সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

নোয়াখালীর নতুন পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ

নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন।
সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নবাগত পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা!

না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালে। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের মুম্বাইয়ের নালাসোপাড়ায় নিজ বাসভবন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে সঞ্চিতার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, অভিনেত্রী সঞ্চিতা । 

 

 

 

আচোলে থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক বিনোদ বাঘ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নিজের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সঞ্চিতা। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সঞ্চিতাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

 

 

 

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। অভিনেত্রীর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ (এডিআর) নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। 

 

 

 

মৃত্যুর আগে সামাজিক মাধ্যমে সঞ্চিতার শেষ পোস্টও নজর কেড়েছে তাঁর অনুরাগীদের। শনিবার একটি রিল পোস্ট করেছিলেন তিনি, সেখানে খুব হাসিখুশি ভাবেই ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন অভিনেত্রী। একটি প্রাণবন্ত গানের সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই ভিডিওর মন্তব্যে শোকপ্রকাশ করছেন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক কী হয়েছিল! ওই রিলটি পোস্ট করার মাত্র ১৮ ঘণ্টা পরেই তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। 

 

 

 

অল্প সময়েই টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন সঞ্চিতা উগালে। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে দিয়া ট্যান্ডন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এ ছাড়া ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’তে রুচিতা চরিত্রেও অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। 

 

 

 

ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন সঞ্চিতা। ‘ছাবা’ সিনেমায় ভিকি কৌশলের অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত তারা রানির কনিষ্ঠ বয়সের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি 

 

 

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ, কোথায় যাবে কোনটি?

 

রাজধানীর ৪টি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

 

চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হলো, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

 

সভায় জানানো হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। সভায় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যানজট নিরসনে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেটি নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে। একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’

 

 

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের উচ্ছেদ না করে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও না রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

 

 

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর যাতে বাস দাঁড়িয়ে না থাকে, সে জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’

 

 

 

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কামারখন্দে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কামারখন্দ থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাশমত আলীর নেতৃত্বে এসআই বাবুল আক্তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোর জেলার সিংড়া থানা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয়— সিরাজগঞ্জের সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), হৃদয় হাসান (২৬), এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা এলাকার বাসিন্দা এবং এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. ইমদাদুল হক ও মো. সুজন (৩১), শাহজাদপুর উপজেলার বাওসাগরি এলাকার বাসিন্দা। মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১), নাটোরের সিংড়া উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জয়নব খাতুন (স্বামী-সবুজ মিয়া), কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকুল এলাকার বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করে সোমবার ১৫ জুন দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাদেক আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির ৫টি মামলা, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি, সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি, সবুজের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ৫টি এবং ইমদাদুলের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক আলী কামারখন্দ থানার টিটিসিতে ডাকাতি, নাটোর সুগার মিলে ডাকাতি, রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতি এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার পপুলার পলিথিন কারখানায় ডাকাতিসহ আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, হৃদয় হাসান, সুজন ও ইমদাদুল এর আগে নাটোর সুগার মিল, কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ি এবং সাভারের ধামরাই এলাকার ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে তারা আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ছোট পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করত। এরপর প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যেত।
গ্রেফতারকৃতরা কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরিতে ডাকাতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কামারখন্দ থানা পুলিশ।

‘লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

 

ফুটবল বিশ্বকাপের গত আসর শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি জানিয়েছিলেন, সেটি তার শেষ বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হয়ে যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলে দলকে আবার বিশ্বকাপে তুলেছেন। তারপরও বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন। তার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে পর পর দুইবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। তিনি আরও একবার বিশ্বকাপ জিতুন, এমনটা চান না ইংল্যান্ডের ফুটবলার ড্যান বার্ন। তিনি এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।

 

 

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা ইংল্যান্ডের এই সেন্টার ব্যাক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি আশা করছি, মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না। ওর হাতে আর ট্রফি দেখতে চাই না। আর্জেন্টিনা গত বারের চ্যাম্পিয়ন। এবারও ওরা অনেক দূর যাবে। কিন্তু আশা করছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না।

কেন এমন কথা বললেন বার্ন? তার ব্যাখ্যা, গত বারই মেসি বিশ্বকাপ জিতেছে। ফুটবলের আর কোনও ট্রফি জেতা ওর বাকি নেই। এবার বাকিদের সুযোগ। আশা করি, ফুটবল দেবতাও চান, এবার অন্য কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হোক। নইলে বিশ্বকাপের মজাটাই চলে যাবে।

 

বিশ্বকাপে সিরাজগঞ্জে ইরান সমর্থকদের পতাকা মিছিল

ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের সমর্থনে সিরাজগঞ্জে পাতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) শহরের বাজার স্টেশন মুক্তির সোপান এলাকা থেকে ৪০ ফিট লম্বা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল করে সমর্থকেরা।

 

 

 

ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবল দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মিছিলটির আয়োজন করা হয়।

 

ইরান সাপোর্টার সোসাইটি ও সিরাজগঞ্জ স্পোর্টসক্লাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় তাদের তুমি কে আমি কে ইরান ইরান এমন শ্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

 

মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইরান সাপোটার্স সোসাইটির সভাপতি মিলন শেখ, সিরাজগঞ্জ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন সুজন, মাছুমপুর ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা শাহরিয়ার তুষার ও সিরাজগঞ্জ জেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মিলন প্রমূখ।

 

শ্রেষ্ঠ ইউএনও’র সম্মাননা পেলেন ঠাকুরগাঁও সদরের খাইরুল ইসলাম

​সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখায় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম।
​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে বিশেষ দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন ইউএনও মো. খাইরুল ইসলাম। তাঁর এই ধারাবাহিক সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করে।
​সোমবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক একটি মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক শ্রেষ্ঠ ইউএনও মো. খাইরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
​সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।
​পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি আগামী দিনে জনগণের সেবায় এবং সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে লাখ টাকা করে ঋণ নারীদের নামে, ঋণগ্রহীতারা জানে না কেউ!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মোঃ জামরুল হাসানের স্ত্রী মোছাঃ শাপলা পারভীন। অন্যের জমিতে কাজ করে এবং ট্রলি চালিয়ে চলে জামরুলের সংসার। সহজসরল গৃহবধূ শাপলা পারভীনের দিন কাটে স্বামীর সংসারে সন্তানদের দেখাশোনা আর হাঁস মুরগী পালন করে। আর এই শাপলা পারভীনের নামেই উঠেছে ১ লাখ টাকার ঋণ। শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে শাপলা পারভীনের নামে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঋণ উত্তোলন হলেও শাপলা পারভীন বা তার স্বামী জামরুল হাসান কেউ জানেনা কিভাবে তাদের মাথায় উঠলো এই ঋণের বোঝা। এমনকি তারা ঋণের জন্য কোন প্রকার আবেদনও করেননি সমবায় অফিসে।
অপরদিকে পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভ্যানচালক ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন ঋণের জন্য আবেদন করলেও অফিস থেকে জানানো হয় তাদের ঋণ পাশ হতে দেড়ি হবে। অথচ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছে আসমা খাতুনের নাম। তার নামেও ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
একই ভাবে নুকালী গ্রামের সোবাহান প্রামানিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুনও আবেদন করেছিলেন ঋণের জন্য। একই সময়ে ছালমা খাতুনের নামেও ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন হলেও অফিস থেকে ছালমা খাতুনকে জানানো হয়েছে তাদের আবেদন এ বছর পাশ হয়নি। গ্রামের সহজসরল গৃহবধূদের মাথায় কিভাবে এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা উঠলো তার সঠিক জবাব নেই উপজেলা সমবায় অফিসেও।
জানা যায়, চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জন মহিলাকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহার ছুটির আগে ৮ জন মহিলার নামে ঋণ উত্তোলন হলেও জানে না ঋণগ্রহীতারা। ৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন ঋণের টাকা পেলেও বাকীদের নামে উত্তোলন হওয়া ঋণের টাকা কোথায় জানেনা কেউ। এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় গ্রামের  সহজসরল নারীরা।
সরজমিনে গেলে নুকালী গ্রামের মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন, মোঃ সোবহান প্রামাণিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুন, পোতাজিয়ার মোঃ জামরুলের স্ত্রী শাপলা পারভীন জানান, তাদের নামে কিভাবে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তা কেউ জানেন না। এই ঋণের টাকা কে তুলে নিয়ে তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে তার জবাব অবশ্যই উপজেলা সমবায় অফিসকে দিতে হবে।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রবিউল রানা জানান, ঋণগ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির আগে তাদের প্রত্যেককে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও কেন তারা টাকা পায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, “যাদের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে তারা যদি না পেয়ে থাকে তাহলে তো ভয়ংকর ঘটনা। এমনটা যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশুসহ ৯ জনের ঠাঁই শূন্যরেখায়, বাড়ছে মানবিক সংকট

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে দুই শিশুসহ নয়জন দুই দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটছে তাদের। আটকে পড়া দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও মিলছে না কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা।

 

 

সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১-এস সাব-পিলারের নিকটবর্তী গেট খুলে ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, একই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৫ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী ভুন্দুরচর-ইজলামারী এলাকা দিয়ে আরও তিন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় জনতার কড়া নজরদারি ও তৎপরতার কারণে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা সোমবার (১৫ জুন) পযর্ন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত দু’দিন ধরে তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশু বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে, পুশইনের শিকারদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশে সীমান্তের গ্রামবাসীরা।

 

সীমান্তের বাসিন্দা আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ভোররাতে বিএসএফ অন্যায়ভাবে এদের পুশইন করেছে। তারা যদি বাংলাদেশিও হয়ে থাকে, তবে বিএসএফ রাষ্ট্রীয় নিয়মে তাদের ফেরত পাঠাতে পারত। তা না করে ভোররাতে সবার অগোচরে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিজিবি তাদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে।’

 

 

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘বিএসএফ জোর করে এদের আমাদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এরা খুব কষ্টে আছে। বিশেষ করে বাচ্চা দুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের দেখভাল করার চেষ্টা করলেও শূন্যরেখায় থাকায় আইনি জটিলতায় মূল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত এর একটা মানবিক সমাধান হওয়া দরকার।’

 

 

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিজিবির ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘শূন্যরেখায় আটকেপড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় কড়া পাহারায় দিন কাটছে ওই নাগরিকদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি, ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে কার্যকরী বয়স যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে। এ জন্য মুখমণ্ডল স্ক্যান করা বা পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করবে প্ল্যাটফর্মগুলো।

 

 

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম দ্রুতই একটি সমীক্ষা চালিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাজ্যে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে প্রবেশ ঠেকাতে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটসহ কিছু প্ল্যাটফর্মকে ইতোমধ্যেই একই ধরনের বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হয়।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যাল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমি কোনো ধরনের আপস করতে চাই না।

ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুদের ৪১,৫৫৫টি ডিএনএ প্রোফাইল সম্পন্ন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সপ্তম দিন লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

 

 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান জানতে চান, দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কোনো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনটি পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধগুলেঅর বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করতে হবে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুততর করা হয়েছে, অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাতীয় ‘নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬’, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা-২০১৮’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৮২ হাজার ৬৭৮ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারসমূহে এক লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার হতে মোট ৩৮ হাজর ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। সারভাইভের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, পুলিশি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইন হতে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি’ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত উক্ত আইন করা সমীচীন ও প্রয়োজন বিধায় কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিতক্রমে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পারিবারিক সহিংসতায় সংগঠিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন রুল্পে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ট্রেন্ড, ফ্যাশন নাকি কৌশল?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই মাঠে চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত কিন্তু দৃষ্টি-কাড়া প্রবণতা—প্রায় সব দলের খেলোয়াড়দের পায়ে একই রঙের বুট, উজ্জ্বল গোলাপি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের জার্সি থাকলেও পায়ের নিচে যেন একই রঙের ছাপ, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো—নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালান্স ও স্কেচার্স—এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রায় একই থিমে গোলাপি রঙের বিশেষ সংস্করণের বুট বাজারে এনেছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘পিংক স্ট্রিট’ ট্রেন্ড।

 

 

দুর্লভ ফুটবল বুট সংগ্রাহক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিডব্লিউ বুটস ইউকে–এর প্রতিষ্ঠাতা বেন ওয়ারেন মনে করেন, এটিকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। তার মতে, ফুটবল বুটের ডিজাইন ও রঙে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এক ধরনের সমান্তরাল ট্রেন্ড কাজ করে, আর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে সেই ট্রেন্ড আরও দ্রুত একসঙ্গে মিলিত হয়। তার ভাষায়, ‘এটা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপে একই রঙের আধিপত্যটা চোখে পড়ার মতো বেশি।’

ব্যাংককে শুটিংয়ে শাকিব খান, সঙ্গে দুই জনপ্রিয় নায়িকা

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সোলজার’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সিনেমাটির কাজ শেষের পথে। বাকি অংশের শুটিং সম্পন্ন করতে চলতি মাসেই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন নির্মাতা সাকিব ফাহাদ ও তার টিম। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আলোচিত এই অ্যাকশনধর্মী সিনেমাটি।

 

 

গত বছর প্রকাশিত মোশন পোস্টারে ‘সোলজার’-এর গল্পের আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাতে এক ভিন্ন রূপে দেখা যাবে শাকিব খানকে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আরও রয়েছেন তারিক আনাম খান, তৌকীর আহমেদসহ অনেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড।

 

 

দেশপ্রেম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটবিরোধী গল্পে নির্মিত ‘সোলজার’-এর শুটিং শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে। শুরুতে ডিসেম্বরেই মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে নির্মাতা জানান, মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ২০২৬ সালেই সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আসবে।

সাকিব ফাহাদ বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে সিনেমাটি যথাযথভাবে শেষ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর- দুই সময়ই ভালো। শুটিং ও পরবর্তী কাজ শেষ হওয়ার পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন নির্মাতা। তার ভাষ্য, ‘ভালো সিনেমা সারা বছর মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। দর্শক ও হলমালিকদের সেই প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই আমরা ভিন্ন সময়ে সিনেমাটি মুক্তির কথা ভাবছি।’

নদীতে ভাসছিল বস্তাবন্দি লাশ, শনাক্ত হলেন নিখোঁজ অটোচালক

বরিশালে দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকা নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি অর্ধ-গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার অটোরিকশাটির কোনো হদিস মেলেনি।

 

 

নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে। পুলিশের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাই করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সোমবার সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি বস্তায় অর্ধেক বন্দিবস্থায় মরদেহটিকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাজমুলের মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। দুপুর থেকে নাজমুলের ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি। পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রোববার (১৪ জুন) নিহতের পিতা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী নীপা বেগম বলেন, ‘​শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর তার খোঁজ পাইনি। ওর কোনো শত্রু ছিল না। তাহলে কেন এভাবে ওকে মেরে ফেলা হলো।’

 

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা বলেন, ‘সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার অটোরিকশাটিও পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

 জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। দিনভর টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

 

​আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা ঘুরে ওই বৃদ্ধের আর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

​স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল রোববার সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

 

 

​এরপরও হাল ছাড়েনি বিএসএফ। রোববার দিনভর দফায় দফায় ওই বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের যৌথ সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রতিবারই তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিএসএফ সারাদিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সন্ধ্যার পর সীমান্তের সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অন্ধকারে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আমাদের ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা একটি গাড়িতে করে ওই বৃদ্ধকে নিয়ে ওখান থেকে চলে যায়।

​বর্তমানে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মনে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, সীমান্তের ওপারে ভারতের জামালপুর গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। জামালপুর গ্রামের ঠিক পাশেই ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

​এদিকে পুশইনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৪ জুন) উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে আটক করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মফিজুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ধামশ্রেণী ইউনিয়নের রানিগঞ্জ চৌমুহনী-অনন্তপুর সড়কের টেংরাকুড়া সেতুর ওপর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোঁটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করেন। এমন উতপ্ত পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, যান চলাচলে বাধা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই মামলায় মোখলেছুর রহমানকে পলাতক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের ৩০ মিনিটেই বিদ্যালয় এলাকা বখাটেমুক্ত করল রায়গঞ্জ পুলিশ

সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বখাটে ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা এবং ক্যাম্পাসে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে কোনো বখাটে চক্র, কিশোর গ্যাং বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 সোমবার ( ১৫ জুন)এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বখাটেদের অবস্থানের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা থেকে বখাটেদের সরিয়ে দিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই কোনো ধরনের উত্যক্ত, হয়রানি বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উত্যক্ত, হয়রানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাস বখাটে এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক মাদকদ্রব্য আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমারেখার ৩ শ’ মিটার ভিতরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপির এক বিশেষ টহল দল ভারতীয় নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য আটক করেছে ।
 বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০২’৪০ ঘটিকায় ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপিতে কর্মরত নায়েব সুবেদার মোঃ সোনারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ০১টি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৯৫/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট থানাধীন আলালপুর মৌজার একটি আমবাগানে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে টহল দল মালিকবিহীন ফেন্সিডিল এর বিকল্প ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়।
 আটককৃত নেশাজাতীয় সিরাপগুলো জিডি করতঃ ভোলাহাট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলব ডা. জাহেদ ইস্যুতে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধার ঘটনায় এই তলব করা হয়েছে। ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডা. জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভ্রমণ করেননি এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য কোনো ভিসাও নেননি। তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্ক ভিসায় ভ্রমণ করেছিলেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সার্ক ভিসার তথ্যাদি যাচাইয়ের পর তাকে ছাড়পত্র দিলেও তিনি দিল্লি না গিয়ে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ জুন সন্ধ্যায় জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে দিল্লিতে ঢুকেননি তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এ ভ্রমণ করেননি।

পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা ও ভাই আহত হয়েছেন। খবর এএফপির।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত ধরতে গিয়ে তারা একটি অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল করে একটি গাড়িকে ডাকাতদের গাড়ি মনে করে গুলি চালান।

 

 

গুলিতে হানিয়া নামের শিশুটি নিহত হয়। আহত হন তার বাবা ও ভাই।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

নিহত শিশুটির পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিল।

 

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

পাঞ্জাব পুলিশও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, কীভাবে এই ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের

 

নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে বাতিল হচ্ছে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এমপি পদ! এবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে করা পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যার কমেন্ট সেকশনেও তিনি হান্নান মাসউদের বেশকিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

 

 

 

কালবেলার পাঠকদের জন্য রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো—

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ!? সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ। ভবিষ্যতে ব্যবসাবাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে বলে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে হলফনামা হান্নান মাসউদকে তার আইনজীবী করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে মাসউদ জানিয়েছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তার স্থাবর সম্পদ নেই। তার মানে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

 

হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে বাতিল হবে প্রার্থিতা, চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। এটি সুনির্দিষ্টভাবে বিধান আরপিওতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।’

 

 

 

আমি হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে যেসব তথ্য দিয়েছি, তা সত্য না কি মিথ্যা, তা হান্নান মাসউদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলেও উত্তর পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, সে তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি দিয়েছে মাহবুব ভাই নামক একজনের থেকে ধার করে। আর নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেছে, কিন্তু ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি! টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না! একজন এমপি এতো গরিব, এত সৎ! আহারে। হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?

