সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে কোন দল? একই উত্তর দিল চার এআই চ্যাট বক্স

এমবাপে, মেসি ও ইয়ামাল। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও শুরু হলো ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভবিষ্যদ্বাণী। এখনও পর্যন্ত কয়েকটি হেভিওয়েট দল যাত্রা শুরু করেনি। যে তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স এবং স্পেন। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে একাধিক দলের খেতাব জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

আর এই তালিকায় রয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, রানার্স ফ্রান্স এবং শক্তিশালী স্পেন। একাধিক চ্যালেঞ্জার রয়েছে। কিন্তু ১৯ জুলাইয়ের রাতে শেষ হাসি কে হাসবে? চারটে এআই চ্যাট বটসকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সবাই একই দলের নাম নেয়। এই তালিকায় ছিল চ্যাট জিপিটি, ক্লাউড এআই, গুগল জেমিনি এবং কো পাইলট। প্রত্যেককেই একই প্রম্পট দেওয়া হয়। জিজ্ঞেস করা হয়, কে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জিতবে? সবাই স্পেনের নাম নেয়। দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্স।

 

 

 

চ্যাট জিপিটি জানায়, ‘পরিসংখ্যানের বিচারে এই মুহূর্তে যদি কোনও দলকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে ফেভারিট স্পেন।’ গুগল জেমিনাই বলে, ‘বর্তমান পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে স্পেন। ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে ফ্রান্স।’ ক্লাউড অ্যাপের সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যায় প্রথম দুইয়ের। ক্লাউড জানায়, ‘এই মুহূর্তে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা স্পেনের। কিছুটা ফ্রান্সের থেকে এগিয়ে। ৪৮ দলের মধ্যে ওদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। প্রতিভাবান দলে লামিন ইয়ামাল রয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট সবে শুরু হয়েছে। অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

কো পাইলটও এই ভবিষ্যদ্বাণীতে সায় দেয়। জানায়, ‘সম্প্রতি বেটিং মার্কেট, ডেটা মডেল, র‍্যাঙ্কিয়ের বিচারে নির্দিষ্ট একটা দলকে ফেভারিট বাছা যায় না। তবে একটা দলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেটা স্পেন। তাদের ১৬-১৭ শতাংশ সুযোগ রয়েছে। যা সর্বোচ্চ। শক্তিশালী দলের পাশাপাশি ইউরো চ্যাম্পিয়ন।’

অর্থাৎ, সবকিছু বিচার করে দেখা যাচ্ছে, এআইয়ের জগতে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সব ঠিক এগিয়ে স্পেন। কিন্তু এখনও বিশ্বমঞ্চে নামেননি ইয়ামালরা। আজ সোমবার রাতে স্পেনের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আনকোরা কেপ ভার্দে। জার্মানির মতো বিশাল জয় দিয়ে কি শুরু করতে পারবে ইউরোপ সেরারা?

 

নোয়াখালীর নতুন পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ

নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন।
সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নবাগত পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা!

 

না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালে। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের মুম্বাইয়ের নালাসোপাড়ায় নিজ বাসভবন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে সঞ্চিতার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, অভিনেত্রী সঞ্চিতা । 

 

 

 

আচোলে থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক বিনোদ বাঘ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নিজের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সঞ্চিতা। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সঞ্চিতাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

 

 

 

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। অভিনেত্রীর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ (এডিআর) নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। 

 

 

 

মৃত্যুর আগে সামাজিক মাধ্যমে সঞ্চিতার শেষ পোস্টও নজর কেড়েছে তাঁর অনুরাগীদের। শনিবার একটি রিল পোস্ট করেছিলেন তিনি, সেখানে খুব হাসিখুশি ভাবেই ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন অভিনেত্রী। একটি প্রাণবন্ত গানের সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই ভিডিওর মন্তব্যে শোকপ্রকাশ করছেন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক কী হয়েছিল! ওই রিলটি পোস্ট করার মাত্র ১৮ ঘণ্টা পরেই তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। 

 

 

 

অল্প সময়েই টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন সঞ্চিতা উগালে। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে দিয়া ট্যান্ডন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এ ছাড়া ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’তে রুচিতা চরিত্রেও অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। 

 

 

 

ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন সঞ্চিতা। ‘ছাবা’ সিনেমায় ভিকি কৌশলের অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত তারা রানির কনিষ্ঠ বয়সের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি 

 

 

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ, কোথায় যাবে কোনটি?

 

রাজধানীর ৪টি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

 

চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হলো, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

 

সভায় জানানো হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। সভায় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যানজট নিরসনে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেটি নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে। একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’

 

 

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের উচ্ছেদ না করে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও না রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

 

 

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর যাতে বাস দাঁড়িয়ে না থাকে, সে জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’

 

 

 

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কামারখন্দে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কামারখন্দ থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাশমত আলীর নেতৃত্বে এসআই বাবুল আক্তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোর জেলার সিংড়া থানা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয়— সিরাজগঞ্জের সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), হৃদয় হাসান (২৬), এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা এলাকার বাসিন্দা এবং এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. ইমদাদুল হক ও মো. সুজন (৩১), শাহজাদপুর উপজেলার বাওসাগরি এলাকার বাসিন্দা। মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১), নাটোরের সিংড়া উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জয়নব খাতুন (স্বামী-সবুজ মিয়া), কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকুল এলাকার বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করে সোমবার ১৫ জুন দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাদেক আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির ৫টি মামলা, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি, সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি, সবুজের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ৫টি এবং ইমদাদুলের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক আলী কামারখন্দ থানার টিটিসিতে ডাকাতি, নাটোর সুগার মিলে ডাকাতি, রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতি এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার পপুলার পলিথিন কারখানায় ডাকাতিসহ আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, হৃদয় হাসান, সুজন ও ইমদাদুল এর আগে নাটোর সুগার মিল, কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ি এবং সাভারের ধামরাই এলাকার ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে তারা আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ছোট পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করত। এরপর প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যেত।
গ্রেফতারকৃতরা কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরিতে ডাকাতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কামারখন্দ থানা পুলিশ।

‘লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

 

ফুটবল বিশ্বকাপের গত আসর শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি জানিয়েছিলেন, সেটি তার শেষ বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হয়ে যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলে দলকে আবার বিশ্বকাপে তুলেছেন। তারপরও বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন। তার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে পর পর দুইবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। তিনি আরও একবার বিশ্বকাপ জিতুন, এমনটা চান না ইংল্যান্ডের ফুটবলার ড্যান বার্ন। তিনি এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।

 

 

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা ইংল্যান্ডের এই সেন্টার ব্যাক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি আশা করছি, মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না। ওর হাতে আর ট্রফি দেখতে চাই না। আর্জেন্টিনা গত বারের চ্যাম্পিয়ন। এবারও ওরা অনেক দূর যাবে। কিন্তু আশা করছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না।

কেন এমন কথা বললেন বার্ন? তার ব্যাখ্যা, গত বারই মেসি বিশ্বকাপ জিতেছে। ফুটবলের আর কোনও ট্রফি জেতা ওর বাকি নেই। এবার বাকিদের সুযোগ। আশা করি, ফুটবল দেবতাও চান, এবার অন্য কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হোক। নইলে বিশ্বকাপের মজাটাই চলে যাবে।

 

