সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্মশানের জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের গাঁওধোয়া শ্মশানঘাটের জমি ও পুকুর খননকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশানঘাটের জমির মাটি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে রেজওয়ানুল ইসলাম গাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ কাজে বাধা দিতে গেলে উপস্থিত লোকজনকে মাটিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
এ ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী বকুলতলা এলাকায়। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাঁও ধোয়া শ্মশানঘাটের জমি ও পুকুর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন থেকে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের সৎকার করা হয়। সংশ্লিষ্ট জমির সিএস রেকর্ড দোলগোবিন্দ বর্মনের নামে এবং পরবর্তী এসএ রেকর্ড তাঁর স্ত্রী প্রাণেশ্বরী বেওয়ার নামে রয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর মহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে শ্মশানঘাট-সংলগ্ন জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করতে শুরু করেন রেজওয়ানুল ইসলাম গাজী। বিষয়টি জানতে পেরে শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র শর্মাসহ স্থানীয় কয়েকজন সেখানে গিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেন।
এ সময় জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাধা দেওয়ার পর রেজওয়ানুল ইসলাম গাজী জমিটি তাঁর কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেন। সেখানে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে মাটিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী।
শ্মশানঘাটের জমি ও পুকুর নিয়ে এমন বিরোধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও। তাঁদের দাবি, জমির মালিকানা, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং শ্মশানঘাটের প্রকৃত সীমানা যাচাই করে সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক।
একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূল্লী থানা পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র শর্মা।
অভিযোগপত্রে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে বিনোদ চন্দ্র রায়, কালিপদ বর্মন, সন্তোষ বর্মন, সত্যবান বর্মন, সচিন্দ্র বর্মন, নিতাই চন্দ্র বর্মন, হেনস্ত চন্দ্র বর্মন, মকুল চন্দ্র বর্মন, ভবেশ চন্দ্র বর্মন ও রনজিৎ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে জমিটির অবস্থান হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার কচুবাড়ী মৌজা, জেএল নম্বর ৪১, সিএস খতিয়ান নম্বর ৪৪৫, এসএ খতিয়ান নম্বর ৪৬৯ এবং ৫৪৯ নম্বর দাগ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ হিসেবে ১ একর ৯৪ শতকের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শ্মশানঘাটে মাটি কাটার বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার জন্য আহবান করা হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্মশানের জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০১:০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের গাঁওধোয়া শ্মশানঘাটের জমি ও পুকুর খননকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশানঘাটের জমির মাটি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে রেজওয়ানুল ইসলাম গাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ কাজে বাধা দিতে গেলে উপস্থিত লোকজনকে মাটিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
এ ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী বকুলতলা এলাকায়। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাঁও ধোয়া শ্মশানঘাটের জমি ও পুকুর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন থেকে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের সৎকার করা হয়। সংশ্লিষ্ট জমির সিএস রেকর্ড দোলগোবিন্দ বর্মনের নামে এবং পরবর্তী এসএ রেকর্ড তাঁর স্ত্রী প্রাণেশ্বরী বেওয়ার নামে রয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর মহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে শ্মশানঘাট-সংলগ্ন জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করতে শুরু করেন রেজওয়ানুল ইসলাম গাজী। বিষয়টি জানতে পেরে শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র শর্মাসহ স্থানীয় কয়েকজন সেখানে গিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেন।
এ সময় জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাধা দেওয়ার পর রেজওয়ানুল ইসলাম গাজী জমিটি তাঁর কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেন। সেখানে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে মাটিতে পুঁতে রাখার হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী।
শ্মশানঘাটের জমি ও পুকুর নিয়ে এমন বিরোধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও। তাঁদের দাবি, জমির মালিকানা, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং শ্মশানঘাটের প্রকৃত সীমানা যাচাই করে সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক।
একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূল্লী থানা পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র শর্মা।
অভিযোগপত্রে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে বিনোদ চন্দ্র রায়, কালিপদ বর্মন, সন্তোষ বর্মন, সত্যবান বর্মন, সচিন্দ্র বর্মন, নিতাই চন্দ্র বর্মন, হেনস্ত চন্দ্র বর্মন, মকুল চন্দ্র বর্মন, ভবেশ চন্দ্র বর্মন ও রনজিৎ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে জমিটির অবস্থান হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার কচুবাড়ী মৌজা, জেএল নম্বর ৪১, সিএস খতিয়ান নম্বর ৪৪৫, এসএ খতিয়ান নম্বর ৪৬৯ এবং ৫৪৯ নম্বর দাগ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ হিসেবে ১ একর ৯৪ শতকের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শ্মশানঘাটে মাটি কাটার বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার জন্য আহবান করা হয়েছে।