 

 

উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট নিয়ে হান্নান মাসউদের সঙ্গে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এতে তিনি কোনো ধরনের সাড়া দেননি।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবির কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আলমপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

 

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আলমপুর গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৭০), একই গ্রামের মৃত রমজানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন (৫০), মৃত রমণীকান্তের ছেলে শ্রী নির্মল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের বাচ্চুর ছেলে বিজয় (৩২) এবং আমানিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (২০)।

 

গ্রেফতারের পর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ। আদালত মাদক সেবনের দায়ে মিরাজ উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিনকে ৫ মাস করে, শ্রী নির্মলকে ২ মাস এবং বিজয় ও আবু বক্কর সিদ্দিককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

 

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, মাদকমুক্ত ক্ষেতলাল গড়ে তুলতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এর সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ব্যক্তিগত সোনা বিক্রিতে এখন থেকে দিতে হবে কর

 

ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে আর শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলে সেই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে।

 

 

 

রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থ বিল বিষয়ক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

 

 

 

সেমিনারে কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের সোনার অলংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম এর ব্যাখ্যা দেন।

 

 

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সোনা ও স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক করদাতা আয়কর রিটার্নে সোনা বা স্বর্ণালংকারের তথ্য দিলেও এর মূল্য উল্লেখ করেন না, যা কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করে।

 

 

 

সেমিনারে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যদিও আবাসন খাত থেকে এ বিষয়ে চাপ ছিল, তবে সরকার শুরু থেকেই এমন কোনো বিধান না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

 

 

 

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সঞ্চয়পত্রে নতুন করে কর বাড়ানো হয়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রিম কাটা কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

 

 

সভায় ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা সহজ করতে অনলাইনে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হবে।

 

নৌবাহিনীতে নতুন নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন বিবাহিতরাও

 

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২০২৭এ ডিইও ব্যাচে ‘কমিশন্ড অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। বিবাহিত প্রার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

ব্যাচের নাম: ২০২৭এ ডিইও ব্যাচ

পদের নাম: কমিশন্ড অফিসার

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি বিএড। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (সাধারণ বিষয়), পুরুষ ও নারী

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ইংরেজি/পদার্থবিজ্ঞান/রসায়ন/মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (ইঞ্জিনিয়ারিং), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: (ক)কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (খ) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (গ) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং/ ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ঘ) মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০ এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

আবেদন শুরু: ৭ মে ২০২৬ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/বিবাহিত

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

বয়স: ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি। নারীদের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪৬ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: অনলাইন অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ১০০০ টাকা পাঠাতে হবে।

 

চার্জে থাকা মোবাইল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

আশুলিয়ায় চার্জে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আহত ফেনীর যুবক মিজানুর রহমান (মিজান) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ জুন) গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আলীমের ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

 

 

ওই সময় মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ফোন দুটি বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
 

প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মিজানের চিৎকার শুনে তার কক্ষের বারান্দার তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

 

 

বিস্ফোরণে কক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। 

 

 

 

ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনের পোড়া অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৫ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান। 

 

 

 

নিহত মিজানুর রহমান ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং আলীমের বাসায় ভাড়া থাকতেন। 

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। 

 

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে বিএসএফকে আহ্বান জানাল বিজিবি

 

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা ও পুশইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিএসএফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

 

 

 

গত শুক্রবার (১২ জুন) বিজিবি থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবির মহাপরিচালক ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এর আগে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

আলোচনায় সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের মতো ঘটনা বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানায় বিজিবি।

 

বৈঠকে সীমান্তে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

 

 

সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের সারসংক্ষেপ

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখপূর্বক সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়, যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয় যে, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাসমূহ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

পুশ-ইন ঘটনা:

বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গা/মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ-ইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP), পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে এসব ‘পুশ ইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত, এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে, প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

 

 

উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান:

বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ পূর্বক এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং বলেন যে এসব কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান যে, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

 

 

উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল (SCP) জোরদার করা এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়:

বিএসএফ মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট সুপরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা/মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় প্রদান করেছে। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

 

 

 

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস (SRF) সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মিত SRF প্যাচসমূহে বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার (DGLT) সময় ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ/ভারতীয় নাগরিকরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে SRF/গবাদিপশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো SRF বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ আবশ্যক। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নোট ভারবালের কথাও উল্লেখ করেন এবং এতে উল্লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, SRF সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা উচিত।

 

 

 

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা (FICN) ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, FICN ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

 

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম:

বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

 

 

 

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা:

বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরি চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন যে যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলোর দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন (Joint Boundary Conference) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। তারা আরও সম্মত হয় যে নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা-সহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

 

 

 

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ:

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলন সংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খনন কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশন (JRC)-এর পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

 

 

 

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ:

বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বেড়া (SRF), গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারি সংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (SCP) জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়। এছাড়া অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি হয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

 

 

 

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ:

বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলী, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত-সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করারও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়।

 

 

উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসা কুড়াল জাপানি সমর্থকরা

 

খেলার মাঠেও শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানের সমর্থকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অন্য দর্শকদের মতো তড়িঘড়ি স্টেডিয়াম ত্যাগ না করে, পুরো গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই মাঠ ছাড়েন তারা।

 

 

 

জাপানি সমর্থকদের জন্য অবশ্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রতিটি ম্যাচের পর একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। শুধু নিজেদের দলের ম্যাচ নয়, অন্য দলের খেলা দেখতে গিয়েও গ্যালারি পরিষ্কার করার নজির স্থাপন করেছিলেন তারা।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় জাপান। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে খেলার ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে জাপানি সমর্থকদের অসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণ।

 

ম্যাচ শেষে ডালাসের স্টেডিয়ামে দেখা যায়, গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা নিজেরাই সংগ্রহ করছেন জাপানের সমর্থকরা। বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে সেগুলো ভরে নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থানে নিয়ে যান তারা। পুরো এলাকা পরিষ্কার করার পরই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।

 

এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাদের এই সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

 

মূলত জাপানের ক্রীড়া সংস্কৃতিরই অংশ এই অভ্যাস। দেশটির ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোতেও খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, খেলা দেখতে গিয়ে যে আবর্জনা তৈরি হয়, সেটি পরিষ্কার করার দায়িত্বও দর্শকদেরই। সে দায়িত্ববোধ থেকেই তারা নিয়মিত এ কাজ করে আসছেন।

 

 

 

বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে বারবার একই চিত্র ফুটে ওঠে— খেলা শেষ, দর্শকশূন্য হচ্ছে গ্যালারি, আর হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়াম পরিষ্কারে ব্যস্ত জাপানের সমর্থকরা। দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের এই দৃষ্টান্ত আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলো।

 

 

বিশ্বকাপ ব্যয়ের বদলে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আহমাদুল্লার

 

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপুল ব্যয়ের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

 

 

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

 

 

পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষ ও বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা।’

 

আহমাদুল্লা লেখেন, “এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।”

 

ফের ৭ গোলের ঝড়ে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ল জার্মানি

 

এক সময় ৭-১ স্কোরলাইন দিয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত উপহার দিয়েছিল জার্মানি। ২০১৪ সালের সেই ব্রাজিল-বধের স্মৃতি এবার যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে জার্মানি।

 

 

 

এই জয়ের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখন জার্মানির দখলে। আগে এই রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের।

 

 

 

ম্যাচে দুটি গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার দ্বিতীয় গোলটিই জার্মানিকে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে দেয়।

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের তালিকায় জার্মানি এখন ২৩৯ গোল নিয়ে শীর্ষে। ব্রাজিল ২৩৮ গোল নিয়ে দ্বিতীয়, আর্জেন্টিনা ১৫২ গোল নিয়ে তৃতীয়, ফ্রান্স ১৩৬ গোল নিয়ে চতুর্থ এবং ইতালি ১২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে।

 

 

জার্মানি একমাত্র দেশ যারা বিশ্বকাপে চারবার সাত বা তার বেশি গোল করেছে। সর্বশেষ এটি হয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত ম্যাচে।

 

 

জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে জার্মানি এবারের টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে আছে। নাগেলসমান এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে তরুণ কোচ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মানি এবার একেবারে অন্য চেহারায় ফিরেছে।

 

 

 

এদিকে কুরাসাও এই বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলছে। ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেশিয়ার গোলে সমতায় ফিরেছিল তারা। কিন্তু হাভার্টজ ও বাকিরা মিলে আর সুযোগ দেননি।

 

আজ রাত থেকে যুদ্ধের অবসান হবে বলে জানাল ইরান

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে ইরান। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।

 

 

 

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান সংঘাতেরও অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও আজ রাত থেকেই শুরু হবে।

 

 

 

ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘারিবাবাদির বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

ঘারিবাবাদি আরও জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও জানান।

 

 

তবে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি।

 

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আদালতে পলক, ভিডিও ছড়াল সামাজিক মাধ্যমে

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ভিডিওতে তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরা অবস্থায় ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত অবস্থায় পলককে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আশপাশে থাকা কয়েকজনকে ভিডিওটি ধারণ করতে দেখা যায়, যা পরে দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, প্রকাশিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

 

রায়গঞ্জে ১১ বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন ঘুরকা ইউনিয়নের দাদপুর দাসপাড়া এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার মো. হানিফ শেখ (৪০) কৌশলে শিশুটিকে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত এর আগেও শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় শিশুটি ঘটনাগুলো গোপন রাখে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির আচরণে পরিবর্তন ও শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখে তার মা বিষয়টি জানতে চাইলে শিশুটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে। পরে পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে অভিযুক্তকে কৌশলে বিদ্যালয়ের পাশে ডেকে এনে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকে রাখেন।
সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান,  জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে এবং তাকে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার অভিভাবকদেরও থানায় আনা হয়।
আটককৃত মো. হানিফ শেখ (৪০) ঘুড়কা পশ্চিম পাড়া গ্রামের আবু বক্কর শেখের ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সলঙ্গা থানা সূত্রে আরও জানানো হয়, ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করলো এশিয়ান শক্তি জাপান

 

জয়ের স্বপ্ন দেখা ডাচদের থমকে দিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান। এর মধ্য দিয়ে ডাচদের কাছ থেকে পয়েন্ট কাড়ল জাপান। আর আবারও প্রমাণ করল ‘জাপান যে কখনো হাল ছাড়ে না’।

 

 

 

ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও ৮৮ মিনিটে কামাদার গোলে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান।

 

 

 

প্রথমার্ধ গোলশূন্য ব্যবধানে শেষ হওয়ার পর চারটি গোলই হয়েছে পরের অর্ধে। ৫১ মিনিটে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিন ফন ডাইকের গোল শোধ করেন জাপানের কেইতো নাকামুরা। ৬৪ মিনিটে সামারভিলের গোলে ডাচরা আবারও এগিয়ে গেলেও কামাদার গোলে শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ার দলটি।

 

এর আগে ১-১ সমতা ফেরার পর ৬৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। তবে হাল ছাড়েনি জাপান। সমতায় ফিরতে লড়াই চালিয়ে যায়।

 

আয়ারির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তিউনিশিয়াকে গুঁড়িয়ে দিল সুইডেন

 

বিশ্বকাপের মঞ্চে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ের নায়ক হওয়া যে কোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ মুহূর্ত। কিন্তু তিউনিশিয়ার বিপক্ষে গোল করেও ভিন্ন এক বার্তা দিলেন সুইডেনের তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি।

 

 

 

বাবার জন্মভূমির জালে বল জড়ানোর পর উচ্ছ্বাসে না মেতে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে সেই দৃশ্যই আলোচনার কেন্দ্রে, যেখানে সুইডেন ৫-১ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে।

 

 

 

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিশিয়াকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। এক গোল হজম করলেও ৫ গোল দিয়ে বিশাল জয় তুলে নিয়েছেন ভিক্টর ইয়োকেরেসরা। দলটির হয়ে জোড়া গোল দিয়েছেন ইয়াসিন আয়ারি। বাকি তিন গোল করেন আলেক্সান্দার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও মাটিয়াস সভানবার্গ।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে সুইডেন তাদের প্রথম গোল পায় ম্যাচের ৭ মিনিটেই। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সুইডেনের হয়ে গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী আয়ারি।

 

তবে গোল করার পর উদযাপনে মাতেননি এই তরুণ মিডফিল্ডার। বরং সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক আবেগও। আয়ারির বাবা তিউনিশিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নিয়েছেন নিজের জন্মভূমি সুইডেনকে।

 

 

জানা গেছে, ২০২১ সালে তিউনিশিয়ার প্রতিনিধিরা তখনকার সুইডেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় আয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করে জাতীয় দল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল।

 

 

 

শুধু তিউনিশিয়াই নয়, আয়ারির মা মরক্কোর হওয়ায় উত্তর আফ্রিকার দেশটির পক্ষ থেকেও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ ছিল তার। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এই উদীয়মান মিডফিল্ডার। বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত সুইডেনের প্রতিই অনুগত থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

 

 

 

ম্যাচে সুইডেন তাদের দ্বিতীয় গোল পায় ৩০ মিনিটে। এবার লক্ষ্যভেদ করেন আলেক্সান্দার ইসাক। তবে ৪৩ মিনিটে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তিউনিশিয়ার ওমার রেকিক। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সুইডিশরা।

 

 

 

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগ দেয়নি সুইডেন। ৫৯ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এ গোলে তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক শামাখের ভুলও ছিল চোখে পড়ার মতো। ইসাককে অরক্ষিত রেখে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড।

 

 

 

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে গোলের খাতায় নাম লেখান মাটিয়াস সভানবার্গ। আর ম্যাচের শুরুতে গোল করা আয়ারিই শেষটাও রাঙান। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সুইডেনের ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

 

 

 

জোড়া গোল, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ব্যতিক্রমী উদযাপনের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইয়াসিন আয়ারি।

 

ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্তে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা দলের

বাংলাদেশের সীমান্তে হতদরিদ্র নিরীহ ভারতীয়দের ‘পুশ ইন’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। সংগঠনটি বলছে, বিভিন্ন কৌশলে ‘পুশ ইন’ এর নামে নিজ দেশের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নজীরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে ভারত। এই ধরণের কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ জানিয়েছে তারা।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে এসে ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। এসময় উনার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

ভারতকে সতর্ক করে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে। দেশের সম্মান ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি দীর্ঘদিন থাকতে চায়, তাহলে তাকে বিদায় করার উপায়ও এ দেশের মানুষ জানে। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়া টিকে থাকতে পারেনি।

 

 

ভারতের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, হতদরিদ্র নিরীহ ভারতীয়দের ‘পুশ ইন’ বন্ধ করুন। খুনি হাসিনাসহ ভারতে পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দুষ্কৃতিকারীদের পুশ আউট করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। তাদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য সহযোগিতা করুন। জাতীয় হীনকর্মকাণ্ড পরিহার করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সুসম্পর্ক রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

 

 

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণফ্রন্টের সভাপতি কমরেড টিপু বিশ্বাস, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন, সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, ভাষানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টি প্রমুখ।

 

বয়স্ক মাকে নির্যাতন, দুই সন্তান গ্রেপ্তার

 

নওগাঁর ধামইরহাটে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগে দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

