সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

৫ আগষ্ট: গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার কতৃত্ববাদী শাসনের অবসান

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১২:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 46

জনতার কন্ঠ ডেস্ক:

আজ ৫ আগষ্ট। বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। এই আন্দোলন জুলাই গণ অভ্যুত্থান নামে পরিচিত পায়। ৫ আগষ্টকে ৩৬ জুলাই নাম দেয় ছাত্র জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সর্বশেষ  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে ৩৬ দিনের আন্দোলন সমাপ্ত হয়।  ৫ আগস্টকে আজ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দিনটি এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সে বছর ১১ এপ্রিল সরকারের এক নির্বাহী আদেশে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদন হলে ২০২৪ সালের ৬ জুন আবারও কোটা প্রথা বহাল রাখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপরই কোটা বিরোধী আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা সংগঠিত হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে খন্ড খন্ড আন্দোলন। ১ জুলাই থেকে আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমশই বেড়ে চলে। এই আন্দোলনকে প্রতিহত করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিতে থাকে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্থ করতে হুমকি ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এর ফলে আন্দোলনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরও ফুঁসে ওঠে আন্দোলনকারিরা। তারা নিজেদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তারা স্লোগান দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ১৬ জুলাই রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাইদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ হত্যাকান্ডের পর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে পুরো জাতি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানায়, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আন্দোলন দমন করতে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  গণগ্রেপ্তার শুরু করে। ১৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে সরকার দেশব্যাপী কারফিউ ঘোষণা করে এবং সেনা মোতায়েন করে।

আন্দোলনের একপর্যায়ে ঢাকার আকাশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মারা যান ফুটফুটে শিশু, মেধাবী শিক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের মানুষ, পথচারীসহ অনেকে। প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লাশ পড়তে থাকে। সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ, টিয়ার গ্যাসের শেল, বাতাসে বারুদের গন্ধে এক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দেয় দেশে। দফায় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে ৩০ জুলাই কোটা আন্দোলন ঘিরে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে দেশব্যাপী শোক পালনের আহ্বান জানায় সরকার। এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে একক বা ঐক্যবদ্ধভাবে লাল কাপড় মুখে ও চোখে বেঁধে ছবি তোলা এবং অনলাইনে প্রচার কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। সাধারণ মানুষও আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইল লাল করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় চলতে থাকে সড়ক-মহাসড়ক ব্লকেডের মতো কঠোর কর্মসূচি। আন্দোলনের মুখে রাজধানী ঢাকা অচল হয়ে পড়ে।  ৩১ জুলাই বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিসের জন্য মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। ১ আগস্ট সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সহিংসতায় নিহতদের বিচার চেয়ে ২ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত লাখো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, সুশীল সমাজের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা ‘দ্রোহযাত্রা’-তে যোগ দেয়। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীদের ডাকে সর্বস্তরের মানুষ জড়ো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে একদফা ঘোষণা করেন। হাজারও জনতা সমস্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করেন এক আঙুল দেখিয়ে। এমন অবস্থায় শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হলেও পরে তা একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৪ আগষ্ট দেশের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। নিহত হয় পুলিশও।

৫ আগষ্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে সরকারও পদক্ষেপ নেয়। বেলা ১১টার পর থেকে ঢাকার পথে ঢল নামে মানুষের। কারফিউ উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে শাহবাগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করতে রাজি হন শেখ হাসিনা। তিনি ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছাড়েন। দীর্ঘদিন পর শেখ হাসিনার পতন উদযাপন করতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তারা।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬। এর মধ্যে বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৪২২ জন শহীদ হন বলে দাবি দলটির।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সরকারের উদ্যোগে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় গত ১ জুলাই। আজ ৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান হবে। আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দিনব্যাপী ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ দিন বিকেল ৫টায় এই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। গত ১ জুলাই থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা আজ: গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনে আজ দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল এক তথ্য বিবরণীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। এ ছাড়া রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে আজ ‘যাত্রাবাড়িতে গণহত্যা’ শীর্ষক জুলাই-২৪ পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ।

