সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

যমুনা সেতুতে ৬ দিনে ২০ কোটি টাকা টোল আদায়

ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে গত ছয় দিনে যমুনা সেতুতে ২ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। এই ছয়দিনে টোল আদায় হয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশি।

 

 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ২২ মে থেকে ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত যমুনা সেতুতে যানবাহন চলাচল করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০৮টি। এর মধ্যে পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী) ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৩টি ও পশ্চিম টোলপ্লাজায় (ঢাকামুখী লেন) ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৫টি যানবাহন চলাচল করেছে।

 

মোট টোল আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা। পূর্ব টোলপ্লাজায় ১১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৯০০ ও পশ্চিম টোলপ্লাজা আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

 

 

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গত ২২ মে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন চলাচল করেছে বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। ২৩ মে ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা, ২৪ মে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা, ২৫ মে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন চলেছে বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা, ২৬ মে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২৭ মে ৪৫ হাজার ৮৮৯ টি যানবাহন চলাচলের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোাটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা।

 

 

যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষন ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে সেতুর ওপর দিয়ে স্বাভাবিকের তুলণায় দুই থেকে চার গুণ যানবাহন চলাচল করেছে। ৬দিন ধরেই মহাসড়কে গাড়ীর চাপ ছিল। বুধবার বিকেল থেকেই মহাসড়ক ফাঁকা হতে থাকে।

 

তিনি বলেন অতিরিক্ত গাড়ীর চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিয়মিত ১৪টি বুথের সঙ্গে অতিরিক্ত চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগ: ঈদের দিন হলের শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ঈদের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ ওসমান হাদী হল’-এ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে এই প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

 

​সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দূরত্বের কারণে যেসব শিক্ষার্থী ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি, কিংবা আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে হলে রয়ে গেছেন, মূলত তাদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলটিতে অবস্থানরত ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের কথাও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে এই আয়োজনে।

 

​এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন: ​”ঈদ আমাদের মাঝে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেলেও অনেকেই নানা সীমাবদ্ধতা বা দূরত্বের কারণে হলে থেকে যান। উৎসবের এই দিনে তারা যেন নিজেদের একা বা পরিবারহীন মনে না করেন, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মুখে ঈদের দিন অন্তত কিছুটা হলেও আনন্দের হাসি ফুটুক।”

 

​উল্লেখ্য, ঈদের দিন দুপুরে শহীদ ওসমান হাদী হলের ডাইনিং/নির্ধারিত স্থানে এই প্রীতিভোজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

নারী-শিশু নির্যাতনকারীরা সমাজের শত্রু: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দিনাজপুরের হাকিমপুরে (হিলি) দুস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এম,পি (দিনাজপুর-৬)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে স্পষ্ট শর্ত হচ্ছে মাদক কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ বা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। মাদক, শিশু ও নারী নির্যাতনকারী এবং মেয়েদের উত্যক্তকারীরা সমাজের শত্রু। তাদের ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এই ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঈদের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক, নারী-শিশু নির্যাতনকারী ও ইভটিজারদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপকভাবে মাঠে নামবে। এদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আপনারা সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করুন, প্রশাসন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালালে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার পক্ষে কোনো এমপি বা মন্ত্রীও সুপারিশ করবেন না।
এ সময় সমাজ গঠনে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের ভুলত্রুটি ও দোষ একশো বার তুলে ধরুন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সমালোচনার পাশাপাশি সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকাও রাখতে হবে। অতীতের ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এবং সমাজ যাতে সঠিক পথে পরিচালিত হতে উৎসাহিত হয়, মিডিয়ার মাধ্যমে সেই সচেতনতা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, গৃহহীন ব্যক্তি ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জিআর চাল তুলে দেন প্রধান অতিথি।
উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হিলির স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

যুদ্ধ পরিস্থিতির আড়ালে ঘনীভূত হচ্ছে আহমাদিনেজাদ রহস্য

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিবেচনা করেছিল।

 

 

‘আপনাদের জানা উচিত যে এই ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) পতনের পথে এবং আল্লাহর কৃপায় এটি ভেঙে পড়বে, আর কোনো কিছুই একে রক্ষা করতে পারবে না। এই শাসনব্যবস্থা তার পথচলার শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।’

 

 

এ ধরনের বক্তব্য বহু বছর ধরে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে বিশ্বে অন্যতম পরিচিত ইসরায়েলবিরোধী মুখে পরিণত করেছিল।

তিনি হলোকাস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরায়েলকে ‘মনগড়া শাসনব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যে কারণে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়ই তাকে উদ্ধৃত করতেন যে কেন তারা মনে করেন ইরান একটি বাস্তব হুমকি, তা ব্যাখ্যা করতে।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস এখন জানিয়েছে, ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনায়’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন একটি পরিস্থিতি বিবেচনা করেছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদ ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে সরে গিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে উঠে আসতে পারেন।

 

 

কিন্তু টাইমসের মতে, পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়, কারণ যুদ্ধের শুরুতে গৃহবন্দিত্ব থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় তিনি আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

এই দাবির বিষয়ে আহমাদিনেজাদ বা তার সহযোগীরা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বর্তমানে তার অবস্থান অজানা।

 

 

এই সংবাদটি অনেক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশ্লেষকের সংশয় সৃষ্টি করেছে, যারা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চরম ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির সঙ্গে কেন কোনো দেশ কাজ করার কথা ভাববে।

 

 

এই আপাত বৈপরীত্য কিছু মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, আহমাদিনেজাদের ভাবমূর্তিটি আসলে সবসময়ই কি এতটা সরল ছিল, নাকি তা আরও জটিল?

 

 

ইসরায়েলের জন্য এক ‘উপকারী প্রতিপক্ষ’?

 

 

এই বিষয়টির সংবেদনশীলতা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই সময়গুলোতে, যখন ইরানের রাজনীতিতে আহমাদিনেজাদ প্রথম প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

 

 

২০০৩ সালে তিনি তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হন, যদিও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তখন তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ছিলেন।

 

 

২০০৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সমর্থন ছিল বলে মনে করা হয়।

 

 

নির্বাচনের সময় তিনি ন্যায়বিচার, সরলতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগান ব্যবহার করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন মূলত অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে নয়, বরং ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং হলোকাস্ট নিয়ে তার বক্তব্যের কারণে।

 

 

২০০৫ সালের অক্টোবরে তেহরানে ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট জায়নিজম’ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ বলেছিলেন, ‘আমেরিকা ও জায়নিজমবিহীন একটি বিশ্ব সম্ভব।’

 

 

প্রায় এক বছর পর তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্কিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স টু রিভিউ দ্য গ্লোবাল ভিশন অব দ্য হলোকাস্ট’; যেখানে সুপরিচিত হলোকাস্ট অস্বীকারকারীরা অংশ নেন, যা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

 

 

এর বহু বছর পর কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক প্রকাশ্যে বলেন, কঠোর বক্তব্য ও হলোকাস্ট অস্বীকারের মাধ্যমে আহমাদিনেজাদ কার্যত ইসরায়েলের পক্ষেই কাজ করেছেন।

 

 

২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাকে ‘ইসরায়েলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তার বক্তব্য বিশ্বকে ইরানের হুমকিকে আরও গুরুত্ব সহকারে নিতে সহায়তা করেছে।

 

 

আহমাদিনেজাদের সমর্থকেরা এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কেবল একটি আক্রমণাত্মক ও আদর্শিক নীতি অনুসরণ করেছেন, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

 

 

২০১৩ সালে পদ ছাড়ার পর তিনি ক্রমশই সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অংশ, যেমন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান।

 

 

পরে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে।

 

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সম্পর্কে এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান ও শিয়া অ্যাক্সিস প্রোগ্রামের প্রধান রাজ জিম্মিত বলেন, আহমাদিনেজাদ প্রায়ই পরস্পরবিরোধী ও অপ্রত্যাশিত অবস্থান গ্রহণ করতেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আহমাদিনেজাদ ছিলেন জনতাবাদ ও সুযোগ সন্ধানী এক মিশ্রণ।

 

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে আহমাদিনেজাদ তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও পুনর্গঠন করেছেন। তিনি ইংরেজিতে টুইট করেছেন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং মার্কিন র‌্যাপ শিল্পী টুপাক শাকুরের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন।

 

 

এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকায় রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রশংসাও করেছেন।

 

 

তবে জিম্মিত স্বীকার করেন, পশ্চিমা শ্রোতা ও ইরানের অভ্যন্তরে একটি তুলনামূলক সংযত ভাবমূর্তি তৈরির এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আহমাদিনেজাদের এমন সমর্থন কখনোই ছিল না, যা তাকে ৯ কোটির বেশি জনগণের দেশে ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিতে পারে।

 

 

মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সংশয়

 

 

বিবিসি পার্সিয়ানের সাথে কথা বলা তিন মার্কিন বিশেষজ্ঞও আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

 

 

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স আব্রাহমস বলেন, এই বিবরণকে অত্যন্ত সন্দেহের সঙ্গে দেখা উচিত, কারণ যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ভুল তথ্যের মাত্রা খুব বেশি।

 

 

তিনি মনে করেন, হলোকাস্ট অস্বীকার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ভূমিকার কারণে ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাবে, এটার সম্ভাবনা কম। একইভাবে ট্রাম্পের জন্যও আহমাদিনেজাদ সফল শাসন পরিবর্তনের বর্ণনার সঙ্গে খাপ খায় না।

 

 

আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ইলান বারম্যানও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার ধারণাকে অসম্ভব মনে করেন। তাঁর মতে, নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এলেও আহমাদিনেজাদ প্রথম পছন্দ হতেন না।

 

 

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মাইকেল রুবিন এই বিবরণকে কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস অতিরিক্তভাবে অজ্ঞাত সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে।

 

 

তবে তার মতে, পশ্চিমে অনেকে এখনো পুরোপুরি বোঝেন না কেন আহমাদিনেজাদ ইরানের সমাজের কিছু অংশে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

 

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক্স-এ জানিয়েছে, তারা তাদের প্রতিবেদনের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। সেই সাথে তারা আরো বলেছে যে, এটি মার্কিন, ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাসহ অবহিত সূত্রের সঙ্গে কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে করা।

 

 

ইসরায়েলের ভেতরের প্রতিক্রিয়া

 

 

কিছু ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এই ধরনের একটি সম্ভাবনা ইরান সম্পর্কে ইসরায়েলের ধারণা নিয়ে কী বোঝায়, সে দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

 

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড্যানি সিট্রিনোভিজ এক্স-এ লিখেছেন, আহমাদিনেজাদকে মুকুট পরানোর চেষ্টা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর ভুল বোঝাবুঝির পরিচায়ক হবে।

 

 

তিনি বলেন, আহমাদিনেজাদের কোনো বাস্তব ক্ষমতার ভিত্তি নেই এবং ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি কখনোই তাকে সমর্থন করবে না। ফলে তিনি কেবল তখনই ক্ষমতা নিতে পারতেন, যদি ইরানের বিদ্যমান পুরো ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়ত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ঘটেনি।

 

 

অভিজ্ঞ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানও এক্স-এ লিখেছেন, এই গল্পটি বহু দিক থেকে উন্মাদনাপূর্ণ।

 

 

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বিদ্রোহ ও বিমান হামলার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব, এমন ধারণা দেখায় যে পরিকল্পনাকারীরা একটি কল্পনার জগতে বাস করছিলেন।

 

 

কেন আদৌ আহমাদিনেজাদের নাম উঠে এলো?

 

 

অনেক সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নটি থেকেই যায়; কেন আহমাদিনেজাদ?

 

 

এর উত্তর হয়তো তার তিনটি বৈশিষ্ট্যের অস্বাভাবিক সমন্বয়ে নিহিত; পরিচিতি, ভেতরের অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ নেতার থেকে দূরত্ব।

 

 

আহমাদিনেজাদ ইরানে পরিচিত, সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, সমাজের নিম্নবর্গের একটি অংশের ভাষা বোঝেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত।

 

 

একই সময়ে খামেনেয়ির সঙ্গে তার বিরোধের কারণে তাঁকে কেবল শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় না।

 

 

কিছু পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে অস্থিরতার সময়ে ব্যবহারযোগ্য একটি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, মিত্র হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একটি অস্থায়ী চরিত্র হিসেবে।

 

 

আহমাদিনেজাদ আসলে কে?

 

 

কিছু ইরানি সমালোচক ও বিশ্লেষকের মতে, তার প্রেসিডেন্সি, বিতর্কিত বিদেশ সফর এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে নীরবতা-সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

তাদের মতে, তার নীতিমালা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে, পারমাণবিক সংকটকে তীব্র করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক বার্তাগুলোর কিছু তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

 

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সেই বিতর্কগুলো আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

তবে এটি প্রথমবার নয়। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি বিতর্কিত ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর হওয়া গণবিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ তুলে সংস্কারপন্থী নেতা ও সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

 

কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার পর ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি একই ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন, এমনকি তার পূর্বসূরিদের একজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগও নিয়েছিলেন, যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

 

 

এই অবস্থান পরিবর্তন ও নতুন করে জোট নির্ধারণের প্রবণতা সম্ভবত অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কৌশলগতভাবে চলার ইঙ্গিত দেয়, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কোনো গোপন সম্পর্কের নয়।

 

 

বাস্তবিকপক্ষে আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ নেই।

 

 

তবে মূল বৈপরীত্যটি থেকেই যায়। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত একজন রাজনীতিক এখন কিছু প্রতিবেদনে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে আসছেন, যা ইরানের রাজনীতিতে আহমাদিনেজাদকে কীভাবে বোঝা উচিত, সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

 

বিশ্বকাপ সামনে রেখে মেসির ৭০ ফুট ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় স্থাপিত আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু একটি ভাস্কর্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

বুধবার (২৭ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাতাসে ভাস্কর্যটি দুলতে দেখা যাওয়ায় এলাকাবাসীর অভিযোগের পর পশ্চিমবঙ্গের জনপথ বিভাগ (পিডব্লিউডি) এটি পরিদর্শন করে। পরে প্রকৌশলীরা ভাস্কর্যটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক শরদ্বত মুখার্জি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির এই ভাস্কর্যটি নিরাপদ নয় বলে মনে হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, এটি বাতাসে দুলছে’।

তিনি আরও জানান, ব্যস্ত সড়ক ও একটি সাবওয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভাস্কর্যটি অপসারণ সহজ নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব এটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাইবারগ্লাস ও লোহার তৈরি এই বিশাল ভাস্কর্যটি আপাতত ভারী নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে আশপাশে ব্যারিকেডও স্থাপন করা হয়েছে।

 

২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির সম্মানে গত ডিসেম্বরে কলকাতায় এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। মেসির ‘গোট’ (গ্রেটেস্ট অব অল টাইম) সফর উপলক্ষে এটি নির্মাণে ৪৫ সদস্যের একটি দল টানা ২৭ দিন কাজ করে।

 

 

ভার্চুয়ালি রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন মেসি। তবে সে সময় কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কোরবানি স্থগিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে আবারও ফেরত যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের খামারে।

 

 

বুধবার (২৭ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

 

 

তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটি খামারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই মহিষটি লালন-পালন করা হবে।

এর আগে, অ্যালবিনো জাতের এ মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প।

অদ্ভুত নামের জন্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এই বিরল অ্যালবিনো জাতের মহিষটি। তবে, ভাইরাল হওয়ার আগেই ৭০০ কেজি ওজনের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ক্রেতা সামির।

 

এরপর মহিষটিকে দেখতে শিশু-কিশোরর যুবকরাই নন, অনেক নারীরাও এসেছিলেন। বরিশাল, কুমিল্লাসহ দূরবর্তী জেলা থেকেও এসেছিল। অনেকে কিনতে না পেরে হতাশাও ব্যক্ত করেন সেসময়।

 

 

এমনকি, আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এএফপি থেকে রয়টার্স প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই জায়গা পেয়েছে এই ভাইরাল মহিষটি।

 

 

এদিকে মহিষের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, এটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখেই তার ভাই এর নাম রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে। জিয়া উদ্দিন জানান, মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছে দেখতে মানুষ দলে দলে ছুটে এসেছেন।

 

যুদ্ধের ছায়ায় গাজার ঈদ উদযাপন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে গভীর হতাশা আর অনিশ্চয়তার আবহ নিয়ে। নতুন পোশাক, কোরবানির পশু কিংবা ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার সবকিছুই যেন নাগালের বাইরে গাজাবাসীর।

 

 

গাজার বাসিন্দা নাদিয়া আবু শামালা বলেন, ‘আমি শুধু বাজারে ঘুরে দেখতে যাই, কারণ কিছু কেনার সামর্থ্য নেই। জিনিসপত্রের দাম শুনলেই মন ভেঙে যায়।’

 

 

৪০ বছর বয়সী এই নারী উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ শহরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্তানদের ন্যূনতম প্রয়োজনও পূরণ করতে না পারার কারণে এবার গাজায় ঈদের কোনো আনন্দ নেই।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় এখনো প্রায়ই ইসরায়েলি বিমান হামলা হচ্ছে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, গাজায় প্রবেশের সব সীমান্তপথ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম পরিমাণ ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় দ্রব্যমূল্য কমছে না এবং পণ্যের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

গাজার আরেক বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী আবু আবদুল্লাহ আল-মোসাদার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি আসলে বড় এক প্রতারণা। তারপরও আমরা শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।’

 

 

 

তিনি জানান, কোরবানির জন্য একটি ভেড়া কিনতে তিনি ও তার ভাই মিলে প্রায় ১৩ হাজার শেকেল ব্যয় করেছেন।

 

ধর্ষণ অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যুবদল নেতা ও তার ছোট ভাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা পুলিশ ওই যুবদল নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

গ্রেপ্তার মান্না সিকদার চৌহালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদারের ছেলে। ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তার ছোট ভাই শান্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণ করেন যুবদল নেতা মান্না সিকদার। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই শান্ত ও প্রতিবেশী মোছা. বুড়ি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে মান্না তাকে চেনেন না এবং বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি পরিবারের সবাই জেনে গেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খালাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

 

বিদ্যুৎখাতে বড় স্বপ্ন—২০৫০ সালে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন সেবা

বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিশাল পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যার মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্যই প্রয়োজন হতে পারে ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি।

 

 

টেক এক্সপ্লোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একটি বিস্তারিত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা মডেল তৈরি করে পরীক্ষা করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না।

 

 

নেচার এনার্জি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় পুরো বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা এক বছরের প্রতিটি ঘণ্টা ধরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় সৌর ও বায়ুশক্তির প্রাপ্যতা, সম্ভাব্য ভূমি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ভোক্তা এলাকার দূরত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, যদি বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ২০ টেরাওয়াট পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি (ভ্যারিয়েবল রিনিউএবল এনার্জি বা ভিআরই) স্থাপন করা যায়, তাহলে নিট-শূন্য কার্বন নির্গমনভিত্তিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তারা আরও জানান, অধিকাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কেন্দ্রগুলোর প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত, যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে সহজ করতে পারে।

 

 

তবে গবেষণায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিকে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

 

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু সৌর প্যানেল প্রযুক্তির জন্যই ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

গবেষণায় বলা হয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাচুর্যের কারণে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুতের সুবিধা পেতে পারে।

 

 

পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারও বাড়াতে পারে।

 

 

একই সঙ্গে গ্যাস, তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের খরচ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

 

 

এছাড়া বায়ুদূষণ কমে জনস্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

 

 

গবেষণায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকা সময়ে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং স্মার্ট এনার্জি ব্যবস্থার প্রয়োগ।

 

 

গবেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিদ্যুৎব্যবস্থার মোট ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বছরে প্রায় ১৮২ বিলিয়ন ডলার কমানো সম্ভব।

 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য জীবনমান নিশ্চিত করে এমন নিট-শূন্য বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।

 

 

তারা আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্বনমুক্ত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

 

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর তিন গ্রামে ঈদ উদযাপন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার তিন গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করেছেন। বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথক তিনটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা এলাকাগুলো হলো— বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বসন্তবাগ মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদ, জিরতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফাজিলপুর দায়রা বাড়ী জামে মসজিদ এবং নোয়াখালী পৌরসভার পশ্চিম সাহাপুর রশিদিয়া রহমানিয়া আল কাদেরী দায়রা খানকা শরীফ জামে মসজিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় পীর হযরত আবু মুহাম্মদ মহিউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণকারী কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন। এ ধারাবাহিকতায় বসন্তবাগ, ফাজিলপুর ও পশ্চিম সাহাপুর গ্রামের অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
উত্তর বসন্তবাগ মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা বদরুল ইসলাম। এতে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মুসল্লি অংশ নেন। অপরদিকে, ফাজিলপুর দায়রা বাড়ী জামে মসজিদে মাওলানা সাইফুর রহমানের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত জামাতে অংশ নেন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মুসল্লি।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, পূর্বপুরুষদের সময় থেকে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তিনি বলেন, “এই প্রথার ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো।” ঈদের নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্রাচার্য বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ছোট পরিসরের আয়োজনের বিষয়ে অনেক সময় স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন না। তবে বড় ধরনের জামাত হলে সাধারণত প্রশাসনকে জানানো হয়।