এর আগে শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী মায়ের নাম চাঁদ সুলতানা। তিনি উপজেলার খড়মপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চাঁদ সুলতানার বড় ছেলে আব্দুল মমিন (৪৫) এবং ছোট ছেলে আব্দুল মুকিম (৩৫)।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারবার অত্যাচার-নির্যাতনের পর শনিবার ভুক্তভোগী চাঁদ সুলতানা নামে ওই বৃদ্ধা তার মেয়েকে নিয়ে থানায় আসেন। এরপর তিনি তার ছেলেদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তারা আলাদাভাবে সংসার করে আসছিল। এর মাঝেই সুলতানার নামে থাকা কিছু সম্পত্তি লিখে নিতে চাপ সৃষ্টি করে দুই ছেলে।

 

 

পারিবারিকভাবে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করা হলেও তার ছেলেরা মাঝেমধ্যেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতেন। শনিবার আবারও বৃদ্ধা মাকে তার ছেলেরা মারধর করে বাড়িতে থেকে বের করে দিতে চায়। উপায় না পেয়ে বিকেলেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

 

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া পর ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা মিলে। এরপর রাতেই দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই ভাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

​দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলায় উপচে পড়া ভিড়

​কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার বিহারপুর তেঁতুলতলী মাঠে স্থানীয় লাঠিয়াল মো. বাচ্চু হোসেনের সার্বিক আয়োজনে এই রোমাঞ্চকর খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

 

​দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর আয়োজনকে কেন্দ্র করে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধ দর্শনার্থী তেঁতুলতলী মাঠে ভিড় জমান। ঢাক-ঢোলের তাল, করতালির শব্দ আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

 

​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রায় দুইশত বছরেরও বেশি পুরোনো। মূলত গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ সপ্তাহে এই লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

 

​আয়োজক লাঠিয়াল মো. বাচ্চু হোসেন জানান, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এমন সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে ‘মাদককে না’ বলার আহ্বান জানাতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

 

​খেলায় অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ লাঠিয়াল বাবু হোসেন খেলার কৌশল নিয়ে বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা এই খেলা খেলে আসছেন, এখন তাদের দেখাদেখি আমরাও খেলছি। তবে এই খেলার কিছু নিজস্ব নিয়ম-কানুন আছে। লাঠি নিয়ে মাঠে নামার আগে বিশেষ মন্ত্র বলে গা বেঁধে (শরীর বন্ধন করে) নিতে হয়। এরপর ঢাক-ঢোলের তালে তালে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, সেই জয়লাভ করে।

 

​দীর্ঘদিন পর এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

মেঠো প্রান্তরে সমবেত হওয়া সুধীজন ও সাধারণ মানুষ বলেন, গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত এবং তা আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং তা সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তারা।

জয়পুরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ করে দিল বিজিবি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার একটি বড় চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সাহসী জনতা।

 

বিএসএফের সমস্ত চাপ ও অপকৌশল উপেক্ষা করে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবির অনড় অবস্থান ও গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় বাহিনী।

 

রোববার (১৪ জুন) সকাল আটটার দিকে পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়নের হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব- পিলার এলাকায় এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের পুশব্যাক করা ভারতীয় নাগরিককে বিজিবি শক্ত হাতে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠালেও, বিকেল তিনটা পর্যন্ত তাকে শূন্যরেখার এক ডোবায় বন্দি করে রাখে বিএসএফ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভোরের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতের মথুরাপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেয়। সকালে সীমান্তসংলগ্ন মাঠে কর্মরত বাংলাদেশি কৃষকেরা বিষয়টি টের পান। ওই বৃদ্ধ নিজেকে ভারতের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে জানান, বিএসএফ তাকে জোর করে এপারে পাঠিয়েছে।

 

বাংলাদেশি কৃষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় স্বার্থে ও সীমান্ত সুরক্ষায় হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ভারতীয় নাগরিককে পুনরায় ভারতীয় সীমান্তে পুশব্যাক করেন। কিন্তু বিএসএফ নিজেদের নাগরিককে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে।

 

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব ও থমথমে দৃশ্য। সীমান্তের শূন্যরেখার একটি ডোবায় ওই বৃদ্ধকে বসিয়ে রেখে ওপারে অস্ত্র উঁচিয়ে অবস্থান নেয় বিএসএফ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মাটি রক্ষায় ডোবার এপারে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়ায় শত শত গ্রামবাসী। বিজিবি ও স্থানীয় জনতার এই যৌথ ও অনড় প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের পুশ ইনের অসৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।

 

বিএসএফের লোকজন অন্যায়ভাবে লোকটাকে এপারে পাঠায়। আমরা এবং বিজিবি মিলে ওনাকে ভারতের সীমান্তে ফেরত পাঠাই। কিন্তু বিএসএফ ওনাকে গ্রহণ না করে শূন্যরেখায় ফেলে রাখে।”* তিনি আরও জানান, ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্পের ভেতরে আরও অনেক মানুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সুযোগ পেলেই ভারত তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করতে পারে বলে সীমান্তবাসী আশঙ্কা করছেন।

 

বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিজিবি।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএসএফ এক ভারতীয় বৃদ্ধকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। আমাদের সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের সাহসী সহায়তায় আমরা তাকে ভারতের অভ্যন্তরে পুশব্যাক করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

 

বিএসএফের এমন উসকানিমূলক আচরণের পর পুরো সীমান্তজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারতের এই আগ্রাসী তৎপরতা বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

তাড়াশে DADACU এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন, মাদকমুক্ত দেশীগ্রাম ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার

মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “দেশীগ্রাম ইউনিয়ন এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিট – DADACU” এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১৪এপ্রিল(রবিবার)সংগঠনের সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন পায়। আগামী এক বছর কমিটিটি মাদক নির্মূল, অপরাধ দমন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সোহাগ হোসেন। সহ সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ হাবিবুল বাসার, মোঃ পল্লি সেলিম, মোঃ ফারুক আহমেদ ও মোঃ মোর্শেদ প্রামানিক।
সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন বড় মাকদক্ষিনা গ্রামের মোঃ মেহেদী হাসান ফেরদৌস। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ রানা আহমেদ, কে. এ. বাইজিদ ও মোঃ খালিদ ইনতেজার।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক প্রশান্ত রয়, প্রচার সম্পাদক মোঃ সজিব আহমেদকে নিয়ে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৪০ জনের অধিক সদস্য সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে। দেশীগ্রাম, মাকদক্ষিনা, জড়িহর, ভেদুরী, আড়ংগাইল, শ্যামপুর, গুড়িপুল, রাধাকান্তপুরসহ ইউনিয়নের সকল গ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে কমিটিতে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ সোহাগ হোসেন বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে আমানত। দেশীগ্রামের যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা মাদকমুক্ত, আদর্শ দেশীগ্রাম গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ”।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, DADACU এর এই নতুন কমিটি দেশীগ্রাম ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ-ণধ-র্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজারের পাশের একটি গুদামে (গোডাউন) এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কিশোরীর প্রেমিকসহ তিন যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কালিতলা এলাকার তামিম ইসলাম (২২), রনি (২১) ও মাসুদ (২২)। পুলিশ জানায়, তামিম ওই এলাকার মো. আনারুলের ছেলে, রনি মিন্টুর ছেলে এবং মাসুদ মজিদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মায়া (রূপক নাম) (১৫) সঙ্গে গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে কালিতলার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলামের পরিচয় হয়। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মায়াকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন তামিম। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কালিতলা বাজারের পাশে ‘ঘষমিন্টুর গোডাউন ঘরে’ মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তামিম ও তার দুই বন্ধু রনি ও মাসুদ মিলে রাতভর ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধ-র্ষণ করেন। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পায় এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে  মেয়েটিকে ওই গুদাম থেকে আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন পুলিশ সদস্যরা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, আটককৃত তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করলো ছাত্রলীগ

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবর জিয়ারত করলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

 

 

 

রোববার দুপুরের পর কবর জিয়ারতের ভিডিওটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেসবুক পেইজে ভাইরাল হয়।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, সদ্য ঘোষিত সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জীবন শেখ, সহ-সভাপতি লিখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম শিবলুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা যায়।

 

বাংলাওয়াশ থেকে রক্ষা পেল অস্ট্রেলিয়া, কনোলির লড়াকু ইনিংস

 

শেষ মুহূর্তে দারুণ রোমাঞ্চ জাগালেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে টাইগারদের ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর তাতেই বাংলাওয়াশের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল অজিরা।

 

 

 

শেষদিকে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছেন শরিফুল ইসলাম। ৬ উইকেট তুলে অজি শিবির আতঙ্ক ধরিয়েছেন এই পেসার। তবুও ২২ বছর বয়সী তরুণের ব্যাটেই ভেস্তে গেল অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন। কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হার মানতে হয়েছে। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

 

 

 

মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংগ্রহও যথেষ্ট হয়নি কনোলির দৃঢ় প্রতিরোধের সামনে। ৩ বল ও এক উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারকে হারানোর পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বড় হয়নি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

 

সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তারা। ইনিংসের মাঝপথে চোটে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দ্রুতগতির অর্ধশতক তুলে নেন। তার অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

 

 

 

কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল।

 

 

 

নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।

 

 

 

তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন আগ্রাসী। চার-ছক্কায় রানের চাকা সচল রেখে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার।

 

 

 

অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। লাবুশেন ফিরলেও থামেননি তিনি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।

 

 

 

গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।

 

 

 

শেষদিকে অবশ্য একাই লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার।

 

 

 

তবে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ

জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শারমিন আক্তারের ব্যাটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডাচদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাঘিনীরা।

 

 

বার্মিংহামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। যদিও আগে ব্যাটিংয়ের ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশের বোলাররা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খারাপ করেননি। প্রথম ওভারে ভালো শুরু পেলেও ডাচরা দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারপ্লেতে হারায় আরও একটি উইকেট। হিদার সিগার্স ১৩ বলে ১৬ ও ফেবে মোলকেনবার ৭ বলে ১১ রান করে বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক বাবেট ডি লিড।

 

 

দেখেশুনে খেলে তিনি তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও অন্য ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন বাঘিনীরা। আর কেউই যেখানে বিশের ঘরে যেতে পারেননি, সেখানে অধিনায়ক একাই ৪৫ বলে পাঁচটি চারে ৫০ রান করেন।

তা সত্ত্বেও ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ জড়ো করে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার দুটি এবং ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মণি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাব দিতে নেমে ৭..৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। এই ৬৭ রানের ৫০ রানই ছিল জুয়াইরিইয়া ফেরদৌসের। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রান করেন, হাঁকান সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। ছক্কায় অর্ধশতক হাঁকানোর পরপরই বিদায় নেন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ক্রিজে নেমেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। ৮ম ওভারে পরপর দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ ১১তম ওভারে দিলারা আক্তার (২৩ বলে ২৬) ও সোবহানা মোস্তারিকেও হারায়।

তবে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার ঠাণ্ডা মাথায় চাপ জয় করেন। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ ও স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫টি করে বল ও উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় বাংলাদেশ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল ৫৬ রানের।

‘অফিস রোমান্স’ দিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন উত্থান জেনিফারের

দীর্ঘদিন পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন হলিউড তারকা জেনিফার লোপেজ । তার অভিনীত নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘অফিস রোমান্স’ মুক্তির পরই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শক তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ভিউ অর্জন করেছে, যা এটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি দেখা চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।

 

 

সিনেমাটিতে লোপেজ অভিনয় করেছেন জ্যাকি ক্রুজ নামের একটি এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর চরিত্রে। কর্মক্ষেত্রে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এই করপোরেট প্রধানের জীবন বদলে যায় যখন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন নতুন আইন উপদেষ্টা ড্যানিয়েল ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ার। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ব্রেট গোল্ডস্টেইন। দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় গল্প।

 

 

গল্পের পরিণতি অনেকটাই অনুমেয় হলেও দর্শকদের কাছে সিনেমাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মূলত লোপেজ ও গোল্ডস্টেইনের প্রাণবন্ত রসায়নের কারণে। সমালোচকদের কেউ কেউ সিনেমাটিকে প্রচলিত রোমান্টিক কমেডির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করলেও দর্শকদের বড় একটি অংশ এটিকে উপভোগ্য বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অফিস রোমান্স’-এর এই সাফল্য জেনিফার লোপেজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে রোমান্টিক কমেডি ঘরানায় তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে উঠে সিনেমাটি লোপেজের ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। কিছু সমালোচক মনে করছেন, কর্মক্ষেত্রের প্রেম নিয়ে সিনেমাটি নতুন কোনো বার্তা দেয়নি। তবু দর্শকদের আগ্রহ এবং নেটফ্লিক্সে শীর্ষস্থান দখল করে নেওয়া প্রমাণ করছে, ‘অফিস রোমান্স’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্ট্রিমিং কনটেন্টগুলোর একটি।

ড্র দিয়ে শুরু, ট্রফি দিয়ে শেষ—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের মিশন শুরু হয়ে গেছে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে সেলেসাওরা। ফলে হেক্সা মিশন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও ইতিহাস বলছে, এমন শুরু কোনোভাবেই শেষ কথা নয়। বরং অতীতের পরিসংখ্যানই দিচ্ছে সেলেসাওদের বড় স্বস্তি।

 

 

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ সব সময়ই বেশি থাকে। প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেলে অনেকেই সেটিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখেন। তবে ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, শুরুটা ধাক্কায় হলেও শেষটা হতে পারে গৌরবের।

 

 

শুরুর ধাক্কা সামলে যারা বিশ্বজয় করেছে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সোনালী ইতিহাস:

১. ইংল্যান্ড (১৯৬৬) নিজেদের মাটিতে আয়োজিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ঘরের মাঠের দর্শকদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও স্যার আলফ রামসের শিষ্যরা পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউটে বাজিমাত করে তারা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে থ্রি-লায়ন্সরা।

২. ইতালি (১৯৮২) বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ইতালির। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তারা একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি! পোল্যান্ড (0-0), পেরু (১-১) এবং ক্যামেরুন (১-১ )—তিনটি ম্যাচই ড্র করে কেবল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোনোমতে পরের রাউন্ডে উঠেছিল তারা। প্রথম ম্যাচের সেই ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে নকআউট পর্বে পা রাখতেই খোলস বদলে ফেলে আজ্জুরিরা। একে একে আর্জেন্টিনা, দুর্দান্ত ব্রাজিল ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ: প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও যে বিশ্বকাপ জেতা যায়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্পেন (২০১০) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)। এই দুটি দল ড্র নয়, বরং নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (০-১) এবং সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।

 

 

এই বাস্তবতা মাথায় রাখলে ব্রাজিলের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা হতাশার নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও সামনে পুরো টুর্নামেন্ট পড়ে আছে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ছন্দে ফিরতে পারলেই হেক্সা মিশন এখনও অনেকটাই সম্ভব।

 

 

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচের ফলাফল নয়, আসল বিষয় হলো দল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। ব্রাজিল সেই পরীক্ষা এখনই দিচ্ছে।

আগ্নেয়গিরিতে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ইয়েমেনের ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত আল কা’কা বিন আনতার আগ্নেয়গিরির গহ্বরে পড়ে নিহত হয়েছেন। দড়ি বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া পাহাড়ে আরোহণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) গালফ নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর বয়সী আল কা’কা বিন আনতার গত শুক্রবার ইয়েমেনের আল-ধালে প্রদেশের হারাধাত দামত আগ্নেয়গিরির খাড়া দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন। এ সময় হঠাৎ তার হাত ফসকে গেলে তিনি প্রায় ১২০ মিটার গভীর পড়ে যান।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও দুর্গম পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অভিযান জটিল হয়ে পড়ে।

প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকর্মীদের খাড়া ভূখণ্ড, দুর্গম অবস্থান এবং গহ্বরের ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।

 

আল কা’কা বিন আনতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ইয়েমেনের বিভিন্ন পাহাড়, খাড়া পাথুরে দেয়াল ও আগ্নেয়গিরি এলাকায় তার ঝুঁকিপূর্ণ আরোহণের ভিডিও হাজারো দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল।

 

 

বিশেষ করে দড়ি, হারনেস বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই খাড়া পাহাড়ে ওঠা এবং আগ্নেয়গিরির গহ্বরে নামার ভিডিও তাঁকে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

 

 

 

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আলো ও পানি-উদ্ধার সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়, যাতে দুর্গম স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

 

 

 

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনুসারীরা তার সাহস, দুঃসাহসিক মানসিকতা ও অভিযানের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

 

 

‘নেইমারদের অপহরণ করবে ভিনগ্রহবাসী’,নারী গণকের ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের শুরুটা মোটেই আশানুরূপ হয়নি। গ্রুপ ‘সি’- এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে সেলেসাওরা।

 

 

মাঠের এই নড়বড়ে পারফরম্যান্সের মধ্যেই এবার মাঠের বাইরে থেকে এলো এক অদ্ভুত ও আতঙ্কের খবর। ব্রাজিলেরই এক নারী ভবিষ্যদ্বক্তা (গণক) দাবি করেছেন, আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ভিনগ্রহবাসীরা (এলিয়েন) আক্রমণ করতে পারে, যা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেবে!

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে কান্নাভেজা কণ্ঠে ভো বাহিয়ানা নামের ওই নারী গণক বলেন, বন্ধুরা, আমার এটা বলতেই হচ্ছে যে, আমি স্বপ্নে দেখেছি ভিনগ্রহবাসীরা মিয়ামির স্টেডিয়ামে হানা দিয়েছে। আমি পরিষ্কার দেখেছি, প্রথম যে মহাকাশযানটি এসেছিল, সেটি মাঠ থেকে খেলোয়াড়দের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যানটি যখন আকাশের দিকে উঠছিল, তখন আমিও সেটির ভেতরে বন্দি ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর আরও বিশাল একটি বড় আকৃতির মহাকাশযান আসে এবং স্টেডিয়ামে থাকা হাজার হাজার দর্শককে তুলে নিয়ে যায়। নিজের এই দুঃস্বপ্ন নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত বাহিয়ানা।

তিনি আরও বলেন, ‘চারিদিকে শুধু মানুষের চিৎকার, কান্না আর হাহাকার দেখেছি আমি। সত্যি বলতে, আমি ভীষণ ভয় পেয়েছি কারণ এই একই স্বপ্ন আমি দ্বিতীয়বারের মতো দেখলাম। আমার মন বলছে, আগামী ২৪ জুন মিয়ামির ওই স্টেডিয়ামে খুব ভয়ানক কিছুই ঘটতে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুন দিনগত রাত ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের।

আগের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় থাকায়, এই ম্যাচটিতেও স্টেডিয়ামে কানায় কানায় দর্শক পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে এখন এই রহস্যময় ও অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বেশি চলছে।

‘ফার্মগেট’ ইস্যুতে চাপের মুখে আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে তার বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া পার্লামেন্টের অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

 

 

শুক্রবার দাখিল করা আদালতের নথি অনুযায়ী, রামাফোসা চান তার বিরুদ্ধে গঠিত স্বাধীন তদন্ত প্যানেলের অসদাচরণের অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক মামলার নিষ্পত্তি আগে হওয়ার পরই কেবল অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

 

 

‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। ওই সময় রামাফোসার খামারের একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি হয়ে যায়। প্রেসিডেন্টের দাবি, চুরি হওয়া প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার মহিষ বিক্রির অর্থ ছিল। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা কেন আসবাবপত্রের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

রামাফোসা শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত মাসে আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত রায় দিয়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত জানায়, ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি বৈধ ছিল না।

রামাফোসার বিরুদ্ধে স্বাধীন প্যানেলের প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা মামলার শুনানি আগামী ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী রামাফোসা ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

 

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা রামাফোসার জন্য ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে গড়ালেও রামাফোসা তা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। তার দল এএনসি এবং জোটসঙ্গীদের সমর্থন থাকায় তাকে অপসারণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

অতি দ্রুতই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অতি দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি। 

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, গত ১২ জুন ২০২৬ সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন। 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শিগগিরই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই। 

 

 

বিবৃতি চলাকালীন সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সংবাদকে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 

 

আমাদের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান

বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

 

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

 

বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই পরিষ্কার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় অরাজকতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

 

 

অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির দায়িত্ব এখন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

 

 

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির কাছে শিক্ষকরা বদলির আবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রতি মাসে একবার সভা করে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে এবং বদলি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিগত দিনে বড় একটা সিন্ডিকেট বা করাপশনের (দুর্নীতি) জায়গা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এটাতে নজর দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন, আমরা সবাই মিলে নতুন পলিসি গ্রহণ করেছি যে প্রাথমিকে…মাধ্যমিকেও; কিন্তু শুধু প্রাথমিক নিয়ে কথা বলবো। প্রাথমিকে টিচার্স ট্রান্সফার (শিক্ষক বদলি) এটা লোকালাইজ (স্থানীয়) করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার থাকবেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থাকবেন। এরকম চারজন সদস্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তারা মাসে একবার বসবেন। ওই মাসে যতগুলো রিকোয়েস্ট (আবেদন) আসবে, সেগুলো রিভিউ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ট্রান্সফার অ্যালাউ (বদলি অনুমোদন) করবেন, কি করবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘সেইম (একই) জিনিসটা ডিসির অধীনে জেলা পর্যায়েও করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের আন্ডারে ডিভিশন লেভেলে করা হয়েছে। এটা করে করাপশনের (দুর্নীতি) সব জায়গাগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে চাই’।

 

 

‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

 

আগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা ছিল। সে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আবেদন চাওয়া হতো। প্রথমে উপজেলা থেকে উপজেলা; তারপর জেলা থেকে জেলা এবং বিভাগ থেকে বিভাগ পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে আবেদন নেওয়া হতো।

 

 

অনলাইনে এসব আবেদন করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে ফরোয়ার্ড করতেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসতো। অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বদলি অনুমোদিত হতো।

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিটনের ব্যাটে এলো প্রথম ফিফটি

মিরপুরেই অভিষেক হয়েছিল। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের সেই ম্যাচে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন লিটন দাস। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, সেঞ্চুরিও করেছেন একাধিক। কিন্তু মিরপুরের ওয়ানডে ক্রিকেট যেন বারবারই তাকে আটকে রেখেছিল এক অদৃশ্য দেয়ালে।

 

 

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান লেগে ৪৮ রানে মাঠ ছাড়লেও শেষ দিকে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন তিনি। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন অর্ধশতকের মাইলফলক।

 

 

শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরপুরে এটা যেমন লিটনের প্রথম ফিফটি, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম। শেরেবাংলায় ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের পরিসংখ্যান ছিল বিস্ময়করভাবে হতাশাজনক। এই ম্যাচের আগে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে ১৭ এর সামান্য বেশি গড়ে করেছিলেন মাত্র ৪৩৯ রান। ছিল চারটি ডাকও।

এমনকি ক্যারিয়ারে প্রায় ৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন মিরপুরে ৭০ স্ট্রাইক রেটও স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়ে লিটন যেন সব সমীকরণই পাল্টে দিয়েছেন। অর্ধশতক করার দিনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৪।

সাম্প্রতিক সময়েও মিরপুরে ব্যাটে আক্ষেপে পুড়েছেন লিটন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান।

বাংলাদেশ যখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন লিটন। দুজনের ৯২ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে স্বস্তির বিষয়, মিরপুরে অধরা ফিফটিটা শেষ পর্যন্ত পেলেন লিটন।

 

 

 

সলঙ্গার রয়েল রূপালী হোটেলে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রয়্যাল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট’-এ যাত্রীদের জিম্মি করে বাসি-পচা খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এই হোটেলে খেতে বাধ্য হলেও, খাবারের নিম্নমান এবং স্টাফদের দুর্ব্যবহারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
​সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ১৫-২০ মিনিটের বিরতির জন্য এই হোটেলটিতে থামে। বাসের যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে খেতে বসলে তাদের সামনে আগের দিন বা তারও আগের বেঁচে যাওয়া বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত এবং পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। মাংস এবং তরকারি থেকে অনেক সময় টক ও দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগও করেছেন একাধিক যাত্রী।
​ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার এক বাস যাত্রী বলেন, বাস এখানে থামানোর পর বাধ্য হয়েই খেতে ঢুকেছিলাম। কিন্তু যে ভাত এবং তরকারি দেওয়া হয়েছে, তা মুখে দেওয়ার মতো নয়। তরকারি থেকে স্পষ্ট পচা গন্ধ আসছিল। প্রতিবাদ করায় হোটেলের ম্যানেজার ও স্টাফরা উল্টো আমাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে।
বাসযাত্রী আরমান হোসেন বলেন, এই হোটেলে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম রাখা হচ্ছে সাধারণ বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ। সাধারণ মানের এক প্লেট ভাত ও মাংসের দাম রাখা হচ্ছে চড়া, যা সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার শামিল। মেন্যু কার্ড বা মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করেই ইচ্ছেমতো বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই হোটেলের বিরুদ্ধে।
আরেক যাত্রী বলেন,খাবার খাওয়ার আগে খাবারের মেনু চাইলে বলে সমস্যা নাই, খাবার খান কম করে নেবেনে। পরে বিল দিতে গিয়ে দেখি চরা দামে বিল করছে।
​অভিযোগ রয়েছে, দূরপাল্লার কিছু বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের বিনামূল্যে উন্নতমানের খাবার এবং নির্দিষ্ট কমিশনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের এই পচা ও ব্যয়বহুল হোটেলে খেতে বাধ্য করা হয়।
​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কের পাশের এই হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
​অবিলম্বে এই রয়েল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট-এ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি অভিযান পরিচালনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন মহাসড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, নিউ রয়েল রুপালি হোটালের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীতে কিশোররীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।

 

 

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।

 

 

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”

 

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 ধুনটে পারলক্ষীপুর কাঁচা রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নে আরকাটিয়া রাস্তা হতে পারলক্ষিপুর রাস্তায় । রাবিশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে পারলক্ষীপুর গ্ৰামের রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি।
জানা যায় যে আরকাটি হতে পারলক্ষীপু কাঁচা রাস্তাটি বৃষ্টি বাদল হলে চালাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই কষ্টকে লাঘব করার জন্য ৪০বগুড়া- ০৫ আসন (শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের ছেলে বিসিবি এর পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানীর  নিজ  অর্থায়নে রাবিশ ফেলে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন।
রাস্তায় রাবিশ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী জন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমান, পৌর  যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলী। চিকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী,  বিএনপির নেতা রুবেল সরকার ।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম (রাব্বি) ,
চিকাশী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক  জনাব আলী, সদস্য সচিব  মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত পারলক্ষীপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও সাধারণ জনগণ  ইয়ার আলী, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান, আশরাফ আলী, লুৎতফর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মানহানির দুই মামলায় মুফতি আমির হামজার স্থায়ী জামিন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত।

 

 

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত সিরাজগঞ্জ সুমন কুমার কর্মকার তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় চীফ চুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

 

 

এদিকে মুফতি আমির হামজার আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশ ও র্যা ব নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিক প্রবেশেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি।

 

 

৩টা ১০ মিনিটে আদালত থেকে বেরিয়ে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে কোন জবাব না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

 

 

মুফতি আমির হামজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব জানান, আমাদের সিরাজগঞ্জের আইনজীবি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগে জামিন আবেদন করেন। মহানমান্য হাইকোর্টের নির্দেশে মোতাবেক আজকে আমরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এসে স্বেচ্ছায় বেলবন্ড ফার্নিশ করে। যেহেতু উনি সংসদ সদস্য, ওনার অনেক ব্যস্ততা রয়েছে। চৌহালী আদালতে তাঁর স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা মনঞ্জুর করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান দায়ের করা অপর একটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ওই মামলাতেও আমরা জামিন আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন।

 

 

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির কর্ণেল বলেন, মাননীয় জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলাম। ওই মামরায় ওনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছিল, পেপার বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। উনি মহামান্য হাইকোর্টে জামিন চেয়েছিলেন। মহামান্য হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহের জামিন মনজুর করে। আজকে তার শেষ তারিখ ছিল। আজকে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বেল বন্ড ফার্নিশ করেন। অপরদিকে তিনি মূল মামলায় চৌহালী আমলী আদালতে জামিন চেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত ১০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও সদর থানা আমলী আদালতে ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন তিনি।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে প্রকাশ্য সভায় তাঁকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।

 

 

এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্ণেল। এ মামলায় ওইদিনই আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।

 

 

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মে – ২০২৬ খ্রিঃ মাসের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মহোদয়ের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, জনাব মোঃ কামরুজ্জামান মহোদয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি ও সেক্রেটারি মহোদয় ও কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম মহোদয় জেলার আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এসময় তিনি জেলার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ দমন, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, চাদাবাঁজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং জনভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ মনির ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় আহত হন এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন ও কনস্টেবল আশিক। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনিরকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।’

 

 

তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিবী) বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

 

 

পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

 

 

মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

 

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

আজ কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মদিন

আজ রোববার (১৪ জুন) কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। মহান চে গুয়েভারা পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা। তবে কিউবার জনগণ তাঁকে ভালবেসে চে (প্রিয়) নাম দিয়েছেন।

 

 

 

 

১৯২৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে তাঁর জন্ম। ইতিহাস নন্দিত এই বিপ্লবীর নেতৃত্বে কিউবায় সফল বিপ্লবে সংঘটিত হয়।

 

 

 

 

১৯৫৫ সালে ঘটনাক্রমে মেক্সিকো সিটিতে নির্বাসিত কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর দলে যোগ দিয়ে কিউবার তৎকালীন একনায়ক বাতিস্তাকে উৎখাত আন্দোলনে যুক্ত হন। দুই বছরব্যাপী চলা এই আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে চে হয়ে ওঠেন কাস্ত্রো ভাইদের কাছের মানুষ এবং পরে কিউবার শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

চে গুয়েভারা ছিলেন আজন্ম বিপ্লবী। তিনি নতুন দেশে বিপ্লবের আশায় কিউবা ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহযোদ্ধা নিয়ে কঙ্গোয় গিয়ে প্যাট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন।

 

 

 

এরপর চে তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে গিয়ে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক বারিয়েন্তোসের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ। বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় গুরুতর আহত হয়ে বন্দি হন চে। দেশটির লা হিগুয়েরা নামে একটি শহরের স্কুলঘরে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন চে গুয়েভারা।

 

 

অষ্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের মিশনে দারুণ ব্যাট করছে টাইগাররা

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপরই দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা।

 

 

 

ইতিমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা।

 

 

 

শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে লাল-সবুজ বাহিনী। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

 

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের।

 

অন্যদিকে এরই মধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

 

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদে ঢুকে গুলিবর্ষণ, আহত দুই

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ (সেক্রেটারি) দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় মুসল্লি আলম শেখ (৫৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। নামাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা আলম শেখ নামের আরেক মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনেই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও অন্য মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

 

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

 

 

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াহাকা রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় একটি শহরের মেয়র নিহত হয়েছেন। নিহত মেয়রের নাম জোয়েল ব্রাভো। তিনি সান মিগেল আমাতিতলান শহরের মেয়র ছিলেন।

 

 

 

রাজ্যের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সশস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খবর এএফপির।

 

 

 

ওয়াহাকার গভর্নর সালোমোন হারা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাশত করা হবে না।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট কাজ করছে। এ অভিযানে ফেডারেল বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াহাকা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন ও সিনালোয়া কার্টেল নামে দুটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।

 

মেক্সিকোতে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১০০ জন মেয়র হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মানহানি মামলায় সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা।

 

 

রোববার (১৪ জুন) দুপুর দুইটার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

 

 

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর ২টার দিকে মামলার আসামি মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

 

 

 

এর আগে গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কর্ণেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

ওইদিনই আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

 

 

কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে আমির হামজা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২১ এপ্রিল বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বাদী হুমায়ুন কবির কর্ণের বলেন, সম্ভ্রান্ত মুসিলম পরিবারের সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মায়ের নামে করেছেন এতিমখানা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন রোজা রাখেন। অথচ গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।’

 

 

 

বাদী আরও বলেন, আমির হামজার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হওয়ায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, মুফতি আমির হামজা এমপি যোহর নামাজ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন।

 

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আগুনে পুড়িয়ে দিল নোয়াখালী ছাত্রলীগ

নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের মাঝখানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে দিনভর বিষয়টি কারও নজরে না আসায় ঘটনাটি জানাজানি হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয়।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের কিছু অংশ পুড়ে যায়। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কারা এবং কখন আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে আগে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। যারা এ কাজ করেছে, তারাই একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আগুনের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

3 thoughts on “নোয়াখালীর নতুন পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

নোয়াখালীর নতুন পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ

আপডেট টাইম : ০৭:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন।
সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নবাগত পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা!

না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালে। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের মুম্বাইয়ের নালাসোপাড়ায় নিজ বাসভবন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে সঞ্চিতার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, অভিনেত্রী সঞ্চিতা । 

 

 

 

আচোলে থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক বিনোদ বাঘ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নিজের শোবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সঞ্চিতা। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সঞ্চিতাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

 

 

 

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। অভিনেত্রীর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ (এডিআর) নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। 

 

 

 

মৃত্যুর আগে সামাজিক মাধ্যমে সঞ্চিতার শেষ পোস্টও নজর কেড়েছে তাঁর অনুরাগীদের। শনিবার একটি রিল পোস্ট করেছিলেন তিনি, সেখানে খুব হাসিখুশি ভাবেই ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন অভিনেত্রী। একটি প্রাণবন্ত গানের সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই ভিডিওর মন্তব্যে শোকপ্রকাশ করছেন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক কী হয়েছিল! ওই রিলটি পোস্ট করার মাত্র ১৮ ঘণ্টা পরেই তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। 

 

 

 

অল্প সময়েই টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন সঞ্চিতা উগালে। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে দিয়া ট্যান্ডন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এ ছাড়া ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’তে রুচিতা চরিত্রেও অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। 

 

 

 

ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন সঞ্চিতা। ‘ছাবা’ সিনেমায় ভিকি কৌশলের অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত তারা রানির কনিষ্ঠ বয়সের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি 

 

 

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ, কোথায় যাবে কোনটি?

 

রাজধানীর ৪টি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

 

 

চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হলো, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

 

সভায় জানানো হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। সভায় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যানজট নিরসনে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেটি নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে। একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’

 

 

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের উচ্ছেদ না করে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও না রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

 

 

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর যাতে বাস দাঁড়িয়ে না থাকে, সে জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’

 

 

 

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কামারখন্দে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানার পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কামারখন্দ থানা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাশমত আলীর নেতৃত্বে এসআই বাবুল আক্তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোর জেলার সিংড়া থানা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয়— সিরাজগঞ্জের সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), হৃদয় হাসান (২৬), এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা এলাকার বাসিন্দা এবং এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. ইমদাদুল হক ও মো. সুজন (৩১), শাহজাদপুর উপজেলার বাওসাগরি এলাকার বাসিন্দা। মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১), নাটোরের সিংড়া উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জয়নব খাতুন (স্বামী-সবুজ মিয়া), কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকুল এলাকার বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করে সোমবার ১৫ জুন দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাদেক আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির ৫টি মামলা, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি, সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি, সবুজের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির চেষ্টা ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ৫টি এবং ইমদাদুলের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক আলী কামারখন্দ থানার টিটিসিতে ডাকাতি, নাটোর সুগার মিলে ডাকাতি, রাজশাহীর মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতি এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার পপুলার পলিথিন কারখানায় ডাকাতিসহ আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, হৃদয় হাসান, সুজন ও ইমদাদুল এর আগে নাটোর সুগার মিল, কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ি এবং সাভারের ধামরাই এলাকার ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে তারা আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ছোট পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করত। এরপর প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যেত।
গ্রেফতারকৃতরা কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরিতে ডাকাতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কামারখন্দ থানা পুলিশ।

‘লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

 

ফুটবল বিশ্বকাপের গত আসর শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি জানিয়েছিলেন, সেটি তার শেষ বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হয়ে যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলে দলকে আবার বিশ্বকাপে তুলেছেন। তারপরও বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন। তার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে পর পর দুইবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। তিনি আরও একবার বিশ্বকাপ জিতুন, এমনটা চান না ইংল্যান্ডের ফুটবলার ড্যান বার্ন। তিনি এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।

 

 

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা ইংল্যান্ডের এই সেন্টার ব্যাক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমি আশা করছি, মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না। ওর হাতে আর ট্রফি দেখতে চাই না। আর্জেন্টিনা গত বারের চ্যাম্পিয়ন। এবারও ওরা অনেক দূর যাবে। কিন্তু আশা করছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না।

কেন এমন কথা বললেন বার্ন? তার ব্যাখ্যা, গত বারই মেসি বিশ্বকাপ জিতেছে। ফুটবলের আর কোনও ট্রফি জেতা ওর বাকি নেই। এবার বাকিদের সুযোগ। আশা করি, ফুটবল দেবতাও চান, এবার অন্য কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হোক। নইলে বিশ্বকাপের মজাটাই চলে যাবে।

 

বিশ্বকাপে সিরাজগঞ্জে ইরান সমর্থকদের পতাকা মিছিল

ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের সমর্থনে সিরাজগঞ্জে পাতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) শহরের বাজার স্টেশন মুক্তির সোপান এলাকা থেকে ৪০ ফিট লম্বা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল করে সমর্থকেরা।

 

 

 

ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবল দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মিছিলটির আয়োজন করা হয়।

 

ইরান সাপোর্টার সোসাইটি ও সিরাজগঞ্জ স্পোর্টসক্লাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় তাদের তুমি কে আমি কে ইরান ইরান এমন শ্লোগান দিতে শোনা যায়।

 

 

 

মিছিলে নেতৃত্ব দেন ইরান সাপোটার্স সোসাইটির সভাপতি মিলন শেখ, সিরাজগঞ্জ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন সুজন, মাছুমপুর ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা শাহরিয়ার তুষার ও সিরাজগঞ্জ জেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মিলন প্রমূখ।

 

শ্রেষ্ঠ ইউএনও’র সম্মাননা পেলেন ঠাকুরগাঁও সদরের খাইরুল ইসলাম

​সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখায় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম।
​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে বিশেষ দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন ইউএনও মো. খাইরুল ইসলাম। তাঁর এই ধারাবাহিক সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করে।
​সোমবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক একটি মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক শ্রেষ্ঠ ইউএনও মো. খাইরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
​সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা।
​পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি আগামী দিনে জনগণের সেবায় এবং সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে লাখ টাকা করে ঋণ নারীদের নামে, ঋণগ্রহীতারা জানে না কেউ!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মোঃ জামরুল হাসানের স্ত্রী মোছাঃ শাপলা পারভীন। অন্যের জমিতে কাজ করে এবং ট্রলি চালিয়ে চলে জামরুলের সংসার। সহজসরল গৃহবধূ শাপলা পারভীনের দিন কাটে স্বামীর সংসারে সন্তানদের দেখাশোনা আর হাঁস মুরগী পালন করে। আর এই শাপলা পারভীনের নামেই উঠেছে ১ লাখ টাকার ঋণ। শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে শাপলা পারভীনের নামে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঋণ উত্তোলন হলেও শাপলা পারভীন বা তার স্বামী জামরুল হাসান কেউ জানেনা কিভাবে তাদের মাথায় উঠলো এই ঋণের বোঝা। এমনকি তারা ঋণের জন্য কোন প্রকার আবেদনও করেননি সমবায় অফিসে।
অপরদিকে পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভ্যানচালক ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন ঋণের জন্য আবেদন করলেও অফিস থেকে জানানো হয় তাদের ঋণ পাশ হতে দেড়ি হবে। অথচ উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের ঋণগ্রহীতাদের তালিকায় রয়েছে আসমা খাতুনের নাম। তার নামেও ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন হয়েছে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
একই ভাবে নুকালী গ্রামের সোবাহান প্রামানিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুনও আবেদন করেছিলেন ঋণের জন্য। একই সময়ে ছালমা খাতুনের নামেও ১ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন হলেও অফিস থেকে ছালমা খাতুনকে জানানো হয়েছে তাদের আবেদন এ বছর পাশ হয়নি। গ্রামের সহজসরল গৃহবধূদের মাথায় কিভাবে এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা উঠলো তার সঠিক জবাব নেই উপজেলা সমবায় অফিসেও।
জানা যায়, চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে “উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জন মহিলাকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহার ছুটির আগে ৮ জন মহিলার নামে ঋণ উত্তোলন হলেও জানে না ঋণগ্রহীতারা। ৮ জনের মধ্যে মাত্র দুইজন ঋণের টাকা পেলেও বাকীদের নামে উত্তোলন হওয়া ঋণের টাকা কোথায় জানেনা কেউ। এমন ভৌতিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় গ্রামের  সহজসরল নারীরা।
সরজমিনে গেলে নুকালী গ্রামের মোঃ ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ আসমা খাতুন, মোঃ সোবহান প্রামাণিকের স্ত্রী মোছাঃ ছালমা খাতুন, পোতাজিয়ার মোঃ জামরুলের স্ত্রী শাপলা পারভীন জানান, তাদের নামে কিভাবে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তা কেউ জানেন না। এই ঋণের টাকা কে তুলে নিয়ে তাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে তার জবাব অবশ্যই উপজেলা সমবায় অফিসকে দিতে হবে।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রবিউল রানা জানান, ঋণগ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে বাঘাবাড়ি সমিতির মাধ্যমে মোট ৮ জনকে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির আগে তাদের প্রত্যেককে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও কেন তারা টাকা পায়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।
বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, “যাদের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে তারা যদি না পেয়ে থাকে তাহলে তো ভয়ংকর ঘটনা। এমনটা যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশুসহ ৯ জনের ঠাঁই শূন্যরেখায়, বাড়ছে মানবিক সংকট

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে দুই শিশুসহ নয়জন দুই দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটছে তাদের। আটকে পড়া দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও মিলছে না কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা।

 

 

সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১-এস সাব-পিলারের নিকটবর্তী গেট খুলে ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, একই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৫ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী ভুন্দুরচর-ইজলামারী এলাকা দিয়ে আরও তিন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় জনতার কড়া নজরদারি ও তৎপরতার কারণে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা সোমবার (১৫ জুন) পযর্ন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত দু’দিন ধরে তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশু বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে, পুশইনের শিকারদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশে সীমান্তের গ্রামবাসীরা।

 

সীমান্তের বাসিন্দা আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ভোররাতে বিএসএফ অন্যায়ভাবে এদের পুশইন করেছে। তারা যদি বাংলাদেশিও হয়ে থাকে, তবে বিএসএফ রাষ্ট্রীয় নিয়মে তাদের ফেরত পাঠাতে পারত। তা না করে ভোররাতে সবার অগোচরে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিজিবি তাদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে।’

 

 

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘বিএসএফ জোর করে এদের আমাদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এরা খুব কষ্টে আছে। বিশেষ করে বাচ্চা দুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের দেখভাল করার চেষ্টা করলেও শূন্যরেখায় থাকায় আইনি জটিলতায় মূল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত এর একটা মানবিক সমাধান হওয়া দরকার।’

 

 

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিজিবির ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘শূন্যরেখায় আটকেপড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় কড়া পাহারায় দিন কাটছে ওই নাগরিকদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি, ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে কার্যকরী বয়স যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বয়স নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে। এ জন্য মুখমণ্ডল স্ক্যান করা বা পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করবে প্ল্যাটফর্মগুলো।

 

 

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম দ্রুতই একটি সমীক্ষা চালিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

যুক্তরাজ্যে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্টে প্রবেশ ঠেকাতে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটসহ কিছু প্ল্যাটফর্মকে ইতোমধ্যেই একই ধরনের বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হয়।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্স। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যাল এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না।

টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমি কোনো ধরনের আপস করতে চাই না।

ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুদের ৪১,৫৫৫টি ডিএনএ প্রোফাইল সম্পন্ন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সপ্তম দিন লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

 

 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান জানতে চান, দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসা শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কোনো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনটি পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধগুলেঅর বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করতে হবে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুততর করা হয়েছে, অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষার নিমিত্ত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, নীতিমালা এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাতীয় ‘নারী নীতি ২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬’, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন ২০১৪ ও বিধিমালা ২০১৭’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা-২০১৮’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি, পুলিশি ও মনোসামাজিক কাউন্সিলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রিকরণ, আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৮২ হাজার ৬৭৮ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারসমূহে এক লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ (টোল ফ্রি)-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৩৭টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ন্যাশনাল ও ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার হতে মোট ৩৮ হাজর ৬১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। সারভাইভের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য, আইনি পরামর্শ, পুলিশি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেতে সহায়তা, উদ্ধার, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। হেল্পলাইন হতে মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি’ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত উক্ত আইন করা সমীচীন ও প্রয়োজন বিধায় কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ রহিতক্রমে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও পারিবারিক সহিংসতায় সংগঠিত অপরাধসমূহ প্রতিরোধ, দমন ও অপরাধের বিচার এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন রুল্পে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ট্রেন্ড, ফ্যাশন নাকি কৌশল?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই মাঠে চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত কিন্তু দৃষ্টি-কাড়া প্রবণতা—প্রায় সব দলের খেলোয়াড়দের পায়ে একই রঙের বুট, উজ্জ্বল গোলাপি। ভিন্ন ভিন্ন দেশের জার্সি থাকলেও পায়ের নিচে যেন একই রঙের ছাপ, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো—নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালান্স ও স্কেচার্স—এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রায় একই থিমে গোলাপি রঙের বিশেষ সংস্করণের বুট বাজারে এনেছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মাঠে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘পিংক স্ট্রিট’ ট্রেন্ড।

 

 

দুর্লভ ফুটবল বুট সংগ্রাহক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিডব্লিউ বুটস ইউকে–এর প্রতিষ্ঠাতা বেন ওয়ারেন মনে করেন, এটিকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। তার মতে, ফুটবল বুটের ডিজাইন ও রঙে ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এক ধরনের সমান্তরাল ট্রেন্ড কাজ করে, আর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে সেই ট্রেন্ড আরও দ্রুত একসঙ্গে মিলিত হয়। তার ভাষায়, ‘এটা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপে একই রঙের আধিপত্যটা চোখে পড়ার মতো বেশি।’

ব্যাংককে শুটিংয়ে শাকিব খান, সঙ্গে দুই জনপ্রিয় নায়িকা

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সোলজার’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সিনেমাটির কাজ শেষের পথে। বাকি অংশের শুটিং সম্পন্ন করতে চলতি মাসেই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন নির্মাতা সাকিব ফাহাদ ও তার টিম। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আলোচিত এই অ্যাকশনধর্মী সিনেমাটি।

 

 

গত বছর প্রকাশিত মোশন পোস্টারে ‘সোলজার’-এর গল্পের আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাতে এক ভিন্ন রূপে দেখা যাবে শাকিব খানকে। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আরও রয়েছেন তারিক আনাম খান, তৌকীর আহমেদসহ অনেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড।

 

 

দেশপ্রেম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটবিরোধী গল্পে নির্মিত ‘সোলজার’-এর শুটিং শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরে। শুরুতে ডিসেম্বরেই মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে নির্মাতা জানান, মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ২০২৬ সালেই সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আসবে।

সাকিব ফাহাদ বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে সিনেমাটি যথাযথভাবে শেষ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর- দুই সময়ই ভালো। শুটিং ও পরবর্তী কাজ শেষ হওয়ার পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন নির্মাতা। তার ভাষ্য, ‘ভালো সিনেমা সারা বছর মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। দর্শক ও হলমালিকদের সেই প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই আমরা ভিন্ন সময়ে সিনেমাটি মুক্তির কথা ভাবছি।’

নদীতে ভাসছিল বস্তাবন্দি লাশ, শনাক্ত হলেন নিখোঁজ অটোচালক

বরিশালে দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকা নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি অর্ধ-গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার অটোরিকশাটির কোনো হদিস মেলেনি।

 

 

নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে। পুলিশের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাই করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সোমবার সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি বস্তায় অর্ধেক বন্দিবস্থায় মরদেহটিকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাজমুলের মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। দুপুর থেকে নাজমুলের ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি। পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রোববার (১৪ জুন) নিহতের পিতা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী নীপা বেগম বলেন, ‘​শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর তার খোঁজ পাইনি। ওর কোনো শত্রু ছিল না। তাহলে কেন এভাবে ওকে মেরে ফেলা হলো।’

 

 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা বলেন, ‘সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার অটোরিকশাটিও পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

 জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। দিনভর টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

 

​আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা ঘুরে ওই বৃদ্ধের আর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

​স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল রোববার সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

 

 

​এরপরও হাল ছাড়েনি বিএসএফ। রোববার দিনভর দফায় দফায় ওই বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের যৌথ সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রতিবারই তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিএসএফ সারাদিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সন্ধ্যার পর সীমান্তের সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অন্ধকারে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আমাদের ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা একটি গাড়িতে করে ওই বৃদ্ধকে নিয়ে ওখান থেকে চলে যায়।

​বর্তমানে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মনে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, সীমান্তের ওপারে ভারতের জামালপুর গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। জামালপুর গ্রামের ঠিক পাশেই ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

 

​এদিকে পুশইনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৪ জুন) উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে আটক করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মফিজুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ধামশ্রেণী ইউনিয়নের রানিগঞ্জ চৌমুহনী-অনন্তপুর সড়কের টেংরাকুড়া সেতুর ওপর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং লাঠিসোঁটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান করেন। এমন উতপ্ত পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, যান চলাচলে বাধা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই মামলায় মোখলেছুর রহমানকে পলাতক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের ৩০ মিনিটেই বিদ্যালয় এলাকা বখাটেমুক্ত করল রায়গঞ্জ পুলিশ

সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বখাটে ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা এবং ক্যাম্পাসে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে কোনো বখাটে চক্র, কিশোর গ্যাং বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
 সোমবার ( ১৫ জুন)এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বখাটেদের অবস্থানের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা থেকে বখাটেদের সরিয়ে দিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই কোনো ধরনের উত্যক্ত, হয়রানি বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উত্যক্ত, হয়রানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাস বখাটে এবং কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক মাদকদ্রব্য আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমারেখার ৩ শ’ মিটার ভিতরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপির এক বিশেষ টহল দল ভারতীয় নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য আটক করেছে ।
 বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০২’৪০ ঘটিকায় ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধীন ভোলাহাট বিওপিতে কর্মরত নায়েব সুবেদার মোঃ সোনারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ০১টি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৯৫/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট থানাধীন আলালপুর মৌজার একটি আমবাগানে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে টহল দল মালিকবিহীন ফেন্সিডিল এর বিকল্প ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়।
 আটককৃত নেশাজাতীয় সিরাপগুলো জিডি করতঃ ভোলাহাট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলব ডা. জাহেদ ইস্যুতে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পাওয়ান বাঢ়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধার ঘটনায় এই তলব করা হয়েছে। ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডা. জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভ্রমণ করেননি এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য কোনো ভিসাও নেননি। তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্ক ভিসায় ভ্রমণ করেছিলেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সার্ক ভিসার তথ্যাদি যাচাইয়ের পর তাকে ছাড়পত্র দিলেও তিনি দিল্লি না গিয়ে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, গেল ১৪ জুন সন্ধ্যায় জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে দিল্লিতে ঢুকেননি তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এ ভ্রমণ করেননি।

পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা ও ভাই আহত হয়েছেন। খবর এএফপির।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত ধরতে গিয়ে তারা একটি অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল করে একটি গাড়িকে ডাকাতদের গাড়ি মনে করে গুলি চালান।

 

 

গুলিতে হানিয়া নামের শিশুটি নিহত হয়। আহত হন তার বাবা ও ভাই।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

নিহত শিশুটির পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিল।

 

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

পাঞ্জাব পুলিশও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, কীভাবে এই ভুল হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের

 

নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে বাতিল হচ্ছে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এমপি পদ! এবার এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে করা পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যার কমেন্ট সেকশনেও তিনি হান্নান মাসউদের বেশকিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

 

 

 

কালবেলার পাঠকদের জন্য রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো—

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ!? সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ। ভবিষ্যতে ব্যবসাবাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে বলে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে হলফনামা হান্নান মাসউদকে তার আইনজীবী করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে মাসউদ জানিয়েছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তার স্থাবর সম্পদ নেই। তার মানে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

 

হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে গত ১১ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে বাতিল হবে প্রার্থিতা, চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। এটি সুনির্দিষ্টভাবে বিধান আরপিওতে সন্নিবেশ করা হয়েছে।’

 

 

 

আমি হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে যেসব তথ্য দিয়েছি, তা সত্য না কি মিথ্যা, তা হান্নান মাসউদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলেও উত্তর পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছেন, সে তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি দিয়েছে মাহবুব ভাই নামক একজনের থেকে ধার করে। আর নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনেছে, কিন্তু ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি! টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না! একজন এমপি এতো গরিব, এত সৎ! আহারে। হলফনামায় এই সততা কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?

 

 

উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট নিয়ে হান্নান মাসউদের সঙ্গে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এতে তিনি কোনো ধরনের সাড়া দেননি।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ মাদকসেবির কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার আলমপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

 

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আলমপুর গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৭০), একই গ্রামের মৃত রমজানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন (৫০), মৃত রমণীকান্তের ছেলে শ্রী নির্মল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের বাচ্চুর ছেলে বিজয় (৩২) এবং আমানিপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (২০)।

 

গ্রেফতারের পর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ। আদালত মাদক সেবনের দায়ে মিরাজ উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিনকে ৫ মাস করে, শ্রী নির্মলকে ২ মাস এবং বিজয় ও আবু বক্কর সিদ্দিককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

 

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, মাদকমুক্ত ক্ষেতলাল গড়ে তুলতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এর সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ব্যক্তিগত সোনা বিক্রিতে এখন থেকে দিতে হবে কর

 

ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে আর শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে নয়, মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করলে সেই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) দিতে হবে।

 

 

 

রোববার রাজধানীর পল্টনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অর্থ বিল বিষয়ক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

 

 

 

সেমিনারে কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের সোনার অলংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম এর ব্যাখ্যা দেন।

 

 

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সোনা ও স্বর্ণালংকারকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক করদাতা আয়কর রিটার্নে সোনা বা স্বর্ণালংকারের তথ্য দিলেও এর মূল্য উল্লেখ করেন না, যা কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করে।

 

 

 

সেমিনারে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যদিও আবাসন খাত থেকে এ বিষয়ে চাপ ছিল, তবে সরকার শুরু থেকেই এমন কোনো বিধান না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

 

 

 

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সঞ্চয়পত্রে নতুন করে কর বাড়ানো হয়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রিম কাটা কর ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

 

 

সভায় ভ্যাট নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা সহজ করতে অনলাইনে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হবে।

 

নৌবাহিনীতে নতুন নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন বিবাহিতরাও

 

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২০২৭এ ডিইও ব্যাচে ‘কমিশন্ড অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। বিবাহিত প্রার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

ব্যাচের নাম: ২০২৭এ ডিইও ব্যাচ

পদের নাম: কমিশন্ড অফিসার

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি বিএড। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্পেশাল এডুকেশন ও ইনক্লুসিভ এডুকেশ এবং মাস্টার অব স্পেশাল এডুকেশন পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (সাধারণ বিষয়), পুরুষ ও নারী

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ইংরেজি/পদার্থবিজ্ঞান/রসায়ন/মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

শাখার নাম: শিক্ষা শাখা (ইঞ্জিনিয়ারিং), নারী ও পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: (ক)কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (খ) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (গ) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং/ ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ঘ) মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০ এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.০০ (৪ স্কেলে) থাকতে হবে।

আবেদন শুরু: ৭ মে ২০২৬ তারিখ

আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: স্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত/বিবাহিত

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

বয়স: ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ সর্বোচ্চ ৩০ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি। নারীদের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪৬ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: অনলাইন অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ১০০০ টাকা পাঠাতে হবে।

 

চার্জে থাকা মোবাইল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের

আশুলিয়ায় চার্জে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আহত ফেনীর যুবক মিজানুর রহমান (মিজান) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ জুন) গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আলীমের ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

 

 

ওই সময় মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ফোন দুটি বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
 

প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মিজানের চিৎকার শুনে তার কক্ষের বারান্দার তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

 

 

বিস্ফোরণে কক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। 

 

 

 

ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনের পোড়া অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় মিজানকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৫ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান। 

 

 

 

নিহত মিজানুর রহমান ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং আলীমের বাসায় ভাড়া থাকতেন। 

 

 

 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। 

 

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে বিএসএফকে আহ্বান জানাল বিজিবি

 

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা ও পুশইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিএসএফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

 

 

 

গত শুক্রবার (১২ জুন) বিজিবি থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবির মহাপরিচালক ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

এর আগে গত ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

আলোচনায় সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের মতো ঘটনা বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানায় বিজিবি।

 

বৈঠকে সীমান্তে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

 

 

সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের সারসংক্ষেপ

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখপূর্বক সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়, যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শুন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয় যে, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাসমূহ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

পুশ-ইন ঘটনা:

বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গা/মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ-ইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP), পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে এসব ‘পুশ ইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত, এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে, প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

 

 

উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান:

বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ পূর্বক এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং বলেন যে এসব কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান যে, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

 

 

উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল (SCP) জোরদার করা এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়:

বিএসএফ মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট সুপরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা/মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় প্রদান করেছে। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

 

 

 

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস (SRF) সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মিত SRF প্যাচসমূহে বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার (DGLT) সময় ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ/ভারতীয় নাগরিকরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে SRF/গবাদিপশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো SRF বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ আবশ্যক। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নোট ভারবালের কথাও উল্লেখ করেন এবং এতে উল্লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, SRF সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা উচিত।

 

 

 

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান:

বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা (FICN) ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, FICN ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

 

 

 

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম:

বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

 

 

 

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা:

বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরি চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন যে যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলোর দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন (Joint Boundary Conference) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। তারা আরও সম্মত হয় যে নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা-সহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

 

 

 

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ:

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলন সংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খনন কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশন (JRC)-এর পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

 

 

 

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ:

বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বেড়া (SRF), গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারি সংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (SCP) জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়। এছাড়া অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি হয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

 

 

 

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ:

বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলী, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত-সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করারও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়।

 

 

উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসা কুড়াল জাপানি সমর্থকরা

 

খেলার মাঠেও শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানের সমর্থকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অন্য দর্শকদের মতো তড়িঘড়ি স্টেডিয়াম ত্যাগ না করে, পুরো গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই মাঠ ছাড়েন তারা।

 

 

 

জাপানি সমর্থকদের জন্য অবশ্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রতিটি ম্যাচের পর একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। শুধু নিজেদের দলের ম্যাচ নয়, অন্য দলের খেলা দেখতে গিয়েও গ্যালারি পরিষ্কার করার নজির স্থাপন করেছিলেন তারা।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় জাপান। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে খেলার ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে জাপানি সমর্থকদের অসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণ।

 

ম্যাচ শেষে ডালাসের স্টেডিয়ামে দেখা যায়, গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা নিজেরাই সংগ্রহ করছেন জাপানের সমর্থকরা। বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে সেগুলো ভরে নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থানে নিয়ে যান তারা। পুরো এলাকা পরিষ্কার করার পরই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।

 

এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাদের এই সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

 

মূলত জাপানের ক্রীড়া সংস্কৃতিরই অংশ এই অভ্যাস। দেশটির ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোতেও খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, খেলা দেখতে গিয়ে যে আবর্জনা তৈরি হয়, সেটি পরিষ্কার করার দায়িত্বও দর্শকদেরই। সে দায়িত্ববোধ থেকেই তারা নিয়মিত এ কাজ করে আসছেন।

 

 

 

বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে বারবার একই চিত্র ফুটে ওঠে— খেলা শেষ, দর্শকশূন্য হচ্ছে গ্যালারি, আর হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়াম পরিষ্কারে ব্যস্ত জাপানের সমর্থকরা। দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের এই দৃষ্টান্ত আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলো।

 

 

বিশ্বকাপ ব্যয়ের বদলে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান আহমাদুল্লার

 

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপুল ব্যয়ের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

 

 

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

 

 

পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষ ও বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘একদিকে কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ, অন্যদিকে অনর্থক এক খেলার পেছনে চলছে গোটা পৃথিবীর সম্মিলিত উন্মাদনা।’

 

আহমাদুল্লা লেখেন, “এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।”

 

ফের ৭ গোলের ঝড়ে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ল জার্মানি

 

এক সময় ৭-১ স্কোরলাইন দিয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত উপহার দিয়েছিল জার্মানি। ২০১৪ সালের সেই ব্রাজিল-বধের স্মৃতি এবার যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে জার্মানি।

 

 

 

এই জয়ের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখন জার্মানির দখলে। আগে এই রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের।

 

 

 

ম্যাচে দুটি গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার দ্বিতীয় গোলটিই জার্মানিকে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে দেয়।

 

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের তালিকায় জার্মানি এখন ২৩৯ গোল নিয়ে শীর্ষে। ব্রাজিল ২৩৮ গোল নিয়ে দ্বিতীয়, আর্জেন্টিনা ১৫২ গোল নিয়ে তৃতীয়, ফ্রান্স ১৩৬ গোল নিয়ে চতুর্থ এবং ইতালি ১২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে।

 

 

জার্মানি একমাত্র দেশ যারা বিশ্বকাপে চারবার সাত বা তার বেশি গোল করেছে। সর্বশেষ এটি হয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত ম্যাচে।

 

 

জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে জার্মানি এবারের টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে আছে। নাগেলসমান এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে তরুণ কোচ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মানি এবার একেবারে অন্য চেহারায় ফিরেছে।

 

 

 

এদিকে কুরাসাও এই বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলছে। ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেশিয়ার গোলে সমতায় ফিরেছিল তারা। কিন্তু হাভার্টজ ও বাকিরা মিলে আর সুযোগ দেননি।

 

আজ রাত থেকে যুদ্ধের অবসান হবে বলে জানাল ইরান

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে ইরান। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।

 

 

 

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান সংঘাতেরও অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও আজ রাত থেকেই শুরু হবে।

 

 

 

ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘারিবাবাদির বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

ঘারিবাবাদি আরও জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও জানান।

 

 

তবে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি।

 

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আদালতে পলক, ভিডিও ছড়াল সামাজিক মাধ্যমে

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ভিডিওতে তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরা অবস্থায় ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত অবস্থায় পলককে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আশপাশে থাকা কয়েকজনকে ভিডিওটি ধারণ করতে দেখা যায়, যা পরে দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, প্রকাশিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

 

রায়গঞ্জে ১১ বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন ঘুরকা ইউনিয়নের দাদপুর দাসপাড়া এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার মো. হানিফ শেখ (৪০) কৌশলে শিশুটিকে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত এর আগেও শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় শিশুটি ঘটনাগুলো গোপন রাখে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির আচরণে পরিবর্তন ও শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখে তার মা বিষয়টি জানতে চাইলে শিশুটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে। পরে পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে অভিযুক্তকে কৌশলে বিদ্যালয়ের পাশে ডেকে এনে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকে রাখেন।
সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান,  জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে এবং তাকে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার অভিভাবকদেরও থানায় আনা হয়।
আটককৃত মো. হানিফ শেখ (৪০) ঘুড়কা পশ্চিম পাড়া গ্রামের আবু বক্কর শেখের ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সলঙ্গা থানা সূত্রে আরও জানানো হয়, ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করলো এশিয়ান শক্তি জাপান

 

জয়ের স্বপ্ন দেখা ডাচদের থমকে দিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান। এর মধ্য দিয়ে ডাচদের কাছ থেকে পয়েন্ট কাড়ল জাপান। আর আবারও প্রমাণ করল ‘জাপান যে কখনো হাল ছাড়ে না’।

 

 

 

ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও ৮৮ মিনিটে কামাদার গোলে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান।

 

 

 

প্রথমার্ধ গোলশূন্য ব্যবধানে শেষ হওয়ার পর চারটি গোলই হয়েছে পরের অর্ধে। ৫১ মিনিটে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিন ফন ডাইকের গোল শোধ করেন জাপানের কেইতো নাকামুরা। ৬৪ মিনিটে সামারভিলের গোলে ডাচরা আবারও এগিয়ে গেলেও কামাদার গোলে শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ার দলটি।

 

এর আগে ১-১ সমতা ফেরার পর ৬৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। তবে হাল ছাড়েনি জাপান। সমতায় ফিরতে লড়াই চালিয়ে যায়।

 

আয়ারির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তিউনিশিয়াকে গুঁড়িয়ে দিল সুইডেন

 

বিশ্বকাপের মঞ্চে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ের নায়ক হওয়া যে কোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ মুহূর্ত। কিন্তু তিউনিশিয়ার বিপক্ষে গোল করেও ভিন্ন এক বার্তা দিলেন সুইডেনের তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি।

 

 

 

বাবার জন্মভূমির জালে বল জড়ানোর পর উচ্ছ্বাসে না মেতে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে সেই দৃশ্যই আলোচনার কেন্দ্রে, যেখানে সুইডেন ৫-১ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে।

 

 

 

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিশিয়াকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। এক গোল হজম করলেও ৫ গোল দিয়ে বিশাল জয় তুলে নিয়েছেন ভিক্টর ইয়োকেরেসরা। দলটির হয়ে জোড়া গোল দিয়েছেন ইয়াসিন আয়ারি। বাকি তিন গোল করেন আলেক্সান্দার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও মাটিয়াস সভানবার্গ।

 

 

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে সুইডেন তাদের প্রথম গোল পায় ম্যাচের ৭ মিনিটেই। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সুইডেনের হয়ে গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী আয়ারি।

 

তবে গোল করার পর উদযাপনে মাতেননি এই তরুণ মিডফিল্ডার। বরং সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক আবেগও। আয়ারির বাবা তিউনিশিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নিয়েছেন নিজের জন্মভূমি সুইডেনকে।

 

 

জানা গেছে, ২০২১ সালে তিউনিশিয়ার প্রতিনিধিরা তখনকার সুইডেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় আয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করে জাতীয় দল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল।

 

 

 

শুধু তিউনিশিয়াই নয়, আয়ারির মা মরক্কোর হওয়ায় উত্তর আফ্রিকার দেশটির পক্ষ থেকেও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ ছিল তার। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এই উদীয়মান মিডফিল্ডার। বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত সুইডেনের প্রতিই অনুগত থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

 

 

 

ম্যাচে সুইডেন তাদের দ্বিতীয় গোল পায় ৩০ মিনিটে। এবার লক্ষ্যভেদ করেন আলেক্সান্দার ইসাক। তবে ৪৩ মিনিটে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তিউনিশিয়ার ওমার রেকিক। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সুইডিশরা।

 

 

 

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগ দেয়নি সুইডেন। ৫৯ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এ গোলে তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক শামাখের ভুলও ছিল চোখে পড়ার মতো। ইসাককে অরক্ষিত রেখে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড।

 

 

 

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে গোলের খাতায় নাম লেখান মাটিয়াস সভানবার্গ। আর ম্যাচের শুরুতে গোল করা আয়ারিই শেষটাও রাঙান। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সুইডেনের ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

 

 

 

জোড়া গোল, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ব্যতিক্রমী উদযাপনের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইয়াসিন আয়ারি।

 

ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্তে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা দলের

বাংলাদেশের সীমান্তে হতদরিদ্র নিরীহ ভারতীয়দের ‘পুশ ইন’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। সংগঠনটি বলছে, বিভিন্ন কৌশলে ‘পুশ ইন’ এর নামে নিজ দেশের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নজীরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে ভারত। এই ধরণের কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ জানিয়েছে তারা।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে এসে ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। এসময় উনার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

ভারতকে সতর্ক করে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে। দেশের সম্মান ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি দীর্ঘদিন থাকতে চায়, তাহলে তাকে বিদায় করার উপায়ও এ দেশের মানুষ জানে। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়া টিকে থাকতে পারেনি।

 

 

ভারতের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, হতদরিদ্র নিরীহ ভারতীয়দের ‘পুশ ইন’ বন্ধ করুন। খুনি হাসিনাসহ ভারতে পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দুষ্কৃতিকারীদের পুশ আউট করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। তাদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য সহযোগিতা করুন। জাতীয় হীনকর্মকাণ্ড পরিহার করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সুসম্পর্ক রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

 

 

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণফ্রন্টের সভাপতি কমরেড টিপু বিশ্বাস, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন, সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, ভাষানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টি প্রমুখ।

 

বয়স্ক মাকে নির্যাতন, দুই সন্তান গ্রেপ্তার

 

নওগাঁর ধামইরহাটে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগে দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

এর আগে শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী মায়ের নাম চাঁদ সুলতানা। তিনি উপজেলার খড়মপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চাঁদ সুলতানার বড় ছেলে আব্দুল মমিন (৪৫) এবং ছোট ছেলে আব্দুল মুকিম (৩৫)।