বিশ্বকাপে সিরাজগঞ্জে ইরান সমর্থকদের পতাকা মিছিল

ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের সমর্থনে সিরাজগঞ্জে পাতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) শহরের বাজার স্টেশন মুক্তির সোপান এলাকা থেকে ৪০ ফিট লম্বা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল করে সমর্থকেরা।

 

 

 

ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবল দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মিছিলটির আয়োজন করা হয়।

 

ইরান সাপোর্টার সোসাইটি ও সিরাজগঞ্জ স্পোর্টসক্লাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় তাদের তুমি কে আমি কে ইরান ইরান এমন শ্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

 

মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইরান সাপোটার্স সোসাইটির সভাপতি মিলন শেখ, সিরাজগঞ্জ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন সুজন, মাছুমপুর ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা শাহরিয়ার তুষার ও সিরাজগঞ্জ জেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মিলন প্রমূখ।

 

শ্রেষ্ঠ ইউএনও’র সম্মাননা পেলেন ঠাকুরগাঁও সদরের খাইরুল ইসলাম

​সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখায় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম।
​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে বিশেষ দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন ইউএনও মো. খাইরুল ইসলাম। তাঁর এই ধারাবাহিক সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করে।
​সোমবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক একটি মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক শ্রেষ্ঠ ইউএনও মো. খাইরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
​সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।
​পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি আগামী দিনে জনগণের সেবায় এবং সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে লাখ টাকা করে ঋণ নারীদের নামে, ঋণগ্রহীতারা জানে না কেউ!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মোঃ জামরুল হাসানের স্ত্রী মোছাঃ শাপলা পারভীন। অন্যের জমিতে কাজ করে এবং ট্রলি চালিয়ে চলে জামরুলের সংসার। সহজসরল গৃহবধূ শাপলা পারভীনের দিন কাটে স্বামীর সংসারে সন্তানদের দেখাশোনা আর হাঁস মুরগী পালন করে। আর এই শাপলা পারভীনের নামেই উঠেছে ১ লাখ টাকার ঋণ। শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে শাপলা পারভীনের নামে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঋণ উত্তোলন হলেও শাপলা পারভীন বা তার স্বামী জামরুল হাসান কেউ জানেনা কিভাবে তাদের মাথায় উঠলো এই ঋণের বোঝা। এমনকি তারা ঋণের জন্য কোন প্রকার আবেদনও করেননি সমবায় অফিসে।
অপরদিকে পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভ্যানচালক ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন ঋণের জন্য আবেদন করলেও অফিস থেকে জানানো হয় তাদের ঋণ পাশ হতে দেড়ি হবে। অথচ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছে আসমা খাতুনের নাম। তার নামেও ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
একই ভাবে নুকালী গ্রামের সোবাহান প্রামানিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুনও আবেদন করেছিলেন ঋণের জন্য। একই সময়ে ছালমা খাতুনের নামেও ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন হলেও অফিস থেকে ছালমা খাতুনকে জানানো হয়েছে তাদের আবেদন এ বছর পাশ হয়নি। গ্রামের সহজসরল গৃহবধূদের মাথায় কিভাবে এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা উঠলো তার সঠিক জবাব নেই উপজেলা সমবায় অফিসেও।
জানা যায়, চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জন মহিলাকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহার ছুটির আগে ৮ জন মহিলার নামে ঋণ উত্তোলন হলেও জানে না ঋণগ্রহীতারা। ৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন ঋণের টাকা পেলেও বাকীদের নামে উত্তোলন হওয়া ঋণের টাকা কোথায় জানেনা কেউ। এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় গ্রামের  সহজসরল নারীরা।
সরজমিনে গেলে নুকালী গ্রামের মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন, মোঃ সোবহান প্রামাণিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুন, পোতাজিয়ার মোঃ জামরুলের স্ত্রী শাপলা পারভীন জানান, তাদের নামে কিভাবে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তা কেউ জানেন না। এই ঋণের টাকা কে তুলে নিয়ে তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে তার জবাব অবশ্যই উপজেলা সমবায় অফিসকে দিতে হবে।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রবিউল রানা জানান, ঋণগ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির আগে তাদের প্রত্যেককে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও কেন তারা টাকা পায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, “যাদের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে তারা যদি না পেয়ে থাকে তাহলে তো ভয়ংকর ঘটনা। এমনটা যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশুসহ ৯ জনের ঠাঁই শূন্যরেখায়, বাড়ছে মানবিক সংকট

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে দুই শিশুসহ নয়জন দুই দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটছে তাদের। আটকে পড়া দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও মিলছে না কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা।

 

 

সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১-এস সাব-পিলারের নিকটবর্তী গেট খুলে ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, একই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৫ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী ভুন্দুরচর-ইজলামারী এলাকা দিয়ে আরও তিন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় জনতার কড়া নজরদারি ও তৎপরতার কারণে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা সোমবার (১৫ জুন) পযর্ন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত দু’দিন ধরে তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশু বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে, পুশইনের শিকারদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশে সীমান্তের গ্রামবাসীরা।

 

সীমান্তের বাসিন্দা আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ভোররাতে বিএসএফ অন্যায়ভাবে এদের পুশইন করেছে। তারা যদি বাংলাদেশিও হয়ে থাকে, তবে বিএসএফ রাষ্ট্রীয় নিয়মে তাদের ফেরত পাঠাতে পারত। তা না করে ভোররাতে সবার অগোচরে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিজিবি তাদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে।’

 

 

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘বিএসএফ জোর করে এদের আমাদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এরা খুব কষ্টে আছে। বিশেষ করে বাচ্চা দুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের দেখভাল করার চেষ্টা করলেও শূন্যরেখায় থাকায় আইনি জটিলতায় মূল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত এর একটা মানবিক সমাধান হওয়া দরকার।’

 

 

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিজিবির ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘শূন্যরেখায় আটকেপড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় কড়া পাহারায় দিন কাটছে ওই নাগরিকদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি, ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে কার্যকরী বয়স যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে। এ জন্য মুখমণ্ডল স্ক্যান করা বা পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করবে প্ল্যাটফর্মগুলো।

 

 

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম দ্রুতই একটি সমীক্ষা চালিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাজ্যে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে প্রবেশ ঠেকাতে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটসহ কিছু প্ল্যাটফর্মকে ইতোমধ্যেই একই ধরনের বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হয়।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যাল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমি কোনো ধরনের আপস করতে চাই না।

ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুদের ৪১,৫৫৫টি ডিএনএ প্রোফাইল সম্পন্ন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সপ্তম দিন লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

 

 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান জানতে চান, দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কোনো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনটি পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধগুলেঅর বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করতে হবে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুততর করা হয়েছে, অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাতীয় ‘নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬’, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা-২০১৮’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৮২ হাজার ৬৭৮ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারসমূহে এক লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার হতে মোট ৩৮ হাজর ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। সারভাইভের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, পুলিশি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইন হতে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি’ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত উক্ত আইন করা সমীচীন ও প্রয়োজন বিধায় কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিতক্রমে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পারিবারিক সহিংসতায় সংগঠিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন রুল্পে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ট্রেন্ড, ফ্যাশন নাকি কৌশল?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই মাঠে চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত কিন্তু দৃষ্টি-কাড়া প্রবণতা—প্রায় সব দলের খেলোয়াড়দের পায়ে একই রঙের বুট, উজ্জ্বল গোলাপি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের জার্সি থাকলেও পায়ের নিচে যেন একই রঙের ছাপ, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো—নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালান্স ও স্কেচার্স—এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রায় একই থিমে গোলাপি রঙের বিশেষ সংস্করণের বুট বাজারে এনেছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘পিংক স্ট্রিট’ ট্রেন্ড।