 

যুদ্ধের ছাপ নিয়েই ইরানে কোরবানির ঈদ

যুদ্ধের ক্ষত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বুধবার (২৭ মে) দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন লাখো ইরানি মুসল্লি।

 

 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়।

 

 

ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার সকালেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন।

ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র উৎসবগুলোর একটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতো ইরানেও দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়।

রাজধানীর তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি।

 

 

ঈদের জামাতে রাজনৈতিক, সামরিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

 

 

এসময় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শান্তি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় ইরানের বিভিন্ন মসজিদে।

 

 

এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদযাপন করলো ইরান, যখন দেশটি সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিঘাত থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

 

 

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একের পর এক হামলায় ইরানের জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও চাপ তৈরি হয়েছে।

 

 

তবুও সব অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই ধর্মীয় উৎসবের চেতনায় ঐক্য এবং ধৈর্যের বার্তা নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে ইরানের জনগণ।

ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে গোস্ত কাটার ‘খাইট্টা’ বিক্রির ধুম

ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা জুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পশুর হাটে যেমন বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়, তেমনি কামারপাড়াগুলোতে দা-ছুরি ধার দেওয়ার টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। আর এই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরবানির মাংস কাটার অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ কাঠের তৈরি ‘খাইট্টা’ বিক্রিতে দেখা দিয়েছে মৌসুমি ধুম।
উপজেলার চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা ,ঘুড়কা ও নিমগাছী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ধারে ও বিভিন্ন স’মিলের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের খাইট্টা। কোথাও ছোট, কোথাও মাঝারি—আবার কিছু জায়গায় বিশেষভাবে কসাইদের জন্য বড় আকারের খাইট্টাও তৈরি করা হচ্ছে। কাঠের গুঁড়ি কেটে, মসৃণ করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
কাঠমিস্ত্রিদের ভাষ্য, মাংস কাটার জন্য শক্ত ও টেকসই কাঠের খাইট্টার বিকল্প নেই। কারণ ভারী দা বা চাপাতির আঘাত সহ্য করতে না পারলে খাইট্টা দ্রুত ফেটে যায় বা নষ্ট হয়ে পড়ে। এ কারণে তেঁতুল, নিম, বাবলা ও বেল গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি খাইট্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠের খাইট্টা দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর কদর আলাদা।
বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার খাইট্টার দাম কিছুটা বেড়েছে। কাঠ ও গাছের গুঁড়ির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। বাজারে ছোট আকারের খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি আকারের খাইট্টার দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে বড় আকারের কসাই খাইট্টার চাহিদা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের অন্য সময় খাইট্টার তেমন বিক্রি না থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক কাঠমিস্ত্রি নিয়মিত কাজ বন্ধ রেখে এখন শুধুই খাইট্টা তৈরিতে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ সাময়িকভাবে অন্য পেশা ছেড়ে এই মৌসুমি ব্যবসায় নেমে বাড়তি আয় করছেন।
ক্রেতাদের মতে, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত ও সুন্দরভাবে মাংস কাটতে একটি ভালো মানের খাইট্টা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই পশু কেনার পাশাপাশি আগেভাগেই দা-ছুরি ও খাইট্টা কিনে রাখছেন তারা, যেন ঈদের দিন কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।
ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জের গ্রামীণ বাজারগুলোতে এখন যেন উৎসবের আমেজ। পশুর হাট, কামারপাড়া আর খাইট্টার দোকান—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

 

যমুনা সেতু পশ্চিমে ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট

 এবার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে অন্তত ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঢাকামুখী লেনে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। সেতুর উত্তরবঙ্গমুখী পুর্বপাড়ে তীব্র যানজটের কারণে পশ্চিম পারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ মহাসড়কেের লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই যমুনা সেতু পশ্চিম টোলপ্লাজা এলাকা থেকে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। বেলা ৩টার পর যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সেতুর টোল প্লাজা থেকে কড্ডার মোড় পার হয়ে ৭ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়।
সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত তীব্র যানজট নিরসনে ঢাকামুখী সকল লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সেতুর পশ্চিমপাড়ে শুধুমাত্র ঢাকামুখী লেনে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাড়ি, রায়গঞ্জে সহমর্মিতার হাত বাড়ালেন নেতারা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নে আকস্মিক এক প্রচণ্ড ঝড়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার সোনারাম মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঝড়ের তাণ্ডবে বাড়ির একাধিক ঘর ভেঙে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম শেখের বাড়িতে হঠাৎ করেই তীব্র ঝড় আঘাত হানে। এতে তার বসতবাড়ির সাতটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঝড়ে ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং দেয়াল ধসে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আকস্মিক এ দুর্যোগে পরিবারটি মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল মমিন সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম খন্দকার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সামা সরকার।
নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

 

নরসিংদীতে শিশুর মাথা আটকে গেল পাতিলে, ওয়ার্কশপে নিয়ে অপসারণ

নরসিংদীতে খেলার ছলে পাতিলের ভেতরে মাথা ঢুকে গেছে অন্তিম নামে দুই বছরের এক শিশুর। অনেক চেষ্টার পরও মাথা থেকে পাতিল খুলতে না পেরে পরবর্তীতে ওয়ার্কশপে নিয়ে শিশুর মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।

 

 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

জানা যায়, দুই বছরের শিশু অন্তিম খেলার ছলে মাথায় পাতিল ঢোকায়। এক পর্যায়ে তার মাথায় পাতিলটি শক্তভাবে আটকে যায়। পরবর্তীতে, পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টার পরও তা খুলতে না পেরে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ডাক্তারেরা পাতিলটি খুলতে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে পাশের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলসানারা কবীর বলেন, শিশুটি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরও কিছু সময় এভাবে থাকলে শ্বাসকষ্টের কারণে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

নাচোলে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বর্তমান সরকারের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ১৫০ জন দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধান মন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
​প্রধান অতিথি হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সরকারিভাবে দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ পাওয়া যায়, এটি ইতোপূর্বে সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই ছিল।
বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব নীতির কারণেই আজ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এই সহায়তা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন।”
​তিনি আরও বলেন, “এবার যারা এই সুবিধা পেয়েছেন, আগামীতে যাতে অন্য দুস্থ ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পান সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।” সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা জনগণের কাছে শতভাগ পৌঁছে দিতে দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
​এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সহ- সেক্রেটারি ইয়াহিয়া খালেদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক ইয়াকুব আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা মোবারক হোসেন, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম,পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি খলিলুর রহমান এবং নায়েবে আমীর ডা. রফিকুল ইসলাম।নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এবং নেজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক।
অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য উপকারভোগীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল প্রকৃত অভাবী মানুষকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

জয়পুরহাটে জমির দ্বন্দ্বে যুবক খুন, প্রধান অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার

​জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাছুম হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলকপুর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

​নিহত মাছুম হোসেন পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে।

 

 

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে শিবলুর সঙ্গে মাছুমের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মাছুম ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

​মঙ্গলবার রাতে মাছুম স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিলকপুর রেলস্টেশন এলাকায় গল্প করছিলেন। পরে বন্ধু জয়কে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে আক্কেলপুর-তিলকপুর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে শিবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মাছুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মাছুম মোটরসাইকেল থেকে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালে মাছুমের প্রতিবেশী দাদা ফজলুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফজলুর রহমানের ছেলে রতনকেও হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। পূর্বের এই দুটি হত্যা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাছুমের মা রুমি আক্তার বলেন, “জমিজমাকে কেন্দ্র করে তারা আমার একমাত্র ছেলেটাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। আমি কোনো জমি চাই না, আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিক। যারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

 

 

​আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ভোরে প্রধান অভিযুক্ত শিবলুর বাবা গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মাছুমের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

​তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার আওতাধীন হলেও নিহত ও অভিযুক্তদের বাড়ি নওগাঁ সদর থানা এলাকায়। নিহতের মরদেহ বর্তমানে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

 

অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, জরিমানা ৩ প্রতিষ্ঠানকে

পঞ্চগড়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড়ের নগরকুমারী হাটে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

 

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে ‘মুনস্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’কে ৩০ হাজার টাকা, ‘আলমগীর স্টোর’কে ৩ হাজার টাকা এবং ‘তইবুল চা স্টোর’কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

এছাড়া মহাসড়কের ওপর রাখা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আজকের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে রাস্তার ওপর যত্রতত্র বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্কিং না করার জন্য চালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান জানান, রাস্তায় অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যু: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেছেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ছয় শিশুর ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

মৃত্যুর কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি আর অনুযায়ী কঠোর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ছয় শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ আমরা হাসপাতালে এসেছি। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। দ্রুতই বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জানাতে পারব। এতটুকু জেনেছি, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বাচ্চাগুলো মারা গেছে।

এর আগে ঘটনার বিষয়ে জানাতে আদ্–দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের যে ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ছিলেন। আর নবজাতক ছিল ছয়।

হাসপাতালে থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এসি বন্ধ ছিল এবং নবজাতক ওয়ার্ডে উৎকট দুর্গন্ধ পান তারা। পরে নার্সকে জানালে তারা অনেককে এনআইসিইউতে পাঠান।

 

 

এসির গ্যাস লিকেজ থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা। তবে তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছয় নবজাতক শিশুসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে অবস্থান করছিলেন। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এক নবজাতকের মা।

 

 

পরবর্তীকালে নার্স এসি এক ঘণ্টার মতো বন্ধ রাখেন। এরপর গরম অনুভূত হওয়ায় এসি চালু করতে বললে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এখানে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে। আলামত সংগ্রহ করছে।

 

 

 

বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম ছয় শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলেও জানান ডিসি।

 

 

তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্তের পর আসল তথ্য বলা যাবে।

 

কোরবানির গরু চুরি করতে গিয়ে আটক চোর

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কোরবানির গরু চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে মুরাদ (২২) নামের এক যুবক। তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

 

বুধবার (২৭ মে) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক মুরাদ ভিটিকান্দি গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মতিন দেওয়ান কোরবানির জন্য একটি গরু কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মুরাদসহ একদল চোর গরুটি চুরি করার উদ্দেশ্যে বাঁধন খুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির মালিক আব্দুল মতিন তাদের ধাওয়া দিলে মুরাদকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

ভুক্তভোগী গরুর মালিক আব্দুল মতিন দেওয়ান বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে ঘুম না আসায় আমি মোবাইল চালাচ্ছিলাম। এসময় হঠাৎ খেয়াল করি একজন ব্যক্তি আমাদের কুরবানির জন্য আনা গরুটি চুরি করার চেষ্টা করছে। আমি পেছন থেকে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করি।’

 

আটক মুরাদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, চুরির এই ঘটনায় তার সাথে শরীফ, জমিস, রাহুল ও সাগরসহ আরও চারজন জড়িত ছিল। সে আরও স্বীকার করে, এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তারা পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে দুটি মোবাইল ফোনও চুরি করেছে এবং তারা নিয়মিত একসাথে ইয়াবা সেবন করতো।

 

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

৫ দিনে যমুনায় পানি বাড়লো ১১১ সেন্টিমিটার

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বর্ষণের সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ দিনে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ সদর পয়েন্টে ১১১ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ১১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি হয়েছে।

 

বুধবার (২৭ মে) সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ‍যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৩০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার)। এই পয়েন্টে ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত যথাক্রমে ২১, ২৮, ২০ ও ২৬  সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

 

 

অপরদিকে কাজিপুরের মেঘাই পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৮৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার)। এই পয়েন্টে ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত যথাক্রমে ২৩, ৩৪, ১৬ ও ২৫  সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, টানা ৫দিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। আরও দুই থেকে তিনদিন পানি বাড়তে পারে। এরপর কয়েকদিন স্থির থাকবে। পরে কমতে থাকবে।

 

স্বপ্নে আদেশ পেয়ে নিজের সবকিছু বেঁচে দিয়ে মসজিদ গড়ছেন রাজমিস্ত্রি সামিদুল

 

স্বপ্নে আদেশে পেয়ে নিজের সবকিছু বিক্রি করে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার এক সাধারণ রাজমিস্ত্রি সামিদুল ইসলাম।

সামিদুল উপজেলার পূর্ব ফরিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা মসজিদ নির্মাণ করছেন তিনি।

জানা যায়, সামিদুল একদিন রাতে স্বপ্ন দেখেন তার বাড়ির পাশেই চলছে একটি বিশাল তিনতলা মসজিদের নির্মাণকাজ। নীল আকাশের নিচে মসজিদের গম্বুজ ঝলমল করছে। দৃশ্যটি এতটাই স্পষ্ট, এতটাই বাস্তব ছিল যে ঘুম ভাঙার পরও তিনি মুগ্ধতায় স্থির হয়ে থাকেন।

পরদিন বিষয়টি স্থানীয় এক আলেমকে জানালে তিনি অবাক হয়ে বলেন,“তুমি তো গরিব মানুষ, এত বড় কাজ কীভাবে করবে?”

কিন্তু স্বপ্ন থেমে থাকেনি। রাতের পর রাত একই দৃশ্য ফিরে এসেছে তার স্বপ্নে। এভাবে নিজেকে আর থামিয়ে রাখতে পারেন তিনি। স্বপ্নকে বাস্তবায়নের দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন সামিদুল।

কিন্তু বিশাল এই মসজিদ তৈরিতে যে অর্থের দরকার তার মতো দরিদ্র রাজমিস্ত্রির পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু স্বপ্নে পাওয়া মসজিদ তৈরিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সামিদুল নিজের পালিত গরুটি বিক্রি করলেন। এরপর একে একে বিক্রি করলেন যা কিছু ছিল—বসতভিটা, জমি, সামান্য সম্পদ।

সামিদুল জানান, ৪০ হাজার টাকা শতক দরে জমি কিনতে শুরু করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করেন। নিজের থাকার ঘরটুকুও যখন বিক্রি করতে হয়েছে। এখন তিনি ভাঙা ঘরে থাকেন।

সামিদুল আরও বলেন,“আমি শুধু আল্লাহর ঘরটা দাঁড় করাতে চাই”“স্বপ্নে যেভাবে দেখেছি, আল্লাহর ঘরটা একদিন ঠিকই দাঁড়াবে। একা পারব না, সবাই পাশে দাঁড়ালে কাজটা অনেক দূর এগোবে। আমি যা ছিল সব দিয়েছি—এবার মানুষের সাহায্য চাই।”

স্থানীয় ইউসুফ আলী বলেন, “এমন ত্যাগ আজকাল দেখা যায় না। যদি মানুষ একটু এগিয়ে আসে, খুব দ্রুতই মসজিদটা তৈরি হয়ে যাবে।”

রামপুরা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম জানান,“এটা সত্যিই এক মহৎ উদ্যোগ। দরিদ্র মানুষ হয়েও সামিদুল যা করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সবাইকে তার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।”

 

যমুনা সেতুতে চললো ৫৬ হাজার গাড়ী, টোল আদায় পৌণে ৪ কোটি

ঈদে ঘরেফেরা মানুষের চাপে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৫৬ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। টোল আদায় হয়েছে পৌণে ৪ কোটি টাকা। এদিকে যমুনা সেতু পূর্বপারে যানজট থাকলেও পশ্চিমে এসেই স্বাভাবিক গতিতে চলছে গাড়ীগুলো।

বুধবার (২৭ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা।

এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ৩৬ হাজার ৪২৬টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা। অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ১৯ হাজার ৮১৩টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ টাকা।

তিনি বলেন, যানবাহনের চাপ সামলাতে নিয়মিত ১৪টি বুথের সাথে আরও ৪টি অতিরিক্ত বুথ চালু করা হয়েছে।

এদিকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গণপরিবহণ ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, মোটর সাইকেলযোগে ঘরে ফিরছে হাজার হাজার মানুষ। বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কসহ সিরাজগেঞ্জের কোন রুটে যানজট ছিল না।

 

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের প্রভাব সিরাজগঞ্জেও

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের প্রভাব পড়েছে সিরাজগঞ্জেও। যমুনা সেতু পশ্চিমপারে ঢাকামুখী লেনে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেতুর পশ্চিম পারে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে যমুনা সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে যানজট সৃষ্টি হয়ে মুলিবাড়ি আন্ডারপাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পূর্বপার পর্যন্ত ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে ওই পারে সবগুলো লেন উত্তরবঙ্গের দিকে ছাড়া হয়েছে। যে কারণে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ আছে। এর প্রভাবেই যমুনা সেতু পশ্চিমপারে ঢাকামুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুড়িগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে নাগরিক সংলাপ

পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম – ২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদের কুড়িগ্রাম পার্লামেন্ট সেশন – ২ “নাগরিক সংলাপ” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬ মে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম কলেজ মোড় পৌর অডিটোরিয়াম মার্কেট দ্যা এসেম্বলি হল রুমে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ নানা পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সকল পেশার মানুষজন বক্তব্য রাখেন। কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, জনদুর্ভোগসহ নানা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দাবিদাওয়া তুলে ধরেন বক্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম – ২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম রানা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির আব্দুল মতিন ফারুকী, জেলা সেক্রেটারি নিজাম উদ্দীন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শফি খান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ আরও অনেকে।
উক্ত অনুষ্ঠানে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ আমরা কুড়িগ্রাম পার্লামেন্টের দ্বিতীয় অধিবেশনে আয়োজন করেছি। আমরা সকল পেশাজীবীদের দিক নির্দেশনা নিয়ে আগামী সংসদে কথা বলবো।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে কোন ধরনের দুর্নীতি হলে আমরা তা প্রশ্রয় দেব না। প্রত্যেকটি উন্নয়নের কাজ আমরা পরিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে নেব।

 

 

মানচিত্রে রাস্তা, বাস্তবে ধানক্ষেত

সরকারি নথি ও মানচিত্রে এখনও রয়েছে সড়কটির অস্তিত্ব। কিন্তু বাস্তবে সেখানে এখন শুধু ধান ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে সোনারাম দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ কাঁচা সড়কের এক কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ভূমি মালিকেরা ধাপে ধাপে রাস্তার মাটি কেটে নিজেদের জমির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েছেন সরকারি এই সড়ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে হাবিলাগাড়ি পর্যন্ত সড়কের আংশিক অস্তিত্ব থাকলেও হাবিলাগাড়ি থেকে দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার কোনো চিহ্ন নেই। যেখানে একসময় মানুষ চলাচল করত, সেখানে এখন আবাদ করা হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন ফসল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি ছিল রুদ্রপুর চাকিপাড়া, বাঐখোলা, সোনারামপুর ও দেবরাজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের মূল সড়কে যাতায়াতের অন্যতম পথ। রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন এলাকাবাসীকে বিকল্প পথে কয়েক মাইল ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন মন্ডল বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়েই মানুষ হাটবাজার ও মূল সড়কে যাতায়াত করত। এখন রাস্তার জায়গা চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। মানুষকে বাধ্য হয়ে অন্যের জমির আইল দিয়ে চলতে হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বলেন, “ধীরে ধীরে রাস্তার মাটি কেটে পাশের জমির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন বর্ষাকালে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও চরম ভোগান্তি হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তাদের দাবি, বছরের পর বছর সরকারি সম্পত্তি দখল হলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি সরকারি রাস্তা এভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির বড় উদাহরণ। দ্রুত সড়কটি উদ্ধার ও পুনর্নির্মাণ না হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যক্তিগত জমিতে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ তদন্ত করে সড়কের সীমানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, “সরকারি রাস্তা দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পর্যটনকেন্দ্র ও টেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের আশ্বাস

খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত আছরাঙা দিঘী পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত স্থান ঐতিহ্যবাহী আছরাঙা দিঘী ও পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলসীগঙ্গা নদী পরিদর্শন করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী।

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৫ টার দিকে তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার আছরাঙা দিঘীতে পৌঁছে দিঘী ও তুলসীগঙ্গা নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

 

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার আছরাঙা দিঘী এবং কালাই উপজেলার নান্দাইল দিঘীকে কেন্দ্র করে দুটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, অচিরেই জয়পুরহাটবাসী নতুন দুটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র উপহার পেতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার ভাসিলাতে এবং কালাই উপজেলায় একটি করে মোট দুটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগম, ছেলে তৌফিক হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শওকত ওসমান শামীম, ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তাদুল আলম, মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল হোসেন এবং মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন আগৈলঝাড়ার অসহায় পরিবার

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের দিক নির্দেশনায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অসহায় ও দুস্থদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে প্রদত্ত আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

 

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ হল রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৯০ টি পরিবারের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক। প্রত্যেককে পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।

 

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায় সিকদার হাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, সারোয়ার হোসেন মিয়া, আবুল হোসেন মোল্লা , এনায়েত হোসেন খান মনু, রাজিহার ইউনিয়ন বিএনপির আহবায় খন্দকার মোহাম্মদ আলী, মহিলা দলের নেত্রী নয়ন খানমসহ অন্যান্যরা। পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হাতে পেয়ে সবাই তার জন্য দোয়া করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