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারবার অত্যাচার-নির্যাতনের পর শনিবার ভুক্তভোগী চাঁদ সুলতানা নামে ওই বৃদ্ধা তার মেয়েকে নিয়ে থানায় আসেন। এরপর তিনি তার ছেলেদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তারা আলাদাভাবে সংসার করে আসছিল। এর মাঝেই সুলতানার নামে থাকা কিছু সম্পত্তি লিখে নিতে চাপ সৃষ্টি করে দুই ছেলে।

 

 

পারিবারিকভাবে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করা হলেও তার ছেলেরা মাঝেমধ্যেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতেন। শনিবার আবারও বৃদ্ধা মাকে তার ছেলেরা মারধর করে বাড়িতে থেকে বের করে দিতে চায়। উপায় না পেয়ে বিকেলেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

 

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া পর ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা মিলে। এরপর রাতেই দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই ভাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

​দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলায় উপচে পড়া ভিড়

​কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার বিহারপুর তেঁতুলতলী মাঠে স্থানীয় লাঠিয়াল মো. বাচ্চু হোসেনের সার্বিক আয়োজনে এই রোমাঞ্চকর খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

 

​দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর আয়োজনকে কেন্দ্র করে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধ দর্শনার্থী তেঁতুলতলী মাঠে ভিড় জমান। ঢাক-ঢোলের তাল, করতালির শব্দ আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

 

​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রায় দুইশত বছরেরও বেশি পুরোনো। মূলত গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ সপ্তাহে এই লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

 

​আয়োজক লাঠিয়াল মো. বাচ্চু হোসেন জানান, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এমন সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে ‘মাদককে না’ বলার আহ্বান জানাতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

 

​খেলায় অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ লাঠিয়াল বাবু হোসেন খেলার কৌশল নিয়ে বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা এই খেলা খেলে আসছেন, এখন তাদের দেখাদেখি আমরাও খেলছি। তবে এই খেলার কিছু নিজস্ব নিয়ম-কানুন আছে। লাঠি নিয়ে মাঠে নামার আগে বিশেষ মন্ত্র বলে গা বেঁধে (শরীর বন্ধন করে) নিতে হয়। এরপর ঢাক-ঢোলের তালে তালে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, সেই জয়লাভ করে।

 

​দীর্ঘদিন পর এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

মেঠো প্রান্তরে সমবেত হওয়া সুধীজন ও সাধারণ মানুষ বলেন, গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত এবং তা আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং তা সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তারা।

জয়পুরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ করে দিল বিজিবি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার একটি বড় চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সাহসী জনতা।

 

বিএসএফের সমস্ত চাপ ও অপকৌশল উপেক্ষা করে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবির অনড় অবস্থান ও গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় বাহিনী।

 

রোববার (১৪ জুন) সকাল আটটার দিকে পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়নের হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব- পিলার এলাকায় এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের পুশব্যাক করা ভারতীয় নাগরিককে বিজিবি শক্ত হাতে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠালেও, বিকেল তিনটা পর্যন্ত তাকে শূন্যরেখার এক ডোবায় বন্দি করে রাখে বিএসএফ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভোরের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতের মথুরাপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেয়। সকালে সীমান্তসংলগ্ন মাঠে কর্মরত বাংলাদেশি কৃষকেরা বিষয়টি টের পান। ওই বৃদ্ধ নিজেকে ভারতের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে জানান, বিএসএফ তাকে জোর করে এপারে পাঠিয়েছে।

 

বাংলাদেশি কৃষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় স্বার্থে ও সীমান্ত সুরক্ষায় হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ভারতীয় নাগরিককে পুনরায় ভারতীয় সীমান্তে পুশব্যাক করেন। কিন্তু বিএসএফ নিজেদের নাগরিককে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে।

 

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব ও থমথমে দৃশ্য। সীমান্তের শূন্যরেখার একটি ডোবায় ওই বৃদ্ধকে বসিয়ে রেখে ওপারে অস্ত্র উঁচিয়ে অবস্থান নেয় বিএসএফ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মাটি রক্ষায় ডোবার এপারে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়ায় শত শত গ্রামবাসী। বিজিবি ও স্থানীয় জনতার এই যৌথ ও অনড় প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের পুশ ইনের অসৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।

 

বিএসএফের লোকজন অন্যায়ভাবে লোকটাকে এপারে পাঠায়। আমরা এবং বিজিবি মিলে ওনাকে ভারতের সীমান্তে ফেরত পাঠাই। কিন্তু বিএসএফ ওনাকে গ্রহণ না করে শূন্যরেখায় ফেলে রাখে।”* তিনি আরও জানান, ভারতের মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্পের ভেতরে আরও অনেক মানুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সুযোগ পেলেই ভারত তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করতে পারে বলে সীমান্তবাসী আশঙ্কা করছেন।

 

বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিজিবি।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএসএফ এক ভারতীয় বৃদ্ধকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। আমাদের সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের সাহসী সহায়তায় আমরা তাকে ভারতের অভ্যন্তরে পুশব্যাক করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

 

বিএসএফের এমন উসকানিমূলক আচরণের পর পুরো সীমান্তজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারতের এই আগ্রাসী তৎপরতা বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

তাড়াশে DADACU এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন, মাদকমুক্ত দেশীগ্রাম ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার

মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “দেশীগ্রাম ইউনিয়ন এন্টি ড্রাগস এন্ড ক্রাইম ইউনিট – DADACU” এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১৪এপ্রিল(রবিবার)সংগঠনের সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন পায়। আগামী এক বছর কমিটিটি মাদক নির্মূল, অপরাধ দমন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সোহাগ হোসেন। সহ সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ হাবিবুল বাসার, মোঃ পল্লি সেলিম, মোঃ ফারুক আহমেদ ও মোঃ মোর্শেদ প্রামানিক।
সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন বড় মাকদক্ষিনা গ্রামের মোঃ মেহেদী হাসান ফেরদৌস। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ রানা আহমেদ, কে. এ. বাইজিদ ও মোঃ খালিদ ইনতেজার।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক প্রশান্ত রয়, প্রচার সম্পাদক মোঃ সজিব আহমেদকে নিয়ে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৪০ জনের অধিক সদস্য সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে। দেশীগ্রাম, মাকদক্ষিনা, জড়িহর, ভেদুরী, আড়ংগাইল, শ্যামপুর, গুড়িপুল, রাধাকান্তপুরসহ ইউনিয়নের সকল গ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে কমিটিতে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ সোহাগ হোসেন বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে আমানত। দেশীগ্রামের যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা মাদকমুক্ত, আদর্শ দেশীগ্রাম গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ”।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, DADACU এর এই নতুন কমিটি দেশীগ্রাম ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ-ণধ-র্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজারের পাশের একটি গুদামে (গোডাউন) এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কিশোরীর প্রেমিকসহ তিন যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কালিতলা এলাকার তামিম ইসলাম (২২), রনি (২১) ও মাসুদ (২২)। পুলিশ জানায়, তামিম ওই এলাকার মো. আনারুলের ছেলে, রনি মিন্টুর ছেলে এবং মাসুদ মজিদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মায়া (রূপক নাম) (১৫) সঙ্গে গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে কালিতলার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলামের পরিচয় হয়। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে মায়াকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন তামিম। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কালিতলা বাজারের পাশে ‘ঘষমিন্টুর গোডাউন ঘরে’ মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তামিম ও তার দুই বন্ধু রনি ও মাসুদ মিলে রাতভর ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধ-র্ষণ করেন। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পায় এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে  মেয়েটিকে ওই গুদাম থেকে আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন পুলিশ সদস্যরা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, আটককৃত তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করলো ছাত্রলীগ

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবর জিয়ারত করলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মোহাম্মদ নাসিমের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

 

 

 

রোববার দুপুরের পর কবর জিয়ারতের ভিডিওটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেসবুক পেইজে ভাইরাল হয়।

 

 

 

ভিডিওতে দেখা যায়, সদ্য ঘোষিত সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জীবন শেখ, সহ-সভাপতি লিখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম শিবলুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা যায়।

 

বাংলাওয়াশ থেকে রক্ষা পেল অস্ট্রেলিয়া, কনোলির লড়াকু ইনিংস

 

শেষ মুহূর্তে দারুণ রোমাঞ্চ জাগালেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে টাইগারদের ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর তাতেই বাংলাওয়াশের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল অজিরা।

 

 

 

শেষদিকে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছেন শরিফুল ইসলাম। ৬ উইকেট তুলে অজি শিবির আতঙ্ক ধরিয়েছেন এই পেসার। তবুও ২২ বছর বয়সী তরুণের ব্যাটেই ভেস্তে গেল অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন। কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হার মানতে হয়েছে। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

 

 

 

মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংগ্রহও যথেষ্ট হয়নি কনোলির দৃঢ় প্রতিরোধের সামনে। ৩ বল ও এক উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারকে হারানোর পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বড় হয়নি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

 

সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তারা। ইনিংসের মাঝপথে চোটে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দ্রুতগতির অর্ধশতক তুলে নেন। তার অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

 

 

 

কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল।

 

 

 

নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।

 

 

 

তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন আগ্রাসী। চার-ছক্কায় রানের চাকা সচল রেখে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার।

 

 

 

অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। লাবুশেন ফিরলেও থামেননি তিনি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।

 

 

 

গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।

 

 

 

শেষদিকে অবশ্য একাই লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার।

 

 

 

তবে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

 

 

 

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ

জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শারমিন আক্তারের ব্যাটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডাচদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাঘিনীরা।

 

 

বার্মিংহামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। যদিও আগে ব্যাটিংয়ের ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশের বোলাররা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খারাপ করেননি। প্রথম ওভারে ভালো শুরু পেলেও ডাচরা দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারপ্লেতে হারায় আরও একটি উইকেট। হিদার সিগার্স ১৩ বলে ১৬ ও ফেবে মোলকেনবার ৭ বলে ১১ রান করে বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক বাবেট ডি লিড।

 

 

দেখেশুনে খেলে তিনি তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও অন্য ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন বাঘিনীরা। আর কেউই যেখানে বিশের ঘরে যেতে পারেননি, সেখানে অধিনায়ক একাই ৪৫ বলে পাঁচটি চারে ৫০ রান করেন।

তা সত্ত্বেও ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ জড়ো করে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার দুটি এবং ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মণি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাব দিতে নেমে ৭..৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। এই ৬৭ রানের ৫০ রানই ছিল জুয়াইরিইয়া ফেরদৌসের। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রান করেন, হাঁকান সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। ছক্কায় অর্ধশতক হাঁকানোর পরপরই বিদায় নেন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ক্রিজে নেমেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। ৮ম ওভারে পরপর দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ ১১তম ওভারে দিলারা আক্তার (২৩ বলে ২৬) ও সোবহানা মোস্তারিকেও হারায়।

তবে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার ঠাণ্ডা মাথায় চাপ জয় করেন। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ ও স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৫টি করে বল ও উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় বাংলাদেশ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ছিল ৫৬ রানের।

‘অফিস রোমান্স’ দিয়ে ক্যারিয়ারে নতুন উত্থান জেনিফারের

দীর্ঘদিন পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন হলিউড তারকা জেনিফার লোপেজ । তার অভিনীত নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘অফিস রোমান্স’ মুক্তির পরই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শক তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ভিউ অর্জন করেছে, যা এটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি দেখা চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে।

 

 

সিনেমাটিতে লোপেজ অভিনয় করেছেন জ্যাকি ক্রুজ নামের একটি এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর চরিত্রে। কর্মক্ষেত্রে প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এই করপোরেট প্রধানের জীবন বদলে যায় যখন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন নতুন আইন উপদেষ্টা ড্যানিয়েল ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ার। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ব্রেট গোল্ডস্টেইন। দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় গল্প।

 

 

গল্পের পরিণতি অনেকটাই অনুমেয় হলেও দর্শকদের কাছে সিনেমাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মূলত লোপেজ ও গোল্ডস্টেইনের প্রাণবন্ত রসায়নের কারণে। সমালোচকদের কেউ কেউ সিনেমাটিকে প্রচলিত রোমান্টিক কমেডির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করলেও দর্শকদের বড় একটি অংশ এটিকে উপভোগ্য বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অফিস রোমান্স’-এর এই সাফল্য জেনিফার লোপেজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে নতুন এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে রোমান্টিক কমেডি ঘরানায় তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে উঠে সিনেমাটি লোপেজের ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। কিছু সমালোচক মনে করছেন, কর্মক্ষেত্রের প্রেম নিয়ে সিনেমাটি নতুন কোনো বার্তা দেয়নি। তবু দর্শকদের আগ্রহ এবং নেটফ্লিক্সে শীর্ষস্থান দখল করে নেওয়া প্রমাণ করছে, ‘অফিস রোমান্স’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্ট্রিমিং কনটেন্টগুলোর একটি।

ড্র দিয়ে শুরু, ট্রফি দিয়ে শেষ—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের মিশন শুরু হয়ে গেছে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে সেলেসাওরা। ফলে হেক্সা মিশন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও ইতিহাস বলছে, এমন শুরু কোনোভাবেই শেষ কথা নয়। বরং অতীতের পরিসংখ্যানই দিচ্ছে সেলেসাওদের বড় স্বস্তি।

 

 

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ সব সময়ই বেশি থাকে। প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেলে অনেকেই সেটিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখেন। তবে ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, শুরুটা ধাক্কায় হলেও শেষটা হতে পারে গৌরবের।

 

 

শুরুর ধাক্কা সামলে যারা বিশ্বজয় করেছে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সোনালী ইতিহাস:

১. ইংল্যান্ড (১৯৬৬) নিজেদের মাটিতে আয়োজিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ঘরের মাঠের দর্শকদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও স্যার আলফ রামসের শিষ্যরা পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউটে বাজিমাত করে তারা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে থ্রি-লায়ন্সরা।

২. ইতালি (১৯৮২) বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ইতালির। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তারা একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি! পোল্যান্ড (0-0), পেরু (১-১) এবং ক্যামেরুন (১-১ )—তিনটি ম্যাচই ড্র করে কেবল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোনোমতে পরের রাউন্ডে উঠেছিল তারা। প্রথম ম্যাচের সেই ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে নকআউট পর্বে পা রাখতেই খোলস বদলে ফেলে আজ্জুরিরা। একে একে আর্জেন্টিনা, দুর্দান্ত ব্রাজিল ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ: প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও যে বিশ্বকাপ জেতা যায়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্পেন (২০১০) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)। এই দুটি দল ড্র নয়, বরং নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (০-১) এবং সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।

 

 

এই বাস্তবতা মাথায় রাখলে ব্রাজিলের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা হতাশার নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও সামনে পুরো টুর্নামেন্ট পড়ে আছে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ছন্দে ফিরতে পারলেই হেক্সা মিশন এখনও অনেকটাই সম্ভব।

 

 

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচের ফলাফল নয়, আসল বিষয় হলো দল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। ব্রাজিল সেই পরীক্ষা এখনই দিচ্ছে।

আগ্নেয়গিরিতে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ইয়েমেনের ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত আল কা’কা বিন আনতার আগ্নেয়গিরির গহ্বরে পড়ে নিহত হয়েছেন। দড়ি বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া পাহাড়ে আরোহণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) গালফ নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর বয়সী আল কা’কা বিন আনতার গত শুক্রবার ইয়েমেনের আল-ধালে প্রদেশের হারাধাত দামত আগ্নেয়গিরির খাড়া দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন। এ সময় হঠাৎ তার হাত ফসকে গেলে তিনি প্রায় ১২০ মিটার গভীর পড়ে যান।

 

 

 

স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও দুর্গম পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অভিযান জটিল হয়ে পড়ে।

প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকর্মীদের খাড়া ভূখণ্ড, দুর্গম অবস্থান এবং গহ্বরের ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।

 

আল কা’কা বিন আনতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ইয়েমেনের বিভিন্ন পাহাড়, খাড়া পাথুরে দেয়াল ও আগ্নেয়গিরি এলাকায় তার ঝুঁকিপূর্ণ আরোহণের ভিডিও হাজারো দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল।

 

 

বিশেষ করে দড়ি, হারনেস বা অন্য কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই খাড়া পাহাড়ে ওঠা এবং আগ্নেয়গিরির গহ্বরে নামার ভিডিও তাঁকে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

 

 

 

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আলো ও পানি-উদ্ধার সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়, যাতে দুর্গম স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

 

 

 

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনুসারীরা তার সাহস, দুঃসাহসিক মানসিকতা ও অভিযানের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

 

 

‘নেইমারদের অপহরণ করবে ভিনগ্রহবাসী’,নারী গণকের ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের শুরুটা মোটেই আশানুরূপ হয়নি। গ্রুপ ‘সি’- এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে সেলেসাওরা।

 

 

মাঠের এই নড়বড়ে পারফরম্যান্সের মধ্যেই এবার মাঠের বাইরে থেকে এলো এক অদ্ভুত ও আতঙ্কের খবর। ব্রাজিলেরই এক নারী ভবিষ্যদ্বক্তা (গণক) দাবি করেছেন, আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ভিনগ্রহবাসীরা (এলিয়েন) আক্রমণ করতে পারে, যা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেবে!

