সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের কর্মীকে গুপ্তচর সন্দেহ, হুতির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত দাবি

নিহত মোহাম্মদ আল-শামি। ছবি: ইউএন

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হেফাজতে থাকা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিনা অভিযোগে আটক থাকার পর তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে হুতিদের হাতে আটক অন্য জাতিসংঘকর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে হুতিদের দাবি, মৃত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্য। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

 

 

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে জানান, নিহত কর্মীর নাম মোহাম্মদ আল-শামি। ২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে তাকে আটক করে রেখেছিল হুতি গোষ্ঠী।

 

 

 

 

 

তুর্ক জানান, আল-শামির পরিবার সম্প্রতি তার মৃত্যুর খবর পেয়েছে। মৃত্যুর এক মাসেরও বেশি সময় পর পরিবারকে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

 

 

ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান। একই সঙ্গে হুতিদের হাতে আটক জাতিসংঘের সব কর্মীকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তার দপ্তরের আরও সাতজন সহকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া মানবিক সহায়তাকর্মী ও নাগরিক সমাজের সদস্যদেরও মুক্তি দাবি করেছেন তিনি।

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী এ মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এর জন্য হুতিদের পুরোপুরি দায়ী করে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, জাতিসংঘের ৭০ জনের বেশি কর্মী এবং কয়েক ডজন মানবিক সহায়তাকর্মী এখনো আটক রয়েছেন।

 

 

 

 

এ বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি অবশ্য দাবি করে আসছে, আটক ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্য। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোও গোয়েন্দা তৎপরতার আড়াল হিসেবে নিজেদের কাজ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি হুতিরা।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতিরা। এর পর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাজধানী সানাসহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর হাতে।

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জাতিসংঘের কর্মীকে গুপ্তচর সন্দেহ, হুতির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত দাবি

আপডেট টাইম : ০১:১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হেফাজতে থাকা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিনা অভিযোগে আটক থাকার পর তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে হুতিদের হাতে আটক অন্য জাতিসংঘকর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে হুতিদের দাবি, মৃত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্য। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

 

 

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে জানান, নিহত কর্মীর নাম মোহাম্মদ আল-শামি। ২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে তাকে আটক করে রেখেছিল হুতি গোষ্ঠী।

 

 

 

 

 

তুর্ক জানান, আল-শামির পরিবার সম্প্রতি তার মৃত্যুর খবর পেয়েছে। মৃত্যুর এক মাসেরও বেশি সময় পর পরিবারকে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

 

 

ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান। একই সঙ্গে হুতিদের হাতে আটক জাতিসংঘের সব কর্মীকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তার দপ্তরের আরও সাতজন সহকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া মানবিক সহায়তাকর্মী ও নাগরিক সমাজের সদস্যদেরও মুক্তি দাবি করেছেন তিনি।

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী এ মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এর জন্য হুতিদের পুরোপুরি দায়ী করে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, জাতিসংঘের ৭০ জনের বেশি কর্মী এবং কয়েক ডজন মানবিক সহায়তাকর্মী এখনো আটক রয়েছেন।

 

 

 

 

এ বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি অবশ্য দাবি করে আসছে, আটক ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সদস্য। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোও গোয়েন্দা তৎপরতার আড়াল হিসেবে নিজেদের কাজ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি হুতিরা।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতিরা। এর পর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাজধানী সানাসহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর হাতে।

 

 

 

 

 

 

জনতার কন্ঠ/এস এ