ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার মাদারগঞ্জ (হাজীপাড়া) এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা অবস্থায় প্রায় ১২০টি সুপারি গাছ ও একটি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির দাবিদার মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কেটে ফেলা গাছগুলো থানায় নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি উপজেলার ৩ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৪০ নম্বর মাদারগঞ্জ মৌজায়। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬ মামলাটির শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূল্লী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা প্রায় ১২০টি সুপারি গাছ ও একটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে মো. আল-আমিন, মোছা. রুবা, মোছা. সুফিয়া খাতুন, আব্দুল মজিদ, হাফিজুল, হাসিফুল, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. মাজেদুলসহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে স্থানীয়দের বিষয়টি জানিয়ে তিনি ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কেটে ফেলা গাছগুলো দেখতে পায়। এ সময় জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা কেটে ফেলা সুপারি ও মেহগনি গাছগুলো পুলিশ থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এদিকে গাছ কাটার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও সরেজমিনে তথ্য যাচাই করতে ঘটনাস্থলে যান দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার সাংবাদিক শাহিন আলম। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি-ভিডিও ধারণের সময় হাফিজুল, হাসিফুল, মোছা. সাবিনা, আল-আমিন ও রফিকুল তাকে গালাগালি করেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন।
সাংবাদিক শাহিন আলমের দাবি, তিনি পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও কেটে ফেলা গাছের ছবি-ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয় এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের আদেশ অমান্য করে গাছ কাটা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। একইভাবে সাংবাদিককে গালাগালি ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

ভূল্লী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 



















