সিরাজগঞ্জ , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

হাতকড়া হাতে জালাল মালিথা। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের মামলায় জালাল মালিথা (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

 

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়া (কানাপুকুর) পাড়ার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার ছেলে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গার একাডেমি মোড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিয়তউল্লাহ ও উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিনসহ অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

এ সময় কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস একাডেমি মোড়ে থামলে তল্লাশি চালানো হয়। বাস থেকে নামার সময় জালাল মালিথার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। পরে বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারের উপস্থিতিতে তার হাতে থাকা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

 

 

 

ব্যাগের ভেতরে কাগজের কার্টনে রাখা ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার হিসাবে মোট পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭৯৮ মিলিলিটার। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় জালাল মালিথার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য নিজের দখলে রাখা ও বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

 

 

 

 

তদন্ত শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত জালাল মালিথাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ড দেন।

 

 

 

 

রায়ে জব্দ করা মাদকদ্রব্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এ রায়ের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

আপডেট টাইম : ০৬:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের মামলায় জালাল মালিথা (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

 

 

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়া (কানাপুকুর) পাড়ার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার ছেলে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গার একাডেমি মোড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিয়তউল্লাহ ও উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিনসহ অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

এ সময় কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস একাডেমি মোড়ে থামলে তল্লাশি চালানো হয়। বাস থেকে নামার সময় জালাল মালিথার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। পরে বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারের উপস্থিতিতে তার হাতে থাকা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

 

 

 

ব্যাগের ভেতরে কাগজের কার্টনে রাখা ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার হিসাবে মোট পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭৯৮ মিলিলিটার। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় জালাল মালিথার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য নিজের দখলে রাখা ও বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

 

 

 

 

তদন্ত শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত জালাল মালিথাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ড দেন।

 

 

 

 

রায়ে জব্দ করা মাদকদ্রব্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, ‘এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এ রায়ের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।’