 

 

দুর্লভ ফুটবল বুট সংগ্রাহক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিডব্লিউ বুটস ইউকে–এর প্রতিষ্ঠাতা বেন ওয়ারেন মনে করেন, এটিকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। তার মতে, ফুটবল বুটের ডিজাইন ও রঙে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এক ধরনের সমান্তরাল ট্রেন্ড কাজ করে, আর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে সেই ট্রেন্ড আরও দ্রুত একসঙ্গে মিলিত হয়। তার ভাষায়, ‘এটা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপে একই রঙের আধিপত্যটা চোখে পড়ার মতো বেশি।’

ব্যাংককে শুটিংয়ে শাকিব খান, সঙ্গে দুই জনপ্রিয় নায়িকা

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সোলজার’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সিনেমাটির কাজ শেষের পথে। বাকি অংশের শুটিং সম্পন্ন করতে চলতি মাসেই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন নির্মাতা সাকিব ফাহাদ ও তার টিম। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আলোচিত এই অ্যাকশনধর্মী সিনেমাটি।

 

 

গত বছর প্রকাশিত মোশন পোস্টারে ‘সোলজার’-এর গল্পের আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাতে এক ভিন্ন রূপে দেখা যাবে শাকিব খানকে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আরও রয়েছেন তারিক আনাম খান, তৌকীর আহমেদসহ অনেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড।

 

 

দেশপ্রেম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটবিরোধী গল্পে নির্মিত ‘সোলজার’-এর শুটিং শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে। শুরুতে ডিসেম্বরেই মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে নির্মাতা জানান, মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ২০২৬ সালেই সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আসবে।

সাকিব ফাহাদ বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে সিনেমাটি যথাযথভাবে শেষ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর- দুই সময়ই ভালো। শুটিং ও পরবর্তী কাজ শেষ হওয়ার পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন নির্মাতা। তার ভাষ্য, ‘ভালো সিনেমা সারা বছর মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। দর্শক ও হলমালিকদের সেই প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই আমরা ভিন্ন সময়ে সিনেমাটি মুক্তির কথা ভাবছি।’

নদীতে ভাসছিল বস্তাবন্দি লাশ, শনাক্ত হলেন নিখোঁজ অটোচালক

বরিশালে দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকা নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি অর্ধ-গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার অটোরিকশাটির কোনো হদিস মেলেনি।

 

 

নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে। পুলিশের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাই করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সোমবার সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি বস্তায় অর্ধেক বন্দিবস্থায় মরদেহটিকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাজমুলের মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। দুপুর থেকে নাজমুলের ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি। পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রোববার (১৪ জুন) নিহতের পিতা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী নীপা বেগম বলেন, ‘​শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর তার খোঁজ পাইনি। ওর কোনো শত্রু ছিল না। তাহলে কেন এভাবে ওকে মেরে ফেলা হলো।’

 

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা বলেন, ‘সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার অটোরিকশাটিও পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

 জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। দিনভর টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

 

​আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা ঘুরে ওই বৃদ্ধের আর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

​স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল রোববার সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

 

 

​এরপরও হাল ছাড়েনি বিএসএফ। রোববার দিনভর দফায় দফায় ওই বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের যৌথ সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রতিবারই তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিএসএফ সারাদিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সন্ধ্যার পর সীমান্তের সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অন্ধকারে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আমাদের ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা একটি গাড়িতে করে ওই বৃদ্ধকে নিয়ে ওখান থেকে চলে যায়।

​বর্তমানে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মনে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, সীমান্তের ওপারে ভারতের জামালপুর গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। জামালপুর গ্রামের ঠিক পাশেই ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

​এদিকে পুশইনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৪ জুন) উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে আটক করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মফিজুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ধামশ্রেণী ইউনিয়নের রানিগঞ্জ চৌমুহনী-অনন্তপুর সড়কের টেংরাকুড়া সেতুর ওপর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোঁটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করেন। এমন উতপ্ত পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, যান চলাচলে বাধা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই মামলায় মোখলেছুর রহমানকে পলাতক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের ৩০ মিনিটেই বিদ্যালয় এলাকা বখাটেমুক্ত করল রায়গঞ্জ পুলিশ

সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বখাটে ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা এবং ক্যাম্পাসে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে কোনো বখাটে চক্র, কিশোর গ্যাং বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 সোমবার ( ১৫ জুন)এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বখাটেদের অবস্থানের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা থেকে বখাটেদের সরিয়ে দিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই কোনো ধরনের উত্যক্ত, হয়রানি বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উত্যক্ত, হয়রানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাস বখাটে এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক মাদকদ্রব্য আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমারেখার ৩ শ’ মিটার ভিতরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপির এক বিশেষ টহল দল ভারতীয় নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য আটক করেছে ।
 বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০২’৪০ ঘটিকায় ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপিতে কর্মরত নায়েব সুবেদার মোঃ সোনারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ০১টি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৯৫/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট থানাধীন আলালপুর মৌজার একটি আমবাগানে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে টহল দল মালিকবিহীন ফেন্সিডিল এর বিকল্প ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়।
 আটককৃত নেশাজাতীয় সিরাপগুলো জিডি করতঃ ভোলাহাট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলব ডা. জাহেদ ইস্যুতে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধার ঘটনায় এই তলব করা হয়েছে। ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডা. জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভ্রমণ করেননি এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য কোনো ভিসাও নেননি। তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্ক ভিসায় ভ্রমণ করেছিলেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সার্ক ভিসার তথ্যাদি যাচাইয়ের পর তাকে ছাড়পত্র দিলেও তিনি দিল্লি না গিয়ে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ জুন সন্ধ্যায় জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে দিল্লিতে ঢুকেননি তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এ ভ্রমণ করেননি।

পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা ও ভাই আহত হয়েছেন। খবর এএফপির।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত ধরতে গিয়ে তারা একটি অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল করে একটি গাড়িকে ডাকাতদের গাড়ি মনে করে গুলি চালান।

 

 

গুলিতে হানিয়া নামের শিশুটি নিহত হয়। আহত হন তার বাবা ও ভাই।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

নিহত শিশুটির পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিল।

 

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

পাঞ্জাব পুলিশও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, কীভাবে এই ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের

 

নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে বাতিল হচ্ছে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এমপি পদ! এবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে করা পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যার কমেন্ট সেকশনেও তিনি হান্নান মাসউদের বেশকিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

 

 

 

কালবেলার পাঠকদের জন্য রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো—

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ!? সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ। ভবিষ্যতে ব্যবসাবাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে বলে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে হলফনামা হান্নান মাসউদকে তার আইনজীবী করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে মাসউদ জানিয়েছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তার স্থাবর সম্পদ নেই। তার মানে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

 

হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে বাতিল হবে প্রার্থিতা, চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। এটি সুনির্দিষ্টভাবে বিধান আরপিওতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।’

 

 

 

আমি হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে যেসব তথ্য দিয়েছি, তা সত্য না কি মিথ্যা, তা হান্নান মাসউদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলেও উত্তর পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, সে তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি দিয়েছে মাহবুব ভাই নামক একজনের থেকে ধার করে। আর নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেছে, কিন্তু ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি! টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না! একজন এমপি এতো গরিব, এত সৎ! আহারে। হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?

