারপল্লী ,বেড়েছে বাড়তি ব্যস্ততা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটির বাড়তি চাহিদায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন কাজ করছেন কামারশিল্পীরা।
কামারশালার ছোট ছোট চুল্লিতে জ্বলছে কয়লার আগুন, হাপরের বাতাসে লাল হয়ে ওঠা লোহা দক্ষ হাতুড়ির আঘাতে রূপ নিচ্ছে ধারালো দা, ছুরি ও বঁটিতে। চারদিকে ঠুং-ঠাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লী।
সরেজমিনে উপজেলার নিমগাছী, চান্দাইকোনা ও বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। অনেকেই আগে থেকেই ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধার করাতে নিয়ে আসছেন। দোকানের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি।
কারিগররা জানান, মান ও আকারভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক কারিগর কাস্টম অর্ডারেও সরঞ্জাম তৈরি করছেন।
নিমগাছী বাজারের কামারশিল্পী শ্রী সাধন কর্মকার বলেন,“ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার সময়মতো দিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ খুব বেশি থাকে না।”
কারিগর গনেশ কর্মকার বলেন,
“সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম। সরকারি সহায়তার অভাবে অনেকেই পৈত্রিক এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন।”
আরেক কারিগর প্রানেশ কর্মকারের ভাষায়,“আমাদের পূর্বপুরুষরাও এই পেশায় ছিলেন। আমরাও ধরে রেখেছি। কিন্তু এখনকার তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ কষ্ট বেশি, আয় তুলনামূলক কম।”
কারিগরদের দাবি, লোহার পাত, কয়লা, কাঠের হাতলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।
চান্দাইকোনা হাটে দা-ছুরি কিনতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন,“কোরবানির ঈদ সামনে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় দা-ছুরির দাম অনেক বেশি।”
অপর ক্রেতা মজিদ হোসেন বলেন,
“ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার পুরোনো ছুরি শান দিতেও ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কামার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যবাহী এই লোহাশিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ যেমন কামারদের ব্যস্ততা বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের মুখে এনে দিয়েছে সাময়িক স্বস্তির হাসি। তবে এই হাসিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নরসিংদীর পলাশে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রামিম নামে এক ৯ বছরের শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২০ মে) ভোরে জেলা শহরের আরশীনগর ও রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃত সবুজ মিয়া (২৭) গজারিয়া ইউনিয়নের চরকারারদী গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে।

 

 

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সবুজ হত্যা মামলার পর থেকে পলাতক ছিল। গোপনে অন্যস্থানে পালিয়ে যাওয়ার সময় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সবুজকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

 

 

 

এর আগে, গত ৬ মে পলাশের গজারিয়া বাজারে রামিম নামে ৯ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক একটি রিকশার গ্যারেজে নিয়ে হাওয়ার মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথ ও মুখে বাতাস ঢুকায় অভিযুক্ত সবুজ, ফয়সাল, শিশির ও বাবু নামে চার যুবক। পরে শিশুটি গুরত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

 

 

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা রিপন মিয়া বাদী হয়ে অভিযুক্ত চার যুবকের নামে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে শিশুটিকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল অভিযুক্তরা।

 

 

রায়গঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৭১ হাজার পশু, বাড়তি ৪৪ হাজার যাবে দেশের বিভিন্ন জেলায়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এ প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু। দিনরাত পরিশ্রম করে লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
উপজেলার বিভিন্ন বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে ঘাস উৎপাদন বেশি হওয়ায় এখানে গরু-ছাগল পালন তুলনামূলক সহজ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রতি বছরই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু সরবরাহ করা হয়।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। তারপরও ভালো দামের আশায় পশু লালন-পালনে কোনো কমতি রাখছেন না তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৫৪৬টি ষাঁড়-বলদ, ৭৯৮টি মহিষ, ৪২ হাজার ৬২৮টি ছাগল এবং ৯ হাজার ১০০টি ভেড়া। সব মিলিয়ে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৭২টি পশু।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৩২৮টি পশু। চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার ৭৪৮টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, বিল ও নদীকূল এলাকায় প্রচুর প্রাকৃতিক ঘাস থাকায় রায়গঞ্জে স্বাস্থ্যসম্মত ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করা হয়। এ কারণে এ অঞ্চলের কোরবানির পশুর চাহিদা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে স্পষ্ট অবস্থান প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।

 

 

তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

 

কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।

 

 

অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।

কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।

 

 

রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ১৯ দিনেই এলো ২৪৮ কোটি ডলার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

 

বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

 

তিনি জানান, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবার-স্বজনদের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

 

 

হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৫ চিঠি পাঠিয়েছিল ইউনিসেফ

দেশে হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ৬টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠকও করা হয়।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এ তথ্য জানান।

 

 

 

কোনো মহামারি হঠাৎ করে তৈরি হয় না উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।

টিকা সংকটের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছেন বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান। তিনি বলেন, একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখের তথ্য এখন জানা নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

‘২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫-৬টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যিনি নতুন করে এ দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে,’ যোগ করেন ফ্লাওয়ার্স।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অন্যতম কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। গত বছর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

 

 

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা কেনা সাধারণ ওষুধ কেনার মতো নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি প্রক্রিয়া। এখানে শুধু কম দামের বিষয়টি বিবেচ্য নয়, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

এছাড়া উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

 

ইউনিসেফ ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস ও পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছিল বলে জানান তিনি। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, তাই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট ছিল, দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।

 

 

 

তবে এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের ইউনিসেফ প্রধান বলেন, এখন এমনভাবে টিকাদান প্রক্রিয়া কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়।

 

 

 

এছাড়া দেশে এখন ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে বলেও জানান ইউনিসেফের এ প্রতিনিধি।

 

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে কোচ আজীবনের জন্য বহিষ্কার

গোপনে নারী ফুটবলারদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছিল চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের কোচ পিটার ভ্লাচোভস্কির বিরুদ্ধে। যে কারণে তাকে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। চেক গণমাধ্যম বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

 

 

এর আগে এফসি স্লোভাচকো ক্লাবের নারী ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের দায়ে পিটারকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং দেশীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের কোচিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যেসব খেলোয়াড়ের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক ফুটবলার। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কোচ অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন বলে চেক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

নতুন করে তাকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে এক বিবৃতিতে উয়েফার কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) জানিয়েছে, ‘সম্ভাব্য অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে একজন এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি ইন্সপেক্টর নিয়োগের পর ভ্লাখোভস্কিকে আজীবনের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিইডিবি ফিফার কাছে এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার অনুরোধ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পিটার ভ্লাখোভস্কির কোচিং লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।’

চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় নারী দলের কোচ হওয়ার আগে ভ্লাখোভস্কি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এফসি স্লোভাচকোর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। ২০২৩ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এটি আমাদের ক্লাবের ওপর, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।’

 

২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে বর্তমান দরের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে পিডিবি।

 

 

 

শুনানিতে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে খাতটি বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে বলে দাবি করেন সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।

তবে পিডিবির এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের দায় গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বরং কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

 

গণশুনানিতে অংশীজনরা আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে এবং শিল্প ও উৎপাদন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

এর আগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় চারজনের ফাঁসির আদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

 

 

 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

বিগত ২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোপূর্বে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

সেনবাগে ইয়াবাসহ ৩ আসামি আটক

নোয়াখালীর সেনবাগে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মামলার ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে ২০২৬) সেনবাগ থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩টি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়েছে। এছাড়া, একটি জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক বছর তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি এবং নিয়মিত মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

রায়গঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, সাজাপ্রাপ্ত আসামিও আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও এক আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত (২০ মে ) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি বাজার এলাকা থেকে ফয়সাল (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ফয়সাল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দেওভাঙ্গা এলাকার আকতারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় পূর্বে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে একই অভিযানে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল মন্ডল (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকার আয়নাল মন্ডলের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বেলকুচিতে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বুধবার সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকপ্রশিক্ষণ হলরুমে কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। মেধাবী জাতি গঠনে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বাণিজ্যিকিকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি আমরা। এই লক্ষ্যে কৃষাণ-কৃষাণী পর্যায়ে দল গঠন করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠিত করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়াও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছাব্বিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাব্বির আহাম্মেদ শুভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিনসহ বিভিন্ন ব্লকের কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

নিজ দোকানে গলাকাটা অবস্থায় পড়েছিল ব্যবসায়ী

সিরাজগঞ্জে নিজ দোকান থেকে আজিমুল ইসলাম আজিম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গলা কাটা অবস্থা উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

বুধভার (২০ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর সুপার মার্কেটের মেসার্স শীতল ফ্যাশন নামে দোকানের ভেতের থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ী আজিম শহরের হোসেনপুর মহল্লার মো. রবিউল আলমের ছেলে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে আজিম তার দোকান খোলেন। তখন মার্কেটের অধিকাংশ দোকানই বন্ধ ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আজিমের দোকানের বন্ধ সাটারের নীচ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসছিল। এটা দেখে স্থানীয়রা সাটার খুলে দোকানে ঢুকে আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তার গলা কাটা ছিল।

 

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিজ দোকানের ভেতর থেকে ব্যবসায়ী আজিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার গলা কাটা রয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বারা কেউ বলছেন ঋণের দায়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

 

অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচিত হবে না : ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

 

 

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

 

 

 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাজধানী গড়ে তুলতে কাজ করছে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএমপি।

 

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুবিধা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ‘হ্যালো ডিএমপি’ ও হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেমও চালু করা হয়েছে।

 

 

 

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিং মল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

 

 

 

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

গণমাধ্যমের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক কাজগুলোও তুলে ধরা উচিত, যাতে নগরবাসী আরও সচেতন হয়।

 

 

আওয়ামী লীগ ফিরে আসেনি, তারা ছিলই: আসিফ নজরুল

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, ‘আওয়ামী লীগ ফেরেনি, তারা ছিল।’

 

 

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এমন দাবি করেন ঢাবির এ শিক্ষক।

 

 

 

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

এর আগে মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন। এর প্রথমটিতে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’ কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন তিনি।

এ স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পাল্টা স্ট্যাটাসে মাহফুজ লেখেন, ‘যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা।’

 

 

চুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে যুবক নিহত

‎বগুড়ার শেরপুরে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিহত হন।

 

 

 

‎‎নিহত যুবকের নাম রাফি মন্ডল। তিনি ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের বুলু মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

 

 

 

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের কুসুম্বি ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করেছিলেন।

 

 

‎‎গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করলে ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকপক্ষের মোবাইল ফোনে কল চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে রমজান আলী ও আব্দুল জলিল চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই যুবককে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন।

 

‎‎স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

 

‎‎শেরপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

নদীভাঙনে সব হারিয়ে জিওব্যাগই এখন ভরসা নিঃস্ব দম্পতির

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বিকেলের শেষ আলো যখন পানির ঢেউয়ে ঝিকমিক করে ওঠে, তখন নদীর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন নুরজাহান বেগম। যেন নদীর বুকের ভেতরেই খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প। যে নদী একসময় ছিল তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের সঙ্গী, সেই নদীই আজ কেড়ে নিয়েছে সহায়-সম্বল, বসতভিটা আর স্বাভাবিক জীবন।

 

 

 

বরিশালের বাবুগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনের শিকার হাবিবুর রহমান ফকির ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চার দফা ভাঙনে তাদের প্রায় ৬৫ শতক জমি, বাড়িঘর, গাছপালা ও দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী রক্ষায় ফেলা সরকারি জিওব্যাগের ওপর অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি ছোট টিনের ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরেই দিন কাটছে বৃদ্ধ দম্পতির। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে অনেক সময় ঘরের নিচ দিয়ে স্রোত বয়ে যায়। কখনও পানি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরেও। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয় আশপাশের লোকজনের বাড়িতে। তারপরও জন্মভূমির মায়া ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারেননি তারা।

 

নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এই জায়গার সঙ্গে আমাদের পুরো জীবন জড়ানো। আগে জমিতে ফসল হতো, সেই ফসল বিক্রি করে সংসার চলত। বাড়িঘর, জমিজমা— সব নদী গিলে খাইছে। এখন শুধু স্মৃতিগুলোই আছে। নদীর দিকে তাকাইয়া সেগুলাই মনে করি।’

 

 

কথা বলতে বলতে বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন তিনি। চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল দীর্ঘদিনের কষ্ট আর অনিশ্চয়তার ছাপ। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন চলে। তবুও মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। আল্লাহ যেভাবে রাখছে, সেভাবেই আছি।’

 

 

স্বামী হাবিবুর রহমান ফকির জানান, একসময় তিনি এলাকায় সচ্ছল মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কৃষিজমির আয়েও ভালোভাবেই চলত সংসার। কিন্তু নদীভাঙনের আঘাতে সবকিছু হারিয়ে আজ তিনি প্রায় নিঃস্ব।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটায় জন্ম হইছে, বড় হইছি। চারবার ঘর নদীতে গেছে। সব শেষ হওয়ার পরে সরকার জিওব্যাগ ফেলছে। এখন সেই জিওব্যাগের ওপরেই ঘর কইরা থাকি।’

 

 

 

নদীভাঙনের দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন বলেও জানান তিনি। বর্তমানে কানে কম শোনেন এবং আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আয়ও অনেক কমে গেছে। তাদের দুই ছেলে আলাদা পরিবার নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকেন। তারাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে তেমনভাবে দাঁড়াতে পারছেন না।

 

 

 

এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এই অঞ্চলের বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও অনেকেই স্মৃতির টানে এখনও নদীপাড় আঁকড়ে পড়ে আছেন।

 

 

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লেগেছে। আমি পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

 

 

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। আমরা তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করব। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে হাইকোর্টের বিস্ময়

আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২০ মে) সকালে এ তথ্য জানান আইনজীবী শিশির মনির।

 

 

 

 

তিনি বলেন, আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সচিবালয় বিলুপ্ত করায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে বলেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব?’

 

 

 

 

পরে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কার্যক্রম বিলুপ্ত করে সরকার আদালত অবমাননা করেছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে এবং আবেদনটি তিনি নিজেই করবেন।

এ আইনজীবী আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

 

এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশটি বাতিল করে বিএনপি সরকার।

 

 

 

তবে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত রায়ে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও এখনো আপিল করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আশা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।