
সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান
- মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:২৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

হিলিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
- মো. হাসান আলী, দিনাজপুর দক্ষিণ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নাচোলে নবনিযুক্ত ইউএনও’র সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত
- মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

৫ বছর বয়সী শিশুকে যৌন হয়রানি: রেষ্টুরেন্ট কর্মচারিকে গণধোলাই
- মো. দুলাল সরকার, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নেহারী-হালিম বিক্রির আড়ালে রমরমা মাদক ব্যবসা!
- কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কোমরে ৩টি বিদেশী পিস্তল নিয়ে ঘুরছিলেন যুবক !
- মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৫ মাদক কারবারি গ্রেফতার
- হাসান আলী (হাকিমপুর) দিনাজপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৮:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বেলকুচির দৌলতপুরে অবৈধ প্রসেস মিল, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার
- সবুজ সরকার বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
বাড়ি থেকে বের হলেই কালচে পানি। পানির উপরে ভাসছে প্রসেস কারখানার ময়লা আবর্জনা পানি। পানির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করার কারণে দেখা দিয়েছে ঘা পাঁচড়া। বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েলের চাপ দিলে পানি বের হচ্ছে বিভিন্ন রংয়ের। এ ভাবেই দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট এলাকার ৫শত পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাই ভাই অবৈধ প্রসেস মিলের কারখানার বর্জ্যের পানির কারণে এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এই ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি এলাকায় ছড়িয়ে পরে। হালকা বাতাসে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।
শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেটের পাশেই প্রসেস মিল। স্থানীয় এমপি নির্দেশে কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ দিনের বর্জ্যে পানি জমে থাকায় হালকা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বসত বাড়ির আঙিনায় উঠে যাচ্ছে। এসব পানি থেকে বাতাসে দুগ্ধে ছড়িয়ে পরছে সেখানে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা কামনা রানী বলেন, এই প্রসেসের নোংড়া জলের কারণে আমাদের শরীরে বার মাসি ঘা পাঁচড়া থাকে। পানি খেতে পারি না। আমাদের দুঃখের শেষ নেই।
শামীন বাবু বলেন, এখানে দুই যুগ ধরে সমস্যা প্রতি বছর বছর আশে পাশে বাড়ি গুলোতে ঘরের টিন পরিবর্তন করতে হয়। এ বর্জ্য পানির এতই পাওয়ার টিন পর্যন্ত ঝাঁঝরা হয়ে যায়।
কারখানার পাশেই মতি মার্কেট তাজবিদুল নূরানী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জুবায়ের প্রচন্ড আক্ষেপ করে বলেন, এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য উপর মহলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করার পরেও কোন কাজ হয়নি। এই বর্জ্যের পানি প্রচন্ড পরিমান দুর্গন্ধ যা সহ্য করার মত না ক্লাস নেওয়ার প্রায় সময় দরজা জানালা বন্ধ করে নিতে হয়। মাদ্রসার ভিতরের টিউবওয়েলের পানি প্রাণ করা যায় না। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে এই কারখানা স্থাপন করেছেন। যা আমাদের এখন মরনের ফাঁদ।
মমতা খাতুন বলেন, এই পরিবেশের কারণে আমাদের এলাকায় কোনো আত্নীয় স্বজন বাড়িতে আসতে চায় না। আমরা কত কষ্টকরে বসবাস করছি তা এক মাত্র আল্লাহ্ ভালো যানে।
তাঁত শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৪ বছর ধরে দুঃখের কথা বলেই যাচ্ছি কোনো কাজ হচ্ছে না। রাতে ঘুমাতে পারি না মশার উপদ্রবে। দিনে বাড়ির আঙিনায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। মাঝে মাঝে ভাবি বাড়ি ঘর ফেলে রেখে অন্য কোথাও চলে যায়।
মাদ্রাসার ছাত্র রাফিত বলেন, বৃষ্টি হলে পঁচা পানি পেরিয়ে মাদ্রাসায় যেতে হয়। পায়ে চুলকানি হয় চুলকানির যন্ত্রনায় ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারি না।
স্থানীয় বাসির অভিযোগ, এক প্রসেস মিল এখন ৫০০ পরিবারের মরন ফাঁদ। আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই কারখানা কারণে এলাকার ৫শত পরিবার খুবই দুর্ভোগে আছে।
ভাই ভাই প্রসেস মিলের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামের কারখানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানায় বিষয়ে তার ভাতিজা রাজু আহাম্মেদ বলেন, আপাতত কারখানা বন্ধ রেখেছি। ঢাকায় অফিসে গিয়ে দেখা করে এসেছি। তারা যে ভাবে নিয়ম মাফিক কারখানা চালু করতে বলে সেই ভাবেই চালু করবো। এক বছর পর কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম মুঠোফোনে জানান, এর আগেও দৌলতপুরের বিষয়ে অভিযোগ ছিলো আইনগত বিষয়ে ইনফোর্সমেন্ট মেবি পাঠিয়ে ছিলাম। প্রসিকিউটর ভিতরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহাদয়ের সাথে কথা বলবো।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, প্রসেস মিলের বর্জ্যের পানির কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোকারম গ্রেফতার
- হাসান আলী (হাকিমপুর) দিনাজপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৮:১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