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

৫ আগষ্ট: গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার কতৃত্ববাদী শাসনের অবসান

আপডেট টাইম : ১২:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

জনতার কন্ঠ ডেস্ক:

আজ ৫ আগষ্ট। বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। এই আন্দোলন জুলাই গণ অভ্যুত্থান নামে পরিচিত পায়। ৫ আগষ্টকে ৩৬ জুলাই নাম দেয় ছাত্র জনতা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সর্বশেষ  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে ৩৬ দিনের আন্দোলন সমাপ্ত হয়।  ৫ আগস্টকে আজ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দিনটি এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সে বছর ১১ এপ্রিল সরকারের এক নির্বাহী আদেশে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদন হলে ২০২৪ সালের ৬ জুন আবারও কোটা প্রথা বহাল রাখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপরই কোটা বিরোধী আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা সংগঠিত হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে খন্ড খন্ড আন্দোলন। ১ জুলাই থেকে আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমশই বেড়ে চলে। এই আন্দোলনকে প্রতিহত করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিতে থাকে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্থ করতে হুমকি ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এর ফলে আন্দোলনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরও ফুঁসে ওঠে আন্দোলনকারিরা। তারা নিজেদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তারা স্লোগান দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ১৬ জুলাই রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাইদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ হত্যাকান্ডের পর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে পুরো জাতি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানায়, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আন্দোলন দমন করতে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  গণগ্রেপ্তার শুরু করে। ১৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে সরকার দেশব্যাপী কারফিউ ঘোষণা করে এবং সেনা মোতায়েন করে।

আন্দোলনের একপর্যায়ে ঢাকার আকাশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মারা যান ফুটফুটে শিশু, মেধাবী শিক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের মানুষ, পথচারীসহ অনেকে। প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লাশ পড়তে থাকে। সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ, টিয়ার গ্যাসের শেল, বাতাসে বারুদের গন্ধে এক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দেয় দেশে। দফায় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে ৩০ জুলাই কোটা আন্দোলন ঘিরে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে দেশব্যাপী শোক পালনের আহ্বান জানায় সরকার। এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে একক বা ঐক্যবদ্ধভাবে লাল কাপড় মুখে ও চোখে বেঁধে ছবি তোলা এবং অনলাইনে প্রচার কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। সাধারণ মানুষও আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইল লাল করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় চলতে থাকে সড়ক-মহাসড়ক ব্লকেডের মতো কঠোর কর্মসূচি। আন্দোলনের মুখে রাজধানী ঢাকা অচল হয়ে পড়ে।  ৩১ জুলাই বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিসের জন্য মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। ১ আগস্ট সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সহিংসতায় নিহতদের বিচার চেয়ে ২ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত লাখো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, সুশীল সমাজের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা ‘দ্রোহযাত্রা’-তে যোগ দেয়। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীদের ডাকে সর্বস্তরের মানুষ জড়ো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে একদফা ঘোষণা করেন। হাজারও জনতা সমস্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করেন এক আঙুল দেখিয়ে। এমন অবস্থায় শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হলেও পরে তা একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৪ আগষ্ট দেশের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। নিহত হয় পুলিশও।

৫ আগষ্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে সরকারও পদক্ষেপ নেয়। বেলা ১১টার পর থেকে ঢাকার পথে ঢল নামে মানুষের। কারফিউ উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে শাহবাগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করতে রাজি হন শেখ হাসিনা। তিনি ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছাড়েন। দীর্ঘদিন পর শেখ হাসিনার পতন উদযাপন করতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তারা।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬। এর মধ্যে বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৪২২ জন শহীদ হন বলে দাবি দলটির।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সরকারের উদ্যোগে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় গত ১ জুলাই। আজ ৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান হবে। আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দিনব্যাপী ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ দিন বিকেল ৫টায় এই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। গত ১ জুলাই থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা আজ: গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনে আজ দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল এক তথ্য বিবরণীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। এ ছাড়া রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে আজ ‘যাত্রাবাড়িতে গণহত্যা’ শীর্ষক জুলাই-২৪ পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ।