কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এক গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার নাম ফারজানা আক্তার। তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোসেনপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে (রোল: ৫১৩৪৯৯) জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এর আগেও তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এই দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নিরাহারগাতী (জীবেরগড়) গ্রামের দিনমজুর মরজত আলীর কন্যা। পিতা-মাতার সন্তানদের মধ্যে ফারজানা আক্তার চতুর্থ। সামান্য ভিটেমাটি ছাড়া সহায়-সম্বল বলতে তার কিছুই নেই। অন্যের জমিতে বর্গা চাষ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান মরজত আলী। বৃদ্ধ বয়সে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মরজত আলী এখন আর ভারী কাজ করতে পারেন না। সংসারে রোজগার করার মতো আর কেউ নেই। অভাব ও অনটনের মধ্য দিয়েই ফারজানা আক্তারের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছে পরিবার। অর্থের অভাবে তাকে ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবারও দিতে পারেনি পরিবার। তবুও হাল ছাড়েননি অধ্যবসায়ী এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
শারীরিক কষ্ট ও দারিদ্র্যকে জয় করে গ্রামীণ পরিবেশে থেকেও তিনি এভারের ফলাফলে কলেজ ও পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
এইচএসসির এই ফলাফল যেন আঁধার ঘরের চাঁদের আলো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফারজানা আক্তার বলেন, “আমি এস এস সি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও অর্থের অভাবে কীভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করব—এটাই এখন আমার প্রধান দুশ্চিন্তা।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ফারজানা বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করতে চাই।”
ফারজানার মাতা সালেহা বানু বলেন, “ছেলেসন্তান না থাকায় সংসারে হাল ধরার মতো কেউ নেই। মেয়ের ভালো ফলাফলে আনন্দ পেলেও অর্থের অভাবে বড় ইউনিভার্সিটিতে পড়াতে পারব না—এই ভেবে বুক ফেটে কান্না আসে।”
এ ব্যাপারে হোসেনপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, “মেধাবী ছাত্রী ফারজানা আক্তারকে আমরা বিভিন্ন সময়ে তার ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করেছি।”
জনতার কন্ঠ/এস এ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি । জনতার কণ্ঠ.কম 



