 

ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে তাড়াশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী মিলন

ত্যাগ, কোরবানি ও ভ্রাতৃত্বের মহান বার্তা নিয়ে আগত পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে তাড়াশ উপজেলা ও পৌরসভার সর্বস্তরের জনসাধারণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন তাড়াশ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিলন।

মঙ্গলবার(২৬’শে মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের শেখায় ত্যাগের মাহাত্ম্য, ধৈর্যের শক্তি এবং মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.) এর ত্যাগের অনুকরণে আমাদেরও উচিত সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন আমরা তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদ মানে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে নেওয়া। ঈদের আনন্দ তখনই সার্থক হবে যখন সমাজের প্রতিটি ঘরে হাসি ফুটবে, প্রতিটি শিশুর মুখে থাকবে তৃপ্তির হাসি। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে তাড়াশকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। রাজনীতি হোক মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতা হোক সেবার মাধ্যম।”

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিমউদ্দিন হলের সাবেক শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ছাত্র রাজনীতিতে তার সততা, নিষ্ঠা ও জনদরদী মনোভাবের জন্য তিনি সহপাঠী ও সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তাড়াশ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও জনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, একটি শহরের উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা।

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি তাড়াশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার চলার পথের শক্তি। বিগত দিনে আপনারা যেভাবে পাশে ছিলেন, আগামী দিনেও সেই সহযোগিতা কামনা করি। আগামী দিনে তাড়াশের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বেকারত্ব দূর করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি সবাইকে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে একটি নতুন কিছু দেখাবো: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে নিয়ে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ঋণ করে গেছেন। বাংলাদেশের বিশ কোটি মানুষের উপরে প্রতি মাথাপিছু দেড়শ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। সেই সরকারে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমার বিদ্যুতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এ বিষয়টা নিয়েই আমরা অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছি । আর তোমরা বলো যে কি হইলো। কি পেলাম এজন্যই তো আমরা ক্ষমতায় আসি নাই। সরকারে দায়িত্ব নিছি আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্ত হইয়া বাংলাদেশের মানুষকে একটি নতুন কিছু দেখাবো। এখন আমরাও যদি আওয়ামী লীগের মতো ঘাইঘাই করি আওয়ামী লীগের মতো ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ঋণ করে রেখে যাই।  তাহলে আর দেশ থাকবে না । দেশ থাকবে দেশ চলবে না।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের মিনি অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মৃত্যুবার্ষিকী পালন নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন,  গত ১৮ বছরে আমরা ঠিকমতো শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারি নাই। আগামী ৩০শে মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আল্লাহর কাছে দোয়া মাহফিল এবং সবাই মিলে দুস্থ অসহায় গরীব মানুষদেরকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবো। এ ব্যাপারে আমার তরফ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার দরকার আমি করব। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে করতে হবে । আর সুশৃংখল ভাবে অনুষ্ঠান করতে পারলে যে কোন কাজের প্রশংসা পাওয়া যায় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে।

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিন্তু খুব জলদি হয়ে যাবে। জিন্নাতি দল কিন্তু তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাদের কিন্তু কোন আওয়াজ নাই । কিন্তু আমি দেখতেছি নির্বাচনের হাওয়া ওঠার আগেই সবাই পোস্টার ছাপানো শুরু করেছে। এই পোস্টার ছাপালেই কিন্তু হবে না। দল অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই যাকে দিলে জিততে পারবো তাকে দেবো। স্থানীয় নির্বাচন তোমাদের কাকে পছন্দ সেটা আমি আগে দেখবো এরপর আমি একটা একটা করে ডেকে আনব এবং আমার রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখব ঠিক আছে কিনা। শুধু চেয়ারম্যান নয় মেম্বারেরও বিষয়ে দেখব আমি।

 

 

উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, কামারখন্দ নিয়ে আমার অনেক বড় একটা পরিকল্পনা আছে। যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমার চেয়ারম্যান দরকার মেম্বার দরকার। আমি বরাদ্দ আনবো সেটা অন্য দলের লোক ব্যবহার করবে সেটা আমি পারবো না। ক্ষুদ্র স্বার্থ ছেড়ে দিয়ে দলের স্বার্থ বৃহৎ স্বার্থ ধরে যে প্রার্থী চেয়ারম্যান হতে পারবে তাকেই দেব। আপনারা আপনাদের ইউনিয়নের মধ্যে ঘুরে বেড়ান। আপনারা কিন্তু অবশ্যই বোঝেন যে কাকে দিলে চেয়ারম্যান হয়ে যাবে। আমার কাছে অলরেডি রিপোর্ট আসছে। অনেক চেয়ারম্যান হওয়ার প্রার্থী আছে তাকে আমার দলের লোকদের কাছে পছন্দ না। কিন্তু সে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

 

 

সুতরাং পাঁচ বছর হাতে সময় আছে দলটাকে সুসংগঠিত করতে হবে। দলটাকে মজবুত করতে হবে ভিত্তিশক্ত করতে হবে মানুষের কাছে যেতে হবে এমনি হয়ে যাবে।

 

 

প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথান এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস-সহ জেলা এবং উপজেলা বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি রোধে সরকার ব্যর্থ: আসিফ মাহমুদ

পবিত্র ঈদুল আজহায় নিরাপদ যাত্রা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীতে ঝিনাইদহে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। প্রায় সব পশুর হাট বিএনপি নেতারা ইজারা নিয়েছেন এবং হাটের জায়গায় হাট বসছে না। এছাড়াও ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সরকার ব্যর্থ বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

 

তিনি বলেন, বিসিবি নির্বাচন দেখে মনে হয়েছে পরিবারতন্ত্রে বসবাস করছি, সরকার দলীয়করণ করবে না বলেছিলো কিন্তু তারা সেটা করেছে। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্যে করে সজীব ভূঁইয়া বলেন, মার্কিন চুক্তির বিষয়ে এনসিপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কথা বলেনি। যে অংশ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, সেগুলো রিভিউ করে বাতিল করার উদ্যোগ নেন। দোষারোপ করবেন না। বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন। ডুয়েল গেম খেলতে বিএনপির ইন্ধনেই এই চুক্তি হয়েছে কি না এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

 

 

৩২ লাখ টাকার গরু কেনার বিষয়ে এ্যানির ছেলের ব্যাখ্যা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ৩২ লাখ টাকার গরু কেনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

 

 

 

আমার বাবা পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং উনার ভাইয়েরা পারিবারিক কোরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা-মাদ্রাসার জন্য প্রতি বছর ৬/৭/৮টি গরু ক্রয় করেন। তার ধারাবাহিকতায় এ বছরও ওনারা ৬টি গরু ক্রয় করেছেন।

আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন আমার বাবা আর মন্ত্রী থাকবেন না, তখনও কি আমাদের উত্তরসূরিরা ১০টা গরু দিয়ে কুরবানি দিলে এমন অযৌক্তিক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে? নাকি আমার বাবা কেবল মন্ত্রী হওয়ায় বট বাহিনীর এমন অযৌক্তিক মিথ্যাচারের শিকার হচ্ছেন?

সবচেয়ে বড় কথা, সবগুলো গরুই গরীব মানুষের হক। মানুষের হক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

মহান আল্লাহ পাক উত্তম পরিকল্পনাকারী। উনি সব জানেন এবং দেখেন।

এর আগে সম্প্রতি হাটে গিয়ে ৩২ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনায় এ্যানিকে নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে বাবার সমালোচকদের উদ্দেশে এই লেখা লিখেছেন ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।

 

 

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

 

 

তিনি বলেন, বিচারক ও আইনজীবী সংকটের কারণে দেশে অনেক মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়, তবে আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও মর্মান্তিক ঘটনা। এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’

 

এ সময় এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হয়’— এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেই তাদের নেতারা গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন।’

 

 

 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মামলা জট রয়েছে। কারণ বিচারকের সংখ্যা কম। একই সঙ্গে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনজীবীও নেই। ফলে বিচার কার্যক্রম দীর্ঘ হয়।’

 

 

 

সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে এবং বিচারকরাও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াতে এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।’

 

 

এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে জামায়াতের কাছে : রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

 

পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপির সাথে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল। এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিল!’

 

তিনি লেখেন, ‘অথচ এই রাজনৈতিক ইতর (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) আমাকে নিয়ে আজকে সংবাদ সম্মেলন করে বাজে কথা বলল! জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা নাই যে বলেনি, পরে জামায়াতের কাছে এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বামশিবির উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা লেখেন, ‘আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বামশিবির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতের কাছেই বিক্রি হবে, এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দিইনি। গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে জোটে ছিলো। আমি এমন কোন দলে যাইনি, যে দল জামায়াতের মত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি।’

 

 

তিনি আরও লেখেন, আর এই কথা তো জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক টাউট (প্রতারক) এই পাটওয়ারীই বলেছে। পাটওয়ারী শিবির, বাম, এবি পার্টি করেছে। এখন এনসিপি করছে।

 

 

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মাদক সেবন করেন উল্লেখ করে রাশেদ লেখেন, ‘তার আশপাশের লোকজনই আমাকে বলেছে, নাসিরউদ্দিন গাঁজা-ইয়াবা সব খায়। ওর চোখমুখই তার তো প্রমাণ, ওর শরীর নিকোটিনে ভরা। ওর এখন থেকে রূপায়নে বসেই গাঁজা টানতে হবে। গাঁজা খেয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললেই পাবলিকের ডিমের ওপর দিতে যেতে হবে। গালাগাল ও বেয়াদবি করা যদি ওর স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধদের স্বাধীনতা।’

 

 

৯৯ শতাংশ পাওনা পরিশোধ হয়েছে, হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা : শ্রমমন্ত্রী

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

 

 

তিনি বলেন, সরকারের কঠোর তদারকির কারণে অধিকাংশ শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং শ্রমিকরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় সমস্যা হয়েছে, আমাকে দেখান। আমি নিজে মাঠে থেকে খোঁজখবর রাখছি। এখন পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু কারখানায় মে মাসের পূর্ণ বেতন দেওয়ার সময় না হলেও শ্রমিকদের ১৫ দিনের অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সমস্যা নেই।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘গত ঈদেও শ্রমিকরা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এবারও সবাই ন্যায্য পাওনা নিয়েই পরিবারের কাছে যাচ্ছেন।’

 

 

শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিয়মিত তদারকি করছি। বাস্তব পরিস্থিতি অনেক ভালো।’

 

 

বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যারা প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

 

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শাহী ঈদগাহ কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এনসিপির সঙ্গে জোটে যেতে নাসিরুদ্দীন আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল : রাশেদ খাঁন

এনসিপির সঙ্গে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

 

রাশেদ খাঁনের পোস্টটি হুবহু দেওয়া হলো-

‘এনসিপির সাথে জোট করার জন্য নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিলো। এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিলো!’

 

 

‘অথচ এই রাজনৈতিক ইতর আমাকে নিয়ে আজকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাজে কথা বললো! জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে এমন কোন কথা নাই যে বলে নাই, পরবর্তীতে জামায়াতের কাছে এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।’

 

 

‘আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বামশিবির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জামায়াতের কাছেই বিক্রি হবে, এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দিই নি। গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে জোটে ছিলো। আমি এমন কোন দলে যাই নি, যে দল জামায়াতের মত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি।’

 

 

 

‘আর এই কথা তো জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক টাউট এই পাটোয়ারীই বলেছে। পাটোয়ারী শিবির, বাম,এবি পার্টি করেছে। এখন এনসিপি করছে। তার আশপাশের লোকজনই আমাকে বলেছে, নাসিরউদ্দিন গাজা ইয়াবা সব খায়। ওর চোখমুখই তার তো প্রমাণ, ওর শরীর নিকোটিনে ভরা। ওর এখন থেকে রূপায়নে বসেই গাঁজা টানতে হবে। গাঁজা খেয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললেই পাবলিকের ডিমের উপর দিতে যেতে হবে। গালিগালাজ ও বেয়াদবি করা যদি ওর স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধদের স্বাধীনতা।’

 

 

আমরা কোয়ালিটি চাই কোয়ান্টিটি চাই না: শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেনন, আপনারা যে কাজ করেন সেটি বেতনের কাজ করেন না। বেতন সংসার চালানোর জন্য। কিন্তু মূল লক্ষ্য আপনাদের মানুষ তৈরি করা। আপনারা প্রায়ই শহীদ মিনার ও প্রেসক্লাবে গিয়ে আন্দোলন করেন। আপনারা যদি রেজাল্ট ভালো না করেন, তাহলে একটা সময় সরকারও আপনাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে না।

 

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সিরাজগঞ্জ জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই কোয়ান্টিটি চাই না। আপনারা ১০টা মেধাসম্পন্ন ছেলে বের করবেন। যারা বাংলাদেশের সব জায়গায় কম্পিটিশন করতে পারবে। কিন্তু ৫০টা বের করবেন কোনোটাই কম্পিটিশিন করতে পারবে না- সেটা করে লাভ নেই। আপনারা চাইলে পারবেন। নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেভাবে চিন্তা করেন সেভাবে অন্যের সন্তানকে তৈরি করবেন। তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যেতে পারবে। না হলে এখন যে অবস্থা রয়েছে সে অবস্থা থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের সময়ের বুয়েটের ছাত্র আর এখনকার বুয়েটের ছাত্রের মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে।

 

 

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

 

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় তিন অটোরিকশাযাত্রী নিহত

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বাসচাপায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন চড়িয়া র‌্যাব-১২ প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

 

 

 

সলঙ্গা থানার ওসি মো. আসলাম আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে চড়িয়া র‌্যাব-১২ প্রধান কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী যাত্রী বাস চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের নাম পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

 

নোয়াখালীর আঞ্চলিকতায় ঐশীর নতুন গান প্রকাশ

নিজের শেকড় নিজের ভাষা আর সমসাময়িক সাউন্ড এই তিনের মিশেলে নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী ঐশী। নোয়াখালীর মেয়ে হওয়ায় অনেকদিন ধরেই নিজের আঞ্চলিক ভাষায় একটি গান করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘নোয়াখাইল্যা মাইয়া’।

 

 

ঐশী জানান গানটি একেবারেই হুট করে তৈরি হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গাড়িতে বসেই লিখে ফেলেন গানটির কথা। পরে সেখানেই সুরও করেন। তার ভাষায় ‘সেদিন যেভাবে টিউন করেছিলাম ঠিক সেভাবেই গানটি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফাইনাল রেকর্ডিংয়ে আর কোনো কারেকশনের প্রয়োজন হয়নি।’

 

 

‘নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি কথা ও সুরও করেছেন ঐশী নিজেই। মিউজিক প্রোডাকশন করেছেন ‘বিট বাবা’। র‍্যাপে রয়েছেন ব্ল্যাক জ্যাং ও ঐশী। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন নাসিমুল মুরসালিন স্বাক্ষর।

গানটি প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি ক্লাবে আয়োজন করা হয় ‘মিট দ্য প্রেস’। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হামিন আহমেদ, মনিরুল আলম টিপু, এলিটা করিম, সাব্বির জামান, আয়েশা মৌসুমী, নাদিয়া ডোরা ও জুয়েল মোর্শেদসহ সংগীতাঙ্গনের আরও অনেকে।

গানটির কয়েক সেকেন্ডের প্রোমো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনাও তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে বলিউড ধাঁচের গান বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ঐশী বলেন ‘গানের কথাগুলো আঞ্চলিক টিউন হিপহপ ও পপ ঘরানার আর মিউজিকে রয়েছে অ্যাফ্রো ও নানা ধরনের ফিউশন।’

তিনি আরও বলেন ‘আমি যেহেতু নোয়াখালীর মেয়ে তাই নিজের আঞ্চলিক ভাষায় গান করা আমার জন্য বাড়তি আবেগের। সেই সঙ্গে গানটি নিজেই এক্সিকিউট করতে পারাটা ভীষণ আনন্দের। আমি সবসময় ইউনিক কিছু করার চেষ্টা করি।’

 

‎সলঙ্গায় ‘প্রত‍্যাশিত সিরাজগঞ্জ’র ঈদ উপহার বিতরণ

‎পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৪৫ টি গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ খাদ্য উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রত্যাশিত সিরাজগঞ্জ’র উদ্যোগে  রৌহাদহ নূরানী দারুল উলুম ক্বওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জে এ ঈদ উপহার ব্যাগ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি উপহার ব্যাগে রয়েছে পোলার চাল, লাচ্ছা, সেমাই, সুজি, চিনি, সয়াবিন তেল, গুড়া দুধ, বুটের ডাল, পিঁয়াজ এবং সাবান।


‎এ সময় সংগঠনটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নূর-এ-আজম সিদ্দিক এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা মো. আরিফুর রহমান,অর্থ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন,প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রানা সোহাগ, সদস্য হাফেজ ছারোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, আতিকুর রহমান সবুজ, হাফেজ আবু তালহা সহ অন্যান্য স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

 


‎ উল্লেখ্য, সংগঠনটি ২০১৮ সাল থেকে ঈদ খাদ্য উপহার বিতরণ, বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপনসহ নানা রকম সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে।

 

 

চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে বুধবার পালিত হবে ঈদুল আজহা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, পটিয়া, চন্দনাইশসহ শতাধিক গ্রামে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

 

 

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ ও বরুমচড়া এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শেষে কোরবানি করবেন তারা।

 

 

এদিকে, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রায় দুইশো বছর ধরে উপজেলায় সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা এ নিয়ম মেনে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন।

দরবার শরীফ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মূল খানকাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান।

দরবারের পূর্বসূরি মহান অলি-বুজুর্গ হজরত শাহ জাহাঙ্গীর শেখুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঙ্গীর ফখরুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঙ্গীর শমসুল আরেফীন (ক.) এবং হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফীনের (ক.) অনুসৃত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা পালন করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ ও রাউজানের বহু গ্রাম ছাড়াও বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অনুসারীরা একই দিনে ঈদ উদযাপন করবেন। এছাড়া ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল ও ভোলাতেও রয়েছে তাদের অসংখ্য মুরিদ ও অনুসারী।

 

 

 

মির্জাখীল দরবার শরীফের অন্যতম দায়িত্বশীল ব্যক্তি মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, ‘আমরা হানাফি মাযহাবের অনুসারী হিসেবে প্রায় দুই শতাধিক বছর ধরে পবিত্র হজের পরের দিনই ঈদুল আজহা পালন করে আসছি। চাঁদের অবস্থান ও হজের তথ্য নিশ্চিত হয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আরাফাতের ময়দান থেকে হজের খুতবা ও হজ পালনের দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করার পর দেশ-বিদেশে সিলসিলায়ে আলীয়া জাহাঙ্গীর ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন।’

 

 

উত্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তণ ঘটাবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু উদ্বোধনের পর এ জেলার ওপর দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২২ জেলার সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়। আর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর হয়ে ওঠে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের মিলনস্থল। ঢাকা-পাবনা, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সংযোগ স্থল হয় হাটিকুমরুল।

 

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়ক ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় বাড়তে থাকে গাড়ীর চাপ। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট-দুর্ঘটনাসহ নানা দুর্ভোগে উত্তরাঞ্চলবাসীর গলার কাঁটা হয়ে পড়ে এই মহাসড়কটি।

 

 

বিশেষ করে ঈদ এলেই হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়ক ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ফলে হাজার লাখ লাখ মানুষকে যানজট আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এ রুটেই গন্তব্যে যেতে হতো।

 

 

উত্তরাঞ্চলবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় সরকার। হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় দেশের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

 

 

৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২১ সালে অনুমোদিত হলেও জমি অধিগ্রহণ ২০২৩ সালের জুন মাসে। জমি অধিগ্রণ শেষে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরবিসি (চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন) আধুনিক ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণকাজ শুরু করে।

 

 

প্রকল্পের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্পে থাকবে আলাদা ৬টি র্যা ম্প। উত্তর-দক্ষিণমুখী ও ঢাকামুখী যানবাহন চলবে ভিন্ন ভিন্ন র্যা ম্প দিয়ে। কোন গাড়ী বিপরীতমুখী গাড়ীকে সাইড দিতে হবে না। এছাড়া নীচ দিয়ে একটি গ্রাউন্ড রোড থাকবে। যেখান দিয়ে ধীরগতির যানবাহন চলবে।

 

সাসেক-২ প্রকল্পের ওয়ার্ক প্যাকেজ-১৩ এর অধীনে আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জটি নির্মাণের পলে চারটি রুট থেকে আসা যানবাহন নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে। কোন গাড়ীকে সাইড দিতে হবে না। এছাড়াও থ্রি-হুইলার যানবাহন ও সাধারণ জনগনের নিরাপদে চলাচলের ফুটপাত ও একাধিক আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে।

 

 

প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়ায় কারণে মেয়াদ বর্ধিত করে ২০২৬ সালের আগষ্ট নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরই সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। যানজট ও দুর্ঘটনা কমে এসেছে। যমুনা সেতু পশ্চিম পার হওয়ার পর স্বাভাবিক গতি নিয়ে যাতায়াত করছে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায় হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার প্রায় ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। ৪ থেকে ৫শ শ্রমিক দিনে ও রাতে কাজ করছে। আর এই কর্মযজ্ঞ দেখে উচ্ছসিত যাত্রী, পরিবহণ শ্রমিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও।

 

 

রনি, কাদের, সুমন বাবলুসহ একাধিক বাস ও ট্রাকচালকেরা উচ্ছাস প্রকাশ করে বলছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জে এসে আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। কিন্তু সরকার ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণ করার ফলে আর আমাদের দেরি করতে হবে না। কোন গাড়ীকে সাইড দিতে হবে না, উপর দিয়ে দ্রুতগতিতে আমরা যাতায়াত করতে পারবো। এতে অনেক সময় বাঁচবে বলে তারা বলেন।

 

 

সাবেক সেনা সদস্য আফসার আলী বলেন, ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণের ফলে আমাদের এ অঞ্চলের ভাগ্যের চাকা খুলে গেছে। এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্পের প্রসার ঘটতে শুরু করেছে।

 

 

সিরাজগঞ্জ জজ আদালতের আইনজীবী এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী বলেন, ইন্টারচেইঞ্জ চলনবিলসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে বলে আশা করি। এসব অঞ্চলের কৃষিপণ্য সহজে ঢাকাসহ সারাদেশে রপ্তানি করা যাবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে।

 

 

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী একটি স্থাপনা। ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণ সম্পন্ন হলে সিরাজগঞ্জে শিল্পপার্ক ও ইকোনোমিক জোনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। চলনবিলের শস্য ও মৎস্য সারাদেশে সহজভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

 

 

হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্পের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সরফরাজ হোসেন বলেন, প্রকল্প সম্পন্ন হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ইন্টারচেঞ্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

 

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন, ইন্টারচেইঞ্জ উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তণ আনবে। ইতিমধ্যে তার সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ।

 

 

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফিরোজ আখতার বলেন, উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার যানবাহনগুলোকে হাটিকুমরুলকে ক্রস করেই যেতে হয়। এর মানে দেশের ২৫ ভাগ জেলার গাড়ী এ রুটে চলাচল করে। এছাড়াও খুলনা বিভাগের বেশ কিছু যানবাহনও এ রুটে চলাচল করে। ঈদ ছাড়াও সাধারণভাবেই এ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হতো। ঈদের সময় তো ৪/৫ ঘণ্টা করে আটকে থাকতে হতো যাত্রী সাধারণকে। ওই অবস্থা হতে উত্তোরণের জন্যই ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্প চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরেই কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে সকল জেলামুখী যানবাহনগুলো একটি অপরটির ইন্টারাপ ছাড়াই চলবে। কোন যানবাহনকে থামতে হবে না।

 

 

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা ইতিমধ্যে বগুড়া-রংপুরমুখী সাময়িকভাবে লেনটি ওপেন করে দিয়েছি। এই লেনটি দিয়েই ৬০ শতাংশ গাড়ী চলাচল করে। লেনটি খুলে দেওয়ায় এখানে আর গাড়ী আটকে থাকছে না।

 

মৌলভীবাজারে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দুই গ্রামে প্লাবন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লাউয়াছড়া খালের বাঁধ ভেঙে দুই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরের দিকে এই আকস্মিক বন্যায় উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল ও ছনগাঁও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে লাউয়াছড়া খালের বাঁধটি ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

এতে ভানুবিল ও ছনগাঁও গ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছনগাঁও-ভানুবিল সংযোগ সড়ক, যার ফলে গ্রাম দুটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানিতে অনেক বসতবাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে। পানি মাড়িয়ে গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

ভানুবিল গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন ও ছনগাঁও গ্রামের রাধা কান্ত সিংহ জানান, কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই আকস্মিক এই বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও আঙিনা প্লাবিত হয়েছে, যা তাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

 

 

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দাল হোসেন বলেন, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি বাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে এবং গ্রামের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

 

 

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা এলাকার পরিস্থিতির খবর পেয়েছি। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেটা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না।’

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেটা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না। দুর্বৃত্তায়নের একটা মহামারি ছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র হতে দেখেছি। সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। সেখানে যখন যৌথ অভিযান হয়েছে, অনেক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, দাগি আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। সেখানে পুলিশ একাডেমি, র‍্যাবের একাডেমি, ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিকল্পনা আছে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলা কারাগার হওয়ার কথা আগে থেকেই। সেই জায়গায় সন্ত্রাসীরা তাদের পুরোনো অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। তবে তারা যে উদ্ধত আচরণ করেছে, দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটা খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে কোনো সমস্যা হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে সমাধান করা হয়। দুই-একটা ঘটনা নজরে এসেছে। বিজিবির মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো দেখেছেন। কিছু জায়গায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে সমাধান হয়। তবে জাতীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

 

 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা

দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টিসহ সাত জেলায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

 

 

এদিকে আজ দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

 

এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম, উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

 

মেক্সিকোতে বেজক্যাম্প গড়বে ইরান

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইরানের বেজক্যাম্প হিসেবে নিজেদের দেশ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে মেক্সিকো।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন টুর্নামেন্ট চলাকালে পুরো ইরানি দলকে দেশে অবস্থানের অনুমতি দিতে আগ্রহ দেখায়নি।

 

 

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফা সরাসরি মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাম বলেন, ইরান দলকে মেক্সিকোতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই।

এরই মধ্যে ইরানের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, দলের পূর্বনির্ধারিত বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানায় নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানি ফুটবলাররা বিশেষ ফ্লাইটে সরাসরি মেক্সিকোতে পৌঁছাবেন এবং সেখান থেকে ম্যাচ খেলার জন্য যাতায়াত করবেন।

 

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের আহ্বান হজের খুতবায়

‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফার ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের মূল খুতবা প্রদান করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে খুতবা পাঠ শুরু করেন মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি।

 

 

মক্কার মসজিদে নামিরা থেকে প্রদত্ত এই খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

 

 

খুতবায় হজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য তুলে ধরে শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান বলেন, হজ হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি এবং সহযোগিতার এক অনন্য প্রতিফলন। মুসলিম উম্মাহকে কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা, ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য প্রদর্শনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জনসমুদ্রের উদ্দেশে ইমাম বলেন, হে মানুষ, আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই বান্দা পরকালে মুক্তি লাভ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, পরকালের শ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি হলো একত্ববাদ (তৌহিদ) এবং শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। সেই সঙ্গে তিনি হাজিদের সততা বজায় রাখা এবং মিথ্যাচার ও গিবত থেকে দূরে থাকার নসিহত করেন।

এ সময় মুসলিম উম্মাহর সার্বিক অবস্থার উন্নতি এবং হাজিদের ইবাদত কবুল করার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শেখ হুদাইফি দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ, হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিন এবং তাদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরার তৌফিক দান করুন।’

খুতবা সমাপ্ত হওয়ার পর হাজিরা মসজিদে নামিরায় একত্রে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এরপর হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তারা মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

 

 

উল্লেখ্য, মসজিদে নামিরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

 

ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর ১২টার পর থেকে যানজট বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা পর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

 

 

 

উত্তরবঙ্গগামী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে যান চলাচল বারবার থেমে থাকতে হচ্ছে ৩০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত।

চালক ও যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। ধীরগতি ও যানজটে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক।

তিনি জানান, মহাসড়কে যাতে কোনো যানজটের সৃষ্টি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানিয়েছেন, যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ জেলায় র‌্যাবের কড়া নিরাপত্তা

ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং পশুর হাটে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৮ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে র‌্যাব-৮। হাটগুলোতে ওয়াচ টাওয়ার, পেট্রোল এবং টহলসহ বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে তারা।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বরিশাল নগরীর দপদপিয়া এলাকায় কীর্তনখোলা সেতুর ঢালে অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল র‌্যাব-৮ অধিনায়ক লে. কর্নেল জোবায়ের এসব কথা জানান।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল জানান, তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, মাদারীপুরসহ আটটি জেলার কোরবানীর পশুর হাটে চাঁদাবাজি ও ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে কন্ট্রোলরুম এবং ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে হাট এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। জাল টাকা প্রতিরোধে কন্ট্রোল রুমে শনাক্তকরণের জন্য অত্যাধুনিক মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরিশালসহ আট জেলার ঈদগাহে গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ পর্যাপ্ত টহল দলের মাধ্যমে ঈদ জামায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোট ২০ টহল টিম কাজ করছে তাদের।

এছাড়াও বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, শপিং মল এবং শহরের আবাসিক এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি এবং নদীতে বোট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জোবায়ের ছাড়াও কোম্পানি কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। পরে শহরের বিভিন্ন পশুর হাট এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর-০৩/২৫ মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে ) রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে শাহজামাল (৪৫) নামে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মনোহরপুর গ্রামের লালচান আকন্দের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা নিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

সারাবাংলা কুষ্টিয়া ব্যুরো অফিসের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক সারাবাংলা ও সারাবাংলা ডট নেট-এর কুষ্টিয়া ব্যুরো অফিসের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এসব ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

 

এসময় কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সারাবাংলার কুষ্টিয়া ব্যুরো প্রধান অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু বলেন, সারাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কুষ্টিয়ার গর্ব মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। তারই সুযোগ্য সন্তান আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সারাবাংলার প্রকাশক ও সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক সাহেবের দিকনির্দেশনায় সারাবাংলা আজ দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।

 

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মুজিবুল শেখ বলেন, সারাবাংলার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম সমাজের অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

 

সারাবাংলার পাঠক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ আল হাফিজ বলেন, সারাবাংলা কুষ্টিয়া ব্যুরো অফিসের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সমাজের সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

 

ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

হিলিতে মাদকসহ গ্রেফতার ২

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশ পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও নিষিদ্ধ ট্যাফেনটাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজই যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৫ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানার ওসির নির্দেশনায় পুলিশের পৃথক দুটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
​পৃথক অভিযানে গ্রেফতারকৃতকরা হলেন, মোঃ আরমান আলী (২৬) উপজেলার বলরামপুর এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে বলরামপুর গ্রামের মোঃ আমিরুল ইসলামএর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরেক আসামি, মোঃ আসাদুজ্জামান বুদা (৪৯) উপজেলার দেবখন্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮ পিস মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ট্যাফেনটাডলসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে দেবখন্ডা গ্রামের মৃত কোবাদ হোসেন ও শেফালী বেওয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধেও একই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত রাখতে পুলিশের এই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠে যেসব প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে খেলা

২০২৬ বিশ্বকাপে এই প্রথম ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে চর্চায় ‘ট্রাইওন্ডা’। এটি বিশ্বকাপের জন্য অ্যাডিডাসের তৈরি অফিসিয়াল বল।

 

 

তিন আয়োজক দেশকে সম্মান জানিয়ে তৈরি এই বলে রয়েছে ডিপ-সিম প্রযুক্তি ও ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর। ভিএআর সিদ্ধান্তকে নির্ভুল করতে বলের স্থিতিশীলতা বাড়াবে।

 

 

এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং-নীল, লাল এবং সবুজ। এই বলে উন্নত ট্র্যাকিং ডিভাইস হিসাবেও কাজ করবে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলের ভেতরের প্রযুক্তিতে। এতে একটি অত্যাধুনিক মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বল কখন, কোথায়, কী গতিতে যাচ্ছে বা কোন খেলোয়াড় সেটিকে স্পর্শ করছে, সব তথ্যই সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে।

সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। আগেও ফুটবলে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, তবে এবার তাকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এমনভাবে সেন্সরটি বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, গতি বা বাউন্সে কোনও পরিবর্তন না আসে।

 

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পাওয়ার সিস্টেম। বলের ভেতরের সেন্সর চালু রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে এটিকে চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ হলে তা থাকবে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত।

 

 

গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে কোনো অনিয়ম নেই: দাবি সেতুমন্ত্রীর

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে না গণপরিবহনগুলো এবং মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রীর তুলনায় পরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া অনেক যাত্রীর চলন্ত গাড়িতে ওঠার প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের হ্যাবিট আছে যে তারা চলন্ত পথে গাড়িতে উঠতে চায়। কোনো যাত্রী সচেতন হয়ে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু হাটে পশু ও মানুষের চাপ বেশি হওয়ায় সড়ক পর্যন্ত হাট ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পশু বিক্রি ও ঈদযাত্রা, এই দুটোই নিরাপদ করতে হবে। দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’ একইসঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু যাত্রী জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবছেন না। তবে যে কোনো বারের চেয়ে স্বস্তিতে ও নির্দিষ্ট ভাড়ায় মানুষ বাড়ি যাচ্ছে।

আরাফার ময়দানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী যোহর ও আসর

হজের খুতবা শেষে আরাফার ময়দানে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেছেন হাজিরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ টাইম বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ নামাজ পড়েন তারা। এর আগে এদিন ৩ টা ২০ মিনিটের দিকে হজের খুতবা শুরু হয়।

 

 

আরাফা ময়দানের নামিরাহ মসজিদ থেকে খুতবা পাঠ করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। চলতি বছরও বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হলো।

 

 

এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে ছিলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা করেছেন।

আরবি বর্ষপঞ্জি অনুসারে সৌদিতে আজ ৯ জিলহজ। এটি পবিত্র ‘আরাফা দিবস’ হিসেবেও পরিচিত। ঐতিহাসিক এই ময়দানে দিনব্যাপী ইবাদত বন্দেগি আর দোয়া মোনাজাতে মশগুল হাজিরা। এদিন সকাল থেকে তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান্নি মাতা লাকা ওয়াল্মুল্ক্, লা শারিকা লাকা’।

সাদা দুই টুকরা কাপড়ে শরীর ঢেকে হজযাত্রীরা মঙ্গলবার মিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের পর থেকেই পবিত্র আরাফার ময়দানের উদ্দেশে রওনা করেন। এই ময়দানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে মুসলিমরা সমবেত হন এই পবিত্র প্রান্তরে।

আজ সৌদির স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর হাজিরা পরবর্তী গন্তব্য মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বুধবার (স্থানীয় তারিখ ১০ জিলহজ) পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন

দরিদ্রদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চালের একটি অংশ প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে তা বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৫ শত ৮০ জন দরিদ্র মানুষের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৫ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে ৮৭৮ জনের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন চাল। এসব চাল বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা ৮৭৮টি কার্ডের মধ্যে ৭৬৩ টি কার্ড ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। অপরদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান নিজের জন্য ১১৫ টি কার্ড রেখে দেন।

গত শনিবার (২৩ মে) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশনায় তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় আব্দুস শহিদ খান তার অংশের ১১৫ টি কার্ডের মধ্যে ৬৪ টি কার্ডের চাল বিতরণ করলেও বাকি ৫১ টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার চাপের মুখে চেয়ারম্যান দাবি করেন, বাকি কার্ডধারীরা ওইদিন উপস্থিত হতে পারেননি এবং তারা পরদিন এসে চাল গ্রহণ করবেন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে অবশিষ্ট চাল ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রাখা হয়। একইসঙ্গে পরদিন রবিবার পিআইও অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরদিন রবিবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যসহকারী সোহেল রানার উপস্থিতিতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৭ জন ব্যক্তি এসে চাল গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল গ্রহণকারী ওই ১৭ জন প্রকৃত কার্ডধারী ছিলেন না। তালিকাভুক্ত নামের সঙ্গে তাদের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যান নিজেই লোক এনে চাল উত্তোলন করান বলে অভিযোগ ওঠে।

 

 

 

দুপুর ১টার পর আর কোনো কার্ডধারী উপস্থিত না হওয়ায় অবশিষ্ট ৩৬টি কার্ডের চাল স্থানীয় একটি এতিমখানা মাদ্রাসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কার্যসহকারী সোহেল রানা চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুলকে ডেকে তিন বস্তা চাল বিক্রি করে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদ খানের ভাগ ছিলো ৪৫ টা, এরপরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে আরও ৭০ টা। বাকিগুলো তিনি কৌশলে বিক্রির পরিকল্পনা করেন। পরে সে অনুযায়ি স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুলের কাছে বিক্রিও করেন।

 

 

 

এবিষয়ে চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুল বলেন, আমার গরুকে খাওয়ানোর জন্য কয়েকজন মেম্বারের কাছ থেকে কার্ড কিনেছিলাম। সেসব চাল নিতে গেছিলাম।

অভিযুক্ত তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান বলেন, সেদিন সব লোকজন শনিবারে আসতে পারেনি পরে রবিবার তাদের দেওয়া হয়েছে। এখনও ১৭ টার মত আছেই। চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুলের কাছে চাল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারও কাছে চাল বিক্রি করিনি। উনার কিছু কার্ড কিনা ছিলো সে কার্ডের চাল দিয়েছি।

 

 

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানা বলেন, আমি সকালে পরিষদে গেলে মাত্র ১৭ জন চাল নিয়ে যান। পরে ১ টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থাকলেও আর কেউ না আসায় আমি পিআইও স্যারকে বিষয়টি জানালে তিনি সেসব এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে আমি বাকি চাল চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখে চলে আসি। চলে আসার পরে কি হয়েছে তা বলতে পারবো না।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, ৫১ জন কার্ডধারীরা ওইদিন উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য ৫১ জনের অবশিষ্ট চাল তা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রাখা হয়। পরদিন ১৭ জনের চাল দেওয়া হয় এবং বাকি চাল এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরীকে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঈদের দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস যা বলছে

ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে দেশের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঈদুল আজহার দিন দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সেসঙ্গে কয়েকটি বিভাগে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

 

সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

একইসঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

এদিকে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

 

 

সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

 

ভক্তদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন রামচন্দ্রপুর দরবার শরীফের পীর শাহ্ সুফি মো. রবিন হাসান মোস্তাক।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের দরবার শরীফ মসজিদে এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

জামাতে দরবার শরীফের ভক্ত ও আশপাশের ৩০টি পরিবারের মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই দরবার এলাকায় ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রামচন্দ্রপুর দরবার শরীফে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়ে থাকে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

দরবারের পীর শাহ্ সুফি মো. রবিন হাসান মোস্তাক কালবেলাকে জানান, আমরা প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকি। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসরণ করেই আমাদের এ আয়োজন করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বাংলাদেশ ব্যতীত ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য ফ্রি ভিসা দেবে শ্রীলঙ্কা

পর্যটন খাতকে আরও চাঙা করতে ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সোমবার (২৫ মে) থেকে নতুন এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

 

 

 

শ্রীলঙ্কার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থার আওতায় পর্যটকরা অন-অ্যারাইভাল ফ্রি ভিসা পাবেন। তবে দেশটিতে ভ্রমণের আগে অনলাইনে ইটিএ অনুমোদন নিতে হবে।

 

 

 

নতুন এই সুবিধার আওতায় ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ ৪০ দেশের নাগরিকরা ৩০ দিনের ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। এই ভিসায় ৩০ দিনের মধ্যে দুইবার শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করা যাবে।

শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, কেউ যদি ৩০ দিনের বেশি থাকতে চান, তাহলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে মালদ্বীপের নাগরিকরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ৯০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা সুবিধা পাবেন।

 

 

পর্যটক বাড়ানো ও দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

 

 

 

এই ৪০ দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন

অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাহরাইন, বেলারুশ, বেলজিয়াম, কানাডা, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

সেবার অঙ্গীকারে ভদ্রঘাট ইউনিয়নে আলোচনায় রুহুল আমিন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ১ নং ভদ্রঘাট ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী আমেজ। পরিবর্তন, উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশায় স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়াবিদ মোঃ রুহুল আমিন। ক্ষমতার প্রতিযোগিতার চেয়ে মানুষের সেবাকেই তিনি নিজের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন।
ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে এলাকায় তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে ইতোমধ্যেই তিনি ইউনিয়নজুড়ে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে তিনি এর আগে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতির কারণে রুহুল আমিন এখন ইউনিয়নের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ বিষয়ে মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “আমি কোনো ক্ষমতার জন্য নির্বাচন করতে চাই না। আমি চাই ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে তাদের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ সুযোগ দিলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তুলবো।”

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

 

 

 

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) এরই মধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬।

 

 

 

বাংলাদেশ ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পেশাগত সহকারী নিজাম উদ্দীন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়মনসিংহের ভালুকার আমতলীতে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন হয়েছে। ঢাকা থেকে স্থানটি ৬১ কিমি উত্তরে অবস্থিত।

2 thoughts on “যমুনা সেতুতে ৬ দিনে ২০ কোটি টাকা টোল আদায়

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

যমুনা সেতুতে ৬ দিনে ২০ কোটি টাকা টোল আদায়

আপডেট টাইম : ১২:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে গত ছয় দিনে যমুনা সেতুতে ২ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। এই ছয়দিনে টোল আদায় হয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশি।

 