 

 

উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট নিয়ে হান্নান মাসউদের সঙ্গে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এতে তিনি কোনো ধরনের সাড়া দেননি।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবির কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আলমপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

 

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আলমপুর গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৭০), একই গ্রামের মৃত রমজানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন (৫০), মৃত রমণীকান্তের ছেলে শ্রী নির্মল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের বাচ্চুর ছেলে বিজয় (৩২) এবং আমানিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (২০)।

 

গ্রেফতারের পর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ। আদালত মাদক সেবনের দায়ে মিরাজ উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিনকে ৫ মাস করে, শ্রী নির্মলকে ২ মাস এবং বিজয় ও আবু বক্কর সিদ্দিককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

 

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, মাদকমুক্ত ক্ষেতলাল গড়ে তুলতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এর সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ব্যক্তিগত সোনা বিক্রিতে এখন থেকে দিতে হবে কর

 

ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে আর শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলে সেই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে।

 

 

 

রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থ বিল বিষয়ক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

 

 

 

সেমিনারে কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের সোনার অলংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম এর ব্যাখ্যা দেন।

 

 

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সোনা ও স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক করদাতা আয়কর রিটার্নে সোনা বা স্বর্ণালংকারের তথ্য দিলেও এর মূল্য উল্লেখ করেন না, যা কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করে।

 

 

 

সেমিনারে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যদিও আবাসন খাত থেকে এ বিষয়ে চাপ ছিল, তবে সরকার শুরু থেকেই এমন কোনো বিধান না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

 

 

 

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সঞ্চয়পত্রে নতুন করে কর বাড়ানো হয়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রিম কাটা কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

 

 

সভায় ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা সহজ করতে অনলাইনে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হবে।

 

নৌবাহিনীতে নতুন নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন বিবাহিতরাও

 

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২০২৭এ ডিইও ব্যাচে ‘কমিশন্ড অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। বিবাহিত প্রার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

ব্যাচের নাম: ২০২৭এ ডিইও ব্যাচ

পদের নাম: কমিশন্ড অফিসার

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি বিএড। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (সাধারণ বিষয়), পুরুষ ও নারী

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ইংরেজি/পদার্থবিজ্ঞান/রসায়ন/মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (ইঞ্জিনিয়ারিং), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: (ক)কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (খ) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (গ) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং/ ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ঘ) মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০ এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

আবেদন শুরু: ৭ মে ২০২৬ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/বিবাহিত

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

বয়স: ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি। নারীদের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪৬ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: অনলাইন অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ১০০০ টাকা পাঠাতে হবে।

 

চার্জে থাকা মোবাইল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

আশুলিয়ায় চার্জে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আহত ফেনীর যুবক মিজানুর রহমান (মিজান) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ জুন) গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আলীমের ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

 

 

ওই সময় মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ফোন দুটি বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
 

প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মিজানের চিৎকার শুনে তার কক্ষের বারান্দার তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

 

 

বিস্ফোরণে কক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। 

 

 

 

ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনের পোড়া অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৫ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান। 

 

 

 

নিহত মিজানুর রহমান ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং আলীমের বাসায় ভাড়া থাকতেন। 

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। 

 

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে বিএসএফকে আহ্বান জানাল বিজিবি

 

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা ও পুশইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিএসএফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

 

 

 

গত শুক্রবার (১২ জুন) বিজিবি থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবির মহাপরিচালক ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এর আগে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

আলোচনায় সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের মতো ঘটনা বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানায় বিজিবি।

 

বৈঠকে সীমান্তে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

 

 

সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের সারসংক্ষেপ

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখপূর্বক সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়, যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয় যে, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাসমূহ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

পুশ-ইন ঘটনা:

বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গা/মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ-ইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP), পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে এসব ‘পুশ ইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত, এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে, প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

 

 

উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান:

বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ পূর্বক এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং বলেন যে এসব কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান যে, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

 

 

উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল (SCP) জোরদার করা এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়:

বিএসএফ মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট সুপরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা/মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় প্রদান করেছে। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

 

 

 

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস (SRF) সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মিত SRF প্যাচসমূহে বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার (DGLT) সময় ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ/ভারতীয় নাগরিকরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে SRF/গবাদিপশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো SRF বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ আবশ্যক। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নোট ভারবালের কথাও উল্লেখ করেন এবং এতে উল্লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, SRF সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা উচিত।

 

 

 

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা (FICN) ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, FICN ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

 

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম:

বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

 

 

 

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা:

বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরি চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন যে যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলোর দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন (Joint Boundary Conference) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। তারা আরও সম্মত হয় যে নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা-সহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

 

 

 

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ:

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলন সংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খনন কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশন (JRC)-এর পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

 

 

 

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ:

বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বেড়া (SRF), গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারি সংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (SCP) জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়। এছাড়া অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি হয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

 

 

 

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ:

বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলী, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত-সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করারও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়।

 

 

উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসা কুড়াল জাপানি সমর্থকরা

 

খেলার মাঠেও শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানের সমর্থকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অন্য দর্শকদের মতো তড়িঘড়ি স্টেডিয়াম ত্যাগ না করে, পুরো গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই মাঠ ছাড়েন তারা।

 

 

 

জাপানি সমর্থকদের জন্য অবশ্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রতিটি ম্যাচের পর একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। শুধু নিজেদের দলের ম্যাচ নয়, অন্য দলের খেলা দেখতে গিয়েও গ্যালারি পরিষ্কার করার নজির স্থাপন করেছিলেন তারা।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় জাপান। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে খেলার ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে জাপানি সমর্থকদের অসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণ।

 

ম্যাচ শেষে ডালাসের স্টেডিয়ামে দেখা যায়, গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা নিজেরাই সংগ্রহ করছেন জাপানের সমর্থকরা। বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে সেগুলো ভরে নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থানে নিয়ে যান তারা। পুরো এলাকা পরিষ্কার করার পরই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।

 

এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাদের এই সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

 

মূলত জাপানের ক্রীড়া সংস্কৃতিরই অংশ এই অভ্যাস। দেশটির ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোতেও খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, খেলা দেখতে গিয়ে যে আবর্জনা তৈরি হয়, সেটি পরিষ্কার করার দায়িত্বও দর্শকদেরই। সে দায়িত্ববোধ থেকেই তারা নিয়মিত এ কাজ করে আসছেন।

 

 

 

বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে বারবার একই চিত্র ফুটে ওঠে— খেলা শেষ, দর্শকশূন্য হচ্ছে গ্যালারি, আর হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়াম পরিষ্কারে ব্যস্ত জাপানের সমর্থকরা। দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের এই দৃষ্টান্ত আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলো।

 

 

বিশ্বকাপ ব্যয়ের বদলে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আহমাদুল্লার

 

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপুল ব্যয়ের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

 

 

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

 

 

পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষ ও বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা।’

 

আহমাদুল্লা লেখেন, “এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।”

