সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শীর্ষ ৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন, নতুন দায়িত্বে যারা Logo বড়দিনের জন্য ২ কোটি টাকা চেয়েছিল অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি Logo শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের Logo শ্রমিক আন্দোলনের লক্ষ্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলা: হাতেম Logo বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগে যুবক আটক Logo ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট চালুর সময় ঘোষণা, স্থগিতই থাকছে রিয়াদ রুট Logo ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করল ভারত, পেছনে কী কৌশল? Logo ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের Logo গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার আশিক সাঈদ Logo এআইইউবিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ জয় ড্যাফোডিলের

৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করল ভারত, পেছনে কী কৌশল?

ভারতের মুম্বাইয়ের চার্চগেট স্টেশনে ব্যস্ত সময়ে প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। ছবি: এপি

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে গত ১২ বছরে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে চরম দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। তবে দারিদ্র্য কমলেও দেশটিতে আয় ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

 

 

 

 

প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে কীভাবে দারিদ্র্য থেকে বের করল ভারত?

 

 

 

 

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এর পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিশেষ করে নারীদের কাজের সুযোগ বাড়া, মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ।

 

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দারিদ্র্য কমানোর প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে অর্থনীতি উন্মুক্ত করার পর। পরবর্তী সরকারগুলো বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু ও সম্প্রসারণ করে।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার গ্রামীণ এলাকায় বছরে অন্তত ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করেছিল। পরে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি সরকার সরাসরি নগদ সহায়তা, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য ও আবাসন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে।

 

 

 

বর্তমানে ভারতের প্রায় ৮০ কোটি মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় শৌচাগার নির্মাণ এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্টে গ্রামীণ পরিবারের ১৭ শতাংশেরও কম পাইপের পানির সংযোগ পেত।

 

 

 

 

এখন এ হার প্রায় ৮২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, নিরাপদ পানির সুবিধা বাড়ায় পানিবাহিত রোগ কমে এবং পরিবারের আয় করার সুযোগও বাড়তে পারে।

 

 

 

এসব উদ্যোগের প্রভাবে দারিদ্র্য কমলেও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষ জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোগ করেন। বিপরীতে, নিচের ৫০ শতাংশের ভাগে পড়ে মাত্র ১৫ শতাংশ।

 

 

 

এছাড়া দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের দারিদ্র্যসীমার নিচে এখনো ২৩ কোটি ৩০ লাখ ভারতীয় রয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, স্থবির মজুরি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অসম সুযোগ মোকাবিলা না করলে দারিদ্র্য কমানোর অগ্রগতি সবার জীবনে সমান প্রভাব ফেলবে না। সূত্র: আলজাজিরা

 

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শীর্ষ ৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন, নতুন দায়িত্বে যারা

৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করল ভারত, পেছনে কী কৌশল?

আপডেট টাইম : ০৯:২৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে গত ১২ বছরে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে চরম দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। তবে দারিদ্র্য কমলেও দেশটিতে আয় ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

 

 

 

 

প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে কীভাবে দারিদ্র্য থেকে বের করল ভারত?

 

 

 

 

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এর পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিশেষ করে নারীদের কাজের সুযোগ বাড়া, মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ।

 

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দারিদ্র্য কমানোর প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে অর্থনীতি উন্মুক্ত করার পর। পরবর্তী সরকারগুলো বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু ও সম্প্রসারণ করে।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার গ্রামীণ এলাকায় বছরে অন্তত ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করেছিল। পরে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি সরকার সরাসরি নগদ সহায়তা, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য ও আবাসন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে।

 

 

 

বর্তমানে ভারতের প্রায় ৮০ কোটি মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় শৌচাগার নির্মাণ এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্টে গ্রামীণ পরিবারের ১৭ শতাংশেরও কম পাইপের পানির সংযোগ পেত।

 

 

 

 

এখন এ হার প্রায় ৮২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, নিরাপদ পানির সুবিধা বাড়ায় পানিবাহিত রোগ কমে এবং পরিবারের আয় করার সুযোগও বাড়তে পারে।

 

 

 

এসব উদ্যোগের প্রভাবে দারিদ্র্য কমলেও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষ জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোগ করেন। বিপরীতে, নিচের ৫০ শতাংশের ভাগে পড়ে মাত্র ১৫ শতাংশ।

 

 

 

এছাড়া দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের দারিদ্র্যসীমার নিচে এখনো ২৩ কোটি ৩০ লাখ ভারতীয় রয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, স্থবির মজুরি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অসম সুযোগ মোকাবিলা না করলে দারিদ্র্য কমানোর অগ্রগতি সবার জীবনে সমান প্রভাব ফেলবে না। সূত্র: আলজাজিরা

 

 

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