 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ২২ মে থেকে ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত যমুনা সেতুতে যানবাহন চলাচল করেছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০৮টি। এর মধ্যে পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী) ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৩টি ও পশ্চিম টোলপ্লাজায় (ঢাকামুখী লেন) ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৫টি যানবাহন চলাচল করেছে।

 

মোট টোল আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা। পূর্ব টোলপ্লাজায় ১১ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৯০০ ও পশ্চিম টোলপ্লাজা আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

 

 

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গত ২২ মে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন চলাচল করেছে বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। ২৩ মে ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা, ২৪ মে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা, ২৫ মে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন চলেছে বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা, ২৬ মে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২৭ মে ৪৫ হাজার ৮৮৯ টি যানবাহন চলাচলের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোাটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা।

 

 

যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষন ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে সেতুর ওপর দিয়ে স্বাভাবিকের তুলণায় দুই থেকে চার গুণ যানবাহন চলাচল করেছে। ৬দিন ধরেই মহাসড়কে গাড়ীর চাপ ছিল। বুধবার বিকেল থেকেই মহাসড়ক ফাঁকা হতে থাকে।

 

তিনি বলেন অতিরিক্ত গাড়ীর চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিয়মিত ১৪টি বুথের সঙ্গে অতিরিক্ত চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগ: ঈদের দিন হলের শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ঈদের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ ওসমান হাদী হল’-এ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে এই প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

 

​সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দূরত্বের কারণে যেসব শিক্ষার্থী ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি, কিংবা আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে হলে রয়ে গেছেন, মূলত তাদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলটিতে অবস্থানরত ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের কথাও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে এই আয়োজনে।

 

​এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন: ​”ঈদ আমাদের মাঝে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে গেলেও অনেকেই নানা সীমাবদ্ধতা বা দূরত্বের কারণে হলে থেকে যান। উৎসবের এই দিনে তারা যেন নিজেদের একা বা পরিবারহীন মনে না করেন, সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মুখে ঈদের দিন অন্তত কিছুটা হলেও আনন্দের হাসি ফুটুক।”

 

​উল্লেখ্য, ঈদের দিন দুপুরে শহীদ ওসমান হাদী হলের ডাইনিং/নির্ধারিত স্থানে এই প্রীতিভোজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

নারী-শিশু নির্যাতনকারীরা সমাজের শত্রু: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দিনাজপুরের হাকিমপুরে (হিলি) দুস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এম,পি (দিনাজপুর-৬)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে স্পষ্ট শর্ত হচ্ছে মাদক কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ বা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। মাদক, শিশু ও নারী নির্যাতনকারী এবং মেয়েদের উত্যক্তকারীরা সমাজের শত্রু। তাদের ব্যাপারে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এই ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঈদের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক, নারী-শিশু নির্যাতনকারী ও ইভটিজারদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপকভাবে মাঠে নামবে। এদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আপনারা সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করুন, প্রশাসন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালালে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার পক্ষে কোনো এমপি বা মন্ত্রীও সুপারিশ করবেন না।
এ সময় সমাজ গঠনে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের ভুলত্রুটি ও দোষ একশো বার তুলে ধরুন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সমালোচনার পাশাপাশি সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকাও রাখতে হবে। অতীতের ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না হয় এবং সমাজ যাতে সঠিক পথে পরিচালিত হতে উৎসাহিত হয়, মিডিয়ার মাধ্যমে সেই সচেতনতা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, গৃহহীন ব্যক্তি ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জিআর চাল তুলে দেন প্রধান অতিথি।
উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হিলির স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

যুদ্ধ পরিস্থিতির আড়ালে ঘনীভূত হচ্ছে আহমাদিনেজাদ রহস্য

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিবেচনা করেছিল।

 

 

‘আপনাদের জানা উচিত যে এই ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) পতনের পথে এবং আল্লাহর কৃপায় এটি ভেঙে পড়বে, আর কোনো কিছুই একে রক্ষা করতে পারবে না। এই শাসনব্যবস্থা তার পথচলার শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।’

 

 

এ ধরনের বক্তব্য বহু বছর ধরে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে বিশ্বে অন্যতম পরিচিত ইসরায়েলবিরোধী মুখে পরিণত করেছিল।

তিনি হলোকাস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরায়েলকে ‘মনগড়া শাসনব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যে কারণে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়ই তাকে উদ্ধৃত করতেন যে কেন তারা মনে করেন ইরান একটি বাস্তব হুমকি, তা ব্যাখ্যা করতে।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস এখন জানিয়েছে, ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনায়’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন একটি পরিস্থিতি বিবেচনা করেছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদ ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে সরে গিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে উঠে আসতে পারেন।

 

 

কিন্তু টাইমসের মতে, পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়, কারণ যুদ্ধের শুরুতে গৃহবন্দিত্ব থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় তিনি আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

এই দাবির বিষয়ে আহমাদিনেজাদ বা তার সহযোগীরা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বর্তমানে তার অবস্থান অজানা।

 

 

এই সংবাদটি অনেক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশ্লেষকের সংশয় সৃষ্টি করেছে, যারা প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চরম ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির সঙ্গে কেন কোনো দেশ কাজ করার কথা ভাববে।

 

 

এই আপাত বৈপরীত্য কিছু মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, আহমাদিনেজাদের ভাবমূর্তিটি আসলে সবসময়ই কি এতটা সরল ছিল, নাকি তা আরও জটিল?

 

 

ইসরায়েলের জন্য এক ‘উপকারী প্রতিপক্ষ’?

 

 

এই বিষয়টির সংবেদনশীলতা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই সময়গুলোতে, যখন ইরানের রাজনীতিতে আহমাদিনেজাদ প্রথম প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

 

 

২০০৩ সালে তিনি তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হন, যদিও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তখন তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ছিলেন।

 

 

২০০৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সমর্থন ছিল বলে মনে করা হয়।

 

 

নির্বাচনের সময় তিনি ন্যায়বিচার, সরলতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগান ব্যবহার করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন মূলত অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে নয়, বরং ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং হলোকাস্ট নিয়ে তার বক্তব্যের কারণে।

 

 

২০০৫ সালের অক্টোবরে তেহরানে ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট জায়নিজম’ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ বলেছিলেন, ‘আমেরিকা ও জায়নিজমবিহীন একটি বিশ্ব সম্ভব।’

 

 

প্রায় এক বছর পর তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্কিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স টু রিভিউ দ্য গ্লোবাল ভিশন অব দ্য হলোকাস্ট’; যেখানে সুপরিচিত হলোকাস্ট অস্বীকারকারীরা অংশ নেন, যা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

 

 

এর বহু বছর পর কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক প্রকাশ্যে বলেন, কঠোর বক্তব্য ও হলোকাস্ট অস্বীকারের মাধ্যমে আহমাদিনেজাদ কার্যত ইসরায়েলের পক্ষেই কাজ করেছেন।

 

 

২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাকে ‘ইসরায়েলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তার বক্তব্য বিশ্বকে ইরানের হুমকিকে আরও গুরুত্ব সহকারে নিতে সহায়তা করেছে।

 

 

আহমাদিনেজাদের সমর্থকেরা এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কেবল একটি আক্রমণাত্মক ও আদর্শিক নীতি অনুসরণ করেছেন, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

 

 

২০১৩ সালে পদ ছাড়ার পর তিনি ক্রমশই সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অংশ, যেমন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান।

 

 

পরে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে।

 

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সম্পর্কে এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান ও শিয়া অ্যাক্সিস প্রোগ্রামের প্রধান রাজ জিম্মিত বলেন, আহমাদিনেজাদ প্রায়ই পরস্পরবিরোধী ও অপ্রত্যাশিত অবস্থান গ্রহণ করতেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আহমাদিনেজাদ ছিলেন জনতাবাদ ও সুযোগ সন্ধানী এক মিশ্রণ।

 

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে আহমাদিনেজাদ তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও পুনর্গঠন করেছেন। তিনি ইংরেজিতে টুইট করেছেন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং মার্কিন র‌্যাপ শিল্পী টুপাক শাকুরের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন।

 

 

এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমেরিকায় রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রশংসাও করেছেন।

 

 

তবে জিম্মিত স্বীকার করেন, পশ্চিমা শ্রোতা ও ইরানের অভ্যন্তরে একটি তুলনামূলক সংযত ভাবমূর্তি তৈরির এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আহমাদিনেজাদের এমন সমর্থন কখনোই ছিল না, যা তাকে ৯ কোটির বেশি জনগণের দেশে ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিতে পারে।

 

 

মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সংশয়

 

 

বিবিসি পার্সিয়ানের সাথে কথা বলা তিন মার্কিন বিশেষজ্ঞও আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

 

 

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স আব্রাহমস বলেন, এই বিবরণকে অত্যন্ত সন্দেহের সঙ্গে দেখা উচিত, কারণ যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ভুল তথ্যের মাত্রা খুব বেশি।

 

 

তিনি মনে করেন, হলোকাস্ট অস্বীকার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ভূমিকার কারণে ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাবে, এটার সম্ভাবনা কম। একইভাবে ট্রাম্পের জন্যও আহমাদিনেজাদ সফল শাসন পরিবর্তনের বর্ণনার সঙ্গে খাপ খায় না।

 

 

আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ইলান বারম্যানও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার ধারণাকে অসম্ভব মনে করেন। তাঁর মতে, নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এলেও আহমাদিনেজাদ প্রথম পছন্দ হতেন না।

 

 

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মাইকেল রুবিন এই বিবরণকে কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস অতিরিক্তভাবে অজ্ঞাত সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে।

 

 

তবে তার মতে, পশ্চিমে অনেকে এখনো পুরোপুরি বোঝেন না কেন আহমাদিনেজাদ ইরানের সমাজের কিছু অংশে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

 

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক্স-এ জানিয়েছে, তারা তাদের প্রতিবেদনের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। সেই সাথে তারা আরো বলেছে যে, এটি মার্কিন, ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাসহ অবহিত সূত্রের সঙ্গে কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে করা।

 

 

ইসরায়েলের ভেতরের প্রতিক্রিয়া

 

 

কিছু ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এই ধরনের একটি সম্ভাবনা ইরান সম্পর্কে ইসরায়েলের ধারণা নিয়ে কী বোঝায়, সে দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

 

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড্যানি সিট্রিনোভিজ এক্স-এ লিখেছেন, আহমাদিনেজাদকে মুকুট পরানোর চেষ্টা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর ভুল বোঝাবুঝির পরিচায়ক হবে।

 

 

তিনি বলেন, আহমাদিনেজাদের কোনো বাস্তব ক্ষমতার ভিত্তি নেই এবং ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি কখনোই তাকে সমর্থন করবে না। ফলে তিনি কেবল তখনই ক্ষমতা নিতে পারতেন, যদি ইরানের বিদ্যমান পুরো ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়ত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ঘটেনি।

 

 

অভিজ্ঞ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানও এক্স-এ লিখেছেন, এই গল্পটি বহু দিক থেকে উন্মাদনাপূর্ণ।

 

 

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বিদ্রোহ ও বিমান হামলার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব, এমন ধারণা দেখায় যে পরিকল্পনাকারীরা একটি কল্পনার জগতে বাস করছিলেন।

 

 

কেন আদৌ আহমাদিনেজাদের নাম উঠে এলো?

 

 

অনেক সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নটি থেকেই যায়; কেন আহমাদিনেজাদ?

 

 

এর উত্তর হয়তো তার তিনটি বৈশিষ্ট্যের অস্বাভাবিক সমন্বয়ে নিহিত; পরিচিতি, ভেতরের অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ নেতার থেকে দূরত্ব।

 

 

আহমাদিনেজাদ ইরানে পরিচিত, সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, সমাজের নিম্নবর্গের একটি অংশের ভাষা বোঝেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত।

 

 

একই সময়ে খামেনেয়ির সঙ্গে তার বিরোধের কারণে তাঁকে কেবল শাসনব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় না।

 

 

কিছু পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে অস্থিরতার সময়ে ব্যবহারযোগ্য একটি ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, মিত্র হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একটি অস্থায়ী চরিত্র হিসেবে।

 

 

আহমাদিনেজাদ আসলে কে?

 

 

কিছু ইরানি সমালোচক ও বিশ্লেষকের মতে, তার প্রেসিডেন্সি, বিতর্কিত বিদেশ সফর এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে নীরবতা-সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

তাদের মতে, তার নীতিমালা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে, পারমাণবিক সংকটকে তীব্র করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক বার্তাগুলোর কিছু তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

 

 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সেই বিতর্কগুলো আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

তবে এটি প্রথমবার নয়। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি বিতর্কিত ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর হওয়া গণবিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ তুলে সংস্কারপন্থী নেতা ও সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

 

কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার পর ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি একই ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন, এমনকি তার পূর্বসূরিদের একজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগও নিয়েছিলেন, যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

 

 

এই অবস্থান পরিবর্তন ও নতুন করে জোট নির্ধারণের প্রবণতা সম্ভবত অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কৌশলগতভাবে চলার ইঙ্গিত দেয়, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কোনো গোপন সম্পর্কের নয়।

 

 

বাস্তবিকপক্ষে আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ নেই।

 

 

তবে মূল বৈপরীত্যটি থেকেই যায়। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত একজন রাজনীতিক এখন কিছু প্রতিবেদনে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে আসছেন, যা ইরানের রাজনীতিতে আহমাদিনেজাদকে কীভাবে বোঝা উচিত, সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

 

বিশ্বকাপ সামনে রেখে মেসির ৭০ ফুট ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় স্থাপিত আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু একটি ভাস্কর্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

 

বুধবার (২৭ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাতাসে ভাস্কর্যটি দুলতে দেখা যাওয়ায় এলাকাবাসীর অভিযোগের পর পশ্চিমবঙ্গের জনপথ বিভাগ (পিডব্লিউডি) এটি পরিদর্শন করে। পরে প্রকৌশলীরা ভাস্কর্যটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক শরদ্বত মুখার্জি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির এই ভাস্কর্যটি নিরাপদ নয় বলে মনে হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, এটি বাতাসে দুলছে’।

তিনি আরও জানান, ব্যস্ত সড়ক ও একটি সাবওয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভাস্কর্যটি অপসারণ সহজ নয়। তবে যত দ্রুত সম্ভব এটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাইবারগ্লাস ও লোহার তৈরি এই বিশাল ভাস্কর্যটি আপাতত ভারী নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে আশপাশে ব্যারিকেডও স্থাপন করা হয়েছে।

 

২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির সম্মানে গত ডিসেম্বরে কলকাতায় এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। মেসির ‘গোট’ (গ্রেটেস্ট অব অল টাইম) সফর উপলক্ষে এটি নির্মাণে ৪৫ সদস্যের একটি দল টানা ২৭ দিন কাজ করে।

 

 

ভার্চুয়ালি রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন মেসি। তবে সে সময় কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কোরবানি স্থগিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে আবারও ফেরত যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের খামারে।

 

 

বুধবার (২৭ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

 

 

তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটি খামারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই মহিষটি লালন-পালন করা হবে।

এর আগে, অ্যালবিনো জাতের এ মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প।

অদ্ভুত নামের জন্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এই বিরল অ্যালবিনো জাতের মহিষটি। তবে, ভাইরাল হওয়ার আগেই ৭০০ কেজি ওজনের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ক্রেতা সামির।

 

এরপর মহিষটিকে দেখতে শিশু-কিশোরর যুবকরাই নন, অনেক নারীরাও এসেছিলেন। বরিশাল, কুমিল্লাসহ দূরবর্তী জেলা থেকেও এসেছিল। অনেকে কিনতে না পেরে হতাশাও ব্যক্ত করেন সেসময়।

 

 

এমনকি, আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এএফপি থেকে রয়টার্স প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই জায়গা পেয়েছে এই ভাইরাল মহিষটি।

 

 

এদিকে মহিষের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, এটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখেই তার ভাই এর নাম রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে। জিয়া উদ্দিন জানান, মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছে দেখতে মানুষ দলে দলে ছুটে এসেছেন।

 

যুদ্ধের ছায়ায় গাজার ঈদ উদযাপন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে গভীর হতাশা আর অনিশ্চয়তার আবহ নিয়ে। নতুন পোশাক, কোরবানির পশু কিংবা ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার সবকিছুই যেন নাগালের বাইরে গাজাবাসীর।

 

 

গাজার বাসিন্দা নাদিয়া আবু শামালা বলেন, ‘আমি শুধু বাজারে ঘুরে দেখতে যাই, কারণ কিছু কেনার সামর্থ্য নেই। জিনিসপত্রের দাম শুনলেই মন ভেঙে যায়।’

 

 

৪০ বছর বয়সী এই নারী উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ শহরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্তানদের ন্যূনতম প্রয়োজনও পূরণ করতে না পারার কারণে এবার গাজায় ঈদের কোনো আনন্দ নেই।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় এখনো প্রায়ই ইসরায়েলি বিমান হামলা হচ্ছে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, গাজায় প্রবেশের সব সীমান্তপথ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম পরিমাণ ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় দ্রব্যমূল্য কমছে না এবং পণ্যের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

গাজার আরেক বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী আবু আবদুল্লাহ আল-মোসাদার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি আসলে বড় এক প্রতারণা। তারপরও আমরা শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।’

 

 

 

তিনি জানান, কোরবানির জন্য একটি ভেড়া কিনতে তিনি ও তার ভাই মিলে প্রায় ১৩ হাজার শেকেল ব্যয় করেছেন।

 

ধর্ষণ অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যুবদল নেতা ও তার ছোট ভাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা পুলিশ ওই যুবদল নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে।

 

 

গ্রেপ্তার মান্না সিকদার চৌহালী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদারের ছেলে। ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তার ছোট ভাই শান্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণ করেন যুবদল নেতা মান্না সিকদার। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই শান্ত ও প্রতিবেশী মোছা. বুড়ি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে মান্না তাকে চেনেন না এবং বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি পরিবারের সবাই জেনে গেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খালাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

 

বিদ্যুৎখাতে বড় স্বপ্ন—২০৫০ সালে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন সেবা

বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব বলে জানিয়েছে নতুন এক গবেষণা। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিশাল পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যার মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্যই প্রয়োজন হতে পারে ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি।

 

 

টেক এক্সপ্লোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একটি বিস্তারিত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা মডেল তৈরি করে পরীক্ষা করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না।

 

 

নেচার এনার্জি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় পুরো বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা এক বছরের প্রতিটি ঘণ্টা ধরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় সৌর ও বায়ুশক্তির প্রাপ্যতা, সম্ভাব্য ভূমি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ভোক্তা এলাকার দূরত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, যদি বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ২০ টেরাওয়াট পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি (ভ্যারিয়েবল রিনিউএবল এনার্জি বা ভিআরই) স্থাপন করা যায়, তাহলে নিট-শূন্য কার্বন নির্গমনভিত্তিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তারা আরও জানান, অধিকাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কেন্দ্রগুলোর প্রায় ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত, যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে সহজ করতে পারে।

 

 

তবে গবেষণায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিকে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

 

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু সৌর প্যানেল প্রযুক্তির জন্যই ৯০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

গবেষণায় বলা হয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাচুর্যের কারণে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুতের সুবিধা পেতে পারে।

 

 

পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারও বাড়াতে পারে।

 

 

একই সঙ্গে গ্যাস, তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের খরচ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

 

 

এছাড়া বায়ুদূষণ কমে জনস্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

 

 

গবেষণায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকা সময়ে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং স্মার্ট এনার্জি ব্যবস্থার প্রয়োগ।

 

 

গবেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিদ্যুৎব্যবস্থার মোট ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বছরে প্রায় ১৮২ বিলিয়ন ডলার কমানো সম্ভব।

 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য জীবনমান নিশ্চিত করে এমন নিট-শূন্য বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব।

 

 

তারা আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্বনমুক্ত বৈশ্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

 

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর তিন গ্রামে ঈদ উদযাপন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার তিন গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করেছেন। বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথক তিনটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা এলাকাগুলো হলো— বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বসন্তবাগ মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদ, জিরতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফাজিলপুর দায়রা বাড়ী জামে মসজিদ এবং নোয়াখালী পৌরসভার পশ্চিম সাহাপুর রশিদিয়া রহমানিয়া আল কাদেরী দায়রা খানকা শরীফ জামে মসজিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় পীর হযরত আবু মুহাম্মদ মহিউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণকারী কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন। এ ধারাবাহিকতায় বসন্তবাগ, ফাজিলপুর ও পশ্চিম সাহাপুর গ্রামের অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
উত্তর বসন্তবাগ মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা বদরুল ইসলাম। এতে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মুসল্লি অংশ নেন। অপরদিকে, ফাজিলপুর দায়রা বাড়ী জামে মসজিদে মাওলানা সাইফুর রহমানের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত জামাতে অংশ নেন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মুসল্লি।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, পূর্বপুরুষদের সময় থেকে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তিনি বলেন, “এই প্রথার ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো।” ঈদের নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্রাচার্য বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ছোট পরিসরের আয়োজনের বিষয়ে অনেক সময় স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন না। তবে বড় ধরনের জামাত হলে সাধারণত প্রশাসনকে জানানো হয়।

 

যুদ্ধের ছাপ নিয়েই ইরানে কোরবানির ঈদ

যুদ্ধের ক্ষত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বুধবার (২৭ মে) দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন লাখো ইরানি মুসল্লি।

 

 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ জামাতের আয়োজন করা হয়।

 

 

ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার সকালেই ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন।

ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র উৎসবগুলোর একটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতো ইরানেও দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়।

রাজধানীর তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি।

 

 

ঈদের জামাতে রাজনৈতিক, সামরিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

 

 

এসময় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শান্তি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় ইরানের বিভিন্ন মসজিদে।

 

 

এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদযাপন করলো ইরান, যখন দেশটি সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিঘাত থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

 

 

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একের পর এক হামলায় ইরানের জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও চাপ তৈরি হয়েছে।

 

 

তবুও সব অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েই ধর্মীয় উৎসবের চেতনায় ঐক্য এবং ধৈর্যের বার্তা নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে ইরানের জনগণ।

ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে গোস্ত কাটার ‘খাইট্টা’ বিক্রির ধুম

ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা জুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পশুর হাটে যেমন বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়, তেমনি কামারপাড়াগুলোতে দা-ছুরি ধার দেওয়ার টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। আর এই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরবানির মাংস কাটার অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ কাঠের তৈরি ‘খাইট্টা’ বিক্রিতে দেখা দিয়েছে মৌসুমি ধুম।
উপজেলার চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা ,ঘুড়কা ও নিমগাছী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ধারে ও বিভিন্ন স’মিলের সামনে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের খাইট্টা। কোথাও ছোট, কোথাও মাঝারি—আবার কিছু জায়গায় বিশেষভাবে কসাইদের জন্য বড় আকারের খাইট্টাও তৈরি করা হচ্ছে। কাঠের গুঁড়ি কেটে, মসৃণ করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
কাঠমিস্ত্রিদের ভাষ্য, মাংস কাটার জন্য শক্ত ও টেকসই কাঠের খাইট্টার বিকল্প নেই। কারণ ভারী দা বা চাপাতির আঘাত সহ্য করতে না পারলে খাইট্টা দ্রুত ফেটে যায় বা নষ্ট হয়ে পড়ে। এ কারণে তেঁতুল, নিম, বাবলা ও বেল গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি খাইট্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠের খাইট্টা দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর কদর আলাদা।
বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার খাইট্টার দাম কিছুটা বেড়েছে। কাঠ ও গাছের গুঁড়ির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। বাজারে ছোট আকারের খাইট্টা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি আকারের খাইট্টার দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে বড় আকারের কসাই খাইট্টার চাহিদা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের অন্য সময় খাইট্টার তেমন বিক্রি না থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক কাঠমিস্ত্রি নিয়মিত কাজ বন্ধ রেখে এখন শুধুই খাইট্টা তৈরিতে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ সাময়িকভাবে অন্য পেশা ছেড়ে এই মৌসুমি ব্যবসায় নেমে বাড়তি আয় করছেন।
ক্রেতাদের মতে, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত ও সুন্দরভাবে মাংস কাটতে একটি ভালো মানের খাইট্টা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই পশু কেনার পাশাপাশি আগেভাগেই দা-ছুরি ও খাইট্টা কিনে রাখছেন তারা, যেন ঈদের দিন কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।
ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জের গ্রামীণ বাজারগুলোতে এখন যেন উৎসবের আমেজ। পশুর হাট, কামারপাড়া আর খাইট্টার দোকান—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

 

যমুনা সেতু পশ্চিমে ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট

 এবার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে অন্তত ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঢাকামুখী লেনে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। সেতুর উত্তরবঙ্গমুখী পুর্বপাড়ে তীব্র যানজটের কারণে পশ্চিম পারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ মহাসড়কেের লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই যমুনা সেতু পশ্চিম টোলপ্লাজা এলাকা থেকে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। বেলা ৩টার পর যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সেতুর টোল প্লাজা থেকে কড্ডার মোড় পার হয়ে ৭ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়।
সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত তীব্র যানজট নিরসনে ঢাকামুখী সকল লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সেতুর পশ্চিমপাড়ে শুধুমাত্র ঢাকামুখী লেনে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাড়ি, রায়গঞ্জে সহমর্মিতার হাত বাড়ালেন নেতারা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নে আকস্মিক এক প্রচণ্ড ঝড়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার সোনারাম মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঝড়ের তাণ্ডবে বাড়ির একাধিক ঘর ভেঙে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আসলাম শেখের বাড়িতে হঠাৎ করেই তীব্র ঝড় আঘাত হানে। এতে তার বসতবাড়ির সাতটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঝড়ে ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং দেয়াল ধসে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আকস্মিক এ দুর্যোগে পরিবারটি মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল মমিন সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীম খন্দকার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সামা সরকার।
নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

 

নরসিংদীতে শিশুর মাথা আটকে গেল পাতিলে, ওয়ার্কশপে নিয়ে অপসারণ

নরসিংদীতে খেলার ছলে পাতিলের ভেতরে মাথা ঢুকে গেছে অন্তিম নামে দুই বছরের এক শিশুর। অনেক চেষ্টার পরও মাথা থেকে পাতিল খুলতে না পেরে পরবর্তীতে ওয়ার্কশপে নিয়ে শিশুর মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।

 

 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

জানা যায়, দুই বছরের শিশু অন্তিম খেলার ছলে মাথায় পাতিল ঢোকায়। এক পর্যায়ে তার মাথায় পাতিলটি শক্তভাবে আটকে যায়। পরবর্তীতে, পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টার পরও তা খুলতে না পেরে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ডাক্তারেরা পাতিলটি খুলতে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে পাশের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মাথা থেকে পাতিল অপসারণ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলসানারা কবীর বলেন, শিশুটি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরও কিছু সময় এভাবে থাকলে শ্বাসকষ্টের কারণে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

নাচোলে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বর্তমান সরকারের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ১৫০ জন দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধান মন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
​প্রধান অতিথি হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সরকারিভাবে দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ পাওয়া যায়, এটি ইতোপূর্বে সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই ছিল।
বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব নীতির কারণেই আজ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এই সহায়তা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন।”
​তিনি আরও বলেন, “এবার যারা এই সুবিধা পেয়েছেন, আগামীতে যাতে অন্য দুস্থ ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পান সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।” সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা জনগণের কাছে শতভাগ পৌঁছে দিতে দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
​এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সহ- সেক্রেটারি ইয়াহিয়া খালেদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক ইয়াকুব আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা মোবারক হোসেন, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম,পৌর আমীর মনিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি খলিলুর রহমান এবং নায়েবে আমীর ডা. রফিকুল ইসলাম।নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এবং নেজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক।
অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য উপকারভোগীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল প্রকৃত অভাবী মানুষকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

জয়পুরহাটে জমির দ্বন্দ্বে যুবক খুন, প্রধান অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার

​জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাছুম হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলকপুর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

​নিহত মাছুম হোসেন পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে।

 

 

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে শিবলুর সঙ্গে মাছুমের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মাছুম ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

​মঙ্গলবার রাতে মাছুম স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিলকপুর রেলস্টেশন এলাকায় গল্প করছিলেন। পরে বন্ধু জয়কে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে আক্কেলপুর-তিলকপুর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে শিবলুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মাছুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মাছুম মোটরসাইকেল থেকে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালে মাছুমের প্রতিবেশী দাদা ফজলুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফজলুর রহমানের ছেলে রতনকেও হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। পূর্বের এই দুটি হত্যা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাছুমের মা রুমি আক্তার বলেন, “জমিজমাকে কেন্দ্র করে তারা আমার একমাত্র ছেলেটাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। আমি কোনো জমি চাই না, আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিক। যারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

 

 

​আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ভোরে প্রধান অভিযুক্ত শিবলুর বাবা গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মাছুমের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

​তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার আওতাধীন হলেও নিহত ও অভিযুক্তদের বাড়ি নওগাঁ সদর থানা এলাকায়। নিহতের মরদেহ বর্তমানে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

 

অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, জরিমানা ৩ প্রতিষ্ঠানকে

পঞ্চগড়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড়ের নগরকুমারী হাটে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

 

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে ‘মুনস্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’কে ৩০ হাজার টাকা, ‘আলমগীর স্টোর’কে ৩ হাজার টাকা এবং ‘তইবুল চা স্টোর’কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

এছাড়া মহাসড়কের ওপর রাখা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আজকের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে রাস্তার ওপর যত্রতত্র বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্কিং না করার জন্য চালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান জানান, রাস্তায় অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যু: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেছেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ছয় শিশুর ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

মৃত্যুর কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি আর অনুযায়ী কঠোর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ছয় শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ আমরা হাসপাতালে এসেছি। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। দ্রুতই বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জানাতে পারব। এতটুকু জেনেছি, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বাচ্চাগুলো মারা গেছে।

এর আগে ঘটনার বিষয়ে জানাতে আদ্–দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের যে ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ছিলেন। আর নবজাতক ছিল ছয়।

হাসপাতালে থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এসি বন্ধ ছিল এবং নবজাতক ওয়ার্ডে উৎকট দুর্গন্ধ পান তারা। পরে নার্সকে জানালে তারা অনেককে এনআইসিইউতে পাঠান।

 

 

এসির গ্যাস লিকেজ থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা। তবে তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছয় নবজাতক শিশুসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে অবস্থান করছিলেন। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এক নবজাতকের মা।

 

 

পরবর্তীকালে নার্স এসি এক ঘণ্টার মতো বন্ধ রাখেন। এরপর গরম অনুভূত হওয়ায় এসি চালু করতে বললে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এখানে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে। আলামত সংগ্রহ করছে।

 

 

 

বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম ছয় শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বলেও জানান ডিসি।

 

 

তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যুর আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্তের পর আসল তথ্য বলা যাবে।

 

কোরবানির গরু চুরি করতে গিয়ে আটক চোর

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কোরবানির গরু চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে মুরাদ (২২) নামের এক যুবক। তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

 

বুধবার (২৭ মে) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক মুরাদ ভিটিকান্দি গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মতিন দেওয়ান কোরবানির জন্য একটি গরু কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে মুরাদসহ একদল চোর গরুটি চুরি করার উদ্দেশ্যে বাঁধন খুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির মালিক আব্দুল মতিন তাদের ধাওয়া দিলে মুরাদকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

ভুক্তভোগী গরুর মালিক আব্দুল মতিন দেওয়ান বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে ঘুম না আসায় আমি মোবাইল চালাচ্ছিলাম। এসময় হঠাৎ খেয়াল করি একজন ব্যক্তি আমাদের কুরবানির জন্য আনা গরুটি চুরি করার চেষ্টা করছে। আমি পেছন থেকে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করি।’

 

আটক মুরাদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, চুরির এই ঘটনায় তার সাথে শরীফ, জমিস, রাহুল ও সাগরসহ আরও চারজন জড়িত ছিল। সে আরও স্বীকার করে, এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তারা পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে দুটি মোবাইল ফোনও চুরি করেছে এবং তারা নিয়মিত একসাথে ইয়াবা সেবন করতো।

 

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

৫ দিনে যমুনায় পানি বাড়লো ১১১ সেন্টিমিটার

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বর্ষণের সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ দিনে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ সদর পয়েন্টে ১১১ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ১১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি হয়েছে।

 

বুধবার (২৭ মে) সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ‍যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৩০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার)। এই পয়েন্টে ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত যথাক্রমে ২১, ২৮, ২০ ও ২৬  সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

 

 

অপরদিকে কাজিপুরের মেঘাই পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৮৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার)। এই পয়েন্টে ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত যথাক্রমে ২৩, ৩৪, ১৬ ও ২৫  সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, টানা ৫দিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। আরও দুই থেকে তিনদিন পানি বাড়তে পারে। এরপর কয়েকদিন স্থির থাকবে। পরে কমতে থাকবে।

 

স্বপ্নে আদেশ পেয়ে নিজের সবকিছু বেঁচে দিয়ে মসজিদ গড়ছেন রাজমিস্ত্রি সামিদুল

 

স্বপ্নে আদেশে পেয়ে নিজের সবকিছু বিক্রি করে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার এক সাধারণ রাজমিস্ত্রি সামিদুল ইসলাম।

সামিদুল উপজেলার পূর্ব ফরিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা মসজিদ নির্মাণ করছেন তিনি।

জানা যায়, সামিদুল একদিন রাতে স্বপ্ন দেখেন তার বাড়ির পাশেই চলছে একটি বিশাল তিনতলা মসজিদের নির্মাণকাজ। নীল আকাশের নিচে মসজিদের গম্বুজ ঝলমল করছে। দৃশ্যটি এতটাই স্পষ্ট, এতটাই বাস্তব ছিল যে ঘুম ভাঙার পরও তিনি মুগ্ধতায় স্থির হয়ে থাকেন।

পরদিন বিষয়টি স্থানীয় এক আলেমকে জানালে তিনি অবাক হয়ে বলেন,“তুমি তো গরিব মানুষ, এত বড় কাজ কীভাবে করবে?”

কিন্তু স্বপ্ন থেমে থাকেনি। রাতের পর রাত একই দৃশ্য ফিরে এসেছে তার স্বপ্নে। এভাবে নিজেকে আর থামিয়ে রাখতে পারেন তিনি। স্বপ্নকে বাস্তবায়নের দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন সামিদুল।

কিন্তু বিশাল এই মসজিদ তৈরিতে যে অর্থের দরকার তার মতো দরিদ্র রাজমিস্ত্রির পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু স্বপ্নে পাওয়া মসজিদ তৈরিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সামিদুল নিজের পালিত গরুটি বিক্রি করলেন। এরপর একে একে বিক্রি করলেন যা কিছু ছিল—বসতভিটা, জমি, সামান্য সম্পদ।

সামিদুল জানান, ৪০ হাজার টাকা শতক দরে জমি কিনতে শুরু করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করেন। নিজের থাকার ঘরটুকুও যখন বিক্রি করতে হয়েছে। এখন তিনি ভাঙা ঘরে থাকেন।

সামিদুল আরও বলেন,“আমি শুধু আল্লাহর ঘরটা দাঁড় করাতে চাই”“স্বপ্নে যেভাবে দেখেছি, আল্লাহর ঘরটা একদিন ঠিকই দাঁড়াবে। একা পারব না, সবাই পাশে দাঁড়ালে কাজটা অনেক দূর এগোবে। আমি যা ছিল সব দিয়েছি—এবার মানুষের সাহায্য চাই।”

স্থানীয় ইউসুফ আলী বলেন, “এমন ত্যাগ আজকাল দেখা যায় না। যদি মানুষ একটু এগিয়ে আসে, খুব দ্রুতই মসজিদটা তৈরি হয়ে যাবে।”

রামপুরা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম জানান,“এটা সত্যিই এক মহৎ উদ্যোগ। দরিদ্র মানুষ হয়েও সামিদুল যা করেছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সবাইকে তার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।”

 

যমুনা সেতুতে চললো ৫৬ হাজার গাড়ী, টোল আদায় পৌণে ৪ কোটি

ঈদে ঘরেফেরা মানুষের চাপে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৫৬ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। টোল আদায় হয়েছে পৌণে ৪ কোটি টাকা। এদিকে যমুনা সেতু পূর্বপারে যানজট থাকলেও পশ্চিমে এসেই স্বাভাবিক গতিতে চলছে গাড়ীগুলো।

বুধবার (২৭ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা।

এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ৩৬ হাজার ৪২৬টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা। অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ১৯ হাজার ৮১৩টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ টাকা।

তিনি বলেন, যানবাহনের চাপ সামলাতে নিয়মিত ১৪টি বুথের সাথে আরও ৪টি অতিরিক্ত বুথ চালু করা হয়েছে।

এদিকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গণপরিবহণ ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, মোটর সাইকেলযোগে ঘরে ফিরছে হাজার হাজার মানুষ। বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কসহ সিরাজগেঞ্জের কোন রুটে যানজট ছিল না।

 

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের প্রভাব সিরাজগঞ্জেও

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের প্রভাব পড়েছে সিরাজগঞ্জেও। যমুনা সেতু পশ্চিমপারে ঢাকামুখী লেনে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেতুর পশ্চিম পারে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে যমুনা সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে যানজট সৃষ্টি হয়ে মুলিবাড়ি আন্ডারপাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পূর্বপার পর্যন্ত ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে ওই পারে সবগুলো লেন উত্তরবঙ্গের দিকে ছাড়া হয়েছে। যে কারণে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ আছে। এর প্রভাবেই যমুনা সেতু পশ্চিমপারে ঢাকামুখী লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

কুড়িগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে নাগরিক সংলাপ

পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম – ২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদের কুড়িগ্রাম পার্লামেন্ট সেশন – ২ “নাগরিক সংলাপ” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬ মে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম কলেজ মোড় পৌর অডিটোরিয়াম মার্কেট দ্যা এসেম্বলি হল রুমে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ নানা পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সকল পেশার মানুষজন বক্তব্য রাখেন। কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, জনদুর্ভোগসহ নানা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দাবিদাওয়া তুলে ধরেন বক্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম – ২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম রানা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির আব্দুল মতিন ফারুকী, জেলা সেক্রেটারি নিজাম উদ্দীন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শফি খান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ আরও অনেকে।
উক্ত অনুষ্ঠানে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ আমরা কুড়িগ্রাম পার্লামেন্টের দ্বিতীয় অধিবেশনে আয়োজন করেছি। আমরা সকল পেশাজীবীদের দিক নির্দেশনা নিয়ে আগামী সংসদে কথা বলবো।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে কোন ধরনের দুর্নীতি হলে আমরা তা প্রশ্রয় দেব না। প্রত্যেকটি উন্নয়নের কাজ আমরা পরিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে নেব।

 

 

মানচিত্রে রাস্তা, বাস্তবে ধানক্ষেত

সরকারি নথি ও মানচিত্রে এখনও রয়েছে সড়কটির অস্তিত্ব। কিন্তু বাস্তবে সেখানে এখন শুধু ধান ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে সোনারাম দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ কাঁচা সড়কের এক কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ভূমি মালিকেরা ধাপে ধাপে রাস্তার মাটি কেটে নিজেদের জমির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েছেন সরকারি এই সড়ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, রুদ্রপুর চাকিপাড়া থেকে হাবিলাগাড়ি পর্যন্ত সড়কের আংশিক অস্তিত্ব থাকলেও হাবিলাগাড়ি থেকে দুক্কি মরা বটতলা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার কোনো চিহ্ন নেই। যেখানে একসময় মানুষ চলাচল করত, সেখানে এখন আবাদ করা হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন ফসল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি ছিল রুদ্রপুর চাকিপাড়া, বাঐখোলা, সোনারামপুর ও দেবরাজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের মূল সড়কে যাতায়াতের অন্যতম পথ। রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন এলাকাবাসীকে বিকল্প পথে কয়েক মাইল ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন মন্ডল বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়েই মানুষ হাটবাজার ও মূল সড়কে যাতায়াত করত। এখন রাস্তার জায়গা চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। মানুষকে বাধ্য হয়ে অন্যের জমির আইল দিয়ে চলতে হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম বলেন, “ধীরে ধীরে রাস্তার মাটি কেটে পাশের জমির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন বর্ষাকালে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও চরম ভোগান্তি হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তাদের দাবি, বছরের পর বছর সরকারি সম্পত্তি দখল হলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি সরকারি রাস্তা এভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির বড় উদাহরণ। দ্রুত সড়কটি উদ্ধার ও পুনর্নির্মাণ না হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যক্তিগত জমিতে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ তদন্ত করে সড়কের সীমানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, “সরকারি রাস্তা দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পর্যটনকেন্দ্র ও টেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের আশ্বাস

খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত আছরাঙা দিঘী পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত স্থান ঐতিহ্যবাহী আছরাঙা দিঘী ও পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলসীগঙ্গা নদী পরিদর্শন করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী।

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৫ টার দিকে তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার আছরাঙা দিঘীতে পৌঁছে দিঘী ও তুলসীগঙ্গা নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

 

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার আছরাঙা দিঘী এবং কালাই উপজেলার নান্দাইল দিঘীকে কেন্দ্র করে দুটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, অচিরেই জয়পুরহাটবাসী নতুন দুটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র উপহার পেতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার ভাসিলাতে এবং কালাই উপজেলায় একটি করে মোট দুটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগম, ছেলে তৌফিক হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শওকত ওসমান শামীম, ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তাদুল আলম, মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল হোসেন এবং মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন আগৈলঝাড়ার অসহায় পরিবার

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের দিক নির্দেশনায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অসহায় ও দুস্থদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে প্রদত্ত আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

 

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ হল রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৯০ টি পরিবারের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক। প্রত্যেককে পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।

 

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায় সিকদার হাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, সারোয়ার হোসেন মিয়া, আবুল হোসেন মোল্লা , এনায়েত হোসেন খান মনু, রাজিহার ইউনিয়ন বিএনপির আহবায় খন্দকার মোহাম্মদ আলী, মহিলা দলের নেত্রী নয়ন খানমসহ অন্যান্যরা। পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হাতে পেয়ে সবাই তার জন্য দোয়া করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

 

ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে তাড়াশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী মিলন

ত্যাগ, কোরবানি ও ভ্রাতৃত্বের মহান বার্তা নিয়ে আগত পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে তাড়াশ উপজেলা ও পৌরসভার সর্বস্তরের জনসাধারণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন তাড়াশ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিলন।

মঙ্গলবার(২৬’শে মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের শেখায় ত্যাগের মাহাত্ম্য, ধৈর্যের শক্তি এবং মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.) এর ত্যাগের অনুকরণে আমাদেরও উচিত সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন আমরা তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদ মানে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে নেওয়া। ঈদের আনন্দ তখনই সার্থক হবে যখন সমাজের প্রতিটি ঘরে হাসি ফুটবে, প্রতিটি শিশুর মুখে থাকবে তৃপ্তির হাসি। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে তাড়াশকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। রাজনীতি হোক মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতা হোক সেবার মাধ্যম।”

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিমউদ্দিন হলের সাবেক শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ছাত্র রাজনীতিতে তার সততা, নিষ্ঠা ও জনদরদী মনোভাবের জন্য তিনি সহপাঠী ও সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তাড়াশ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও জনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, একটি শহরের উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা।

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি তাড়াশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার চলার পথের শক্তি। বিগত দিনে আপনারা যেভাবে পাশে ছিলেন, আগামী দিনেও সেই সহযোগিতা কামনা করি। আগামী দিনে তাড়াশের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বেকারত্ব দূর করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি সবাইকে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে একটি নতুন কিছু দেখাবো: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে নিয়ে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ঋণ করে গেছেন। বাংলাদেশের বিশ কোটি মানুষের উপরে প্রতি মাথাপিছু দেড়শ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। সেই সরকারে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমার বিদ্যুতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এ বিষয়টা নিয়েই আমরা অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছি । আর তোমরা বলো যে কি হইলো। কি পেলাম এজন্যই তো আমরা ক্ষমতায় আসি নাই। সরকারে দায়িত্ব নিছি আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্ত হইয়া বাংলাদেশের মানুষকে একটি নতুন কিছু দেখাবো। এখন আমরাও যদি আওয়ামী লীগের মতো ঘাইঘাই করি আওয়ামী লীগের মতো ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ঋণ করে রেখে যাই।  তাহলে আর দেশ থাকবে না । দেশ থাকবে দেশ চলবে না।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের মিনি অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মৃত্যুবার্ষিকী পালন নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন,  গত ১৮ বছরে আমরা ঠিকমতো শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারি নাই। আগামী ৩০শে মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আল্লাহর কাছে দোয়া মাহফিল এবং সবাই মিলে দুস্থ অসহায় গরীব মানুষদেরকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবো। এ ব্যাপারে আমার তরফ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার দরকার আমি করব। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে করতে হবে । আর সুশৃংখল ভাবে অনুষ্ঠান করতে পারলে যে কোন কাজের প্রশংসা পাওয়া যায় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে।

 

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিন্তু খুব জলদি হয়ে যাবে। জিন্নাতি দল কিন্তু তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাদের কিন্তু কোন আওয়াজ নাই । কিন্তু আমি দেখতেছি নির্বাচনের হাওয়া ওঠার আগেই সবাই পোস্টার ছাপানো শুরু করেছে। এই পোস্টার ছাপালেই কিন্তু হবে না। দল অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই যাকে দিলে জিততে পারবো তাকে দেবো। স্থানীয় নির্বাচন তোমাদের কাকে পছন্দ সেটা আমি আগে দেখবো এরপর আমি একটা একটা করে ডেকে আনব এবং আমার রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখব ঠিক আছে কিনা। শুধু চেয়ারম্যান নয় মেম্বারেরও বিষয়ে দেখব আমি।

 

 

উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, কামারখন্দ নিয়ে আমার অনেক বড় একটা পরিকল্পনা আছে। যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমার চেয়ারম্যান দরকার মেম্বার দরকার। আমি বরাদ্দ আনবো সেটা অন্য দলের লোক ব্যবহার করবে সেটা আমি পারবো না। ক্ষুদ্র স্বার্থ ছেড়ে দিয়ে দলের স্বার্থ বৃহৎ স্বার্থ ধরে যে প্রার্থী চেয়ারম্যান হতে পারবে তাকেই দেব। আপনারা আপনাদের ইউনিয়নের মধ্যে ঘুরে বেড়ান। আপনারা কিন্তু অবশ্যই বোঝেন যে কাকে দিলে চেয়ারম্যান হয়ে যাবে। আমার কাছে অলরেডি রিপোর্ট আসছে। অনেক চেয়ারম্যান হওয়ার প্রার্থী আছে তাকে আমার দলের লোকদের কাছে পছন্দ না। কিন্তু সে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

 

 

সুতরাং পাঁচ বছর হাতে সময় আছে দলটাকে সুসংগঠিত করতে হবে। দলটাকে মজবুত করতে হবে ভিত্তিশক্ত করতে হবে মানুষের কাছে যেতে হবে এমনি হয়ে যাবে।

 

 

প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথান এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস-সহ জেলা এবং উপজেলা বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি রোধে সরকার ব্যর্থ: আসিফ মাহমুদ

পবিত্র ঈদুল আজহায় নিরাপদ যাত্রা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীতে ঝিনাইদহে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। প্রায় সব পশুর হাট বিএনপি নেতারা ইজারা নিয়েছেন এবং হাটের জায়গায় হাট বসছে না। এছাড়াও ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সরকার ব্যর্থ বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

 

তিনি বলেন, বিসিবি নির্বাচন দেখে মনে হয়েছে পরিবারতন্ত্রে বসবাস করছি, সরকার দলীয়করণ করবে না বলেছিলো কিন্তু তারা সেটা করেছে। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্যে করে সজীব ভূঁইয়া বলেন, মার্কিন চুক্তির বিষয়ে এনসিপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কথা বলেনি। যে অংশ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, সেগুলো রিভিউ করে বাতিল করার উদ্যোগ নেন। দোষারোপ করবেন না। বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন। ডুয়েল গেম খেলতে বিএনপির ইন্ধনেই এই চুক্তি হয়েছে কি না এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

 

 

৩২ লাখ টাকার গরু কেনার বিষয়ে এ্যানির ছেলের ব্যাখ্যা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ৩২ লাখ টাকার গরু কেনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

 

 

 

আমার বাবা পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং উনার ভাইয়েরা পারিবারিক কোরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা-মাদ্রাসার জন্য প্রতি বছর ৬/৭/৮টি গরু ক্রয় করেন। তার ধারাবাহিকতায় এ বছরও ওনারা ৬টি গরু ক্রয় করেছেন।

আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন আমার বাবা আর মন্ত্রী থাকবেন না, তখনও কি আমাদের উত্তরসূরিরা ১০টা গরু দিয়ে কুরবানি দিলে এমন অযৌক্তিক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে? নাকি আমার বাবা কেবল মন্ত্রী হওয়ায় বট বাহিনীর এমন অযৌক্তিক মিথ্যাচারের শিকার হচ্ছেন?

সবচেয়ে বড় কথা, সবগুলো গরুই গরীব মানুষের হক। মানুষের হক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

মহান আল্লাহ পাক উত্তম পরিকল্পনাকারী। উনি সব জানেন এবং দেখেন।

এর আগে সম্প্রতি হাটে গিয়ে ৩২ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনায় এ্যানিকে নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে বাবার সমালোচকদের উদ্দেশে এই লেখা লিখেছেন ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।

 

 

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৮:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

 

 

তিনি বলেন, বিচারক ও আইনজীবী সংকটের কারণে দেশে অনেক মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়, তবে আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও মর্মান্তিক ঘটনা। এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’

 

এ সময় এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হয়’— এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেই তাদের নেতারা গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন।’

 

 

 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মামলা জট রয়েছে। কারণ বিচারকের সংখ্যা কম। একই সঙ্গে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনজীবীও নেই। ফলে বিচার কার্যক্রম দীর্ঘ হয়।’

 

 

 

সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে এবং বিচারকরাও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াতে এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।’

 

 

এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে জামায়াতের কাছে : রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

 

পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপির সাথে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল। এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিল!’

 

তিনি লেখেন, ‘অথচ এই রাজনৈতিক ইতর (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) আমাকে নিয়ে আজকে সংবাদ সম্মেলন করে বাজে কথা বলল! জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা নাই যে বলেনি, পরে জামায়াতের কাছে এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বামশিবির উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা লেখেন, ‘আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বামশিবির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতের কাছেই বিক্রি হবে, এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দিইনি। গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে জোটে ছিলো। আমি এমন কোন দলে যাইনি, যে দল জামায়াতের মত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি।’

 

 

তিনি আরও লেখেন, আর এই কথা তো জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক টাউট (প্রতারক) এই পাটওয়ারীই বলেছে। পাটওয়ারী শিবির, বাম, এবি পার্টি করেছে। এখন এনসিপি করছে।

 

 

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মাদক সেবন করেন উল্লেখ করে রাশেদ লেখেন, ‘তার আশপাশের লোকজনই আমাকে বলেছে, নাসিরউদ্দিন গাঁজা-ইয়াবা সব খায়। ওর চোখমুখই তার তো প্রমাণ, ওর শরীর নিকোটিনে ভরা। ওর এখন থেকে রূপায়নে বসেই গাঁজা টানতে হবে। গাঁজা খেয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললেই পাবলিকের ডিমের ওপর দিতে যেতে হবে। গালাগাল ও বেয়াদবি করা যদি ওর স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধদের স্বাধীনতা।’

 

 

৯৯ শতাংশ পাওনা পরিশোধ হয়েছে, হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা : শ্রমমন্ত্রী

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

 

 

তিনি বলেন, সরকারের কঠোর তদারকির কারণে অধিকাংশ শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং শ্রমিকরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় সমস্যা হয়েছে, আমাকে দেখান। আমি নিজে মাঠে থেকে খোঁজখবর রাখছি। এখন পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু কারখানায় মে মাসের পূর্ণ বেতন দেওয়ার সময় না হলেও শ্রমিকদের ১৫ দিনের অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সমস্যা নেই।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘গত ঈদেও শ্রমিকরা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এবারও সবাই ন্যায্য পাওনা নিয়েই পরিবারের কাছে যাচ্ছেন।’

 

 

শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিয়মিত তদারকি করছি। বাস্তব পরিস্থিতি অনেক ভালো।’

 

 

বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যারা প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

 

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শাহী ঈদগাহ কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এনসিপির সঙ্গে জোটে যেতে নাসিরুদ্দীন আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল : রাশেদ খাঁন

এনসিপির সঙ্গে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

 

রাশেদ খাঁনের পোস্টটি হুবহু দেওয়া হলো-

‘এনসিপির সাথে জোট করার জন্য নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিলো। এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিলো!’

 

 

‘অথচ এই রাজনৈতিক ইতর আমাকে নিয়ে আজকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাজে কথা বললো! জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে এমন কোন কথা নাই যে বলে নাই, পরবর্তীতে জামায়াতের কাছে এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।’

 

 

‘আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বামশিবির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জামায়াতের কাছেই বিক্রি হবে, এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দিই নি। গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে জোটে ছিলো। আমি এমন কোন দলে যাই নি, যে দল জামায়াতের মত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি।’

 

 

 

‘আর এই কথা তো জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক টাউট এই পাটোয়ারীই বলেছে। পাটোয়ারী শিবির, বাম,এবি পার্টি করেছে। এখন এনসিপি করছে। তার আশপাশের লোকজনই আমাকে বলেছে, নাসিরউদ্দিন গাজা ইয়াবা সব খায়। ওর চোখমুখই তার তো প্রমাণ, ওর শরীর নিকোটিনে ভরা। ওর এখন থেকে রূপায়নে বসেই গাঁজা টানতে হবে। গাঁজা খেয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললেই পাবলিকের ডিমের উপর দিতে যেতে হবে। গালিগালাজ ও বেয়াদবি করা যদি ওর স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধদের স্বাধীনতা।’

 

 

আমরা কোয়ালিটি চাই কোয়ান্টিটি চাই না: শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেনন, আপনারা যে কাজ করেন সেটি বেতনের কাজ করেন না। বেতন সংসার চালানোর জন্য। কিন্তু মূল লক্ষ্য আপনাদের মানুষ তৈরি করা। আপনারা প্রায়ই শহীদ মিনার ও প্রেসক্লাবে গিয়ে আন্দোলন করেন। আপনারা যদি রেজাল্ট ভালো না করেন, তাহলে একটা সময় সরকারও আপনাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে না।

 

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সিরাজগঞ্জ জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই কোয়ান্টিটি চাই না। আপনারা ১০টা মেধাসম্পন্ন ছেলে বের করবেন। যারা বাংলাদেশের সব জায়গায় কম্পিটিশন করতে পারবে। কিন্তু ৫০টা বের করবেন কোনোটাই কম্পিটিশিন করতে পারবে না- সেটা করে লাভ নেই। আপনারা চাইলে পারবেন। নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেভাবে চিন্তা করেন সেভাবে অন্যের সন্তানকে তৈরি করবেন। তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যেতে পারবে। না হলে এখন যে অবস্থা রয়েছে সে অবস্থা থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের সময়ের বুয়েটের ছাত্র আর এখনকার বুয়েটের ছাত্রের মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে।

 

 

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

 

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় তিন অটোরিকশাযাত্রী নিহত

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বাসচাপায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন চড়িয়া র‌্যাব-১২ প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

 

 

 

সলঙ্গা থানার ওসি মো. আসলাম আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে চড়িয়া র‌্যাব-১২ প্রধান কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী যাত্রী বাস চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের নাম পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

 

নোয়াখালীর আঞ্চলিকতায় ঐশীর নতুন গান প্রকাশ

নিজের শেকড় নিজের ভাষা আর সমসাময়িক সাউন্ড এই তিনের মিশেলে নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী ঐশী। নোয়াখালীর মেয়ে হওয়ায় অনেকদিন ধরেই নিজের আঞ্চলিক ভাষায় একটি গান করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘নোয়াখাইল্যা মাইয়া’।

 

 

ঐশী জানান গানটি একেবারেই হুট করে তৈরি হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গাড়িতে বসেই লিখে ফেলেন গানটির কথা। পরে সেখানেই সুরও করেন। তার ভাষায় ‘সেদিন যেভাবে টিউন করেছিলাম ঠিক সেভাবেই গানটি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফাইনাল রেকর্ডিংয়ে আর কোনো কারেকশনের প্রয়োজন হয়নি।’

 

 

‘নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি কথা ও সুরও করেছেন ঐশী নিজেই। মিউজিক প্রোডাকশন করেছেন ‘বিট বাবা’। র‍্যাপে রয়েছেন ব্ল্যাক জ্যাং ও ঐশী। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন নাসিমুল মুরসালিন স্বাক্ষর।

গানটি প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি ক্লাবে আয়োজন করা হয় ‘মিট দ্য প্রেস’। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হামিন আহমেদ, মনিরুল আলম টিপু, এলিটা করিম, সাব্বির জামান, আয়েশা মৌসুমী, নাদিয়া ডোরা ও জুয়েল মোর্শেদসহ সংগীতাঙ্গনের আরও অনেকে।

গানটির কয়েক সেকেন্ডের প্রোমো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনাও তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে বলিউড ধাঁচের গান বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ঐশী বলেন ‘গানের কথাগুলো আঞ্চলিক টিউন হিপহপ ও পপ ঘরানার আর মিউজিকে রয়েছে অ্যাফ্রো ও নানা ধরনের ফিউশন।’

তিনি আরও বলেন ‘আমি যেহেতু নোয়াখালীর মেয়ে তাই নিজের আঞ্চলিক ভাষায় গান করা আমার জন্য বাড়তি আবেগের। সেই সঙ্গে গানটি নিজেই এক্সিকিউট করতে পারাটা ভীষণ আনন্দের। আমি সবসময় ইউনিক কিছু করার চেষ্টা করি।’

 

‎সলঙ্গায় ‘প্রত‍্যাশিত সিরাজগঞ্জ’র ঈদ উপহার বিতরণ

‎পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৪৫ টি গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ খাদ্য উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রত্যাশিত সিরাজগঞ্জ’র উদ্যোগে  রৌহাদহ নূরানী দারুল উলুম ক্বওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জে এ ঈদ উপহার ব্যাগ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি উপহার ব্যাগে রয়েছে পোলার চাল, লাচ্ছা, সেমাই, সুজি, চিনি, সয়াবিন তেল, গুড়া দুধ, বুটের ডাল, পিঁয়াজ এবং সাবান।


‎এ সময় সংগঠনটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নূর-এ-আজম সিদ্দিক এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা মো. আরিফুর রহমান,অর্থ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন,প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রানা সোহাগ, সদস্য হাফেজ ছারোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, আতিকুর রহমান সবুজ, হাফেজ আবু তালহা সহ অন্যান্য স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

 


‎ উল্লেখ্য, সংগঠনটি ২০১৮ সাল থেকে ঈদ খাদ্য উপহার বিতরণ, বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপনসহ নানা রকম সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে।

 

 

চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে বুধবার পালিত হবে ঈদুল আজহা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, পটিয়া, চন্দনাইশসহ শতাধিক গ্রামে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

 

 

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ ও বরুমচড়া এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শেষে কোরবানি করবেন তারা।

 

 

এদিকে, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রায় দুইশো বছর ধরে উপজেলায় সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা এ নিয়ম মেনে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন।

দরবার শরীফ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মূল খানকাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান।

দরবারের পূর্বসূরি মহান অলি-বুজুর্গ হজরত শাহ জাহাঙ্গীর শেখুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঙ্গীর ফখরুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঙ্গীর শমসুল আরেফীন (ক.) এবং হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফীনের (ক.) অনুসৃত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা পালন করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ ও রাউজানের বহু গ্রাম ছাড়াও বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অনুসারীরা একই দিনে ঈদ উদযাপন করবেন। এছাড়া ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল ও ভোলাতেও রয়েছে তাদের অসংখ্য মুরিদ ও অনুসারী।

 

 

 

মির্জাখীল দরবার শরীফের অন্যতম দায়িত্বশীল ব্যক্তি মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, ‘আমরা হানাফি মাযহাবের অনুসারী হিসেবে প্রায় দুই শতাধিক বছর ধরে পবিত্র হজের পরের দিনই ঈদুল আজহা পালন করে আসছি। চাঁদের অবস্থান ও হজের তথ্য নিশ্চিত হয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আরাফাতের ময়দান থেকে হজের খুতবা ও হজ পালনের দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করার পর দেশ-বিদেশে সিলসিলায়ে আলীয়া জাহাঙ্গীর ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন।’

 

 

উত্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তণ ঘটাবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ। ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু উদ্বোধনের পর এ জেলার ওপর দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২২ জেলার সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়। আর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর হয়ে ওঠে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের মিলনস্থল। ঢাকা-পাবনা, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সংযোগ স্থল হয় হাটিকুমরুল।

 

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়ক ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় বাড়তে থাকে গাড়ীর চাপ। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট-দুর্ঘটনাসহ নানা দুর্ভোগে উত্তরাঞ্চলবাসীর গলার কাঁটা হয়ে পড়ে এই মহাসড়কটি।

 

 

বিশেষ করে ঈদ এলেই হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়ক ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ফলে হাজার লাখ লাখ মানুষকে যানজট আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এ রুটেই গন্তব্যে যেতে হতো।

 

 

উত্তরাঞ্চলবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় সরকার। হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় দেশের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

 

 

৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২১ সালে অনুমোদিত হলেও জমি অধিগ্রহণ ২০২৩ সালের জুন মাসে। জমি অধিগ্রণ শেষে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরবিসি (চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন) আধুনিক ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণকাজ শুরু করে।

 

 

প্রকল্পের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্পে থাকবে আলাদা ৬টি র্যা ম্প। উত্তর-দক্ষিণমুখী ও ঢাকামুখী যানবাহন চলবে ভিন্ন ভিন্ন র্যা ম্প দিয়ে। কোন গাড়ী বিপরীতমুখী গাড়ীকে সাইড দিতে হবে না। এছাড়া নীচ দিয়ে একটি গ্রাউন্ড রোড থাকবে। যেখান দিয়ে ধীরগতির যানবাহন চলবে।

 

সাসেক-২ প্রকল্পের ওয়ার্ক প্যাকেজ-১৩ এর অধীনে আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জটি নির্মাণের পলে চারটি রুট থেকে আসা যানবাহন নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে। কোন গাড়ীকে সাইড দিতে হবে না। এছাড়াও থ্রি-হুইলার যানবাহন ও সাধারণ জনগনের নিরাপদে চলাচলের ফুটপাত ও একাধিক আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে।

 

 

প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়ায় কারণে মেয়াদ বর্ধিত করে ২০২৬ সালের আগষ্ট নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরই সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। যানজট ও দুর্ঘটনা কমে এসেছে। যমুনা সেতু পশ্চিম পার হওয়ার পর স্বাভাবিক গতি নিয়ে যাতায়াত করছে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায় হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার প্রায় ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। ৪ থেকে ৫শ শ্রমিক দিনে ও রাতে কাজ করছে। আর এই কর্মযজ্ঞ দেখে উচ্ছসিত যাত্রী, পরিবহণ শ্রমিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও।

 

 

রনি, কাদের, সুমন বাবলুসহ একাধিক বাস ও ট্রাকচালকেরা উচ্ছাস প্রকাশ করে বলছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জে এসে আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। কিন্তু সরকার ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণ করার ফলে আর আমাদের দেরি করতে হবে না। কোন গাড়ীকে সাইড দিতে হবে না, উপর দিয়ে দ্রুতগতিতে আমরা যাতায়াত করতে পারবো। এতে অনেক সময় বাঁচবে বলে তারা বলেন।

 

 

সাবেক সেনা সদস্য আফসার আলী বলেন, ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণের ফলে আমাদের এ অঞ্চলের ভাগ্যের চাকা খুলে গেছে। এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্য ও শিল্পের প্রসার ঘটতে শুরু করেছে।

 

 

সিরাজগঞ্জ জজ আদালতের আইনজীবী এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী বলেন, ইন্টারচেইঞ্জ চলনবিলসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে বলে আশা করি। এসব অঞ্চলের কৃষিপণ্য সহজে ঢাকাসহ সারাদেশে রপ্তানি করা যাবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে।

 

 

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী একটি স্থাপনা। ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণ সম্পন্ন হলে সিরাজগঞ্জে শিল্পপার্ক ও ইকোনোমিক জোনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। চলনবিলের শস্য ও মৎস্য সারাদেশে সহজভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

 

 

হাটিকুমরুল ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্পের উপ-ব্যবস্থাপক মো. সরফরাজ হোসেন বলেন, প্রকল্প সম্পন্ন হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ইন্টারচেঞ্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

 

 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন, ইন্টারচেইঞ্জ উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তণ আনবে। ইতিমধ্যে তার সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ।

 

 

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফিরোজ আখতার বলেন, উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার যানবাহনগুলোকে হাটিকুমরুলকে ক্রস করেই যেতে হয়। এর মানে দেশের ২৫ ভাগ জেলার গাড়ী এ রুটে চলাচল করে। এছাড়াও খুলনা বিভাগের বেশ কিছু যানবাহনও এ রুটে চলাচল করে। ঈদ ছাড়াও সাধারণভাবেই এ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হতো। ঈদের সময় তো ৪/৫ ঘণ্টা করে আটকে থাকতে হতো যাত্রী সাধারণকে। ওই অবস্থা হতে উত্তোরণের জন্যই ইন্টারচেইঞ্জ প্রকল্প চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরেই কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে সকল জেলামুখী যানবাহনগুলো একটি অপরটির ইন্টারাপ ছাড়াই চলবে। কোন যানবাহনকে থামতে হবে না।

 

 

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা ইতিমধ্যে বগুড়া-রংপুরমুখী সাময়িকভাবে লেনটি ওপেন করে দিয়েছি। এই লেনটি দিয়েই ৬০ শতাংশ গাড়ী চলাচল করে। লেনটি খুলে দেওয়ায় এখানে আর গাড়ী আটকে থাকছে না।

 

মৌলভীবাজারে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দুই গ্রামে প্লাবন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লাউয়াছড়া খালের বাঁধ ভেঙে দুই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরের দিকে এই আকস্মিক বন্যায় উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল ও ছনগাঁও গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে লাউয়াছড়া খালের বাঁধটি ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

এতে ভানুবিল ও ছনগাঁও গ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছনগাঁও-ভানুবিল সংযোগ সড়ক, যার ফলে গ্রাম দুটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানিতে অনেক বসতবাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে। পানি মাড়িয়ে গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

ভানুবিল গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন ও ছনগাঁও গ্রামের রাধা কান্ত সিংহ জানান, কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই আকস্মিক এই বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও আঙিনা প্লাবিত হয়েছে, যা তাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

 

 

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দাল হোসেন বলেন, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি বাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে এবং গ্রামের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

 

 

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা এলাকার পরিস্থিতির খবর পেয়েছি। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেটা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না।’

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেটা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।

জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না। দুর্বৃত্তায়নের একটা মহামারি ছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র হতে দেখেছি। সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। সেখানে যখন যৌথ অভিযান হয়েছে, অনেক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, দাগি আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। সেখানে পুলিশ একাডেমি, র‍্যাবের একাডেমি, ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিকল্পনা আছে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলা কারাগার হওয়ার কথা আগে থেকেই। সেই জায়গায় সন্ত্রাসীরা তাদের পুরোনো অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। তবে তারা যে উদ্ধত আচরণ করেছে, দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটা খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে কোনো সমস্যা হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে সমাধান করা হয়। দুই-একটা ঘটনা নজরে এসেছে। বিজিবির মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো দেখেছেন। কিছু জায়গায় পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে সমাধান হয়। তবে জাতীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

 

 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা

দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টিসহ সাত জেলায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

 

 

এদিকে আজ দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

 

এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম, উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

 

মেক্সিকোতে বেজক্যাম্প গড়বে ইরান

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইরানের বেজক্যাম্প হিসেবে নিজেদের দেশ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে মেক্সিকো।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন টুর্নামেন্ট চলাকালে পুরো ইরানি দলকে দেশে অবস্থানের অনুমতি দিতে আগ্রহ দেখায়নি।

 

 

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফা সরাসরি মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেনবাম বলেন, ইরান দলকে মেক্সিকোতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই।

এরই মধ্যে ইরানের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, দলের পূর্বনির্ধারিত বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানায় নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানি ফুটবলাররা বিশেষ ফ্লাইটে সরাসরি মেক্সিকোতে পৌঁছাবেন এবং সেখান থেকে ম্যাচ খেলার জন্য যাতায়াত করবেন।

 

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের আহ্বান হজের খুতবায়

‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফার ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের মূল খুতবা প্রদান করা হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে খুতবা পাঠ শুরু করেন মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি।

 

 

মক্কার মসজিদে নামিরা থেকে প্রদত্ত এই খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

 

 

খুতবায় হজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য তুলে ধরে শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান বলেন, হজ হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি এবং সহযোগিতার এক অনন্য প্রতিফলন। মুসলিম উম্মাহকে কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা, ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য প্রদর্শনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জনসমুদ্রের উদ্দেশে ইমাম বলেন, হে মানুষ, আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই বান্দা পরকালে মুক্তি লাভ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, পরকালের শ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি হলো একত্ববাদ (তৌহিদ) এবং শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। সেই সঙ্গে তিনি হাজিদের সততা বজায় রাখা এবং মিথ্যাচার ও গিবত থেকে দূরে থাকার নসিহত করেন।

এ সময় মুসলিম উম্মাহর সার্বিক অবস্থার উন্নতি এবং হাজিদের ইবাদত কবুল করার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শেখ হুদাইফি দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ, হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিন এবং তাদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরার তৌফিক দান করুন।’

খুতবা সমাপ্ত হওয়ার পর হাজিরা মসজিদে নামিরায় একত্রে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এরপর হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তারা মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

 

 

উল্লেখ্য, মসজিদে নামিরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

 

ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর ১২টার পর থেকে যানজট বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা পর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

 

 

 

উত্তরবঙ্গগামী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে যান চলাচল বারবার থেমে থাকতে হচ্ছে ৩০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত।

চালক ও যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। ধীরগতি ও যানজটে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক।

তিনি জানান, মহাসড়কে যাতে কোনো যানজটের সৃষ্টি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানিয়েছেন, যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ জেলায় র‌্যাবের কড়া নিরাপত্তা

ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং পশুর হাটে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৮ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে র‌্যাব-৮। হাটগুলোতে ওয়াচ টাওয়ার, পেট্রোল এবং টহলসহ বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে তারা।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বরিশাল নগরীর দপদপিয়া এলাকায় কীর্তনখোলা সেতুর ঢালে অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল র‌্যাব-৮ অধিনায়ক লে. কর্নেল জোবায়ের এসব কথা জানান।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল জানান, তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, মাদারীপুরসহ আটটি জেলার কোরবানীর পশুর হাটে চাঁদাবাজি ও ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে কন্ট্রোলরুম এবং ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে হাট এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। জাল টাকা প্রতিরোধে কন্ট্রোল রুমে শনাক্তকরণের জন্য অত্যাধুনিক মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরিশালসহ আট জেলার ঈদগাহে গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ পর্যাপ্ত টহল দলের মাধ্যমে ঈদ জামায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোট ২০ টহল টিম কাজ করছে তাদের।

এছাড়াও বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, শপিং মল এবং শহরের আবাসিক এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি এবং নদীতে বোট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জোবায়ের ছাড়াও কোম্পানি কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। পরে শহরের বিভিন্ন পশুর হাট এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর-০৩/২৫ মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে ) রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে শাহজামাল (৪৫) নামে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মনোহরপুর গ্রামের লালচান আকন্দের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা নিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

সারাবাংলা কুষ্টিয়া ব্যুরো অফিসের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক সারাবাংলা ও সারাবাংলা ডট নেট-এর কুষ্টিয়া ব্যুরো অফিসের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এসব ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

 

এসময় কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সারাবাংলার কুষ্টিয়া ব্যুরো প্রধান অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু বলেন, সারাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কুষ্টিয়ার গর্ব মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। তারই সুযোগ্য সন্তান আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সারাবাংলার প্রকাশক ও সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক সাহেবের দিকনির্দেশনায় সারাবাংলা আজ দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।

 

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মুজিবুল শেখ বলেন, সারাবাংলার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম সমাজের অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

 

সারাবাংলার পাঠক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ আল হাফিজ বলেন, সারাবাংলা কুষ্টিয়া ব্যুরো অফিসের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সমাজের সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

 

ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

হিলিতে মাদকসহ গ্রেফতার ২

দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশ পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও নিষিদ্ধ ট্যাফেনটাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজই যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ দিনাজপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৫ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানার ওসির নির্দেশনায় পুলিশের পৃথক দুটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
​পৃথক অভিযানে গ্রেফতারকৃতকরা হলেন, মোঃ আরমান আলী (২৬) উপজেলার বলরামপুর এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে বলরামপুর গ্রামের মোঃ আমিরুল ইসলামএর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরেক আসামি, মোঃ আসাদুজ্জামান বুদা (৪৯) উপজেলার দেবখন্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮ পিস মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ট্যাফেনটাডলসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে দেবখন্ডা গ্রামের মৃত কোবাদ হোসেন ও শেফালী বেওয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধেও একই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত রাখতে পুলিশের এই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

 

ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠে যেসব প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে খেলা

২০২৬ বিশ্বকাপে এই প্রথম ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে চর্চায় ‘ট্রাইওন্ডা’। এটি বিশ্বকাপের জন্য অ্যাডিডাসের তৈরি অফিসিয়াল বল।

 

 

তিন আয়োজক দেশকে সম্মান জানিয়ে তৈরি এই বলে রয়েছে ডিপ-সিম প্রযুক্তি ও ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর। ভিএআর সিদ্ধান্তকে নির্ভুল করতে বলের স্থিতিশীলতা বাড়াবে।

 

 

এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং-নীল, লাল এবং সবুজ। এই বলে উন্নত ট্র্যাকিং ডিভাইস হিসাবেও কাজ করবে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলের ভেতরের প্রযুক্তিতে। এতে একটি অত্যাধুনিক মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার ডেটা সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বল কখন, কোথায়, কী গতিতে যাচ্ছে বা কোন খেলোয়াড় সেটিকে স্পর্শ করছে, সব তথ্যই সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে।

সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। আগেও ফুটবলে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, তবে এবার তাকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এমনভাবে সেন্সরটি বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, গতি বা বাউন্সে কোনও পরিবর্তন না আসে।

 

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পাওয়ার সিস্টেম। বলের ভেতরের সেন্সর চালু রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে এটিকে চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ হলে তা থাকবে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত।

 

 

গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে কোনো অনিয়ম নেই: দাবি সেতুমন্ত্রীর

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে না গণপরিবহনগুলো এবং মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রীর তুলনায় পরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া অনেক যাত্রীর চলন্ত গাড়িতে ওঠার প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের হ্যাবিট আছে যে তারা চলন্ত পথে গাড়িতে উঠতে চায়। কোনো যাত্রী সচেতন হয়ে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু হাটে পশু ও মানুষের চাপ বেশি হওয়ায় সড়ক পর্যন্ত হাট ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পশু বিক্রি ও ঈদযাত্রা, এই দুটোই নিরাপদ করতে হবে। দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’ একইসঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু যাত্রী জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবছেন না। তবে যে কোনো বারের চেয়ে স্বস্তিতে ও নির্দিষ্ট ভাড়ায় মানুষ বাড়ি যাচ্ছে।

আরাফার ময়দানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী যোহর ও আসর

হজের খুতবা শেষে আরাফার ময়দানে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেছেন হাজিরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ টাইম বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ নামাজ পড়েন তারা। এর আগে এদিন ৩ টা ২০ মিনিটের দিকে হজের খুতবা শুরু হয়।

 

 

আরাফা ময়দানের নামিরাহ মসজিদ থেকে খুতবা পাঠ করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। চলতি বছরও বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হলো।

 

 

এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে ছিলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা করেছেন।

আরবি বর্ষপঞ্জি অনুসারে সৌদিতে আজ ৯ জিলহজ। এটি পবিত্র ‘আরাফা দিবস’ হিসেবেও পরিচিত। ঐতিহাসিক এই ময়দানে দিনব্যাপী ইবাদত বন্দেগি আর দোয়া মোনাজাতে মশগুল হাজিরা। এদিন সকাল থেকে তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান্নি মাতা লাকা ওয়াল্মুল্ক্, লা শারিকা লাকা’।

সাদা দুই টুকরা কাপড়ে শরীর ঢেকে হজযাত্রীরা মঙ্গলবার মিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের পর থেকেই পবিত্র আরাফার ময়দানের উদ্দেশে রওনা করেন। এই ময়দানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে মুসলিমরা সমবেত হন এই পবিত্র প্রান্তরে।

আজ সৌদির স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর হাজিরা পরবর্তী গন্তব্য মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বুধবার (স্থানীয় তারিখ ১০ জিলহজ) পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন

দরিদ্রদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চালের একটি অংশ প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে তা বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৫ শত ৮০ জন দরিদ্র মানুষের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৫ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে ৮৭৮ জনের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন চাল। এসব চাল বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা ৮৭৮টি কার্ডের মধ্যে ৭৬৩ টি কার্ড ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। অপরদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান নিজের জন্য ১১৫ টি কার্ড রেখে দেন।

গত শনিবার (২৩ মে) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশনায় তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় আব্দুস শহিদ খান তার অংশের ১১৫ টি কার্ডের মধ্যে ৬৪ টি কার্ডের চাল বিতরণ করলেও বাকি ৫১ টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার চাপের মুখে চেয়ারম্যান দাবি করেন, বাকি কার্ডধারীরা ওইদিন উপস্থিত হতে পারেননি এবং তারা পরদিন এসে চাল গ্রহণ করবেন। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে অবশিষ্ট চাল ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রাখা হয়। একইসঙ্গে পরদিন রবিবার পিআইও অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরদিন রবিবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যসহকারী সোহেল রানার উপস্থিতিতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৭ জন ব্যক্তি এসে চাল গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল গ্রহণকারী ওই ১৭ জন প্রকৃত কার্ডধারী ছিলেন না। তালিকাভুক্ত নামের সঙ্গে তাদের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যান নিজেই লোক এনে চাল উত্তোলন করান বলে অভিযোগ ওঠে।

 

 

 

দুপুর ১টার পর আর কোনো কার্ডধারী উপস্থিত না হওয়ায় অবশিষ্ট ৩৬টি কার্ডের চাল স্থানীয় একটি এতিমখানা মাদ্রাসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কার্যসহকারী সোহেল রানা চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুলকে ডেকে তিন বস্তা চাল বিক্রি করে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদ খানের ভাগ ছিলো ৪৫ টা, এরপরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে আরও ৭০ টা। বাকিগুলো তিনি কৌশলে বিক্রির পরিকল্পনা করেন। পরে সে অনুযায়ি স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুলের কাছে বিক্রিও করেন।

 

 

 

এবিষয়ে চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুল বলেন, আমার গরুকে খাওয়ানোর জন্য কয়েকজন মেম্বারের কাছ থেকে কার্ড কিনেছিলাম। সেসব চাল নিতে গেছিলাম।

অভিযুক্ত তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান বলেন, সেদিন সব লোকজন শনিবারে আসতে পারেনি পরে রবিবার তাদের দেওয়া হয়েছে। এখনও ১৭ টার মত আছেই। চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুলের কাছে চাল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারও কাছে চাল বিক্রি করিনি। উনার কিছু কার্ড কিনা ছিলো সে কার্ডের চাল দিয়েছি।

 

 

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানা বলেন, আমি সকালে পরিষদে গেলে মাত্র ১৭ জন চাল নিয়ে যান। পরে ১ টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থাকলেও আর কেউ না আসায় আমি পিআইও স্যারকে বিষয়টি জানালে তিনি সেসব এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে আমি বাকি চাল চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখে চলে আসি। চলে আসার পরে কি হয়েছে তা বলতে পারবো না।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, ৫১ জন কার্ডধারীরা ওইদিন উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য ৫১ জনের অবশিষ্ট চাল তা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রাখা হয়। পরদিন ১৭ জনের চাল দেওয়া হয় এবং বাকি চাল এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরীকে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঈদের দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস যা বলছে

ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে দেশের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঈদুল আজহার দিন দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সেসঙ্গে কয়েকটি বিভাগে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

 

সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

একইসঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

এদিকে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

 

 

সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

 

ভক্তদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন রামচন্দ্রপুর দরবার শরীফের পীর শাহ্ সুফি মো. রবিন হাসান মোস্তাক।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের দরবার শরীফ মসজিদে এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

জামাতে দরবার শরীফের ভক্ত ও আশপাশের ৩০টি পরিবারের মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই দরবার এলাকায় ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রামচন্দ্রপুর দরবার শরীফে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়ে থাকে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

দরবারের পীর শাহ্ সুফি মো. রবিন হাসান মোস্তাক কালবেলাকে জানান, আমরা প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকি। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসরণ করেই আমাদের এ আয়োজন করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বাংলাদেশ ব্যতীত ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য ফ্রি ভিসা দেবে শ্রীলঙ্কা

পর্যটন খাতকে আরও চাঙা করতে ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সোমবার (২৫ মে) থেকে নতুন এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

 

 

 

শ্রীলঙ্কার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থার আওতায় পর্যটকরা অন-অ্যারাইভাল ফ্রি ভিসা পাবেন। তবে দেশটিতে ভ্রমণের আগে অনলাইনে ইটিএ অনুমোদন নিতে হবে।

 

 

 

নতুন এই সুবিধার আওতায় ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ ৪০ দেশের নাগরিকরা ৩০ দিনের ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। এই ভিসায় ৩০ দিনের মধ্যে দুইবার শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করা যাবে।

শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, কেউ যদি ৩০ দিনের বেশি থাকতে চান, তাহলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে মালদ্বীপের নাগরিকরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ৯০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা সুবিধা পাবেন।

 

 

পর্যটক বাড়ানো ও দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

 

 

 

এই ৪০ দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন

অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাহরাইন, বেলারুশ, বেলজিয়াম, কানাডা, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

সেবার অঙ্গীকারে ভদ্রঘাট ইউনিয়নে আলোচনায় রুহুল আমিন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ১ নং ভদ্রঘাট ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী আমেজ। পরিবর্তন, উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশায় স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়াবিদ মোঃ রুহুল আমিন। ক্ষমতার প্রতিযোগিতার চেয়ে মানুষের সেবাকেই তিনি নিজের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন।
ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে এলাকায় তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে ইতোমধ্যেই তিনি ইউনিয়নজুড়ে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে তিনি এর আগে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতির কারণে রুহুল আমিন এখন ইউনিয়নের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ বিষয়ে মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “আমি কোনো ক্ষমতার জন্য নির্বাচন করতে চাই না। আমি চাই ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে তাদের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ সুযোগ দিলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তুলবো।”

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

 

 

 

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) এরই মধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬।

 

 

 

বাংলাদেশ ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পেশাগত সহকারী নিজাম উদ্দীন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়মনসিংহের ভালুকার আমতলীতে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন হয়েছে। ঢাকা থেকে স্থানটি ৬১ কিমি উত্তরে অবস্থিত।