One thought on “২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে কোন দল? একই উত্তর দিল চার এআই চ্যাট বক্স

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে কোন দল? একই উত্তর দিল চার এআই চ্যাট বক্স

আপডেট টাইম : ০৮:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও শুরু হলো ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভবিষ্যদ্বাণী। এখনও পর্যন্ত কয়েকটি হেভিওয়েট দল যাত্রা শুরু করেনি। যে তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স এবং স্পেন। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে একাধিক দলের খেতাব জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

আর এই তালিকায় রয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, রানার্স ফ্রান্স এবং শক্তিশালী স্পেন। একাধিক চ্যালেঞ্জার রয়েছে। কিন্তু ১৯ জুলাইয়ের রাতে শেষ হাসি কে হাসবে? চারটে এআই চ্যাট বটসকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সবাই একই দলের নাম নেয়। এই তালিকায় ছিল চ্যাট জিপিটি, ক্লাউড এআই, গুগল জেমিনি এবং কো পাইলট। প্রত্যেককেই একই প্রম্পট দেওয়া হয়। জিজ্ঞেস করা হয়, কে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জিতবে? সবাই স্পেনের নাম নেয়। দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্স।

 

 

 

চ্যাট জিপিটি জানায়, ‘পরিসংখ্যানের বিচারে এই মুহূর্তে যদি কোনও দলকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে ফেভারিট স্পেন।’ গুগল জেমিনাই বলে, ‘বর্তমান পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে স্পেন। ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে ফ্রান্স।’ ক্লাউড অ্যাপের সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যায় প্রথম দুইয়ের। ক্লাউড জানায়, ‘এই মুহূর্তে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা স্পেনের। কিছুটা ফ্রান্সের থেকে এগিয়ে। ৪৮ দলের মধ্যে ওদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। প্রতিভাবান দলে লামিন ইয়ামাল রয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট সবে শুরু হয়েছে। অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

কো পাইলটও এই ভবিষ্যদ্বাণীতে সায় দেয়। জানায়, ‘সম্প্রতি বেটিং মার্কেট, ডেটা মডেল, র‍্যাঙ্কিয়ের বিচারে নির্দিষ্ট একটা দলকে ফেভারিট বাছা যায় না। তবে একটা দলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেটা স্পেন। তাদের ১৬-১৭ শতাংশ সুযোগ রয়েছে। যা সর্বোচ্চ। শক্তিশালী দলের পাশাপাশি ইউরো চ্যাম্পিয়ন।’

অর্থাৎ, সবকিছু বিচার করে দেখা যাচ্ছে, এআইয়ের জগতে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সব ঠিক এগিয়ে স্পেন। কিন্তু এখনও বিশ্বমঞ্চে নামেননি ইয়ামালরা। আজ সোমবার রাতে স্পেনের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ আনকোরা কেপ ভার্দে। জার্মানির মতো বিশাল জয় দিয়ে কি শুরু করতে পারবে ইউরোপ সেরারা?

 

নোয়াখালীর নতুন পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ

নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন।
সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নবাগত পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা!

 

না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালে। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের মুম্বাইয়ের নালাসোপাড়ায় নিজ বাসভবন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে সঞ্চিতার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, অভিনেত্রী সঞ্চিতা । 

 

 

 

আচোলে থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক বিনোদ বাঘ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নিজের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সঞ্চিতা। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সঞ্চিতাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

 

 

 

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। অভিনেত্রীর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ (এডিআর) নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। 

 

 

 

মৃত্যুর আগে সামাজিক মাধ্যমে সঞ্চিতার শেষ পোস্টও নজর কেড়েছে তাঁর অনুরাগীদের। শনিবার একটি রিল পোস্ট করেছিলেন তিনি, সেখানে খুব হাসিখুশি ভাবেই ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন অভিনেত্রী। একটি প্রাণবন্ত গানের সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই ভিডিওর মন্তব্যে শোকপ্রকাশ করছেন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক কী হয়েছিল! ওই রিলটি পোস্ট করার মাত্র ১৮ ঘণ্টা পরেই তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। 

 

 

 

অল্প সময়েই টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন সঞ্চিতা উগালে। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে দিয়া ট্যান্ডন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এ ছাড়া ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’তে রুচিতা চরিত্রেও অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। 

 

 

 

ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন সঞ্চিতা। ‘ছাবা’ সিনেমায় ভিকি কৌশলের অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত তারা রানির কনিষ্ঠ বয়সের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি 

 

 

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ, কোথায় যাবে কোনটি?

 

রাজধানীর ৪টি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

 

চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হলো, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

 

সভায় জানানো হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। সভায় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যানজট নিরসনে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেটি নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে। একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’

 

 

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের উচ্ছেদ না করে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও না রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

 

 

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর যাতে বাস দাঁড়িয়ে না থাকে, সে জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’

 

 

 

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কামারখন্দে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কামারখন্দ থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাশমত আলীর নেতৃত্বে এসআই বাবুল আক্তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোর জেলার সিংড়া থানা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয়— সিরাজগঞ্জের সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), হৃদয় হাসান (২৬), এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা এলাকার বাসিন্দা এবং এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. ইমদাদুল হক ও মো. সুজন (৩১), শাহজাদপুর উপজেলার বাওসাগরি এলাকার বাসিন্দা। মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১), নাটোরের সিংড়া উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জয়নব খাতুন (স্বামী-সবুজ মিয়া), কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকুল এলাকার বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করে সোমবার ১৫ জুন দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাদেক আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির ৫টি মামলা, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি, সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি, সবুজের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ৫টি এবং ইমদাদুলের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক আলী কামারখন্দ থানার টিটিসিতে ডাকাতি, নাটোর সুগার মিলে ডাকাতি, রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতি এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার পপুলার পলিথিন কারখানায় ডাকাতিসহ আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, হৃদয় হাসান, সুজন ও ইমদাদুল এর আগে নাটোর সুগার মিল, কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ি এবং সাভারের ধামরাই এলাকার ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে তারা আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ছোট পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করত। এরপর প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যেত।
গ্রেফতারকৃতরা কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরিতে ডাকাতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কামারখন্দ থানা পুলিশ।

‘লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

 

ফুটবল বিশ্বকাপের গত আসর শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি জানিয়েছিলেন, সেটি তার শেষ বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হয়ে যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলে দলকে আবার বিশ্বকাপে তুলেছেন। তারপরও বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন। তার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে পর পর দুইবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। তিনি আরও একবার বিশ্বকাপ জিতুন, এমনটা চান না ইংল্যান্ডের ফুটবলার ড্যান বার্ন। তিনি এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।

 

 

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা ইংল্যান্ডের এই সেন্টার ব্যাক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি আশা করছি, মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না। ওর হাতে আর ট্রফি দেখতে চাই না। আর্জেন্টিনা গত বারের চ্যাম্পিয়ন। এবারও ওরা অনেক দূর যাবে। কিন্তু আশা করছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না।

কেন এমন কথা বললেন বার্ন? তার ব্যাখ্যা, গত বারই মেসি বিশ্বকাপ জিতেছে। ফুটবলের আর কোনও ট্রফি জেতা ওর বাকি নেই। এবার বাকিদের সুযোগ। আশা করি, ফুটবল দেবতাও চান, এবার অন্য কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হোক। নইলে বিশ্বকাপের মজাটাই চলে যাবে।

 

বিশ্বকাপে সিরাজগঞ্জে ইরান সমর্থকদের পতাকা মিছিল

ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের সমর্থনে সিরাজগঞ্জে পাতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) শহরের বাজার স্টেশন মুক্তির সোপান এলাকা থেকে ৪০ ফিট লম্বা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল করে সমর্থকেরা।

 

 

 

ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবল দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মিছিলটির আয়োজন করা হয়।

 

ইরান সাপোর্টার সোসাইটি ও সিরাজগঞ্জ স্পোর্টসক্লাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় তাদের তুমি কে আমি কে ইরান ইরান এমন শ্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

 

মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইরান সাপোটার্স সোসাইটির সভাপতি মিলন শেখ, সিরাজগঞ্জ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন সুজন, মাছুমপুর ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা শাহরিয়ার তুষার ও সিরাজগঞ্জ জেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মিলন প্রমূখ।

 

শ্রেষ্ঠ ইউএনও’র সম্মাননা পেলেন ঠাকুরগাঁও সদরের খাইরুল ইসলাম

​সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখায় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম।
​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে বিশেষ দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন ইউএনও মো. খাইরুল ইসলাম। তাঁর এই ধারাবাহিক সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করে।
​সোমবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক একটি মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক শ্রেষ্ঠ ইউএনও মো. খাইরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
​সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।
​পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি আগামী দিনে জনগণের সেবায় এবং সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে লাখ টাকা করে ঋণ নারীদের নামে, ঋণগ্রহীতারা জানে না কেউ!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মোঃ জামরুল হাসানের স্ত্রী মোছাঃ শাপলা পারভীন। অন্যের জমিতে কাজ করে এবং ট্রলি চালিয়ে চলে জামরুলের সংসার। সহজসরল গৃহবধূ শাপলা পারভীনের দিন কাটে স্বামীর সংসারে সন্তানদের দেখাশোনা আর হাঁস মুরগী পালন করে। আর এই শাপলা পারভীনের নামেই উঠেছে ১ লাখ টাকার ঋণ। শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে শাপলা পারভীনের নামে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঋণ উত্তোলন হলেও শাপলা পারভীন বা তার স্বামী জামরুল হাসান কেউ জানেনা কিভাবে তাদের মাথায় উঠলো এই ঋণের বোঝা। এমনকি তারা ঋণের জন্য কোন প্রকার আবেদনও করেননি সমবায় অফিসে।
অপরদিকে পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভ্যানচালক ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন ঋণের জন্য আবেদন করলেও অফিস থেকে জানানো হয় তাদের ঋণ পাশ হতে দেড়ি হবে। অথচ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছে আসমা খাতুনের নাম। তার নামেও ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
একই ভাবে নুকালী গ্রামের সোবাহান প্রামানিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুনও আবেদন করেছিলেন ঋণের জন্য। একই সময়ে ছালমা খাতুনের নামেও ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন হলেও অফিস থেকে ছালমা খাতুনকে জানানো হয়েছে তাদের আবেদন এ বছর পাশ হয়নি। গ্রামের সহজসরল গৃহবধূদের মাথায় কিভাবে এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা উঠলো তার সঠিক জবাব নেই উপজেলা সমবায় অফিসেও।
জানা যায়, চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জন মহিলাকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহার ছুটির আগে ৮ জন মহিলার নামে ঋণ উত্তোলন হলেও জানে না ঋণগ্রহীতারা। ৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন ঋণের টাকা পেলেও বাকীদের নামে উত্তোলন হওয়া ঋণের টাকা কোথায় জানেনা কেউ। এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় গ্রামের  সহজসরল নারীরা।
সরজমিনে গেলে নুকালী গ্রামের মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন, মোঃ সোবহান প্রামাণিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুন, পোতাজিয়ার মোঃ জামরুলের স্ত্রী শাপলা পারভীন জানান, তাদের নামে কিভাবে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তা কেউ জানেন না। এই ঋণের টাকা কে তুলে নিয়ে তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে তার জবাব অবশ্যই উপজেলা সমবায় অফিসকে দিতে হবে।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রবিউল রানা জানান, ঋণগ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির আগে তাদের প্রত্যেককে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও কেন তারা টাকা পায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, “যাদের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে তারা যদি না পেয়ে থাকে তাহলে তো ভয়ংকর ঘটনা। এমনটা যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশুসহ ৯ জনের ঠাঁই শূন্যরেখায়, বাড়ছে মানবিক সংকট

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে দুই শিশুসহ নয়জন দুই দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটছে তাদের। আটকে পড়া দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও মিলছে না কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা।

 

 

সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১-এস সাব-পিলারের নিকটবর্তী গেট খুলে ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, একই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৫ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী ভুন্দুরচর-ইজলামারী এলাকা দিয়ে আরও তিন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় জনতার কড়া নজরদারি ও তৎপরতার কারণে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা সোমবার (১৫ জুন) পযর্ন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত দু’দিন ধরে তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশু বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে, পুশইনের শিকারদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশে সীমান্তের গ্রামবাসীরা।

 

সীমান্তের বাসিন্দা আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ভোররাতে বিএসএফ অন্যায়ভাবে এদের পুশইন করেছে। তারা যদি বাংলাদেশিও হয়ে থাকে, তবে বিএসএফ রাষ্ট্রীয় নিয়মে তাদের ফেরত পাঠাতে পারত। তা না করে ভোররাতে সবার অগোচরে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিজিবি তাদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে।’

 

 

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘বিএসএফ জোর করে এদের আমাদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এরা খুব কষ্টে আছে। বিশেষ করে বাচ্চা দুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের দেখভাল করার চেষ্টা করলেও শূন্যরেখায় থাকায় আইনি জটিলতায় মূল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত এর একটা মানবিক সমাধান হওয়া দরকার।’

 

 

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিজিবির ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘শূন্যরেখায় আটকেপড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় কড়া পাহারায় দিন কাটছে ওই নাগরিকদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি, ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে কার্যকরী বয়স যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে। এ জন্য মুখমণ্ডল স্ক্যান করা বা পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করবে প্ল্যাটফর্মগুলো।

 

 

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম দ্রুতই একটি সমীক্ষা চালিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাজ্যে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে প্রবেশ ঠেকাতে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটসহ কিছু প্ল্যাটফর্মকে ইতোমধ্যেই একই ধরনের বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হয়।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যাল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমি কোনো ধরনের আপস করতে চাই না।

ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুদের ৪১,৫৫৫টি ডিএনএ প্রোফাইল সম্পন্ন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সপ্তম দিন লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

 

 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান জানতে চান, দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কোনো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনটি পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধগুলেঅর বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করতে হবে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুততর করা হয়েছে, অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাতীয় ‘নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬’, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা-২০১৮’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৮২ হাজার ৬৭৮ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারসমূহে এক লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার হতে মোট ৩৮ হাজর ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। সারভাইভের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, পুলিশি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইন হতে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি’ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত উক্ত আইন করা সমীচীন ও প্রয়োজন বিধায় কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিতক্রমে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পারিবারিক সহিংসতায় সংগঠিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন রুল্পে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ট্রেন্ড, ফ্যাশন নাকি কৌশল?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই মাঠে চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত কিন্তু দৃষ্টি-কাড়া প্রবণতা—প্রায় সব দলের খেলোয়াড়দের পায়ে একই রঙের বুট, উজ্জ্বল গোলাপি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের জার্সি থাকলেও পায়ের নিচে যেন একই রঙের ছাপ, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো—নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালান্স ও স্কেচার্স—এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রায় একই থিমে গোলাপি রঙের বিশেষ সংস্করণের বুট বাজারে এনেছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘পিংক স্ট্রিট’ ট্রেন্ড।