কামারখন্দে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
- ওমর ফারুক ভুইয়া (কামারখন্দ), সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৭:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আগৈলঝাড়ায় মৎস্য অভয়াশ্রমে ২৬৮ কেজি দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত
- মৃদুল দাস, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৭:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র উন্নয়নের লক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কোদালধোয়া খালের কোদালধোয়া মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (০৭-০৬-২০২৬) সকালে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভয়াশ্রমে মোট ২৬৮ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কেজি টেংরা, ১০০ কেজি গুলশা এবং ৬৮ কেজি শিং মাছের পোনা।
পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিকদার হাফিজুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীত কুমার সাহা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর সোমসহ সাংবাদিকবৃন্দ, মৎস্য অভয়াশ্রমের সুফলভোগী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় মাছের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র রক্ষায় মৎস্য অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপস্থিত অতিথিরা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কামারখন্দে সারের অতিরিক্ত দাম রাখায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ওমর ফারুক ভুইয়া (কামারখন্দ), সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৭:২৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল চালা বাজার এলাকায় সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে হাতি ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় এক ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় একই এলাকায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের দায়ে একজনের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সেনবাগে বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ
- মো.ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ০৭:২০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা: ১৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৭:০৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে শেষ হলো রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার বিচার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এ রায় কার্যকর করা হোক।’
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। এ সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর রামিসা বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় সোহেল।
চার্জশিট অনুযায়ী, প্রথমে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হাতও কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভাঙেন। কিন্তু তার আগেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। বাথরুমের একটি রঙের বালতিতে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা এবং খাটের নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। লাশ গুম করতে ও স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন রামিসার বাবা। তদন্তের শুরুতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।
প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাঁচ দিনে তদন্ত, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া
মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাশরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেয়। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযোগ গঠন ও আসামিদের বক্তব্য
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। মূলত চার্জগঠন শুনানি করতে আসামিদের হাজির করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিল করতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ায় চার্জ শুনানি করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আসামিদের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়নি। বিকেল ৫টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে ফের তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় আইনজীবী ও বিচারের জন্য আসা জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ফাঁসি চান।
আদালতে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন সোহেল। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিই শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তার বাড়ি মিরপুরে। তিনি অনেক টাকাওয়ালা। এ সময় নিজেকেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সোহেল। তিনি আদালতকে বলেন, আমি মারিনি। আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও স্বীকারোক্তি
৩ জুন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সোহেল রানাকে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। এ সময় সোহেল আদালতের উদ্দেশে বলেন, স্যার আমার সঙ্গে ডলার ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি। কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানির আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। প্রথমে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। সব সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনান। এ ছাড়া সোহেলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)। সোহেল তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাড়ির তিন তলায় ৩টি ফ্ল্যাটে ৩টি পরিবার থাকে। সকালে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।
সোহেল আরও বলেন, পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। শিশুটি এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম। এরপর তাকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।
স্বপ্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, যখন তার স্বামী সোহেল ধর্ষণ ও হত্যা করেন, তিনি বাধা দিতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মানুষজন ডাকাডাকি করলেও তিনি দরজা খোলেননি। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ও তার স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তিনি চাইলে ধর্ষণে বাধা দিতে পারতেন। অথবা অন্তত হত্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারার পাশাপাশি ৩০ ধারায় ও দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, আসামিরা যে বাসায় বসবাস করে, রামিসার মরদেহ ওই একই বাসায় পাওয়া যায়। আসামি সোহেল রানাকে সেই বাসা থেকে পালাতে ও স্বপ্নাকে ঘটনাস্থলে হাঁটতে দেখা যায়, যার চাক্ষুষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাই।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ও পর্যালোচনা
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। রোববার মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশও দেন আদালত।
আদালত এ রায়ের পর্যালোচনায় বলেন, আসামির জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামি সোহেল রানা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধে সব ধরনের সহযোগিতা করায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও একই অপরাধে অপরাধী।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
পর্যবেক্ষণে তিনি আরও বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
তিনি আরও বলেন, নারী এ শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এক হাজার আটশ (১৮০০+) বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে, তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, বিজ্ঞ প্রসিকিউশন মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিচারকার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সবার এই আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। আদালত এটাও প্রত্যাশা করে যে, শিশু রামিসার মামলার ন্যায় দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিশেষত ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ একই রকম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এটাই এই আদালতের প্রত্যাশা।
একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষীগণ এবং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জিত হয়। আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদঘাটন করা। অতএব, এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ রায় প্রদান করছে।


নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



































One thought on “আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার বিচার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ”