দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য অর্থ। শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন দেশের শীর্ষ মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা।
তাদের অভিযোগ- দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রায় চার হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে এই লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সাবেক কর্মী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মীদের অনেকের হাতে ছিল দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘ অপেক্ষার কথা, কেউ বলছিলেন জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা।
সাবেক এক কর্মী আহসানুল হক বলেন, আমি ১৫ বছর গ্রামীণফোনে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের শ্রম ও মেধা দিয়েছি; কিন্তু অবসরের পরও প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আদালতের আইনি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এখন আর বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বছরের পর বছর তাদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক সাবেক কর্মী মারা গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী সুলেমান মেহেদী বলেন, প্রায় চার হাজার সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার এই অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান চাই।

শফিকুল হত্যার জট খুলল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একজন পলাতক আছে।
নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও জেলার মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) পৌর শহর ও মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলের পার ঘাঁটি ব্রিজে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈমকে নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তামিম
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:৫০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামে জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।
শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে নিজের বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন নাঈম। ঘটনাটি জানার পরপরই গভীর রাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন খোদ বিসিবি সভাপতি।
এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’
ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বোর্ডের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আজকে সকালেই। এরপর আরো যা যা করণীয় আছে, সবকিছু করব আমরা। নাঈম ও সব ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি সবসময়।’
নাঈমের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদরাও। তাসকিন নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’
নাঈমের হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন ভালো মানুষ। নাঈম হাসানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। খুবই হৃদয়বিদারক এটা।’
শনিবার সকালে দেওয়া বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলে।
বিসিবি সভাপতির এমন শক্ত তৎপরতার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

কক্সবাজার সফরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন তারা। এসময় পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।
এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে মুষল বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমাধান কি হাসপাতাল বন্ধ, নাকি জবাবদিহি নিশ্চিত করা?
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৫:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের কথা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। নবজাতকদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে একইসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে- ভুল বা অপরাধ কী কোনো প্রতিষ্ঠান করে, নাকি তা করে ব্যক্তি?
বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল বা অপরাধ করে না; বরং ভুল বা অপরাধ করে ব্যক্তি- চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একটি হাসপাতাল কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা, আশা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে দীর্ঘ সময়, বিপুল বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, ত্যাগ এবং সামাজিক আস্থার ভিত্তিতে। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি বৃহৎ সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বর্তমানে সেখানে কয়েকশত শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ হাসপাতালে শালীনতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাজনিত মৃত্যু বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দিন দিন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা যেমন জরুরি, তেমনি সেবার পরিবেশ ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের বাস্তবতায় সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে পারছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের একক প্রচেষ্টায় দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অযাচিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম হঠাৎ স্থগিত হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা- আইনের প্রয়োগ যেন কখনোই কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বলা বাহুল্য, আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, শিক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমনসহ সব ক্ষেত্রেই আইনের নিরপেক্ষ, সমান ও বৈষম্যহীন প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, আইনের প্রয়োগ যদি বেছে বেছে বা বৈষম্যমূলকভাবে করা হয়, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
সর্বোপরি, আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সম্ভাব্য গাফিলতির দায়ে দীর্ঘদিনের সেবামূলক একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া বা এর লাইসেন্স বাতিল করা কোনো অবস্থাতেই ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ পরিস্থিতির তুলনায় অধিক জটিল বলে মনে হচ্ছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটি কোনো কার্যকর সমাধান বা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে হয় না।
আমাদের দেশে যেখানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এখনো সীমিত, সেখানে একটি কার্যকর হাসপাতালের সেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে হাসপাতাল বন্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই সমীচিন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আবেগতাড়িত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, কিংবা আইনের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন প্রয়োগ নিশ্চিত না করে, এদেশে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থা কী গড়ে তোলা সম্ভব?
প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী
ভাইস চ্যান্সেলর
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

সেনবাগে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার
- মো.ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নামার আগে চুরির শিকার ইংল্যান্ড দল, ফুটবলারদের বুট উধাও
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের বেইস ক্যাম্প ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর আগেই চুরির শিকার হয়েছে থমাস টুখেলের দল। খোয়া গেছে ফুটবলারদের অনুশীলনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোচ থমাস টুখেল ও তার শিষ্যদের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের আগমনের আগেই সব সরঞ্জাম বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ)।
কিন্তু ক্যানসাস সিটির ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় চোরেরা। গাড়িগুলোর একাংশ ভেঙে ভেতর থেকে মালামাল লুট করা হয়।
ঠিক কী কী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি এফএ। তবে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত অফিশিয়াল ফুটবল (বল), খেলোয়াড়দের বুট, অনুশীলনে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত সোয়োপ সকার ভিলেজে ছোটেন এবং তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে এফএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে থ্রি-লায়ন্সরা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল, প্রভাব মায়সানেও
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৫:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার সকালে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কম্পন ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মায়সান প্রদেশজুড়ে টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ইরানের দেহলোরান শহরের কাছে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু এলাকায় কম্পন বেশ শক্তিশালী ছিল, আবার কোথাও তা তুলনামূলকভাবে হালকা অনুভূত হয়।
তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরাকের আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরাকের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দেশটিতে ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় মোট ৩৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি ইরাকের ভেতরে এবং ২০টি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্টিয়ারিং হাতে, যাত্রী আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। কর্মসূচি শেষেও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারার সাফারি পার্কে তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর চালকের আসনে বসে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা।
দিনব্যাপী এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো যুবদল নেতা মাসুদকে
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৫২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ জনতা জানান, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভিডিও বিতর্কে পদ হারালেন নারী প্যানেল চেয়ারম্যান
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে আটক
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৪:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
পুলিশ দাবি করছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
শনিবার বেলা ১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জিসান মিয়া প্রধান গত ২০ মে দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি জিসানের কাছে বিয়ের দাবি জানালে জিসান প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সামছুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও প্রতারণামূলক একটি ঘটনার জেরে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।


ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ 



















































































One thought on “১৫ বছর পার, তবুও বকেয়া পাননি গ্রামীণফোনের কর্মীরা”