 

 

দুর্লভ ফুটবল বুট সংগ্রাহক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিডব্লিউ বুটস ইউকে–এর প্রতিষ্ঠাতা বেন ওয়ারেন মনে করেন, এটিকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। তার মতে, ফুটবল বুটের ডিজাইন ও রঙে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এক ধরনের সমান্তরাল ট্রেন্ড কাজ করে, আর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে সেই ট্রেন্ড আরও দ্রুত একসঙ্গে মিলিত হয়। তার ভাষায়, ‘এটা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপে একই রঙের আধিপত্যটা চোখে পড়ার মতো বেশি।’

ব্যাংককে শুটিংয়ে শাকিব খান, সঙ্গে দুই জনপ্রিয় নায়িকা

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সোলজার’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সিনেমাটির কাজ শেষের পথে। বাকি অংশের শুটিং সম্পন্ন করতে চলতি মাসেই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন নির্মাতা সাকিব ফাহাদ ও তার টিম। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আলোচিত এই অ্যাকশনধর্মী সিনেমাটি।

 

 

গত বছর প্রকাশিত মোশন পোস্টারে ‘সোলজার’-এর গল্পের আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাতে এক ভিন্ন রূপে দেখা যাবে শাকিব খানকে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আরও রয়েছেন তারিক আনাম খান, তৌকীর আহমেদসহ অনেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড।

 

 

দেশপ্রেম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটবিরোধী গল্পে নির্মিত ‘সোলজার’-এর শুটিং শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে। শুরুতে ডিসেম্বরেই মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে নির্মাতা জানান, মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ২০২৬ সালেই সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আসবে।

সাকিব ফাহাদ বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে সিনেমাটি যথাযথভাবে শেষ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর- দুই সময়ই ভালো। শুটিং ও পরবর্তী কাজ শেষ হওয়ার পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন নির্মাতা। তার ভাষ্য, ‘ভালো সিনেমা সারা বছর মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। দর্শক ও হলমালিকদের সেই প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই আমরা ভিন্ন সময়ে সিনেমাটি মুক্তির কথা ভাবছি।’

নদীতে ভাসছিল বস্তাবন্দি লাশ, শনাক্ত হলেন নিখোঁজ অটোচালক

বরিশালে দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকা নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি অর্ধ-গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার অটোরিকশাটির কোনো হদিস মেলেনি।

 

 

নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে। পুলিশের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাই করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সোমবার সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি বস্তায় অর্ধেক বন্দিবস্থায় মরদেহটিকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাজমুলের মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। দুপুর থেকে নাজমুলের ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি। পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রোববার (১৪ জুন) নিহতের পিতা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী নীপা বেগম বলেন, ‘​শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর তার খোঁজ পাইনি। ওর কোনো শত্রু ছিল না। তাহলে কেন এভাবে ওকে মেরে ফেলা হলো।’

 

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা বলেন, ‘সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার অটোরিকশাটিও পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

 জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। দিনভর টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

 

​আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা ঘুরে ওই বৃদ্ধের আর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

​স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল রোববার সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

 

 

​এরপরও হাল ছাড়েনি বিএসএফ। রোববার দিনভর দফায় দফায় ওই বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের যৌথ সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রতিবারই তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিএসএফ সারাদিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সন্ধ্যার পর সীমান্তের সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অন্ধকারে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আমাদের ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা একটি গাড়িতে করে ওই বৃদ্ধকে নিয়ে ওখান থেকে চলে যায়।

​বর্তমানে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মনে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, সীমান্তের ওপারে ভারতের জামালপুর গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। জামালপুর গ্রামের ঠিক পাশেই ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

​এদিকে পুশইনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৪ জুন) উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে আটক করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মফিজুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ধামশ্রেণী ইউনিয়নের রানিগঞ্জ চৌমুহনী-অনন্তপুর সড়কের টেংরাকুড়া সেতুর ওপর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোঁটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করেন। এমন উতপ্ত পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, যান চলাচলে বাধা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই মামলায় মোখলেছুর রহমানকে পলাতক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের ৩০ মিনিটেই বিদ্যালয় এলাকা বখাটেমুক্ত করল রায়গঞ্জ পুলিশ

সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বখাটে ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা এবং ক্যাম্পাসে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে কোনো বখাটে চক্র, কিশোর গ্যাং বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 সোমবার ( ১৫ জুন)এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বখাটেদের অবস্থানের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা থেকে বখাটেদের সরিয়ে দিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই কোনো ধরনের উত্যক্ত, হয়রানি বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উত্যক্ত, হয়রানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাস বখাটে এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক মাদকদ্রব্য আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমারেখার ৩ শ’ মিটার ভিতরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপির এক বিশেষ টহল দল ভারতীয় নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য আটক করেছে ।
 বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০২’৪০ ঘটিকায় ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপিতে কর্মরত নায়েব সুবেদার মোঃ সোনারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ০১টি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৯৫/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট থানাধীন আলালপুর মৌজার একটি আমবাগানে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে টহল দল মালিকবিহীন ফেন্সিডিল এর বিকল্প ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়।
 আটককৃত নেশাজাতীয় সিরাপগুলো জিডি করতঃ ভোলাহাট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলব ডা. জাহেদ ইস্যুতে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধার ঘটনায় এই তলব করা হয়েছে। ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডা. জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভ্রমণ করেননি এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য কোনো ভিসাও নেননি। তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্ক ভিসায় ভ্রমণ করেছিলেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সার্ক ভিসার তথ্যাদি যাচাইয়ের পর তাকে ছাড়পত্র দিলেও তিনি দিল্লি না গিয়ে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ জুন সন্ধ্যায় জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে দিল্লিতে ঢুকেননি তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এ ভ্রমণ করেননি।

পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা ও ভাই আহত হয়েছেন। খবর এএফপির।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত ধরতে গিয়ে তারা একটি অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল করে একটি গাড়িকে ডাকাতদের গাড়ি মনে করে গুলি চালান।

 

 

গুলিতে হানিয়া নামের শিশুটি নিহত হয়। আহত হন তার বাবা ও ভাই।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

নিহত শিশুটির পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিল।

 

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

পাঞ্জাব পুলিশও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, কীভাবে এই ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের

 

নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে বাতিল হচ্ছে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এমপি পদ! এবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে করা পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যার কমেন্ট সেকশনেও তিনি হান্নান মাসউদের বেশকিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

 

 

 

কালবেলার পাঠকদের জন্য রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো—

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ!? সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ। ভবিষ্যতে ব্যবসাবাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে বলে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে হলফনামা হান্নান মাসউদকে তার আইনজীবী করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে মাসউদ জানিয়েছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তার স্থাবর সম্পদ নেই। তার মানে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

 

হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে বাতিল হবে প্রার্থিতা, চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। এটি সুনির্দিষ্টভাবে বিধান আরপিওতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।’

 

 

 

আমি হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে যেসব তথ্য দিয়েছি, তা সত্য না কি মিথ্যা, তা হান্নান মাসউদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলেও উত্তর পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, সে তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি দিয়েছে মাহবুব ভাই নামক একজনের থেকে ধার করে। আর নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেছে, কিন্তু ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি! টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না! একজন এমপি এতো গরিব, এত সৎ! আহারে। হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?

 

 

উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট নিয়ে হান্নান মাসউদের সঙ্গে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এতে তিনি কোনো ধরনের সাড়া দেননি।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবির কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আলমপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

 

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আলমপুর গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৭০), একই গ্রামের মৃত রমজানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন (৫০), মৃত রমণীকান্তের ছেলে শ্রী নির্মল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের বাচ্চুর ছেলে বিজয় (৩২) এবং আমানিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (২০)।

 

গ্রেফতারের পর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ। আদালত মাদক সেবনের দায়ে মিরাজ উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিনকে ৫ মাস করে, শ্রী নির্মলকে ২ মাস এবং বিজয় ও আবু বক্কর সিদ্দিককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

 

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, মাদকমুক্ত ক্ষেতলাল গড়ে তুলতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এর সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ব্যক্তিগত সোনা বিক্রিতে এখন থেকে দিতে হবে কর

 

ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে আর শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলে সেই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে।

 

 

 

রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থ বিল বিষয়ক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

 

 

 

সেমিনারে কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের সোনার অলংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম এর ব্যাখ্যা দেন।

 

 

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সোনা ও স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক করদাতা আয়কর রিটার্নে সোনা বা স্বর্ণালংকারের তথ্য দিলেও এর মূল্য উল্লেখ করেন না, যা কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করে।

 

 

 

সেমিনারে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যদিও আবাসন খাত থেকে এ বিষয়ে চাপ ছিল, তবে সরকার শুরু থেকেই এমন কোনো বিধান না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

 

 

 

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সঞ্চয়পত্রে নতুন করে কর বাড়ানো হয়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রিম কাটা কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

 

 

সভায় ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা সহজ করতে অনলাইনে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হবে।

 

নৌবাহিনীতে নতুন নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন বিবাহিতরাও

 

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২০২৭এ ডিইও ব্যাচে ‘কমিশন্ড অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। বিবাহিত প্রার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

ব্যাচের নাম: ২০২৭এ ডিইও ব্যাচ

পদের নাম: কমিশন্ড অফিসার

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি বিএড। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (সাধারণ বিষয়), পুরুষ ও নারী

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ইংরেজি/পদার্থবিজ্ঞান/রসায়ন/মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (ইঞ্জিনিয়ারিং), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: (ক)কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (খ) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (গ) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং/ ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ঘ) মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০ এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

আবেদন শুরু: ৭ মে ২০২৬ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/বিবাহিত

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

বয়স: ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি। নারীদের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪৬ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: অনলাইন অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ১০০০ টাকা পাঠাতে হবে।

 

চার্জে থাকা মোবাইল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

আশুলিয়ায় চার্জে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আহত ফেনীর যুবক মিজানুর রহমান (মিজান) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ জুন) গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আলীমের ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

 

 

ওই সময় মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ফোন দুটি বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
 

প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মিজানের চিৎকার শুনে তার কক্ষের বারান্দার তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

 

 

বিস্ফোরণে কক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। 

 

 

 

ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনের পোড়া অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৫ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান। 

 

 

 

নিহত মিজানুর রহমান ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং আলীমের বাসায় ভাড়া থাকতেন। 

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। 

 

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে বিএসএফকে আহ্বান জানাল বিজিবি

 

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা ও পুশইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিএসএফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

 

 

 

গত শুক্রবার (১২ জুন) বিজিবি থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবির মহাপরিচালক ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এর আগে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

আলোচনায় সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের মতো ঘটনা বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানায় বিজিবি।

 

বৈঠকে সীমান্তে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

 

 

সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের সারসংক্ষেপ

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখপূর্বক সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়, যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয় যে, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাসমূহ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

পুশ-ইন ঘটনা:

বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গা/মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ-ইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP), পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে এসব ‘পুশ ইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত, এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে, প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

 

 

উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান:

বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ পূর্বক এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং বলেন যে এসব কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান যে, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

 

 

উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল (SCP) জোরদার করা এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়:

বিএসএফ মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট সুপরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা/মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় প্রদান করেছে। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

 

 

 

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস (SRF) সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মিত SRF প্যাচসমূহে বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার (DGLT) সময় ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ/ভারতীয় নাগরিকরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে SRF/গবাদিপশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো SRF বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ আবশ্যক। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নোট ভারবালের কথাও উল্লেখ করেন এবং এতে উল্লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, SRF সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা উচিত।

 

 

 

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা (FICN) ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, FICN ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

 

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম:

বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

 

 

 

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা:

বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরি চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন যে যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলোর দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন (Joint Boundary Conference) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। তারা আরও সম্মত হয় যে নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা-সহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

 

 

 

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ:

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলন সংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খনন কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশন (JRC)-এর পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

 

 

 

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ:

বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বেড়া (SRF), গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারি সংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (SCP) জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়। এছাড়া অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি হয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

 

 

 

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ:

বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলী, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত-সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করারও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়।

 

 

উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসা কুড়াল জাপানি সমর্থকরা

 

খেলার মাঠেও শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানের সমর্থকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অন্য দর্শকদের মতো তড়িঘড়ি স্টেডিয়াম ত্যাগ না করে, পুরো গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই মাঠ ছাড়েন তারা।

 

 

 

জাপানি সমর্থকদের জন্য অবশ্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রতিটি ম্যাচের পর একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। শুধু নিজেদের দলের ম্যাচ নয়, অন্য দলের খেলা দেখতে গিয়েও গ্যালারি পরিষ্কার করার নজির স্থাপন করেছিলেন তারা।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় জাপান। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে খেলার ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে জাপানি সমর্থকদের অসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণ।

 

ম্যাচ শেষে ডালাসের স্টেডিয়ামে দেখা যায়, গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা নিজেরাই সংগ্রহ করছেন জাপানের সমর্থকরা। বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে সেগুলো ভরে নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থানে নিয়ে যান তারা। পুরো এলাকা পরিষ্কার করার পরই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।

 

এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাদের এই সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

 

মূলত জাপানের ক্রীড়া সংস্কৃতিরই অংশ এই অভ্যাস। দেশটির ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোতেও খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, খেলা দেখতে গিয়ে যে আবর্জনা তৈরি হয়, সেটি পরিষ্কার করার দায়িত্বও দর্শকদেরই। সে দায়িত্ববোধ থেকেই তারা নিয়মিত এ কাজ করে আসছেন।

 

 

 

বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে বারবার একই চিত্র ফুটে ওঠে— খেলা শেষ, দর্শকশূন্য হচ্ছে গ্যালারি, আর হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়াম পরিষ্কারে ব্যস্ত জাপানের সমর্থকরা। দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের এই দৃষ্টান্ত আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলো।

 

 

বিশ্বকাপ ব্যয়ের বদলে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আহমাদুল্লার

 

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপুল ব্যয়ের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

 

 

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

 

 

পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষ ও বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা।’

 

আহমাদুল্লা লেখেন, “এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।”