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে কান্নাভেজা কণ্ঠে ভো বাহিয়ানা নামের ওই নারী গণক বলেন, বন্ধুরা, আমার এটা বলতেই হচ্ছে যে, আমি স্বপ্নে দেখেছি ভিনগ্রহবাসীরা মিয়ামির স্টেডিয়ামে হানা দিয়েছে। আমি পরিষ্কার দেখেছি, প্রথম যে মহাকাশযানটি এসেছিল, সেটি মাঠ থেকে খেলোয়াড়দের অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যানটি যখন আকাশের দিকে উঠছিল, তখন আমিও সেটির ভেতরে বন্দি ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর আরও বিশাল একটি বড় আকৃতির মহাকাশযান আসে এবং স্টেডিয়ামে থাকা হাজার হাজার দর্শককে তুলে নিয়ে যায়। নিজের এই দুঃস্বপ্ন নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত বাহিয়ানা।

তিনি আরও বলেন, ‘চারিদিকে শুধু মানুষের চিৎকার, কান্না আর হাহাকার দেখেছি আমি। সত্যি বলতে, আমি ভীষণ ভয় পেয়েছি কারণ এই একই স্বপ্ন আমি দ্বিতীয়বারের মতো দেখলাম। আমার মন বলছে, আগামী ২৪ জুন মিয়ামির ওই স্টেডিয়ামে খুব ভয়ানক কিছুই ঘটতে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুন দিনগত রাত ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের।

আগের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় থাকায়, এই ম্যাচটিতেও স্টেডিয়ামে কানায় কানায় দর্শক পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে এখন এই রহস্যময় ও অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বেশি চলছে।

‘ফার্মগেট’ ইস্যুতে চাপের মুখে আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে তার বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া পার্লামেন্টের অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়া ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

 

 

শুক্রবার দাখিল করা আদালতের নথি অনুযায়ী, রামাফোসা চান তার বিরুদ্ধে গঠিত স্বাধীন তদন্ত প্যানেলের অসদাচরণের অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা পৃথক মামলার নিষ্পত্তি আগে হওয়ার পরই কেবল অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

 

 

‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০২০ সালে। ওই সময় রামাফোসার খামারের একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি হয়ে যায়। প্রেসিডেন্টের দাবি, চুরি হওয়া প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার মহিষ বিক্রির অর্থ ছিল। তবে এত বড় অঙ্কের টাকা কেন আসবাবপত্রের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

রামাফোসা শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত মাসে আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত রায় দিয়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। আদালত জানায়, ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি বৈধ ছিল না।

রামাফোসার বিরুদ্ধে স্বাধীন প্যানেলের প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা মামলার শুনানি আগামী ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী রামাফোসা ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা।

 

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা রামাফোসার জন্য ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে গড়ালেও রামাফোসা তা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। তার দল এএনসি এবং জোটসঙ্গীদের সমর্থন থাকায় তাকে অপসারণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

অতি দ্রুতই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অতি দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি। 

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, গত ১২ জুন ২০২৬ সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে সে দেশের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন। 

 

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইউএই ফেডারেল ল-এর ৩৯ (২০০৬) ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শিগগিরই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। 

 

 

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছি। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই। 

 

 

বিবৃতি চলাকালীন সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সংবাদকে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 

 

আমাদের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান

বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষাকে সিঙ্গাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

 

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

 

বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই পরিষ্কার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় অরাজকতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

 

 

অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির দায়িত্ব এখন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

 

 

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির কাছে শিক্ষকরা বদলির আবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রতি মাসে একবার সভা করে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে এবং বদলি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিগত দিনে বড় একটা সিন্ডিকেট বা করাপশনের (দুর্নীতি) জায়গা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এটাতে নজর দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন, আমরা সবাই মিলে নতুন পলিসি গ্রহণ করেছি যে প্রাথমিকে…মাধ্যমিকেও; কিন্তু শুধু প্রাথমিক নিয়ে কথা বলবো। প্রাথমিকে টিচার্স ট্রান্সফার (শিক্ষক বদলি) এটা লোকালাইজ (স্থানীয়) করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার অফিসার থাকবেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থাকবেন। এরকম চারজন সদস্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তারা মাসে একবার বসবেন। ওই মাসে যতগুলো রিকোয়েস্ট (আবেদন) আসবে, সেগুলো রিভিউ করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ট্রান্সফার অ্যালাউ (বদলি অনুমোদন) করবেন, কি করবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘সেইম (একই) জিনিসটা ডিসির অধীনে জেলা পর্যায়েও করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের আন্ডারে ডিভিশন লেভেলে করা হয়েছে। এটা করে করাপশনের (দুর্নীতি) সব জায়গাগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে চাই’।

 

 

‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

 

আগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকদের বদলির জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা ছিল। সে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আবেদন চাওয়া হতো। প্রথমে উপজেলা থেকে উপজেলা; তারপর জেলা থেকে জেলা এবং বিভাগ থেকে বিভাগ পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে আবেদন নেওয়া হতো।

 

 

অনলাইনে এসব আবেদন করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে ফরোয়ার্ড করতেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হয়ে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসতো। অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বদলি অনুমোদিত হতো।

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিটনের ব্যাটে এলো প্রথম ফিফটি

মিরপুরেই অভিষেক হয়েছিল। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের সেই ম্যাচে মাত্র ৮ রান করে ফিরেছিলেন লিটন দাস। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, সেঞ্চুরিও করেছেন একাধিক। কিন্তু মিরপুরের ওয়ানডে ক্রিকেট যেন বারবারই তাকে আটকে রেখেছিল এক অদৃশ্য দেয়ালে।

 

 

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বহু প্রতীক্ষিত ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন। ইনিংসের এক পর্যায়ে পায়ের পেশিতে টান লেগে ৪৮ রানে মাঠ ছাড়লেও শেষ দিকে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন তিনি। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুই রান নিয়ে স্পর্শ করেন অর্ধশতকের মাইলফলক।

 

 

শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। মিরপুরে এটা যেমন লিটনের প্রথম ফিফটি, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম। শেরেবাংলায় ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের পরিসংখ্যান ছিল বিস্ময়করভাবে হতাশাজনক। এই ম্যাচের আগে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি করতে পারেননি তিনি। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে ১৭ এর সামান্য বেশি গড়ে করেছিলেন মাত্র ৪৩৯ রান। ছিল চারটি ডাকও।

এমনকি ক্যারিয়ারে প্রায় ৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা লিটন মিরপুরে ৭০ স্ট্রাইক রেটও স্পর্শ করতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়ে লিটন যেন সব সমীকরণই পাল্টে দিয়েছেন। অর্ধশতক করার দিনে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৪।

সাম্প্রতিক সময়েও মিরপুরে ব্যাটে আক্ষেপে পুড়েছেন লিটন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও ফিফটির দেখা পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান।

বাংলাদেশ যখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন লিটন। দুজনের ৯২ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরে বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। তবে স্বস্তির বিষয়, মিরপুরে অধরা ফিফটিটা শেষ পর্যন্ত পেলেন লিটন।

 

 

 

সলঙ্গার রয়েল রূপালী হোটেলে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রয়্যাল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট’-এ যাত্রীদের জিম্মি করে বাসি-পচা খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এই হোটেলে খেতে বাধ্য হলেও, খাবারের নিম্নমান এবং স্টাফদের দুর্ব্যবহারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
​সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস ১৫-২০ মিনিটের বিরতির জন্য এই হোটেলটিতে থামে। বাসের যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে খেতে বসলে তাদের সামনে আগের দিন বা তারও আগের বেঁচে যাওয়া বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত এবং পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। মাংস এবং তরকারি থেকে অনেক সময় টক ও দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগও করেছেন একাধিক যাত্রী।
​ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার এক বাস যাত্রী বলেন, বাস এখানে থামানোর পর বাধ্য হয়েই খেতে ঢুকেছিলাম। কিন্তু যে ভাত এবং তরকারি দেওয়া হয়েছে, তা মুখে দেওয়ার মতো নয়। তরকারি থেকে স্পষ্ট পচা গন্ধ আসছিল। প্রতিবাদ করায় হোটেলের ম্যানেজার ও স্টাফরা উল্টো আমাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে।
বাসযাত্রী আরমান হোসেন বলেন, এই হোটেলে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম রাখা হচ্ছে সাধারণ বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ। সাধারণ মানের এক প্লেট ভাত ও মাংসের দাম রাখা হচ্ছে চড়া, যা সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার শামিল। মেন্যু কার্ড বা মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করেই ইচ্ছেমতো বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই হোটেলের বিরুদ্ধে।
আরেক যাত্রী বলেন,খাবার খাওয়ার আগে খাবারের মেনু চাইলে বলে সমস্যা নাই, খাবার খান কম করে নেবেনে। পরে বিল দিতে গিয়ে দেখি চরা দামে বিল করছে।
​অভিযোগ রয়েছে, দূরপাল্লার কিছু বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের বিনামূল্যে উন্নতমানের খাবার এবং নির্দিষ্ট কমিশনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের এই পচা ও ব্যয়বহুল হোটেলে খেতে বাধ্য করা হয়।
​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কের পাশের এই হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং সহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
​অবিলম্বে এই রয়েল রূপালী হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট-এ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি অভিযান পরিচালনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন মহাসড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, নিউ রয়েল রুপালি হোটালের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীতে কিশোররীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

 

 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।

 

 

কিশোরীর ভাষ্যমতে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছানোর কাজের কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিত।

 

 

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী তার মাকে বিষয়টি জানান। পরে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, এক এসআইকে বদলি করায় সে কাজের মেয়েকে দিয়ে ভুয়া একটি ভিডিও বানায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।”

 

 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার আরেক গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 ধুনটে পারলক্ষীপুর কাঁচা রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নে আরকাটিয়া রাস্তা হতে পারলক্ষিপুর রাস্তায় । রাবিশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে পারলক্ষীপুর গ্ৰামের রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন এমপি পুত্র সানভি।
জানা যায় যে আরকাটি হতে পারলক্ষীপু কাঁচা রাস্তাটি বৃষ্টি বাদল হলে চালাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই কষ্টকে লাঘব করার জন্য ৪০বগুড়া- ০৫ আসন (শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার) মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের ছেলে বিসিবি এর পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানীর  নিজ  অর্থায়নে রাবিশ ফেলে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন।
রাস্তায় রাবিশ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী জন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমান, পৌর  যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলী। চিকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী,  বিএনপির নেতা রুবেল সরকার ।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম (রাব্বি) ,
চিকাশী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক  জনাব আলী, সদস্য সচিব  মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত পারলক্ষীপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও সাধারণ জনগণ  ইয়ার আলী, সাইফুল ইসলাম, মতিউর রহমান, আশরাফ আলী, লুৎতফর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মানহানির দুই মামলায় মুফতি আমির হামজার স্থায়ী জামিন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত।

 

 

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত সিরাজগঞ্জ সুমন কুমার কর্মকার তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় চীফ চুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

 

 

এদিকে মুফতি আমির হামজার আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশ ও র্যা ব নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিক প্রবেশেও ছিল ব্যাপক কড়াকড়ি।

 

 

৩টা ১০ মিনিটে আদালত থেকে বেরিয়ে যান মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে কোন জবাব না দিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

 

 

মুফতি আমির হামজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব জানান, আমাদের সিরাজগঞ্জের আইনজীবি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হলে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগে জামিন আবেদন করেন। মহানমান্য হাইকোর্টের নির্দেশে মোতাবেক আজকে আমরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এসে স্বেচ্ছায় বেলবন্ড ফার্নিশ করে। যেহেতু উনি সংসদ সদস্য, ওনার অনেক ব্যস্ততা রয়েছে। চৌহালী আদালতে তাঁর স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা মনঞ্জুর করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম খান দায়ের করা অপর একটি মামলাতেও তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। ওই মামলাতেও আমরা জামিন আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন।

 

 

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির কর্ণেল বলেন, মাননীয় জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলাম। ওই মামরায় ওনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয়েছিল, পেপার বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। উনি মহামান্য হাইকোর্টে জামিন চেয়েছিলেন। মহামান্য হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহের জামিন মনজুর করে। আজকে তার শেষ তারিখ ছিল। আজকে তিনি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বেল বন্ড ফার্নিশ করেন। অপরদিকে তিনি মূল মামলায় চৌহালী আমলী আদালতে জামিন চেয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত ১০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এছাড়াও সদর থানা আমলী আদালতে ভিপি শামীম খান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাতেও জামিন পেয়েছেন তিনি।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে প্রকাশ্য সভায় তাঁকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।

 

 

এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্ণেল। এ মামলায় ওইদিনই আদালত সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নিম্ন আদালত।

 

 

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মে – ২০২৬ খ্রিঃ মাসের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মহোদয়ের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, জনাব মোঃ কামরুজ্জামান মহোদয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি ও সেক্রেটারি মহোদয় ও কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম মহোদয় জেলার আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এসময় তিনি জেলার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ দমন, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, চাদাবাঁজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং জনভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ মনির ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় আহত হন এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন ও কনস্টেবল আশিক। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

 

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনিরকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।’

 

 

তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিবী) বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।

 

 

পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

 

 

মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

 

 

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

আজ কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মদিন

আজ রোববার (১৪ জুন) কিউবার বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। মহান চে গুয়েভারা পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি ছিলেন একাধারে বিপ্লবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ ও সমরবিদ। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সেরনা। তবে কিউবার জনগণ তাঁকে ভালবেসে চে (প্রিয়) নাম দিয়েছেন।

 

 

 

 

১৯২৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে তাঁর জন্ম। ইতিহাস নন্দিত এই বিপ্লবীর নেতৃত্বে কিউবায় সফল বিপ্লবে সংঘটিত হয়।

 

 

 

 

১৯৫৫ সালে ঘটনাক্রমে মেক্সিকো সিটিতে নির্বাসিত কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর দলে যোগ দিয়ে কিউবার তৎকালীন একনায়ক বাতিস্তাকে উৎখাত আন্দোলনে যুক্ত হন। দুই বছরব্যাপী চলা এই আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে চে হয়ে ওঠেন কাস্ত্রো ভাইদের কাছের মানুষ এবং পরে কিউবার শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

চে গুয়েভারা ছিলেন আজন্ম বিপ্লবী। তিনি নতুন দেশে বিপ্লবের আশায় কিউবা ত্যাগ করেন। তিনি তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহযোদ্ধা নিয়ে কঙ্গোয় গিয়ে প্যাট্রিস লুমুম্বার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন।

 

 

 

এরপর চে তাঁর সহযোদ্ধাদের নিয়ে চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে গিয়ে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক বারিয়েন্তোসের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ। বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় গুরুতর আহত হয়ে বন্দি হন চে। দেশটির লা হিগুয়েরা নামে একটি শহরের স্কুলঘরে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন চে গুয়েভারা।

 

 

অষ্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের মিশনে দারুণ ব্যাট করছে টাইগাররা

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপরই দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা।

 

 

 

ইতিমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা।

 

 

 

শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে লাল-সবুজ বাহিনী। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

 

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং— সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের।

 

অন্যদিকে এরই মধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

 

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদে ঢুকে গুলিবর্ষণ, আহত দুই

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ (সেক্রেটারি) দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় মুসল্লি আলম শেখ (৫৫)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মসজিদে ফজরের জামাত চলছিল। নামাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা আলম শেখ নামের আরেক মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনেই মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দা ও অন্য মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

 

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

 

 

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সশস্ত্র হামলায় মেয়র নিহত

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াহাকা রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় একটি শহরের মেয়র নিহত হয়েছেন। নিহত মেয়রের নাম জোয়েল ব্রাভো। তিনি সান মিগেল আমাতিতলান শহরের মেয়র ছিলেন।

 

 

 

রাজ্যের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সশস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। খবর এএফপির।

 

 

 

ওয়াহাকার গভর্নর সালোমোন হারা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাশত করা হবে না।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট কাজ করছে। এ অভিযানে ফেডারেল বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াহাকা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন ও সিনালোয়া কার্টেল নামে দুটি শক্তিশালী মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।

 

মেক্সিকোতে মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১০০ জন মেয়র হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মানহানি মামলায় সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা।

 

 

রোববার (১৪ জুন) দুপুর দুইটার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

 

 

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবি জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর ২টার দিকে মামলার আসামি মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

 

 

 

এর আগে গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কর্ণেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

 

 

ওইদিনই আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

 

 

কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে আমির হামজা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২১ এপ্রিল বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

বাদী হুমায়ুন কবির কর্ণের বলেন, সম্ভ্রান্ত মুসিলম পরিবারের সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মায়ের নামে করেছেন এতিমখানা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন রোজা রাখেন। অথচ গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।’

 

 

 

বাদী আরও বলেন, আমির হামজার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার ওই বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্মানহানি হওয়ায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, মুফতি আমির হামজা এমপি যোহর নামাজ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন।

 

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আগুনে পুড়িয়ে দিল নোয়াখালী ছাত্রলীগ

নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের মাঝখানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে দিনভর বিষয়টি কারও নজরে না আসায় ঘটনাটি জানাজানি হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয়।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ স্মৃতিস্তম্ভ ও এর আশপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশের কিছু অংশ পুড়ে যায়। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কারা এবং কখন আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে আগে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। যারা এ কাজ করেছে, তারাই একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আগুনের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।